ঢাকা ১০:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্কুলমুখী করতে সাড়ে তিন লাখ শিশুকে স্কুল ড্রেস দেবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী আলমারির ড্রয়ারে মিলল শিশুর মরদেহ, সন্দেহভাজনকে গণপিটুনিতে হত্যা নতুন বিনিয়োগ আনতে ২৭ দেশে আন্তর্জাতিক মেলায় অংশ নেবে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এই প্রজন্ম হারিয়ে ফেললে জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী সব মামলায় জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিদায়ী নৌপ্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন-বিধি সংশোধন প্রস্তাব চূড়ান্ত, যাচ্ছে মন্ত্রণালয়ে বিএফটিআই হবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য গবেষণার জাতীয় থিংক ট্যাংক : বাণিজ্যমন্ত্রী ইতালির স্বপ্ন দেখিয়ে লিবিয়ায় নির্যাতন, মাদারীপুরে প্রতারণার শিকার অর্ধশতাধিক যুবক আবাসিক হোটেলে স্ত্রী হত্যা: স্বামীর যাবজ্জীবন

কুষ্টিয়ায় কোমল পানীয় ভেবে বিষ পানে শিশুর মৃত্যু

আকাশ জাতীয় ডেস্ক : 

কুষ্টিয়ার খোকসায় কোমল পানীয় ভেবে পেঁয়াজে দেওয়ার তরল বিষ পান করে তিন বছরের এক শিশু কন্যা মারা গেছে। বুধবার সকাল জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব গোপাল পুর গ্রামের কোমল পানীয় বতোলে রাখা তরল বিষ খেয়ে শিশু খাদিজা মারা যায়। সে এই গ্রামের বাহাদুর আলী শেখের মেয়ে।

সকাল সাড়ে নয়টার দিকে খেলার সময় নিজেদের গোয়াল ঘরে (গরু রাখার ঘর) কোমল পানীয়র বতোলে রাখা তরল বিষের সন্ধ্যান পায় শিশুটি। সে কোমল পানীয় ভেবে বিষ খেয়ে ফেলে। এর পর গোয়াল ঘর থেকে বমি করতে করতে শিশুটি বেড়িয়ে আসে। পরিবারের লোকেরা টের পেয়ে শিশুটিকে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃতবলে ঘোষণা করেন।

নিহত শিশুর পিতা বাহাদুর আলী জানান, মঙ্গলবার পেঁয়াজের খেতে বিষ দিয়ে কিছুটা তরল বিষ বেঁচে যায়। আরসি’র বতলে রাখা অবশিষ্ট বিষ টুকু নিজের গোয়াল ঘরের এক কোনে রেখে দেন। খাদিজা বতলে রাখা বিষ খেয়ে বমি করতে করতে বেড়িয়ে আসার পর তারা বুঝতে পেরে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। শোমসপুর রেল গেটে আসার পর তার কোলের উপর মেয়ে মারা যায়। তার পরেও মন বোঝানোর জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কৃষকদের বাড়িতে একটু আধটো বিষ থাকে। সেগুলো সাবধানে রাখা হয়। কিন্তু শিশুটি কিভাবে বিষ পেয়ে গেলো। ঘটনাটিকে ভাগ্যের লিখন বলে তিনি মনে করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার জহিদুল ইসলাম জাহিদ জানান, জরুরী বিভাগে আসার আগেই শিশুটি মারা যায়। তাদের কাছে মৃত অবস্থায় শিশুটিকে আনা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মৃতশিশুটিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে থানা পুলিশ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে একটি বেঞ্চের উপর বসে ছিলেন শিশুটির মা সুমি খাতুন। মেয়ের শোকে তিনি পাথর বনে গেছেন। কারো সাথে কোন কথা বলছেন না। নির্বাক স্ত্রীর পাশে বসে নিজের অসাধানতাকেই দুষলেন সন্তান হারা কৃষক বাহাদুর।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলমুখী করতে সাড়ে তিন লাখ শিশুকে স্কুল ড্রেস দেবে সরকার: শিক্ষামন্ত্রী

কুষ্টিয়ায় কোমল পানীয় ভেবে বিষ পানে শিশুর মৃত্যু

আপডেট সময় ০৮:৪৫:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক : 

কুষ্টিয়ার খোকসায় কোমল পানীয় ভেবে পেঁয়াজে দেওয়ার তরল বিষ পান করে তিন বছরের এক শিশু কন্যা মারা গেছে। বুধবার সকাল জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব গোপাল পুর গ্রামের কোমল পানীয় বতোলে রাখা তরল বিষ খেয়ে শিশু খাদিজা মারা যায়। সে এই গ্রামের বাহাদুর আলী শেখের মেয়ে।

সকাল সাড়ে নয়টার দিকে খেলার সময় নিজেদের গোয়াল ঘরে (গরু রাখার ঘর) কোমল পানীয়র বতোলে রাখা তরল বিষের সন্ধ্যান পায় শিশুটি। সে কোমল পানীয় ভেবে বিষ খেয়ে ফেলে। এর পর গোয়াল ঘর থেকে বমি করতে করতে শিশুটি বেড়িয়ে আসে। পরিবারের লোকেরা টের পেয়ে শিশুটিকে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে নিয়ে এলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃতবলে ঘোষণা করেন।

নিহত শিশুর পিতা বাহাদুর আলী জানান, মঙ্গলবার পেঁয়াজের খেতে বিষ দিয়ে কিছুটা তরল বিষ বেঁচে যায়। আরসি’র বতলে রাখা অবশিষ্ট বিষ টুকু নিজের গোয়াল ঘরের এক কোনে রেখে দেন। খাদিজা বতলে রাখা বিষ খেয়ে বমি করতে করতে বেড়িয়ে আসার পর তারা বুঝতে পেরে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। শোমসপুর রেল গেটে আসার পর তার কোলের উপর মেয়ে মারা যায়। তার পরেও মন বোঝানোর জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

জয়ন্তী হাজরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, কৃষকদের বাড়িতে একটু আধটো বিষ থাকে। সেগুলো সাবধানে রাখা হয়। কিন্তু শিশুটি কিভাবে বিষ পেয়ে গেলো। ঘটনাটিকে ভাগ্যের লিখন বলে তিনি মনে করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার জহিদুল ইসলাম জাহিদ জানান, জরুরী বিভাগে আসার আগেই শিশুটি মারা যায়। তাদের কাছে মৃত অবস্থায় শিশুটিকে আনা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মৃতশিশুটিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে থানা পুলিশ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে একটি বেঞ্চের উপর বসে ছিলেন শিশুটির মা সুমি খাতুন। মেয়ের শোকে তিনি পাথর বনে গেছেন। কারো সাথে কোন কথা বলছেন না। নির্বাক স্ত্রীর পাশে বসে নিজের অসাধানতাকেই দুষলেন সন্তান হারা কৃষক বাহাদুর।