ঢাকা ১২:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এলডিসি থেকে উত্তরণে বাড়তি তিন বছর সময় নেওয়া বিলাসিতা নয়: তিতুমীর চাঁদা না পেয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ৩৫ লাখ টাকা লুট দোষারোপের সময় নয়, দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে: প্রতিমন্ত্রী অমিত জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংসদে না হলে রাজপথে আন্দোলন: গোলাম পরওয়ার অনলাইনে মাদক কেনাবেচার সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড, সংসদে বিল পাস জাপা নেতার বাসায় নাহিদ ও হাসনাতের ডিনার-রাতযাপন জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে সমুন্নত রাখতে জাতীয় ঐক্য গঠনে কাজ করবে এবি পার্টি বিরোধী দলের ওয়াকআউট হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেবে যুক্তরাষ্ট্র, দাবি ট্রাম্পের রাতারাতি বড় কোন পরিবর্তন করা সম্ভব নয়: আইএমএফকে অর্থমন্ত্রী

শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধায় সিক্ত জব্বার

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

একাত্তরের কণ্ঠযোদ্ধা জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আবদুল জব্বারের মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে তার মহদেহ শহীদ মিনারে নেয়া হয়। সেখানে সর্বস্তরের নাগরিক তাঁকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাচ্ছেন। বৃষ্টিস্নাত সকালে শেষ শ্রদ্ধায় সিক্ত হচ্ছেন স্বাধীন বাংলা বেতারের এ শিল্পী। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বিকেলে রাজধানীর মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আগারগাঁওয়ের বেতার প্রাঙ্গণে শিল্পী আবদুল জব্বারের প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুসহ তার সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষিসহ ভক্তরা অংশ নেন।

আবদুল জব্বারের ছেলে বাবু জব্বার জানান, তার বাবার শেষ ইচ্ছে ছিল মৃত্যুর পর মরদেহ যেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে দাফন করা হয়। কিন্তু রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আলোচনার পর তাকে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এর আগে বুধবার সকালে মৃত্যুর পর তার মরদেহ আল-মারকাজুলে গোসল ও কাফন সম্পন্নের পর দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে নিজ বাসভবনে নেয়া হয়।

বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল জব্বার কিডনি, হার্ট, প্রস্টেটসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন।

কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত সালাম সালাম হাজার সালাম, জয় বাংলা বাংলার জয়সহ অনেক উদ্বুদ্ধকরণ গানের গায়ক। তার গাওয়া ‘তুমি কী দেখেছ কভু জীবনের পরাজয়, সালাম সালাম হাজার সালাম ও জয় বাংলা বাংলার জয়’ গান তিনটি ২০০৬ সালে মার্চজুড়ে অনুষ্ঠিত বিবিসি বাংলার শ্রোতাদের বিচারে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ২০টি বাংলা গানের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।

আবদুল জব্বার ১৯৫৮ সাল থেকে তৎকালীন পাকিস্তান বেতারে গান গাওয়া শুরু করেন। বাংলাদেশ সরকার প্রদত্ত দুটি সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার একুশে পদক (১৯৮০) ও স্বাধীনতা পুরস্কার (১৯৯৬) ছাড়াও বঙ্গবন্ধু স্বর্ণপদক (১৯৭৩), বাচসাস পুরস্কার (২০০৩) ও আজীবন সম্মাননা (সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস-২০১১) পান।

১৯৩৮ সালের ৭ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এলডিসি থেকে উত্তরণে বাড়তি তিন বছর সময় নেওয়া বিলাসিতা নয়: তিতুমীর

শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধায় সিক্ত জব্বার

আপডেট সময় ০৪:৫৮:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

একাত্তরের কণ্ঠযোদ্ধা জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আবদুল জব্বারের মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে তার মহদেহ শহীদ মিনারে নেয়া হয়। সেখানে সর্বস্তরের নাগরিক তাঁকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাচ্ছেন। বৃষ্টিস্নাত সকালে শেষ শ্রদ্ধায় সিক্ত হচ্ছেন স্বাধীন বাংলা বেতারের এ শিল্পী। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বিকেলে রাজধানীর মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আগারগাঁওয়ের বেতার প্রাঙ্গণে শিল্পী আবদুল জব্বারের প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুসহ তার সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষিসহ ভক্তরা অংশ নেন।

আবদুল জব্বারের ছেলে বাবু জব্বার জানান, তার বাবার শেষ ইচ্ছে ছিল মৃত্যুর পর মরদেহ যেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে দাফন করা হয়। কিন্তু রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আলোচনার পর তাকে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এর আগে বুধবার সকালে মৃত্যুর পর তার মরদেহ আল-মারকাজুলে গোসল ও কাফন সম্পন্নের পর দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে নিজ বাসভবনে নেয়া হয়।

বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল জব্বার কিডনি, হার্ট, প্রস্টেটসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন।

কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত সালাম সালাম হাজার সালাম, জয় বাংলা বাংলার জয়সহ অনেক উদ্বুদ্ধকরণ গানের গায়ক। তার গাওয়া ‘তুমি কী দেখেছ কভু জীবনের পরাজয়, সালাম সালাম হাজার সালাম ও জয় বাংলা বাংলার জয়’ গান তিনটি ২০০৬ সালে মার্চজুড়ে অনুষ্ঠিত বিবিসি বাংলার শ্রোতাদের বিচারে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ২০টি বাংলা গানের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।

আবদুল জব্বার ১৯৫৮ সাল থেকে তৎকালীন পাকিস্তান বেতারে গান গাওয়া শুরু করেন। বাংলাদেশ সরকার প্রদত্ত দুটি সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার একুশে পদক (১৯৮০) ও স্বাধীনতা পুরস্কার (১৯৯৬) ছাড়াও বঙ্গবন্ধু স্বর্ণপদক (১৯৭৩), বাচসাস পুরস্কার (২০০৩) ও আজীবন সম্মাননা (সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস-২০১১) পান।

১৯৩৮ সালের ৭ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন।