ঢাকা ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

হাজীগঞ্জে করোনা উপসর্গ নিয়ে নারীর মৃত্যু, কবর খুঁড়লেন পুলিশ-সাংবাদিক

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চাঁদপুরে হাজীগঞ্জ উপজেলায় করোনা উপসর্গ নিয়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

করোনায় মৃত্যু বলে ওই নারীকে কবরের জায়গাও দিতে চায়নি কেউ। তবে গভীররাতে স্থানীয় মেম্বারকে সঙ্গে নিয়ে কবর খুঁড়ে ওই নারীকে সমাহিত করেন পুলিশ সদস্য, সাংবাদিক।

মৃত ফাতেমা বেগমের বাসা শহরের বিষ্ণুদী মাদরাসা সড়ক এলাকায়। তার স্বামীর নাম জাহাঙ্গীর হোসেন।

জানা যায়, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে করোনার উপসর্গ নিয়ে ফাতেমা চাঁদপুর ২৫০ শয্যার সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। ওইদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মারা যান।

করোনায় মৃত্যু বলে এলাকার কেউ ফাতেমার কবর খুঁড়েনি। কবরের জায়গাও দিতে চায়নি। অবশেষে কোদাল হাতে তুলে নেন চাঁদপুর জেলা পুলিশের হাজীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফজাল হোসেন।

ওই সময় তার সঙ্গে ছিলেন- এসআই জয়নাল আবেদীন, সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম সিফাত, স্থানীয় ইউপি সদস্য এবং ইসলামী আন্দোলনের দাফন-কাফন টিমের প্রধান মাওলানা যোবায়ের আহমেদ। তারাই কবর খুঁড়ে ওই নারীকে সমাহিত করেন।

ফাতেমার মরদেহ দাফন করা হয় হাজীগঞ্জের রাজারগাঁও গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে।

এদিকে, মৃতের মরদেহ দাফনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, তার এলাকার জনপ্রতিনিধিরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কর্মসূত্রে চাঁদপুর শহরে বসবাসকারী জাহাঙ্গীর হোসেনের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামে। তবে তার শ্বশুরবাড়ি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার রাজারগাঁও ইউনিয়নে।

কিন্তু তার স্ত্রীর অনাকাঙ্ক্ষিত এমন মৃত্যুর ঘটনার পর শ্বশুরবাড়িতে মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করা হয়। তাতে বাদ সাধেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল হাদী।

এমন পরিস্থিতিতে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।

শুক্রবার রাতে এএসপি সার্কেল (হাজীগঞ্জ) আফজাল হোসেন ও সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম সিপাতসহ পুলিশের কজন সদস্য ফাতেমার দাফন সম্পন্ন করেন।

এএসপি সার্কেল (হাজীগঞ্জ) আফজাল হোসেন ও সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম দৈনিক আকাশকে জানান, বাধার মুখে ওই নারীর দাফন কাজ শেষ করেছি। তবে সেহরি খাওয়া হয়নি। পানি পান করেই সেহরি শেষ করেছি তবুও, ‍শুকরিয়া।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

হাজীগঞ্জে করোনা উপসর্গ নিয়ে নারীর মৃত্যু, কবর খুঁড়লেন পুলিশ-সাংবাদিক

আপডেট সময় ০৮:২৯:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চাঁদপুরে হাজীগঞ্জ উপজেলায় করোনা উপসর্গ নিয়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

করোনায় মৃত্যু বলে ওই নারীকে কবরের জায়গাও দিতে চায়নি কেউ। তবে গভীররাতে স্থানীয় মেম্বারকে সঙ্গে নিয়ে কবর খুঁড়ে ওই নারীকে সমাহিত করেন পুলিশ সদস্য, সাংবাদিক।

মৃত ফাতেমা বেগমের বাসা শহরের বিষ্ণুদী মাদরাসা সড়ক এলাকায়। তার স্বামীর নাম জাহাঙ্গীর হোসেন।

জানা যায়, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে করোনার উপসর্গ নিয়ে ফাতেমা চাঁদপুর ২৫০ শয্যার সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। ওইদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মারা যান।

করোনায় মৃত্যু বলে এলাকার কেউ ফাতেমার কবর খুঁড়েনি। কবরের জায়গাও দিতে চায়নি। অবশেষে কোদাল হাতে তুলে নেন চাঁদপুর জেলা পুলিশের হাজীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফজাল হোসেন।

ওই সময় তার সঙ্গে ছিলেন- এসআই জয়নাল আবেদীন, সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম সিফাত, স্থানীয় ইউপি সদস্য এবং ইসলামী আন্দোলনের দাফন-কাফন টিমের প্রধান মাওলানা যোবায়ের আহমেদ। তারাই কবর খুঁড়ে ওই নারীকে সমাহিত করেন।

ফাতেমার মরদেহ দাফন করা হয় হাজীগঞ্জের রাজারগাঁও গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে।

এদিকে, মৃতের মরদেহ দাফনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, তার এলাকার জনপ্রতিনিধিরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কর্মসূত্রে চাঁদপুর শহরে বসবাসকারী জাহাঙ্গীর হোসেনের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামে। তবে তার শ্বশুরবাড়ি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার রাজারগাঁও ইউনিয়নে।

কিন্তু তার স্ত্রীর অনাকাঙ্ক্ষিত এমন মৃত্যুর ঘটনার পর শ্বশুরবাড়িতে মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করা হয়। তাতে বাদ সাধেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল হাদী।

এমন পরিস্থিতিতে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।

শুক্রবার রাতে এএসপি সার্কেল (হাজীগঞ্জ) আফজাল হোসেন ও সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম সিপাতসহ পুলিশের কজন সদস্য ফাতেমার দাফন সম্পন্ন করেন।

এএসপি সার্কেল (হাজীগঞ্জ) আফজাল হোসেন ও সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম দৈনিক আকাশকে জানান, বাধার মুখে ওই নারীর দাফন কাজ শেষ করেছি। তবে সেহরি খাওয়া হয়নি। পানি পান করেই সেহরি শেষ করেছি তবুও, ‍শুকরিয়া।