আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
সত্তরোর্ধ বৃদ্ধা সারবানু। স্বামী দিনমজুর আয়েজ উদ্দিন ৭ বছর আগে মারা গেছেন। তার কোন ছেলে সন্তান নেই। শুধু ৬টি মেয়ে। বিয়ের পর তারা পরের বাড়ির ঘানি টানছেন।
স্বামীর রেখে যাওয়া মাটির দেয়ালের একটি জরাজীর্ন ঘরে বসবাস করে আসছিলেন বৃদ্ধা সারবানু। তার জীবন চলে পাড়া-প্রতিবেশিদের কাছে হাত পেতে নেয়া চাল-ডালে। প্রবল বর্ষণে মাটির দেয়ালের বাড়িটি ধসে পড়ায় তিনি আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন। এখন খোলা আকাশের নিচে স্বামীর স্মৃতি বিজড়িত ভিটে-মাটিতে অশ্রু বিসর্জন করছেন। ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার খোট্টাপাড়া ইউনিয়নের খলিশাকান্দি পূর্বপাড়া গ্রামে।
বৃদ্ধা সারবানু জানান, দিনমজুর স্বামী আয়েজ উদ্দিন ৭ বছর আগে মারা গেছেন। তার কোন পুত্র সন্তান নেই। ৬টি মেয়ে। ৪ মেয়ের বিয়ে হয়েছে দূরবর্তী এলাকায়। আর ২ মেয়ের বিয়ে হয়েছে নিজ মহল্লায়। কিন্তু তারাও হতদরিদ্র। এমতাবস্থায় পাড়া-প্রতিবেশিদের কাছে হাত পেতে নেয়া চাল-ডালে খেয়ে না খেয়ে জীবন চলে তার। আর সরকারের দেয়া বিধবা ভাতার টাকায় চলে তার ওষুধ খরচ। স্বামীর রেখে যাওয়া মাটির দেয়ালের জরাজীর্ণ বাড়িটিই ছিল তার মাথা গোঁজার ঠাঁই। গত ২৫ জুলাই রাত ১১টার দিকে প্রবল বর্ষণে জরাজীর্ণ মাটির দেয়ালের বাড়িটি ধসে পড়ে। বরাবরের মতো ধসে পড়ার দিনেও বৃদ্ধা সারবানু ওই বাড়িতেই শুয়ে ছিলেন। ধসে পড়া মাটির দেয়ালে তিনি চাপা পড়ে যান। এমতাবস্থায় পাশের বাড়িতে থাকা ছোট মেয়ে খালেদা বেগম ও জামাই ফরিদুল ইসলাম বৃদ্ধা সারবানুকে উদ্ধার করেন। শনিবার রাত থেকে বিগত ৬ দিন যাবত আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন বৃদ্ধা সারবানু। এখন স্বামীর স্মৃতি বিজড়িত ভিটে-মাটিতে কান্না করে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটছে তার।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে খোট্টাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ্ আল ফারুক বলেন, বৃদ্ধা সারবানুর মাটির দেয়ালের বাড়ি ধ্বসে পড়ার বিষয়টি তার জানা নাই। স্থানীয় ইউপি সদস্যও তাকে কিছু বলেননি। তবুও খোঁজ-খবর নিয়ে বৃদ্ধা সারবানুর আবাসনের ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























