ঢাকা ০৩:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

টাঙ্গাইলে স্ত্রীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন, চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন ওসি

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে এক পাষণ্ড স্বামী। উপজেলার দক্ষিণ পাথালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

অগ্নিদগ্ধ দরিদ্র এ গৃহবধূর চিকিৎসার সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ওসি মোস্তাফিজুর রহমান।

বুধবার রাত ১১টার দিকে তাকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকাস্থ শেখ হাসিনা বার্ন ইন্সটিটিউটে পাঠানো হয়।

বুধবার রাত সাড়ে ১০টায় ওই গৃহবধূর বড় ভাই আবদুল লতিফ বাদী হয়ে গোপালপুর থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। মামলার একমাত্র আসামি হলেন গৃহবধূর স্বামী আইয়ুব নবী।

মামলায় যৌতুকের দাবি না মেটানোয় পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।

থানায় দায়ের করা অভিযোগ থেকে জানা গেছে, তিন সন্তানের জননী শান্তা আখতারকে (৩০) যৌতুকের জন্য স্বামী আইয়ুব নবী প্রায়ই নির্যাতন করতেন। মঙ্গলবার সকালে আইয়ুব শান্তাকে বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক এনে দেয়ার চাপ দেন।

শান্তা যৌতুকের টাকা এনে দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে মারধোর করা হয়। একপর্যায়ে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়। তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে আইয়ুব বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।

ওই দগ্ধ গৃহবধূকে প্রথমে গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলীম আল রাজী জানান, শান্তার দুই হাত, গলা এবং পেট থেকে পুরো বুক পুড়ে গেছে। অবস্থা গুরুতর বিবেচনায় বুধবারই তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তার অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে তাকে ঢাকাস্থ শেখ হাসিনা বার্ন ইন্সটিটিউটে স্থানান্তরের কথা বলা হয়।

গোপালপুর থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, শান্তার ভাইয়েরা খুবই দরিদ্র। ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করার সামর্থ্য তাদের নেই। অর্থাভাবে তার পরিবার বিকালে শান্তাকে পুনরায় গোপালপুরের বাড়িতে নিয়ে এসে কবিরাজি চিকিৎসা শুরু করে। খবর পেয়ে তিনি শান্তাদের বাড়িতে যান এবং তার চিকিৎসার সব ব্যয়ভার বহনের দায়িত্ব নেন। রাত ১১টায় শান্তাকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন ইন্সটিটিউটে পাঠানো হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

টাঙ্গাইলে স্ত্রীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন, চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন ওসি

আপডেট সময় ০৯:৩৫:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে এক পাষণ্ড স্বামী। উপজেলার দক্ষিণ পাথালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

অগ্নিদগ্ধ দরিদ্র এ গৃহবধূর চিকিৎসার সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ওসি মোস্তাফিজুর রহমান।

বুধবার রাত ১১টার দিকে তাকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকাস্থ শেখ হাসিনা বার্ন ইন্সটিটিউটে পাঠানো হয়।

বুধবার রাত সাড়ে ১০টায় ওই গৃহবধূর বড় ভাই আবদুল লতিফ বাদী হয়ে গোপালপুর থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। মামলার একমাত্র আসামি হলেন গৃহবধূর স্বামী আইয়ুব নবী।

মামলায় যৌতুকের দাবি না মেটানোয় পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।

থানায় দায়ের করা অভিযোগ থেকে জানা গেছে, তিন সন্তানের জননী শান্তা আখতারকে (৩০) যৌতুকের জন্য স্বামী আইয়ুব নবী প্রায়ই নির্যাতন করতেন। মঙ্গলবার সকালে আইয়ুব শান্তাকে বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক এনে দেয়ার চাপ দেন।

শান্তা যৌতুকের টাকা এনে দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে মারধোর করা হয়। একপর্যায়ে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়। তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে আইয়ুব বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।

ওই দগ্ধ গৃহবধূকে প্রথমে গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলীম আল রাজী জানান, শান্তার দুই হাত, গলা এবং পেট থেকে পুরো বুক পুড়ে গেছে। অবস্থা গুরুতর বিবেচনায় বুধবারই তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তার অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে তাকে ঢাকাস্থ শেখ হাসিনা বার্ন ইন্সটিটিউটে স্থানান্তরের কথা বলা হয়।

গোপালপুর থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, শান্তার ভাইয়েরা খুবই দরিদ্র। ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করার সামর্থ্য তাদের নেই। অর্থাভাবে তার পরিবার বিকালে শান্তাকে পুনরায় গোপালপুরের বাড়িতে নিয়ে এসে কবিরাজি চিকিৎসা শুরু করে। খবর পেয়ে তিনি শান্তাদের বাড়িতে যান এবং তার চিকিৎসার সব ব্যয়ভার বহনের দায়িত্ব নেন। রাত ১১টায় শান্তাকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন ইন্সটিটিউটে পাঠানো হয়।