ঢাকা ১০:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্কুলপড়ুয়া শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, অভিযুক্তকে পুলিশে সোপর্দ নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা, দ্বিতীয় দফার বৈঠকে পাকিস্তানে যাচ্ছেন না মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভারতে বাজি তৈরির কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ২০ জ্বরের রোগীকে কুকুরের ভ্যাকসিন দিলেন ডাক্তার সিরাজগঞ্জে আগুনে ৪ বসতবাড়ি পুড়ে ছাই ইরানের পারমাণবিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার ট্রাম্প কে, প্রশ্ন ইরানি প্রেসিডেন্টের ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের সংসদে ক্ষোভ ঝাড়লেন হাসনাত আব্দুল্লাহ উন্নয়নমূলক কাজে ইউনিয়নভিত্তিক কমিটি গঠন করা হবে: ডেপুটি স্পিকার দেশে মজুত গ্যাস দিয়ে ১২ বছর পর্যন্ত চাহিদা মেটানো সম্ভব

‘ক্ষুধার জ্বালা তো পেট মানে না’

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘ক্ষুধার জ্বালা তো পেট মানে না। রাস্তার পাশে পড়ে থাকা এই মুড়ি আমার ক্ষুধার নিবারণে সম্বল মনে হয়েছে। তাই পলিথিনের মধ্যে ভরে রাখছিলাম। যাতে পরে খেতে পারি।’

কথাগুলো বলছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরশহরের দক্ষিণ মোড়াইলের বাসিন্দা জরু মিয়া। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) জরু মিয়াকে দেখা যায়, সদর হাসপাতাল সড়কের পাশে আর্বজনা থেকে মুড়ি কুড়িয়ে কুড়িয়ে সংগ্রহ করছেন। এ দৃশ্য দেখে জুঁই নামে এক কলেজছাত্রী একটি বিরায়ানীর প্যাকেট জরু মিয়াকে দেন। প্যাকেটটি হাতে পেয়ে জরুর চোখে মুখে আনন্দের অশ্রুধারা।

কান্না-ভেজা কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘১৯ দিন ধরে কষ্টে দিন পার করছি। আগে সারাদিন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে কুড়িয়ে পাওয়া প্লাস্টিকের বোতল লোহা-লক্কড় জমিয়ে তা ভাঙারির দোকানে বিক্রি করতাম। ওই টাকা দিয়েই পেট চলতো। কিন্তু সব কিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমার একমাত্র উপার্জনের পথটিও বন্ধ হয়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেকদিন পেট ভরে খেতে পারি না। ক্ষুধার জ্বালা তো আর পেট বোঝে না। তাই রাস্তার ধারে মুড়ি পড়ে থাকতে দেখে পলিথিনের ভরে সংরক্ষণ করে রাখছিলাম যাতে পরে ক্ষুধা লাগলে খেতে পারি।’

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রকোপে বিশ্বজুড়ে লাশের মিছিল। এ সংকট মোকাবিলায় অন্য দেশের মতো বাংলাদেশেও সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বন্ধ রয়েছে দোকান পাটসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন অসংখ্য মানুষ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

স্কুলপড়ুয়া শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, অভিযুক্তকে পুলিশে সোপর্দ

‘ক্ষুধার জ্বালা তো পেট মানে না’

আপডেট সময় ০৩:৪৪:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘ক্ষুধার জ্বালা তো পেট মানে না। রাস্তার পাশে পড়ে থাকা এই মুড়ি আমার ক্ষুধার নিবারণে সম্বল মনে হয়েছে। তাই পলিথিনের মধ্যে ভরে রাখছিলাম। যাতে পরে খেতে পারি।’

কথাগুলো বলছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরশহরের দক্ষিণ মোড়াইলের বাসিন্দা জরু মিয়া। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) জরু মিয়াকে দেখা যায়, সদর হাসপাতাল সড়কের পাশে আর্বজনা থেকে মুড়ি কুড়িয়ে কুড়িয়ে সংগ্রহ করছেন। এ দৃশ্য দেখে জুঁই নামে এক কলেজছাত্রী একটি বিরায়ানীর প্যাকেট জরু মিয়াকে দেন। প্যাকেটটি হাতে পেয়ে জরুর চোখে মুখে আনন্দের অশ্রুধারা।

কান্না-ভেজা কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘১৯ দিন ধরে কষ্টে দিন পার করছি। আগে সারাদিন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে কুড়িয়ে পাওয়া প্লাস্টিকের বোতল লোহা-লক্কড় জমিয়ে তা ভাঙারির দোকানে বিক্রি করতাম। ওই টাকা দিয়েই পেট চলতো। কিন্তু সব কিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমার একমাত্র উপার্জনের পথটিও বন্ধ হয়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেকদিন পেট ভরে খেতে পারি না। ক্ষুধার জ্বালা তো আর পেট বোঝে না। তাই রাস্তার ধারে মুড়ি পড়ে থাকতে দেখে পলিথিনের ভরে সংরক্ষণ করে রাখছিলাম যাতে পরে ক্ষুধা লাগলে খেতে পারি।’

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রকোপে বিশ্বজুড়ে লাশের মিছিল। এ সংকট মোকাবিলায় অন্য দেশের মতো বাংলাদেশেও সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বন্ধ রয়েছে দোকান পাটসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন অসংখ্য মানুষ।