আকাশ জাতীয় ডেস্ক:
‘হ্যালো রাজশাহী-২’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের টাকা ছিনতাইয়ের নাটক সাজিয়েছিলেন দুই যুবক। সঙ্গে নিয়েছিলেন তাদের দুই বন্ধুকেও। হ্যালো রাজশাহী-২-এর ভিভো মোবাইল ফোন শোরুমের ৩৩ লাখ টাকা তারা ছিনতাইও করেছিলেন। তবে শেষমেশ তারা পুলিশের কাছে ধরা পড়েছেন।
এই চার যুবকের মধ্যে তিনজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। একজন পলাতক। উদ্ধার করা হয়েছে ৩২ লাখ টাকা। বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই টাকা ছিনতাইয়ের নাটক সাজানো হয়।
আট ঘণ্টার মধ্যে রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানা পুলিশ টাকাগুলো উদ্ধার করেছে। শুক্রবার দুপুরে বোয়ালিয়া থানায় সংবাদ সম্মেলন করে পুলিশের পক্ষ থেকে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া হয়।
গ্রেফতারকৃত তিন যুবক হলেন- মহানগরীর কর্নহার থানার দারুসা সায়েরপুকুর এলাকার মিজানুর রহমানের ছেলে মেহেদী হাসান ফায়সাল (২৬), শাহমখদুম থানার দক্ষিণ নওদাপাড়া এলাকার দুলাল হোসেনের ছেলে তাইজুল ইসলাম ওরফে ডলার (২৪) এবং দামকুড়া থানার হরিপুর গ্রামের মৃত হাসান আলীর ছেলে আরিফুল ইসলাম ওরফে ডলার (২৪)। পলাতক অন্য আসামির নাম অহিদুল ইসলাম (২২)। কাশিয়াডাঙ্গা থানার সেনপুকুর এলাকায় তার বাড়ি। বাবার নাম আবদুল ওহাব।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে আরিফুলের ঘর থেকেই টাকাগুলো উদ্ধার করা হয়।
এদের মধ্যে মেহেদী হাসান ফায়সাল ভিভোর শোরুমের বিক্রয় প্রতিনিধি। তাইজুল ইসলাম ডলারও সেখানকার কর্মচারী।
তবে করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে তিনি শোরুমে কম আসতেন। তাইজুল ইসলামই ছিনতাই নাটক সাজান। আসামি আরিফুলের বাবা একজন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে তিনি নিহত হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ভিভোর শোরুমের জন্য নতুন কিছু ফোন নিতে বৃহস্পতিবার ব্যাংকে টাকা জমা দেয়ার কথা ছিল। শোরুমের মালিক অঞ্জন কুমার রায় তার কর্মচারী মেহেদী হাসান এবং সিম্ফনির ডিস্ট্রিবিউশন ম্যানেজার সোহেলকে টাকাগুলো ব্যাংকে জমা দিতে পাঠান।
শোরুম থেকে তিন-চার মিনিটের পায়ে হাঁটা দূরত্বেই ডাচ-বাংলা ব্যাংক। কিন্তু শোরুম থেকে টাকা নিয়ে বের হয়ে রাস্তায় তারা যখন হাঁটা শুরু করেন তখন দুই যুবক মোটরসাইকেল নিয়ে এসে মেহেদীর কাঁধে থাকা ব্যাগটি টান দিয়ে নিয়ে চলে যায়। এরপর বিষয়টি ছিনতাই বলে প্রচার করে মেহেদী। ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে বুঝতে পারে এটা সাজানো নাটক।
পুলিশ জানায়, আরিফুল ইসলাম ও তাইজুল ইসলাম মোটরসাইকেল নিয়ে এসেছিলেন। তারা দু’জনেই মাথায় হেলমেট পরে ছিলেন। পরনে ছিল রেইন কোর্ট। মেহেদীর সঙ্গে তাদের আগে থেকেই পরিকল্পনা ঠিক ছিল। সে অনুযায়ী মোটরসাইকেলের পেছনে বসে তাইজুল টান দিয়ে টাকার ব্যাগ নেন।
সেখান থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর আরিফুলকে টাকা দিয়ে পাঠিয়ে তাইজুল আবার মোটরসাইকেল নিয়ে ভিভোর শোরুমের সামনে আসেন। সেখান থেকেই পুলিশ তাকে আটক করে।
এ ছাড়া একই সময় মেহেদী হাসান ও সোহেলকেও আটক করা হয়। পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে প্রথমে তাইজুল স্বীকার করেন তারা পরিকল্পনা করেই টাকা নিয়ে গেছেন। তবে এ ঘটনার সঙ্গে সেলিম জড়িত নন। তাই পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়।
ব্যাংকে টাকা নেয়ার সময় সেলিমের কাছে ব্যাগে ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৮০০ টাকা ছিল। এই টাকাগুলো কথিত ছিনতাইয়ের সময় নিয়ে যাওয়া হয়নি। শুধু মেহেদীর কাছে থাকা একটি ব্যাগের ৩৩ লাখ টাকাই নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মেহেদীও জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোটরসাইকেলের চালক আরিফুল ইসলামকে আটক করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যেরভিত্তিতে বন্ধু অহিদুল ইসলামের বাড়ি থেকে ৩২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। এর আগে সকালেই তাইজুলের কাছ থেকে ছিনতাই নাটকে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়। তবে ১ লাখ টাকা নিয়ে অহিদুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ বলছে, ঘটনার সময়ের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায় এতগুলো টাকা নিয়ে চলে গেলেও প্রতিরোধের চেষ্টা করা হয়নি। তাছাড়া যারা টাকা নিয়ে যাচ্ছিলেন তারাও কোনো ধরনের অস্ত্রের ব্যবহার ছাড়া খুব সহজেই মোটরসাইকেলে বসে টাকার ব্যাগ কাঁধ থেকে নিয়ে চলে যান। এ বিষয়টিই সন্দেহের সৃষ্টি করে। সেই সন্দেহই তাদের টাকা উদ্ধারে প্রধান ক্লু ছিল।
এই টাকা ছিনতাইয়ের নাটকের ঘটনায় মহানগরীর অলোকার মোড়ের ভিভো মোবাইল ফোনের শোরুমের মালিক অঞ্জন কুমার রায় বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। মামলায় তিনজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ মামলার পলাতক আসামিকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) উপ-কমিশনার সাজিদ হোসেন, অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আবদুর রশিদ, আরএমপির মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস, বোয়ালিয়া থানার সহকারী কমিশনার ফারজিনা ইয়াসমিন, ওসি নিবারন চন্দ্র বর্মন উপস্থিত ছিলেন।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























