ঢাকা ১০:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
একটি রাজনৈতিক দল বিভিন্ন এলাকা থেকে ভোটারদের ঢাকায় স্থানান্তর করে আনছে: ফখরুলের অভিযোগ নরসিংদীতে দুই ব্যবসায়ীর ঝগড়ায় একজনের মৃত্যু, অভিযুক্তর বাড়িতে ভাঙচুর-আগুন ৭ কলেজ নিয়ে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ অধ্যাদেশ চূড়ান্ত আমি এসেছি শুধু শুনতে, শিখতে এবং একসঙ্গে কাজ করার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যেতে: জাইমা রহমান চাকরির ক্ষেত্রে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়েছে কিনা তা দেখা উচিত : আমীর খসরু ওসমানী হাসপাতাল ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রেকেও খেসারত দিতে হবে, ফরাসি কৃষিমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি ভুয়া জরিপ ও মিথ্যা প্রচারণা দিয়ে রাজনৈতিক ইতিহাস বদলানো যাবে না : দুদু গণ-অভ্যুত্থানের নিষ্ঠুরতম খুনিদের বিচার নিশ্চিত করা হবে : তাজুল ইসলাম এক্সপেকটেশন যদি ১০ থাকে, অন্তত চার তো অর্জন করতে পেরেছি : আসিফ নজরুল

‘বড় মঞ্চে ছোট ভুলগুলো ক্রাইমের পর্যায়ে চলে যায়’

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের দুটিতে জিতে ইতিমধ্যে ২-০ তে সিরিজ নিশ্চত বাংলাদেশের। আগামীকাল চট্টগ্রামে তৃতীয় বা শেষ ওয়ানডেতে মাঠে নামবে টাইগাররা। তার আগে ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। দলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে টাইগার দলপতির কথাগুলো নিচে তুলা ধরা হলো।

তৃতীয় ম্যাচে দল নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা এবং বিশ্বকাপের দল প্রসঙ্গে—

আসলে সব জায়গায় দেখার প্রয়োজন নেই। আপনি যদি আসল চিত্রটি দেখেন যে রাব্বি এসেছিল কারণ সাকিব নেই, একজন লেফট আর্ম স্পিনারের প্রয়োজন সেভাবে চিন্তা করা হয়েছে। তবে সাইফুদ্দিনেরটি একেবারে নিশ্চিত ছিল যে একটি অলরাউন্ডার খোঁজা। আর একমাত্র সেই আছে সাম্প্রতিক সময়ে। এইচপি বা ঢাকা লিগ যেখানেই বলেন সে ভাল করছিল। সুতরাং সেটি ছিল আমার মতে আবশ্যক। এছাড়া আপনি যদি দেখেন যে আসলে এত পরিবর্তন করার সুযোগ নেই। আমি মনে করি যে ছয় পর্যন্ত সবাই আমাদের বিশ্বকাপ পর্যন্ত সুস্থ থাকে তাহলে তেমন পরিবর্তন হওয়ার সুযোগ কিন্তু কম। আর সাকিব এবং তামিম যখন ফিরে আসবে তখন সুযোগটি কম থাকবে। হয়তো সাত নম্বরে পরিবর্তন আনা যাবে, অথবা একজন অতিরিক্ত বোলার। সাইফউদ্দিন ভাল করছে। সুতরাং আমার কাছে মনে হয় সবমিলিয়ে সাইফউদ্দিনের কামব্যাকটি ভাল হয়েছে। আর ওকে নিয়ে সবাই আশাবাদী। আর আমার মতে তেমন বেশি কোন জায়গা নেই পরিবর্তন করার মত। সৌম্য হয়ত কালকে দলের সাথে যোগ দিয়েছে। তবে তাঁর ক্ষেত্রে কি হবে সেটি এখনও জানি না। তবে এখন দুই একটি খেলোয়াড়কে দেখা যেতে পারে। আমার কাছে মনে হয় যেহেতু বিশ্বকাপের আগে তেমন বেশি ম্যাচ নেই, তাই যাদেরকেই চিন্তা করা হয় তাঁরা যদি ফর্মে নাও থাকে এরপরেও তাঁদেরকে খেলিয়ে, আরও ভালভাবে প্রস্তুত করাটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিকল্প কখনও আট মাসে তৈরি হয় না। সুতরাং যাদের বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ বেশি তাঁদেরকে খেলিয়ে তাঁদের পারফর্মেন্স দেখে দলে নিশ্চিত করা এবং ঠিক করা যে তাঁরা খেলবে বিশ্বকাপে এই ধরণের মানসিক সাপোর্ট তাঁদেরকে দেয়া যেতে পারে।’

