অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায় ঢাকায় বাড়ছে মিথেন গ্যাসের ঝুঁকি। এটি কার্বন ডাই-অক্সসাইডের চেয়েও ২১ গুণ বেশি বিপজ্জনক। যদিও কার্বন ডাই-অক্সসাইড নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়ে থাকে।
কিন্তু মিথেন গ্যাস নিয়ে তেমন কোনো কথা হচ্ছে না। বলা হয়েছে, দিন দিন ঢাকা শহরে ব্যাপক জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে ব্যাপক অর্গানিজ (সবজি বা অন্যান্য পচনযোগ্য বর্জ্য) বর্জ্য উৎপাদন হচ্ছে।
এ ক্ষেত্রে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় এ ঝুঁকি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকার দরিদ্র জনগোষ্ঠী এ ক্ষতির শিকার বেশি হচ্ছে।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) দু’দিনব্যাপী গবেষণা সম্মেলনের শেষ দিনে সোমবার ‘অর্গানিক সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড দ্য আরবান পুওর ইন ঢাকা সিটি’ শীর্ষক এক গবেষণায় এসব বিষয় উঠে এসেছে। গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন মিতালী পারভীন ও আনোয়ারা বেগম।
রাজধানীর গুলশানে লেকশোর হোটেলে সোমবার অনুষ্ঠিত সম্মেলনে এ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এটিএম নুরুল আলম। অধিবেশনে ইমপ্যাক্ট অব ইমপ্রুভড কুকিং স্টোভস : ইভিডেন্স রিলেটিং টু বন্ধু চুলা, অ্যান ইভালুয়েশন অব দ্য এক্টিভিটিস অব গৃহায়ন তহবিল, ডিজাস্টার ইমপ্যাক্টস : আর দিস এন ইকুয়াল অপারচুনেটি মেনস টু ডেভেলপমেন্ট, ইমপ্লিমেন্টেশন অব এমপ্লয়মেন্ট জেনারেশন প্রোগ্রাম ফর দ্য প্রজেক্ট টু রিডিউস ডিজাস্টার অ্যান্ড জেন্ডার ভারনালিবিটি এবং ইমপ্যাক্ট অব মাইগ্রেশন অন নিউট্রিশন কন্ডিশন অব চিলড্রেন আন্ডার ফাইভ ইয়ারস অব এজ ইন দ্য রুরাল হাউসহোল্ড অব বাংলাদেশ শীর্ষক কয়েকটি আলাদা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রফেসর নুরুল আলম বলেন, অর্গানিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নজর দেয়া খুবই প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সরকারিভাবে গুরুত্ব দেয়ার পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকা শহরে জনসংখ্যার ঘনত্ব বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন এলাকায় প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১৯৯১ সালে জনসংখ্যার ঘনত্ব ছিল ১৫ হাজার ৩৩৩ জন। সেটি বেড়ে ২০০৪ সালে হয় ১৮ হাজার ৫৫ জন। ২০১১ সালে জনসংখ্যার এ ঘনত্ব আরও বেড়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ২৯ জনে। ফলে ঢাকা শহরে বিভিন্ন সদস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বেকারত্ব, জ্বালানি শক্তির সংকট, পরিবেশ দূষণ ও সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। ঢাকা শহরে প্রতিজন মানুষ প্রতিদিন শূন্য দশমিক ৫৬ কেজি বর্র্জ্য উৎপাদন করছে। ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন এলাকায় প্রতিদিন তিন হাজার ৮০০ টন বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যে ৭০-৮০ শতাংশই অর্গানিক বর্জ্য। এসব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত দুর্বল। ফলে বর্জ্য পচে গিয়ে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। এর সঙ্গে মিথেন গ্যাস ছড়িয়ে পড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যসহ গ্রিন হাউজ প্রতিক্রিয়ায় ব্যাপক ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টি করছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিশেষ করে অর্গানিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশেষ নজর দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, প্লাস্টিক, সিলভারসহ এ ধরনের বর্জ্যগুলো এখন কিছুটা রিসাইক্লিনিং করে পুনরায় ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু পুরো বর্জ্যরে মধ্যে ৭৮ শতাংশ অর্গানিক বর্জ্যরে কোনো ব্যবস্থাপনা হচ্ছে না।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ছোট আকারে মানুষ তাদের বাড়ির ছাদের ওপর মাত্র দুটি গাড়ির টায়ার ব্যবহার করে বায়োগ্যাস উৎপাদন করতে পারে। এতে পরিবারের রান্নার জ্বালানি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এখন থেকে যেসব বর্জ্য উৎপাদন হবে তা জৈবসার হিসেবে গাছে ব্যবহার করা যাবে। পাশাপাশি কৃষকরা জমিতে জৈবসার হিসেবে উচ্ছিষ্টগুলো ব্যবস্থার করতে পারবে।
প্রতিবেদনে ঢাকার বাইরে পুরো দেশের শহরাঞ্চলের বর্জ্য উৎপাদনের একটি চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, ১৯৯১ সালে দেশের শহরগুলোতে প্রতিদিন ছয় হাজার ৪৯৩ টন বর্জ্য উৎপাদন হতো। ২০০৫ সালে এসে সেটি বেড়ে গিয়ে দাঁড়ায় ১৩ হাজার ৩০০ টনে। আবার আগামী ২০২৫ সালে সেটি বেড়ে গিয়ে দাঁড়াতে পারে ৪৭ হাজার ৫৪ টনে (সম্ভাব্য)। ইমপ্যাক্ট অব মাইগ্রেশন অন নিউট্রিশন কন্ডিশন অব চিলড্রেন আন্ডার ফাইভ ইয়ারস অব এজ ইন দ্য রুরাল হাউসহোল্ড অব বাংলাদেশ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাইগ্রেশন বা স্থানান্তরের সঙ্গে শিশুর পুষ্টির বিষয়টি ওতপ্রোতভাবে জরিত।
অন্যদিকে ইমপ্যাক্ট অব ইমপ্রুভড কুকিং স্টোভস : ইভিডেন্স রিলেটিং টু বন্ধু চুলা শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একটি প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে সারা দেশে ৫০ হাজার বন্ধু চুলা সরবরাহের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন ড. নাজনিন আহমেদ।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























