ঢাকা ০৩:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভেবেছিলাম সবাই খামেনিকে ঘৃণা করে, কিন্তু এতো মানুষকে কাঁদতে দেখে অবাক হয়েছি’: ট্রাম্প কার্বন ক্রেডিট বাড়াতে কর্মপরিকল্পনার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর টেকসই স্বাস্থ্যপ্রযুক্তি উদ্ভাবন এখন গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ : ঢাবি উপাচার্য এমডির অণ্ডকোষ চেপে চেক-স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর আদায়, সিসিটিভি ফুটেজ ভাইরাল সশস্ত্র বাহিনী দেশ ও জনগণের গৌরবের প্রতীক: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক নাসির উদ্দিনকে প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি নস্যাৎ করার সুযোগ ইসরাইলকে দেওয়া যাবে না: এরদোগান সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক চতুর্মাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: রাষ্ট্রপতি ৪ নির্দেশনা দিয়ে করদাতাদের সতর্ক করল এনবিআর হামে মেয়ের মৃত্যু, ড. ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

হাজীগঞ্জে করোনা উপসর্গ নিয়ে নারীর মৃত্যু, কবর খুঁড়লেন পুলিশ-সাংবাদিক

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চাঁদপুরে হাজীগঞ্জ উপজেলায় করোনা উপসর্গ নিয়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

করোনায় মৃত্যু বলে ওই নারীকে কবরের জায়গাও দিতে চায়নি কেউ। তবে গভীররাতে স্থানীয় মেম্বারকে সঙ্গে নিয়ে কবর খুঁড়ে ওই নারীকে সমাহিত করেন পুলিশ সদস্য, সাংবাদিক।

মৃত ফাতেমা বেগমের বাসা শহরের বিষ্ণুদী মাদরাসা সড়ক এলাকায়। তার স্বামীর নাম জাহাঙ্গীর হোসেন।

জানা যায়, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে করোনার উপসর্গ নিয়ে ফাতেমা চাঁদপুর ২৫০ শয্যার সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। ওইদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মারা যান।

করোনায় মৃত্যু বলে এলাকার কেউ ফাতেমার কবর খুঁড়েনি। কবরের জায়গাও দিতে চায়নি। অবশেষে কোদাল হাতে তুলে নেন চাঁদপুর জেলা পুলিশের হাজীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফজাল হোসেন।

ওই সময় তার সঙ্গে ছিলেন- এসআই জয়নাল আবেদীন, সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম সিফাত, স্থানীয় ইউপি সদস্য এবং ইসলামী আন্দোলনের দাফন-কাফন টিমের প্রধান মাওলানা যোবায়ের আহমেদ। তারাই কবর খুঁড়ে ওই নারীকে সমাহিত করেন।

ফাতেমার মরদেহ দাফন করা হয় হাজীগঞ্জের রাজারগাঁও গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে।

এদিকে, মৃতের মরদেহ দাফনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, তার এলাকার জনপ্রতিনিধিরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কর্মসূত্রে চাঁদপুর শহরে বসবাসকারী জাহাঙ্গীর হোসেনের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামে। তবে তার শ্বশুরবাড়ি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার রাজারগাঁও ইউনিয়নে।

কিন্তু তার স্ত্রীর অনাকাঙ্ক্ষিত এমন মৃত্যুর ঘটনার পর শ্বশুরবাড়িতে মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করা হয়। তাতে বাদ সাধেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল হাদী।

এমন পরিস্থিতিতে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।

শুক্রবার রাতে এএসপি সার্কেল (হাজীগঞ্জ) আফজাল হোসেন ও সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম সিপাতসহ পুলিশের কজন সদস্য ফাতেমার দাফন সম্পন্ন করেন।

এএসপি সার্কেল (হাজীগঞ্জ) আফজাল হোসেন ও সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম দৈনিক আকাশকে জানান, বাধার মুখে ওই নারীর দাফন কাজ শেষ করেছি। তবে সেহরি খাওয়া হয়নি। পানি পান করেই সেহরি শেষ করেছি তবুও, ‍শুকরিয়া।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভেবেছিলাম সবাই খামেনিকে ঘৃণা করে, কিন্তু এতো মানুষকে কাঁদতে দেখে অবাক হয়েছি’: ট্রাম্প

হাজীগঞ্জে করোনা উপসর্গ নিয়ে নারীর মৃত্যু, কবর খুঁড়লেন পুলিশ-সাংবাদিক

আপডেট সময় ০৮:২৯:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চাঁদপুরে হাজীগঞ্জ উপজেলায় করোনা উপসর্গ নিয়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

করোনায় মৃত্যু বলে ওই নারীকে কবরের জায়গাও দিতে চায়নি কেউ। তবে গভীররাতে স্থানীয় মেম্বারকে সঙ্গে নিয়ে কবর খুঁড়ে ওই নারীকে সমাহিত করেন পুলিশ সদস্য, সাংবাদিক।

মৃত ফাতেমা বেগমের বাসা শহরের বিষ্ণুদী মাদরাসা সড়ক এলাকায়। তার স্বামীর নাম জাহাঙ্গীর হোসেন।

জানা যায়, শুক্রবার রাত ৮টার দিকে করোনার উপসর্গ নিয়ে ফাতেমা চাঁদপুর ২৫০ শয্যার সরকারি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন। ওইদিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি মারা যান।

করোনায় মৃত্যু বলে এলাকার কেউ ফাতেমার কবর খুঁড়েনি। কবরের জায়গাও দিতে চায়নি। অবশেষে কোদাল হাতে তুলে নেন চাঁদপুর জেলা পুলিশের হাজীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফজাল হোসেন।

ওই সময় তার সঙ্গে ছিলেন- এসআই জয়নাল আবেদীন, সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম সিফাত, স্থানীয় ইউপি সদস্য এবং ইসলামী আন্দোলনের দাফন-কাফন টিমের প্রধান মাওলানা যোবায়ের আহমেদ। তারাই কবর খুঁড়ে ওই নারীকে সমাহিত করেন।

ফাতেমার মরদেহ দাফন করা হয় হাজীগঞ্জের রাজারগাঁও গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে।

এদিকে, মৃতের মরদেহ দাফনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, তার এলাকার জনপ্রতিনিধিরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কর্মসূত্রে চাঁদপুর শহরে বসবাসকারী জাহাঙ্গীর হোসেনের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামে। তবে তার শ্বশুরবাড়ি চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার রাজারগাঁও ইউনিয়নে।

কিন্তু তার স্ত্রীর অনাকাঙ্ক্ষিত এমন মৃত্যুর ঘটনার পর শ্বশুরবাড়িতে মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করা হয়। তাতে বাদ সাধেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল হাদী।

এমন পরিস্থিতিতে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।

শুক্রবার রাতে এএসপি সার্কেল (হাজীগঞ্জ) আফজাল হোসেন ও সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম সিপাতসহ পুলিশের কজন সদস্য ফাতেমার দাফন সম্পন্ন করেন।

এএসপি সার্কেল (হাজীগঞ্জ) আফজাল হোসেন ও সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম দৈনিক আকাশকে জানান, বাধার মুখে ওই নারীর দাফন কাজ শেষ করেছি। তবে সেহরি খাওয়া হয়নি। পানি পান করেই সেহরি শেষ করেছি তবুও, ‍শুকরিয়া।