চার জন ক্রিকেটার বাইরে বসে আছে, তাঁদেরকে সুযোগ দেয়া হবে কিনা এবং আরিফুল প্রসঙ্গ-

‘আরিফুলের বিষয়টি যেটি ছিল সেটি হল সে একজন খাঁটি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলবে। তবে এখানে কিছু বিষয় থাকে। এক্ষেত্রে এশিয়া কাপের কথা বলি। বোলিং অলরাউন্ডারের দিক থেকে খুব বেশি নিশ্চিত নই। কারণ নেটের বোলিং আর ম্যাচের বোলিং পুরো ভিন্ন বিষয়। এশিয়া কাপের মত জায়গায় শুধু বোলিং বিবেচনা করে আরিফকে খেলানো একটি ঝুঁকি ছিল। এই জায়গায় আমরা হয়ত একজন খাঁটি ব্যাটসম্যান অথবা বোলার খেলিয়েছি যখন বিশেষ করে সাকিব ছিল না। তবে ও বোলিং অনুশীলনে বেশ ভাল করছে। হয়ত এখানে আপনি যে পয়েন্টের ব্যাপারে বললেন যে আরিফ অনেক দিন থেকে দলের সাথে আছে। সুতরাং ওর ম্যাচ খেলাটা আসলে অনেক জরুরী হয়ে গিয়েছে এবং সেভাবে চিন্তা ভাবনা চলছে। তবে একই সময়ে আমি মনে করি যে অবশ্যই যারা আছে তাঁরা প্রত্যাশা করে। আর সৌম্য কোন স্পেশালিষ্ট হিসেবে খেলবে সেটাও কিন্তু ম্যাটার করে যে ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলবে নাকি অলরাউন্ডার হিসেবে খেলবে। তবে বোলার হিসেবে তো অবশ্যই সুযোগ কম, সে হয়ত টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলবে। আর আরিফ খেলবে অবশ্যই একজন ব্যাটিং অলরাউন্ডার হিসেবে। তো দুটি দুই জায়গা। আসলে আলোচনা করলে বোঝা যাবে কোন চিন্তা থেকে তাঁদেরকে নিয়েছেন নির্বাচকেরা বা পরবর্তীতে কি হবে।’

মিথুনের প্রসঙ্গে—

‘গত বছর যখন রংপুরে খেলি তখন ওর ব্যাটিং দেখে আমার কাছে মনে হয়েছিল সে অনেক বেশি ইতিবাচক। তখন থেকেই ওর সাথে আলোচনা করি যে কিভাবে ব্যাটিং আরও উন্নত করা যায়। যদিও আমি টেকনিক্যাল কোনও কোচ না, তাই বলেছিলাম ভাল কোনও কোচের সাথে আলোচনা করে মানসিক দিক থেকে প্রস্তুত হতে। সৌভাগ্য এবং দুর্ভাগ্যবশত ও দলে সুযোগ পেয়েছে, কিন্তু আমরা তাঁকে সঠিক পজিশনে খেলাতে পারিনি। এবার যেটি হয়েছে সে ফিরে আসার পরে আমরা তাঁকে সঠিক পজিশনে খেলাতে পেরেছি এবং এর কারণে নিজের পজিশন পেয়ে সে অনেকটাই আত্মবিশ্বাসী এখন এবং খুব ভাল খেলছে এই মুহূর্তে। দলের ভারসাম্যটি বেশ সুন্দর করে দিয়েছে সে। ও যদি এভাবে খেলতে থাকে এবং ইতিবাচক ব্যাটিং করতে থাকে তাহলে দলের ভারসাম্য ঠিক থাকবে। এখন এটি ওকেও বুঝতে হবে এবং ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। কারণ কালকে ফর্মের কি হবে সেটি কেউ জানে না। তো যতক্ষণ ফর্ম আছে এক্ষেত্রে প্রতিটি দিন তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফর্মের থেকে চলে গেলে আসলে ফর্মে ফেরা অনেক কঠিন। সুতরাং সে যখন ফর্মে আছে তখন তাঁকে নিশ্চিত করতে হবে সেটি ধরে রাখা। যেমন প্রথম ম্যাচে আমি ওকে বলেছিলাম যে ও যদি পঞ্চাশ করার পর আরও বড় রান করতে পারতো তাহলে দলের জন্য ভাল হতো ওর নিজের জন্যও ভাল হতো। তবে এখন পর্যন্ত সে খুব ভাল খেলছে। এটি দলের জন্য অনেক ইতিবাচক।’

