ঢাকা ০২:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুরে নবজাতকের লাশ নিয়ে কুকুরের টানাহ্যাঁচড়া, উদ্ধার করল পুলিশ ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে : খায়রুল কবির খোকন দলে বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান ২৫ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায়

মায়ের অত্যাচারে ৫ বছর রাস্তায় শিশু, অতঃপর…

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘মা (সৎ মা) আমারে শুধু মা রে। আব্বা কিছু কয় না। দেখেন আমার শরীরে দাগ লাগি আছে। আমি ব্যথা পাই। আমি পুলিশের সঙ্গে থাকুম। পুলিশের চাকরি করুম। আর বাড়ি যামু না। আবার আমারে মারবো এ বলে বুক ফুলিয়ে কাঁদতে থাকে।’

ঈদের দিন শনিবার বিকাল ৪টার দিকে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর থানার ওসির সঙ্গে সাক্ষাতে গেলে শিশু সায়েম (৯) কেঁদে কেঁদে এসব কথা বলেছে।

অসহায় শিশু সায়েম জেলার সদর উপজেলার পালেরহাটের মুক্তারামপুর গ্রামের কালু মিয়া ও মৃত কুলসুমার ছেলে। তার সৎ মা স্বপ্না বেগম।

পুলিশ জানান, প্রায় দেড় বছর বয়সে শিশু সায়েম তার মাকে হারান। তার কয় মাস পর সায়েমের বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সৎমা শিশু সায়েমকে সহ্য করতে না পেরে মানুষিক ও শারীরিক নির্যাতন করে। এছাড়াও অনাহারেও থাকতে হয় শিশুটিকে। দিনমজুর বাবা এসব দেখেও কিছুই বলার সাহস পায়নি।

অবশেষে নিরুপায় সায়েম ৪ বছর বয়সে বাবার ঘর ছেড়ে বিভিন্নস্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বুধবার রাতে সায়েম থানা মসজিদের সিঁড়ির সামনে ঘুমিয়ে ছিল। মসজিদের কয়েকজন মুসুল্লি সায়েমকে দেখে থানায় নিয়ে যান। রায়পুর থানার ওসি সদর থানার ওসির মাধ্যমে সায়েমকে নিয়ে যেতে তার বাবাকে সংবাদ দিলে সে আসেনি। কিন্তু সায়েম গত ৩ দিন পুলিশের আশ্রয় রয়েছে। পুলিশের ভালোবাসায় মুগ্ধ শিশুটি।

শিশু সায়েম বলে, ‘আমি থানা থাইক্কা কোনানো যামু না। পুলিশের কাছে থাকুম। আমিও বড় হয়ে পুলিশ হমু। স্যারেরা আমারে অনেক আদর করছে। বালা খাওন দিছে। বাড়ীতে গেলে আবার আমারে মারবো ‘মা’। আব্বা কিছু কয় না। আর বাড়ীতে যামু না।’

রায়পুর থানার ওসি আবদুল জলিল বলেন, গত তিন দিন ধরে মা হারা ৯ বছরের শিশু সায়েম আমার কাছে রয়েছে। তার বাবাকে সংবাদ দিলেও সে আসছে না। সৎ মায়ের অত্যাচারে শিশুটি চার বছর থেকে রাস্তায় ঘুরছে। ঈদের দিন আমাদের সঙ্গে আনন্দ করেছে শিশুটি। এসপির সঙ্গে কথা বলে একটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট

মায়ের অত্যাচারে ৫ বছর রাস্তায় শিশু, অতঃপর…

আপডেট সময় ০২:২৬:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘মা (সৎ মা) আমারে শুধু মা রে। আব্বা কিছু কয় না। দেখেন আমার শরীরে দাগ লাগি আছে। আমি ব্যথা পাই। আমি পুলিশের সঙ্গে থাকুম। পুলিশের চাকরি করুম। আর বাড়ি যামু না। আবার আমারে মারবো এ বলে বুক ফুলিয়ে কাঁদতে থাকে।’

ঈদের দিন শনিবার বিকাল ৪টার দিকে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর থানার ওসির সঙ্গে সাক্ষাতে গেলে শিশু সায়েম (৯) কেঁদে কেঁদে এসব কথা বলেছে।

অসহায় শিশু সায়েম জেলার সদর উপজেলার পালেরহাটের মুক্তারামপুর গ্রামের কালু মিয়া ও মৃত কুলসুমার ছেলে। তার সৎ মা স্বপ্না বেগম।

পুলিশ জানান, প্রায় দেড় বছর বয়সে শিশু সায়েম তার মাকে হারান। তার কয় মাস পর সায়েমের বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। সৎমা শিশু সায়েমকে সহ্য করতে না পেরে মানুষিক ও শারীরিক নির্যাতন করে। এছাড়াও অনাহারেও থাকতে হয় শিশুটিকে। দিনমজুর বাবা এসব দেখেও কিছুই বলার সাহস পায়নি।

অবশেষে নিরুপায় সায়েম ৪ বছর বয়সে বাবার ঘর ছেড়ে বিভিন্নস্থানে ঘুরে বেড়াচ্ছে। বুধবার রাতে সায়েম থানা মসজিদের সিঁড়ির সামনে ঘুমিয়ে ছিল। মসজিদের কয়েকজন মুসুল্লি সায়েমকে দেখে থানায় নিয়ে যান। রায়পুর থানার ওসি সদর থানার ওসির মাধ্যমে সায়েমকে নিয়ে যেতে তার বাবাকে সংবাদ দিলে সে আসেনি। কিন্তু সায়েম গত ৩ দিন পুলিশের আশ্রয় রয়েছে। পুলিশের ভালোবাসায় মুগ্ধ শিশুটি।

শিশু সায়েম বলে, ‘আমি থানা থাইক্কা কোনানো যামু না। পুলিশের কাছে থাকুম। আমিও বড় হয়ে পুলিশ হমু। স্যারেরা আমারে অনেক আদর করছে। বালা খাওন দিছে। বাড়ীতে গেলে আবার আমারে মারবো ‘মা’। আব্বা কিছু কয় না। আর বাড়ীতে যামু না।’

রায়পুর থানার ওসি আবদুল জলিল বলেন, গত তিন দিন ধরে মা হারা ৯ বছরের শিশু সায়েম আমার কাছে রয়েছে। তার বাবাকে সংবাদ দিলেও সে আসছে না। সৎ মায়ের অত্যাচারে শিশুটি চার বছর থেকে রাস্তায় ঘুরছে। ঈদের দিন আমাদের সঙ্গে আনন্দ করেছে শিশুটি। এসপির সঙ্গে কথা বলে একটা সিদ্ধান্ত নিতে হবে।