ঢাকা ১১:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘বাংলাদেশে একটা বড় খুন হয়েছিল, কাকে দিয়ে করিয়েছিলেন সবটাই জানি’:মমতা ব্যানার্জি রামিসা হত্যা মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন হবে আশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছাত্রশিবিরকে তরুণ সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে: ডা. শফিকুর রহমান সন্তানেরা যুগ্মসচিব-বুয়েট শিক্ষক, তবুও একা ঘরে মরতে হলো বৃদ্ধ মাকে ‘ইরান সরকারের ভিত্তি নড়ে গেছে, এটি ভেঙে পড়তে বাধ্য’ খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত ঈদের দিন স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৮৭৭ বর্তমান সরকার সব মানুষের ধর্মের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী: মঈন খান জাতীয় ঐক্য ও দেশ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

কুষ্টিয়ায় কোমল পানীয় ভেবে বিষ পানে শিশুর মৃত্যু

আকাশ জাতীয় ডেস্ক : 

কুষ্টিয়ার খোকসায় কোমল পানীয় ভেবে পেঁয়াজে দেওয়ার তরল বিষ পান করে তিন বছরের এক শিশু কন্যা মারা গেছে। বুধবার সকাল জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব গোপাল পুর গ্রামের কোমল পানীয় বতোলে রাখা তরল বিষ খেয়ে শিশু খাদিজা মারা যায়। সে এই গ্রামের বাহাদুর আলী শেখের মেয়ে।

সকাল সাড়ে নয়টার দিকে খেলার সময় নিজেদের গোয়াল ঘরে (গরু রাখার ঘর) কোমল পানীয়র বতোলে রাখা তরল বিষের সন্ধ্যান পায় শিশুটি। সে কোমল পানীয় ভেবে বিষ খেয়ে ফেলে। এর পর গোয়াল ঘর থেকে বমি করতে করতে শিশুটি বেড়িয়ে আসে। পরিবারের লোকেরা টের পেয়ে শিশুটিকে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃতবলে ঘোষণা করেন।

নিহত শিশুর পিতা বাহাদুর আলী জানান, মঙ্গলবার পেঁয়াজের খেতে বিষ দিয়ে কিছুটা তরল বিষ বেঁচে যায়। আরসি’র বতলে রাখা অবশিষ্ট বিষ টুকু নিজের গোয়াল ঘরের এক কোনে রেখে দেন। খাদিজা বতলে রাখা বিষ খেয়ে বমি করতে করতে বেড়িয়ে আসার পর তারা বুঝতে পেরে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। শোমসপুর রেল গেটে আসার পর তার কোলের উপর মেয়ে মারা যায়। তার পরেও মন বোঝানোর জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কৃষকদের বাড়িতে একটু আধটো বিষ থাকে। সেগুলো সাবধানে রাখা হয়। কিন্তু শিশুটি কিভাবে বিষ পেয়ে গেলো। ঘটনাটিকে ভাগ্যের লিখন বলে তিনি মনে করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার জহিদুল ইসলাম জাহিদ জানান, জরুরী বিভাগে আসার আগেই শিশুটি মারা যায়। তাদের কাছে মৃত অবস্থায় শিশুটিকে আনা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মৃতশিশুটিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে থানা পুলিশ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে একটি বেঞ্চের উপর বসে ছিলেন শিশুটির মা সুমি খাতুন। মেয়ের শোকে তিনি পাথর বনে গেছেন। কারো সাথে কোন কথা বলছেন না। নির্বাক স্ত্রীর পাশে বসে নিজের অসাধানতাকেই দুষলেন সন্তান হারা কৃষক বাহাদুর।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

‘বাংলাদেশে একটা বড় খুন হয়েছিল, কাকে দিয়ে করিয়েছিলেন সবটাই জানি’:মমতা ব্যানার্জি

কুষ্টিয়ায় কোমল পানীয় ভেবে বিষ পানে শিশুর মৃত্যু

আপডেট সময় ০৮:৪৫:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক : 

কুষ্টিয়ার খোকসায় কোমল পানীয় ভেবে পেঁয়াজে দেওয়ার তরল বিষ পান করে তিন বছরের এক শিশু কন্যা মারা গেছে। বুধবার সকাল জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব গোপাল পুর গ্রামের কোমল পানীয় বতোলে রাখা তরল বিষ খেয়ে শিশু খাদিজা মারা যায়। সে এই গ্রামের বাহাদুর আলী শেখের মেয়ে।

সকাল সাড়ে নয়টার দিকে খেলার সময় নিজেদের গোয়াল ঘরে (গরু রাখার ঘর) কোমল পানীয়র বতোলে রাখা তরল বিষের সন্ধ্যান পায় শিশুটি। সে কোমল পানীয় ভেবে বিষ খেয়ে ফেলে। এর পর গোয়াল ঘর থেকে বমি করতে করতে শিশুটি বেড়িয়ে আসে। পরিবারের লোকেরা টের পেয়ে শিশুটিকে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃতবলে ঘোষণা করেন।

নিহত শিশুর পিতা বাহাদুর আলী জানান, মঙ্গলবার পেঁয়াজের খেতে বিষ দিয়ে কিছুটা তরল বিষ বেঁচে যায়। আরসি’র বতলে রাখা অবশিষ্ট বিষ টুকু নিজের গোয়াল ঘরের এক কোনে রেখে দেন। খাদিজা বতলে রাখা বিষ খেয়ে বমি করতে করতে বেড়িয়ে আসার পর তারা বুঝতে পেরে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। শোমসপুর রেল গেটে আসার পর তার কোলের উপর মেয়ে মারা যায়। তার পরেও মন বোঝানোর জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কৃষকদের বাড়িতে একটু আধটো বিষ থাকে। সেগুলো সাবধানে রাখা হয়। কিন্তু শিশুটি কিভাবে বিষ পেয়ে গেলো। ঘটনাটিকে ভাগ্যের লিখন বলে তিনি মনে করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার জহিদুল ইসলাম জাহিদ জানান, জরুরী বিভাগে আসার আগেই শিশুটি মারা যায়। তাদের কাছে মৃত অবস্থায় শিশুটিকে আনা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মৃতশিশুটিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে থানা পুলিশ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে একটি বেঞ্চের উপর বসে ছিলেন শিশুটির মা সুমি খাতুন। মেয়ের শোকে তিনি পাথর বনে গেছেন। কারো সাথে কোন কথা বলছেন না। নির্বাক স্ত্রীর পাশে বসে নিজের অসাধানতাকেই দুষলেন সন্তান হারা কৃষক বাহাদুর।