ইমরুল লিটনের সেঞ্চুরি বিসর্জন–

‘এটি নিয়ে ড্রেসিংরুমেও আলোচনা হয়েছে। তবে সবকিছু ভালোর ভেতরে খারাপ থাকে আবার খারাপের ভেতরেও ভাল থাকে। আসলে এ ধরণের সুযোগ তো সব দিন আসে না। তাই সুযোগগুলো অবশ্যই কাজে লাগানো উচিৎ। ইমরুল ৮০ থেকে ৯০ পর্যন্ত যে ব্যাটিংটা করলো সেটি ৯০ থেকে না করে আবার শট খেলতে গিয়েছে। তো এই সমন্বয়গুলো আসলে জরুরী। লিটন এবং ইমরুল দুইজনই বুঝতে পেরেছে। ওদেরও খারাপ লেগেছে। তবে আল্টিমেটলি হয় কি একবার কিছু চলে গেলে সেটি তো আর ফিরে আসে না। খুব ভাল বলে যদি তাঁরা আউট হতো তাহলে সেটি কিছু করার ছিল না। যেভাবে দুইজনই আউট হয়েছে তাঁরা হয়তো নিজেরাও বুঝতে পেরেছে যে ভুল হয়ে গিয়েছে। আশা করবো যে পরবর্তীতে এমন সুযোগ আসলে যেন না ছাড়ে।

যদিও আমরা এটি সবসময় আলোচনা করি। বেশিরভাগ সময়ে আমরা ভুলগুলো করছি, তো এগুলো আমাদের কমাতে হবে। অবশ্যই বড় মঞ্চে এগুলো ক্রাইমের পর্যায়ে চলে যাবে।’

দুটি ইনজুরি আছে আপনার। কালকে খেলার সম্ভাবনা আছে কিনা?

‘দেখুন আমি তো একটি ফরম্যাটে খেলি। সুতরাং যেভাবেই হোক সবসময় খেলতে চাই। অন্যদের মত না যারা টেস্ট খেলে, কিংবা টি টুয়েন্টি খেলে। অথবা ঘরোয়া লিগে চার দিনের ম্যাচ খেলে। আমার জন্য তো সেটা না। আমি তো একটি ফরম্যাট খেলি। তো এখানেও যদি বিশ্রাম নেই তাহলে বেশ কঠিন হয়ে যায় নিজেকে সেট করা। তবে কিছু ইনজুরির কারণে সমস্যা হচ্ছে, হচ্ছে না যে এমন না। তবে এই সিরিজের পর চার-পাঁচ সপ্তাহ সময় আছে। হয়তো বা একটু ভাল ট্রিটমেন্ট দরকার আমার। সেটি সম্ভব এরপরে। এখন দেখি এরপরেও কোচ এবং নির্বাচকেরা আলোচনা করার পরে দেখা যাবে।’

চার নম্বর পজিশনে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হবে কিনা?

‘দেখুন চার নম্বরের বিকল্প তো আমাদের এখানে নেই। পাঁচেও মিথুনের ব্যাকআপ মিথুনই আছে। ছয়ে রিয়াদ খেলছে আর সে ওখানেই খেলবে। এখন যদি আপনি রিয়াদের ব্যাকআপ খুঁজতে চান তাহলে আমার কাছে মনে হয় নতুন একটি দল নিয়ে সেটি করতে হবে। আর যারা আছে তাঁদের পজিশন অনুযায়ী বসানো যায়। যেমন আরিফকে একটি সুযোগ অবশ্যই দেয়া যায়। আবু হায়দার রনি আছে। এছাড়াও রুবেলকে নিজেকে প্রমাণ করেছে । তেমন সমস্যা নেই তাঁর। শান্ত যদিও পর পর তিনটি সুযোগ বড় মঞ্চে পেয়েছে, হয়তো সামনেও পাবে। তো আমার কাছে মনে হয় বসানোর ক্ষেত্রে একজন নির্দিষ্ট খেলোয়াড়ের ওপরেও অনেক কিছু নির্ভর করে যে সে কি চায় তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। যেমন মুশফিক দেখেন গতকাল ৪০ রানে অপরাজিত ছিল এটি ও অনুভব করে যে এতে তাঁর আগামীতে ফর্মে থাকতে সুবিধা হবে। এটি ম্যান টু ম্যান আসলে নির্ভর করে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রস্তুতি বা সামনে এগিয়ে যেতে বা ফর্ম কিভাবে ধরে রাখতে হবে এগুলো কিন্তু নির্ভর করে। যেমন রিয়াদের কথা যদি বলেন যে সে প্রথম ইনিংসে রান করেনি সুতরাং সে অবশ্যই চাইবে খেলতে। এই জিনিসগুলো কিন্তু অনেক সময় ম্যাটার করে। আমার কাছে মনে হয় সবাইকে তো সরানো যাবে না। একটি দুইটি জায়গা আছে যেগুলো নিয়ে চিন্তা করা যেতে পারে।’

