ঢাকা ১০:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬, ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধায় সিক্ত জব্বার

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

একাত্তরের কণ্ঠযোদ্ধা জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আবদুল জব্বারের মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে তার মহদেহ শহীদ মিনারে নেয়া হয়। সেখানে সর্বস্তরের নাগরিক তাঁকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাচ্ছেন। বৃষ্টিস্নাত সকালে শেষ শ্রদ্ধায় সিক্ত হচ্ছেন স্বাধীন বাংলা বেতারের এ শিল্পী। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বিকেলে রাজধানীর মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আগারগাঁওয়ের বেতার প্রাঙ্গণে শিল্পী আবদুল জব্বারের প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুসহ তার সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষিসহ ভক্তরা অংশ নেন।

আবদুল জব্বারের ছেলে বাবু জব্বার জানান, তার বাবার শেষ ইচ্ছে ছিল মৃত্যুর পর মরদেহ যেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে দাফন করা হয়। কিন্তু রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আলোচনার পর তাকে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এর আগে বুধবার সকালে মৃত্যুর পর তার মরদেহ আল-মারকাজুলে গোসল ও কাফন সম্পন্নের পর দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে নিজ বাসভবনে নেয়া হয়।

বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল জব্বার কিডনি, হার্ট, প্রস্টেটসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন।

কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত সালাম সালাম হাজার সালাম, জয় বাংলা বাংলার জয়সহ অনেক উদ্বুদ্ধকরণ গানের গায়ক। তার গাওয়া ‘তুমি কী দেখেছ কভু জীবনের পরাজয়, সালাম সালাম হাজার সালাম ও জয় বাংলা বাংলার জয়’ গান তিনটি ২০০৬ সালে মার্চজুড়ে অনুষ্ঠিত বিবিসি বাংলার শ্রোতাদের বিচারে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ২০টি বাংলা গানের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।

আবদুল জব্বার ১৯৫৮ সাল থেকে তৎকালীন পাকিস্তান বেতারে গান গাওয়া শুরু করেন। বাংলাদেশ সরকার প্রদত্ত দুটি সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার একুশে পদক (১৯৮০) ও স্বাধীনতা পুরস্কার (১৯৯৬) ছাড়াও বঙ্গবন্ধু স্বর্ণপদক (১৯৭৩), বাচসাস পুরস্কার (২০০৩) ও আজীবন সম্মাননা (সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস-২০১১) পান।

১৯৩৮ সালের ৭ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধায় সিক্ত জব্বার

আপডেট সময় ০৪:৫৮:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩১ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

একাত্তরের কণ্ঠযোদ্ধা জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আবদুল জব্বারের মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে তার মহদেহ শহীদ মিনারে নেয়া হয়। সেখানে সর্বস্তরের নাগরিক তাঁকে শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাচ্ছেন। বৃষ্টিস্নাত সকালে শেষ শ্রদ্ধায় সিক্ত হচ্ছেন স্বাধীন বাংলা বেতারের এ শিল্পী। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বিকেলে রাজধানীর মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হবে।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আগারগাঁওয়ের বেতার প্রাঙ্গণে শিল্পী আবদুল জব্বারের প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুসহ তার সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষিসহ ভক্তরা অংশ নেন।

আবদুল জব্বারের ছেলে বাবু জব্বার জানান, তার বাবার শেষ ইচ্ছে ছিল মৃত্যুর পর মরদেহ যেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে দাফন করা হয়। কিন্তু রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আলোচনার পর তাকে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এর আগে বুধবার সকালে মৃত্যুর পর তার মরদেহ আল-মারকাজুলে গোসল ও কাফন সম্পন্নের পর দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর ধানমণ্ডিতে নিজ বাসভবনে নেয়া হয়।

বুধবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল জব্বার কিডনি, হার্ট, প্রস্টেটসহ বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন।

কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত সালাম সালাম হাজার সালাম, জয় বাংলা বাংলার জয়সহ অনেক উদ্বুদ্ধকরণ গানের গায়ক। তার গাওয়া ‘তুমি কী দেখেছ কভু জীবনের পরাজয়, সালাম সালাম হাজার সালাম ও জয় বাংলা বাংলার জয়’ গান তিনটি ২০০৬ সালে মার্চজুড়ে অনুষ্ঠিত বিবিসি বাংলার শ্রোতাদের বিচারে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ২০টি বাংলা গানের তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।

আবদুল জব্বার ১৯৫৮ সাল থেকে তৎকালীন পাকিস্তান বেতারে গান গাওয়া শুরু করেন। বাংলাদেশ সরকার প্রদত্ত দুটি সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার একুশে পদক (১৯৮০) ও স্বাধীনতা পুরস্কার (১৯৯৬) ছাড়াও বঙ্গবন্ধু স্বর্ণপদক (১৯৭৩), বাচসাস পুরস্কার (২০০৩) ও আজীবন সম্মাননা (সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস-২০১১) পান।

১৯৩৮ সালের ৭ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন।