টাঙ্গাইলে স্ত্রীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন, চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন ওসি

205

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে এক পাষণ্ড স্বামী। উপজেলার দক্ষিণ পাথালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

অগ্নিদগ্ধ দরিদ্র এ গৃহবধূর চিকিৎসার সার্বিক দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন ওসি মোস্তাফিজুর রহমান।

বুধবার রাত ১১টার দিকে তাকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকাস্থ শেখ হাসিনা বার্ন ইন্সটিটিউটে পাঠানো হয়।

বুধবার রাত সাড়ে ১০টায় ওই গৃহবধূর বড় ভাই আবদুল লতিফ বাদী হয়ে গোপালপুর থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। মামলার একমাত্র আসামি হলেন গৃহবধূর স্বামী আইয়ুব নবী।

মামলায় যৌতুকের দাবি না মেটানোয় পুড়িয়ে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে।

থানায় দায়ের করা অভিযোগ থেকে জানা গেছে, তিন সন্তানের জননী শান্তা আখতারকে (৩০) যৌতুকের জন্য স্বামী আইয়ুব নবী প্রায়ই নির্যাতন করতেন। মঙ্গলবার সকালে আইয়ুব শান্তাকে বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক এনে দেয়ার চাপ দেন।

শান্তা যৌতুকের টাকা এনে দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তাকে মারধোর করা হয়। একপর্যায়ে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেয়া হয়। তার চিৎকারে প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসলে আইয়ুব বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।

ওই দগ্ধ গৃহবধূকে প্রথমে গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলীম আল রাজী জানান, শান্তার দুই হাত, গলা এবং পেট থেকে পুরো বুক পুড়ে গেছে। অবস্থা গুরুতর বিবেচনায় বুধবারই তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তার অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে তাকে ঢাকাস্থ শেখ হাসিনা বার্ন ইন্সটিটিউটে স্থানান্তরের কথা বলা হয়।

গোপালপুর থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান জানান, শান্তার ভাইয়েরা খুবই দরিদ্র। ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করার সামর্থ্য তাদের নেই। অর্থাভাবে তার পরিবার বিকালে শান্তাকে পুনরায় গোপালপুরের বাড়িতে নিয়ে এসে কবিরাজি চিকিৎসা শুরু করে। খবর পেয়ে তিনি শান্তাদের বাড়িতে যান এবং তার চিকিৎসার সব ব্যয়ভার বহনের দায়িত্ব নেন। রাত ১১টায় শান্তাকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন ইন্সটিটিউটে পাঠানো হয়।