সৌম্যকে কোন জায়গায় চান? তিনে নাকি সাতে?

‘দেখুন ও দুই জায়গাতেই খেলেছে এবং আমারও সমস্যা নেই তাঁর এই দুই জায়গা নিয়ে। সৌম্য যদি ফর্মে থাকে এবং সবকিছু ঠিক থাকে সে ওপেনারেরও ব্যাকআপ হতে পারে আবার সাত নাম্বারেরও ব্যাকআপ হতে পারে। এর একটাই কারণ যে তাঁর বোলিং আছে এবং সে বোলিং ভাল করছে। এটি তাঁর জন্য অনেক বড় একটি সুবিধা। সুতরাং আমার কাছে মনে হয় সে দুইটি জায়গারই ব্যাকআপ হতে পারে। তাঁকে দিয়ে দুইটি জায়গার সমাধান পাওয়া যেতে পারে বলে আমি মনে করি।’

এরই মধ্যে চার জন ক্রিকেটার আছে যাদের একাদশে কিভাবে আনবেন সেটি জানেন না, এক্ষেত্রে কি ভাবছেন?

হয়তবা সাম্প্রতিককালে এত ম্যাচ জয়ের কারণে এগুলো হচ্ছে। আমরা হারলে দেখতেন পরিস্থিতি অন্যরকম হয়ে যেত। চার জন আছে, যেটি বললাম যে এদের মধ্যে রুবেল এরই মধ্যে । প্রমাণিত, ওকে দেখার কিছু নেই। সুতরাং রুবেলকে ম্যাচ দেয়া যেতে পারে। আরিফ আছে যেটি বললাম, শান্ত আছে। আর রাব্বি তো খেলছেই। আসলে যেটি বললাম যে পজিশনের ওপরেও নির্ভর করে অনেককিছু যে কে কোথায় খেলে। কার ব্যাটিং অর্ডার কোন জায়গায়। সুতরাং সেটির ওপর ভিত্তি করেই দলটি করা উচিৎ বলে আমি মনে করি। কারণ নতুন কাউকে নিয়ে এসে এক ম্যাচ দেখলে আবারও উইন্ডিজ সিরিজ থেকে শুরু করতে হবে। এমন হওয়াটাও তো কঠিন। তো সর্বোচ্চ যাকে দেখা যায় তাঁকে দেখার চেষ্টা করতে হবে। আমার কাছে মনে হয় আমাদের চিন্তাটা এক জায়গায় থাকা উচিৎ যে এই কয়েকজনের বাইরে আমরা যাব না। এদেরকে নিয়েই দেখবো এবং এদের ভেতরেই পরিবর্তন করতে হবে। সেটি হলে আমার কাছে মনে হয় অন্তত নিউজিল্যান্ড সিরিজ পর্যন্ত আমরা দেখতে পারব’

