ঢাকা ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টাকা খেয়ে ভোট দিলে নেতা এসে রাস্তা খেয়ে ফেলবে: আখতার হোসেন সুষ্ঠু নির্বাচনে জার্মানির সহায়তা চাইলেন জামায়াত আমির জাতীয় পতাকা হাতে প্যারাস্যুট জাম্প, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বাংলাদেশ বরেণ্য লোকসংগীতশিল্পী ও মুক্তিযুদ্ধের কণ্ঠযোদ্ধা মলয় কুমার মারা গেছেন ভবিষ্যৎ অর্থনীতির শক্ত ভিত্তি গড়ার দায়িত্ব সরকারের : আশিক মাহমুদ গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে বিএনপি : নজরুল ইসলাম খান অবিলম্বে মার্কিন নাগরিকদের ইরান ত্যাগের নির্দেশ প্রতারণা করে অর্থ আদায়, ৫১ হাজার সিমসহ ৫ চীনা নাগরিক গ্রেপ্তার সংসদে আর নৃত্যগীত হবে না, মানুষের উন্নয়নের কথা বলা হবে: সালাহউদ্দিন আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে বাংলাদেশকে অনুরোধ আইসিসির, অনড় বিসিবি

‘ক্ষুধার জ্বালা তো পেট মানে না’

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘ক্ষুধার জ্বালা তো পেট মানে না। রাস্তার পাশে পড়ে থাকা এই মুড়ি আমার ক্ষুধার নিবারণে সম্বল মনে হয়েছে। তাই পলিথিনের মধ্যে ভরে রাখছিলাম। যাতে পরে খেতে পারি।’

কথাগুলো বলছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরশহরের দক্ষিণ মোড়াইলের বাসিন্দা জরু মিয়া। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) জরু মিয়াকে দেখা যায়, সদর হাসপাতাল সড়কের পাশে আর্বজনা থেকে মুড়ি কুড়িয়ে কুড়িয়ে সংগ্রহ করছেন। এ দৃশ্য দেখে জুঁই নামে এক কলেজছাত্রী একটি বিরায়ানীর প্যাকেট জরু মিয়াকে দেন। প্যাকেটটি হাতে পেয়ে জরুর চোখে মুখে আনন্দের অশ্রুধারা।

কান্না-ভেজা কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘১৯ দিন ধরে কষ্টে দিন পার করছি। আগে সারাদিন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে কুড়িয়ে পাওয়া প্লাস্টিকের বোতল লোহা-লক্কড় জমিয়ে তা ভাঙারির দোকানে বিক্রি করতাম। ওই টাকা দিয়েই পেট চলতো। কিন্তু সব কিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমার একমাত্র উপার্জনের পথটিও বন্ধ হয়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেকদিন পেট ভরে খেতে পারি না। ক্ষুধার জ্বালা তো আর পেট বোঝে না। তাই রাস্তার ধারে মুড়ি পড়ে থাকতে দেখে পলিথিনের ভরে সংরক্ষণ করে রাখছিলাম যাতে পরে ক্ষুধা লাগলে খেতে পারি।’

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রকোপে বিশ্বজুড়ে লাশের মিছিল। এ সংকট মোকাবিলায় অন্য দেশের মতো বাংলাদেশেও সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বন্ধ রয়েছে দোকান পাটসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন অসংখ্য মানুষ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ক্ষুধার জ্বালা তো পেট মানে না’

আপডেট সময় ০৩:৪৪:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘ক্ষুধার জ্বালা তো পেট মানে না। রাস্তার পাশে পড়ে থাকা এই মুড়ি আমার ক্ষুধার নিবারণে সম্বল মনে হয়েছে। তাই পলিথিনের মধ্যে ভরে রাখছিলাম। যাতে পরে খেতে পারি।’

কথাগুলো বলছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরশহরের দক্ষিণ মোড়াইলের বাসিন্দা জরু মিয়া। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) জরু মিয়াকে দেখা যায়, সদর হাসপাতাল সড়কের পাশে আর্বজনা থেকে মুড়ি কুড়িয়ে কুড়িয়ে সংগ্রহ করছেন। এ দৃশ্য দেখে জুঁই নামে এক কলেজছাত্রী একটি বিরায়ানীর প্যাকেট জরু মিয়াকে দেন। প্যাকেটটি হাতে পেয়ে জরুর চোখে মুখে আনন্দের অশ্রুধারা।

কান্না-ভেজা কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘১৯ দিন ধরে কষ্টে দিন পার করছি। আগে সারাদিন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে কুড়িয়ে পাওয়া প্লাস্টিকের বোতল লোহা-লক্কড় জমিয়ে তা ভাঙারির দোকানে বিক্রি করতাম। ওই টাকা দিয়েই পেট চলতো। কিন্তু সব কিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমার একমাত্র উপার্জনের পথটিও বন্ধ হয়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেকদিন পেট ভরে খেতে পারি না। ক্ষুধার জ্বালা তো আর পেট বোঝে না। তাই রাস্তার ধারে মুড়ি পড়ে থাকতে দেখে পলিথিনের ভরে সংরক্ষণ করে রাখছিলাম যাতে পরে ক্ষুধা লাগলে খেতে পারি।’

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রকোপে বিশ্বজুড়ে লাশের মিছিল। এ সংকট মোকাবিলায় অন্য দেশের মতো বাংলাদেশেও সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বন্ধ রয়েছে দোকান পাটসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন অসংখ্য মানুষ।