ঢাকা ০৬:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

‘ক্ষুধার জ্বালা তো পেট মানে না’

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘ক্ষুধার জ্বালা তো পেট মানে না। রাস্তার পাশে পড়ে থাকা এই মুড়ি আমার ক্ষুধার নিবারণে সম্বল মনে হয়েছে। তাই পলিথিনের মধ্যে ভরে রাখছিলাম। যাতে পরে খেতে পারি।’

কথাগুলো বলছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরশহরের দক্ষিণ মোড়াইলের বাসিন্দা জরু মিয়া। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) জরু মিয়াকে দেখা যায়, সদর হাসপাতাল সড়কের পাশে আর্বজনা থেকে মুড়ি কুড়িয়ে কুড়িয়ে সংগ্রহ করছেন। এ দৃশ্য দেখে জুঁই নামে এক কলেজছাত্রী একটি বিরায়ানীর প্যাকেট জরু মিয়াকে দেন। প্যাকেটটি হাতে পেয়ে জরুর চোখে মুখে আনন্দের অশ্রুধারা।

কান্না-ভেজা কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘১৯ দিন ধরে কষ্টে দিন পার করছি। আগে সারাদিন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে কুড়িয়ে পাওয়া প্লাস্টিকের বোতল লোহা-লক্কড় জমিয়ে তা ভাঙারির দোকানে বিক্রি করতাম। ওই টাকা দিয়েই পেট চলতো। কিন্তু সব কিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমার একমাত্র উপার্জনের পথটিও বন্ধ হয়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেকদিন পেট ভরে খেতে পারি না। ক্ষুধার জ্বালা তো আর পেট বোঝে না। তাই রাস্তার ধারে মুড়ি পড়ে থাকতে দেখে পলিথিনের ভরে সংরক্ষণ করে রাখছিলাম যাতে পরে ক্ষুধা লাগলে খেতে পারি।’

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রকোপে বিশ্বজুড়ে লাশের মিছিল। এ সংকট মোকাবিলায় অন্য দেশের মতো বাংলাদেশেও সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বন্ধ রয়েছে দোকান পাটসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন অসংখ্য মানুষ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন বহাল, মুক্তিতে নেই বাধা

‘ক্ষুধার জ্বালা তো পেট মানে না’

আপডেট সময় ০৩:৪৪:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২০

আকাশ জাতীয় ডেস্ক:

‘ক্ষুধার জ্বালা তো পেট মানে না। রাস্তার পাশে পড়ে থাকা এই মুড়ি আমার ক্ষুধার নিবারণে সম্বল মনে হয়েছে। তাই পলিথিনের মধ্যে ভরে রাখছিলাম। যাতে পরে খেতে পারি।’

কথাগুলো বলছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরশহরের দক্ষিণ মোড়াইলের বাসিন্দা জরু মিয়া। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) জরু মিয়াকে দেখা যায়, সদর হাসপাতাল সড়কের পাশে আর্বজনা থেকে মুড়ি কুড়িয়ে কুড়িয়ে সংগ্রহ করছেন। এ দৃশ্য দেখে জুঁই নামে এক কলেজছাত্রী একটি বিরায়ানীর প্যাকেট জরু মিয়াকে দেন। প্যাকেটটি হাতে পেয়ে জরুর চোখে মুখে আনন্দের অশ্রুধারা।

কান্না-ভেজা কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘১৯ দিন ধরে কষ্টে দিন পার করছি। আগে সারাদিন রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে কুড়িয়ে পাওয়া প্লাস্টিকের বোতল লোহা-লক্কড় জমিয়ে তা ভাঙারির দোকানে বিক্রি করতাম। ওই টাকা দিয়েই পেট চলতো। কিন্তু সব কিছু বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমার একমাত্র উপার্জনের পথটিও বন্ধ হয়ে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেকদিন পেট ভরে খেতে পারি না। ক্ষুধার জ্বালা তো আর পেট বোঝে না। তাই রাস্তার ধারে মুড়ি পড়ে থাকতে দেখে পলিথিনের ভরে সংরক্ষণ করে রাখছিলাম যাতে পরে ক্ষুধা লাগলে খেতে পারি।’

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রকোপে বিশ্বজুড়ে লাশের মিছিল। এ সংকট মোকাবিলায় অন্য দেশের মতো বাংলাদেশেও সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বন্ধ রয়েছে দোকান পাটসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান। এতে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন অসংখ্য মানুষ।