সিরিজ থেকে সাইফুদ্দিন বড় প্রাপ্তি কিনা?—-

‘সাইফুদ্দিন ভাল করেছে, ব্যাটিংও ভাল করেছে, বোলিংও ভাল করেছে তো অবশ্যই। ইমরুলের কথাও বলতে হবে। সে অনেক ভাল খেলছে এশিয়া কাপের থেকেই। পাকিস্তানের বিপক্ষে সে রান করতে পারেনি, তবে এরপরেও খুব ভাল খেলছে। একটি হেলদি প্রতিযোগিতা যে ওপেনিংয়ে হচ্ছে এটি খুব ইতিবাচক একটি দিক আমার কাছে। ওপেনিংয়ে তামিম না থাকার পরেও এমন প্রতিযোগিতা হচ্ছে। আমি নিশ্চিত যে ওরা তিনজন যখন থাকবে এবং তামিম আসবে তখন প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে। কারণ তামিম হল আসল পারফর্মার। আর এই প্রতিযোগিতাটি যেন আরও বাড়ে সেটাই আসলে প্রত্যাশা করছি। সাইফুদ্দিন সাত-আটে যদি এভাবে ব্যাটিং করে, ইংল্যান্ডে কখনও কখনও ম্যাচ খেলতে হতে পারে চার পেস বোলার নিয়ে। সেক্ষেত্রে সাইফুদ্দিন যদি সাতে এভাবে ব্যাটিং করতে পারে তাহলে সেটা আমাদের জন্য অনেক ইতিবাচক ব্যাপার। আর অপুও খারাপ বোলিং করছে না। তাঁর অভিষেক হয়েছে অল্প কয়েকদিন হল। সেও খারাপ করছে না। সুতরাং ইতিবাচক দিক বেশ কিছু আছে। তবে আরও সময় যখন যাবে তখন বোঝা যাবে। এখনও তো আর্লি স্টেজ, বাংলাদেশে খেলছে, সকলেই তাই আত্মবিশ্বাসী। কিন্তু আরও সামনে যখন যাবে, বড় ম্যাচের ক্ষেত্রে তখন আরও পরিষ্কার বোঝা যাবে। যেসব ইতিবাচক দিকের কথা বলছি, এগুলো নেতিবাচকভাবেও বলা যায় যেমন এশিয়া কাপ ফাইনাল। সুতরাং বড় মঞ্চে আমরা কেমন করি সেটাও কিন্তু ম্যাটার। এখান থেকেই আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে হবে।’

ফজলে রাব্বির সুযোগ পাওয়া প্রসঙ্গে। জিম্বাবুয়ে দল কি সবথেকে দুর্বল দল কিনা?

‘আপনি যদি আমাকে দল নির্বাচন করতে বলেন তাহলে ওকে আরেকটি সুযোগ দিতে আমি দ্বিধা করবো না সত্যি কথা বলতে। আমার কাছে মনে হয় সে অনেক বেশি দুর্ভাগ্যবান। আর দ্বিতীয় কথা হল একই সময়ে ধরেন শান্তও বসে আছে। সেক্ষেত্রে আমাদের সকলেরই চাওয়া থাকবে যে শান্তই খেলুক। এখানেও একটি পয়েন্ট আছে। এখানে আসলে একা বলে কিছু হবে না। সবার সাথে আলোচনার ব্যাপার আছে। আমি যেটি বলবো সেটিই যে হবে তাও না। তবে রাব্বি আরেকটি সুযোগ পেলে আমি কিছু মনে করবো না, আমার সমস্যা নেই। আর আমি বিশ্বাস করি ব্যাকআপ করলে এভাবেই করা উচিৎ। একজন খেলোয়াড়কে নিলে তাঁকে সেভাবেই ব্যাকআপ করা উচিৎ। আর আমি এটাই মনে করি। আমার ক্ষেত্রেও এটি হতে পারত। খেলোয়াড়ের সব দিক নিয়ে যদি আমি চিন্তা করি তাহলে আমার কাছে মনে হয় ভালভাবে ব্যাকআপ করা সম্ভব। সে কিন্তু নিজেকে প্রমাণ করেই এই পর্যন্ত এসেছে। হুট করে দুটি ম্যাচে আউট হয়ে গিয়েছে। আর জিম্বাবুয়ের কথা যেটি বললেন- আসলে তারা যখন এসেছে তখন আমার কাছে মনে হয়েছিল যে এই দলটি কঠিন হবে হারানোর জন্য। কারণ তাঁদের দলে অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররাই এসেছে। সাত নম্বরে যখন মুর ব্যাটিং করছে এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সে খুব ভাল খেলেছে সুতরাং ব্যাটিং অর্ডার দেখে আমার কাছে মনে হয়েছে খুব বেশি সহজ হবে না। তবে ধন্যবাদ ছেলেদের যে তারা খুব স্বাভাবিকভাবেই ব্যাপারটি দেখেছে এবং এখানে সাধারণত স্পিন হ্যান্ডেল করা একটু কঠিন। ধারাবাহিকভাবে স্পিন চলতে থাকলে ভুল হয়ে যায়। ওরা গত কয়েক বছরের মধ্যে সবথেকে অভিজ্ঞ দল নিয়েই এখানে এসেছে। এখনও একটি ম্যাচ আছে। খুব বেশি কিছু তো বলা যায় না। তবে সিরিজ জিতে যাওয়ার ক্ষেত্রে বলতে পারেন একটি শান্তির জায়গা আছে। এখন একটু রিল্যাক্স লাগছে।

