ঢাকা ০৯:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

নিয়ম মানছে না জনগণ, হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) ধীরে ধীরে মহামারি রুপ ধারণ করেছে। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন দেশে ৮-১০ জন মারা যাচ্ছে ও সংক্রমিত হচ্ছেন শত শত মানুষ। তবুও সাধারণ মানুষের টনক নড়ছে না। নিয়ম না মেনে সেই জনসমাগম করছে, এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়ি যাচ্ছে ও প্রশাসনের কাছে কোনো না কোনো অজুহাত দেখিয়ে তারা বাইরে বের হচ্ছেই। আর এই আমজনতার মধ্যে সচেতনতা বাড়িয়ে নিময় অনুযায়ী চলাফেরা করাতে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রশাসনকে।

মানুষ লকডাউন না মেনে বিনা প্রয়োজনে চলাফেরা করছে এতে করোনা বিস্তারের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। দেশে সব ধরনের গণজমায়েত ও সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তারপরেও অনেকে সতর্কতা না মেনে চলে একসঙ্গে জড়ো হচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে অসহায় হয়ে পড়েছে পুলিশ-প্রশাসন।

সাভার উপজেলাকে করোনা মুক্ত রাখতে গত ১৩ এপ্রিল সাভারে সীমান্ত এলাকাগুলোর সড়কপথ পরিপূর্ণভাবে লকডাউন করার ঘোষণা দিয়েছিল উপজেলা প্রশাসন।

মিরপুর এলাকাটি বর্তমানে করোনা ভাইরাসের জন্য বহুল ঝুঁকিপূর্ণ। এই এলাকাটি সাভারের বিরুলিয়ার খুব কাছেই। মিরপুর-বিরুলিয়া সংযোগ সড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত মানুষ এই দুই এলাকায় যাতায়াত করে। তাই সব সীমান্ত সড়কের মতো এটিকে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

ঘোষণার পরেও সাধারণ মানুষ পুলিশের কাছে নানা অযুহাতে মিরপুর থেকে সাভারে আসছে আবার সাভার থেকে মিরপুর যাচ্ছে। এই বিরুলিয়া সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তার দ্বায়িত্বে বেশ কয়েকবছর ধরে রয়েছেন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) অপূর্ব দত্ত।

তিনি বলেন, লকডাউনের নির্দেশনা পাওয়ার পরপরই তাদের এখানের সড়কটিতে চেকপোস্ট বসিয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় তাদের চেকপোস্টের কার্যক্রম চলে। একমাত্র জরুরি সেবার পরিবহন ছাড়া আর কোনো পরিবহন বা মানুষকে যাতায়াত করতে দেওয়া হয় না। কিন্ত কিছু মানুষ আছে যারা অসচেতনভাবে বাসা থেকে বের হয়ে ঘোরাঘুরি করে। তাদের প্রশ্ন করা হলে কোনো না কোনো মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে তাদের কাছ থেকে বেঁচে যায়।

অপুর্ব দত্ত  বলেন, আমরা আমাদের পরিবারের কথা চিন্তা না করে দেশের মানুষের জন্য নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছি। করোনা থেকে বাঁচতে বর্তমানে সবার জন্য সামাজিক দূরত্ব থাকাটা বেশি জরুরি। কিন্তু আমার দ্বায়িত্ব পালনকালে দেখেছি অনেকই যেনো আমাদের সঙ্গে মজা করে। বিভিন্ন সময় গুজব ছাড়ায় এবং যেখানে সেখানে মানুষ জনসমাগম করছে। আমরা এখন কোনো জায়গায় অপারেশন গেলে মানুষ আমাদের দেখতে চলে আসে তারা একবারও ভাবে না তাদের জীবনোর ঝুঁকি রয়েছে। মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে।

এদিকে প্রশাসনের সঙ্গে মনে হয় লুকোচুরিই খেলছেন মানুষ। পুলিশ একদিকে টহল দিলে মানুষ অন্যদিকে জনসমাগম করে৷ আবার পুলিশ দেখলে সামাজিক দূরত্বের গুরুত্ব আছে পুলিশ না থাকলে এর কোনো বালাই নেই৷ এমন এক অভিজ্ঞতা কথা বলেন সাভারের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ।

তিনি বলেন, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ঢাকায় প্রবেশের একটি উল্লেখযোগ্য পথ। এই প্রবেশ পথে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন স্থানে টহলের ব্যবস্থা করছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হচ্ছে চেকপোস্টের আগে যাত্রীরা গাড়ি থেকে নেমে যাচ্ছে আবার চেকপোস্টের পরে আবার গাড়িতে উঠছে। আসলে মানুষের মধ্যে যদি নিজ থেকে সচেতনতা না আসে তাহলে যত আইন করা হক না কেন, এটার বিপরীতে মানুষ নিজস্ব একটি পদ্ধতি বের করে নিয়ে আইন লঙ্ঘনের চেষ্টা করে৷

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিয়ম মানছে না জনগণ, হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন

আপডেট সময় ০৪:৩৫:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) ধীরে ধীরে মহামারি রুপ ধারণ করেছে। এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন দেশে ৮-১০ জন মারা যাচ্ছে ও সংক্রমিত হচ্ছেন শত শত মানুষ। তবুও সাধারণ মানুষের টনক নড়ছে না। নিয়ম না মেনে সেই জনসমাগম করছে, এক বাড়ি থেকে অন্য বাড়ি যাচ্ছে ও প্রশাসনের কাছে কোনো না কোনো অজুহাত দেখিয়ে তারা বাইরে বের হচ্ছেই। আর এই আমজনতার মধ্যে সচেতনতা বাড়িয়ে নিময় অনুযায়ী চলাফেরা করাতে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রশাসনকে।

মানুষ লকডাউন না মেনে বিনা প্রয়োজনে চলাফেরা করছে এতে করোনা বিস্তারের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। দেশে সব ধরনের গণজমায়েত ও সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তারপরেও অনেকে সতর্কতা না মেনে চলে একসঙ্গে জড়ো হচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে অসহায় হয়ে পড়েছে পুলিশ-প্রশাসন।

সাভার উপজেলাকে করোনা মুক্ত রাখতে গত ১৩ এপ্রিল সাভারে সীমান্ত এলাকাগুলোর সড়কপথ পরিপূর্ণভাবে লকডাউন করার ঘোষণা দিয়েছিল উপজেলা প্রশাসন।

মিরপুর এলাকাটি বর্তমানে করোনা ভাইরাসের জন্য বহুল ঝুঁকিপূর্ণ। এই এলাকাটি সাভারের বিরুলিয়ার খুব কাছেই। মিরপুর-বিরুলিয়া সংযোগ সড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত মানুষ এই দুই এলাকায় যাতায়াত করে। তাই সব সীমান্ত সড়কের মতো এটিকে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

ঘোষণার পরেও সাধারণ মানুষ পুলিশের কাছে নানা অযুহাতে মিরপুর থেকে সাভারে আসছে আবার সাভার থেকে মিরপুর যাচ্ছে। এই বিরুলিয়া সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তার দ্বায়িত্বে বেশ কয়েকবছর ধরে রয়েছেন পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) অপূর্ব দত্ত।

তিনি বলেন, লকডাউনের নির্দেশনা পাওয়ার পরপরই তাদের এখানের সড়কটিতে চেকপোস্ট বসিয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় তাদের চেকপোস্টের কার্যক্রম চলে। একমাত্র জরুরি সেবার পরিবহন ছাড়া আর কোনো পরিবহন বা মানুষকে যাতায়াত করতে দেওয়া হয় না। কিন্ত কিছু মানুষ আছে যারা অসচেতনভাবে বাসা থেকে বের হয়ে ঘোরাঘুরি করে। তাদের প্রশ্ন করা হলে কোনো না কোনো মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে তাদের কাছ থেকে বেঁচে যায়।

অপুর্ব দত্ত  বলেন, আমরা আমাদের পরিবারের কথা চিন্তা না করে দেশের মানুষের জন্য নিরাপত্তা দিয়ে যাচ্ছি। করোনা থেকে বাঁচতে বর্তমানে সবার জন্য সামাজিক দূরত্ব থাকাটা বেশি জরুরি। কিন্তু আমার দ্বায়িত্ব পালনকালে দেখেছি অনেকই যেনো আমাদের সঙ্গে মজা করে। বিভিন্ন সময় গুজব ছাড়ায় এবং যেখানে সেখানে মানুষ জনসমাগম করছে। আমরা এখন কোনো জায়গায় অপারেশন গেলে মানুষ আমাদের দেখতে চলে আসে তারা একবারও ভাবে না তাদের জীবনোর ঝুঁকি রয়েছে। মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে।

এদিকে প্রশাসনের সঙ্গে মনে হয় লুকোচুরিই খেলছেন মানুষ। পুলিশ একদিকে টহল দিলে মানুষ অন্যদিকে জনসমাগম করে৷ আবার পুলিশ দেখলে সামাজিক দূরত্বের গুরুত্ব আছে পুলিশ না থাকলে এর কোনো বালাই নেই৷ এমন এক অভিজ্ঞতা কথা বলেন সাভারের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মাহফুজ।

তিনি বলেন, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ঢাকায় প্রবেশের একটি উল্লেখযোগ্য পথ। এই প্রবেশ পথে আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিভিন্ন স্থানে টহলের ব্যবস্থা করছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হচ্ছে চেকপোস্টের আগে যাত্রীরা গাড়ি থেকে নেমে যাচ্ছে আবার চেকপোস্টের পরে আবার গাড়িতে উঠছে। আসলে মানুষের মধ্যে যদি নিজ থেকে সচেতনতা না আসে তাহলে যত আইন করা হক না কেন, এটার বিপরীতে মানুষ নিজস্ব একটি পদ্ধতি বের করে নিয়ে আইন লঙ্ঘনের চেষ্টা করে৷