এর আগে খেলেছিলাম যখন সাকিব, তামিমরাও ছিল। ওদের যে অভিজ্ঞ ব্যাটিং লাইন আপ এসেছিল তাতে করে সাকিব তামিমরা ছাড়া অবশ্যই একটি ফাইট হওয়ার কথা ছিল। কারণ আমাদেরও তো দুইজন সেরা খেলোয়াড় নেই। হয়ত এশিয়া কাপে আমরা দারুণ খেলার কারণে এবং খুব দ্রুতই মাঠে নেমেছি সেই কারণে ঐ রেশটি রয়ে গিয়েছে। সবাই নামছে এবং খেলছে স্বাভাবিকভাবে। বাংলাদেশ দলের ড্রেসিং রুমের আত্মবিশ্বাসও এখন অনেক বেশি। এটাই কিন্তু একটি ক্রিকেট দলের সবকিছু ম্যাটার করে। আত্মবিশ্বাসই কিন্তু বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কে খেলছে কে খেলছে না তার থেকেও। এখন ড্রেসিং রুমের আত্মবিশ্বাসও কিন্তু অনেক ওপরে। আর এটাই হয়তো জিম্বাবুয়ের জন্য কঠিন হয়ে গিয়েছে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উত্তরায় নিরাপত্তাকর্মীকে পিটিয়ে অস্ত্র ছিনতাই-অপহরণ

‘বড় মঞ্চে ছোট ভুলগুলো ক্রাইমের পর্যায়ে চলে যায়’

আপডেট সময় ০৭:০৫:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ অক্টোবর ২০১৮

আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের দুটিতে জিতে ইতিমধ্যে ২-০ তে সিরিজ নিশ্চত বাংলাদেশের। আগামীকাল চট্টগ্রামে তৃতীয় বা শেষ ওয়ানডেতে মাঠে নামবে টাইগাররা। তার আগে ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা। দলের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে টাইগার দলপতির কথাগুলো নিচে তুলা ধরা হলো।

তৃতীয় ম্যাচে দল নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা এবং বিশ্বকাপের দল প্রসঙ্গে—

আসলে সব জায়গায় দেখার প্রয়োজন নেই। আপনি যদি আসল চিত্রটি দেখেন যে রাব্বি এসেছিল কারণ সাকিব নেই, একজন লেফট আর্ম স্পিনারের প্রয়োজন সেভাবে চিন্তা করা হয়েছে। তবে সাইফুদ্দিনেরটি একেবারে নিশ্চিত ছিল যে একটি অলরাউন্ডার খোঁজা। আর একমাত্র সেই আছে সাম্প্রতিক সময়ে। এইচপি বা ঢাকা লিগ যেখানেই বলেন সে ভাল করছিল। সুতরাং সেটি ছিল আমার মতে আবশ্যক। এছাড়া আপনি যদি দেখেন যে আসলে এত পরিবর্তন করার সুযোগ নেই। আমি মনে করি যে ছয় পর্যন্ত সবাই আমাদের বিশ্বকাপ পর্যন্ত সুস্থ থাকে তাহলে তেমন পরিবর্তন হওয়ার সুযোগ কিন্তু কম। আর সাকিব এবং তামিম যখন ফিরে আসবে তখন সুযোগটি কম থাকবে। হয়তো সাত নম্বরে পরিবর্তন আনা যাবে, অথবা একজন অতিরিক্ত বোলার। সাইফউদ্দিন ভাল করছে। সুতরাং আমার কাছে মনে হয় সবমিলিয়ে সাইফউদ্দিনের কামব্যাকটি ভাল হয়েছে। আর ওকে নিয়ে সবাই আশাবাদী। আর আমার মতে তেমন বেশি কোন জায়গা নেই পরিবর্তন করার মত। সৌম্য হয়ত কালকে দলের সাথে যোগ দিয়েছে। তবে তাঁর ক্ষেত্রে কি হবে সেটি এখনও জানি না। তবে এখন দুই একটি খেলোয়াড়কে দেখা যেতে পারে। আমার কাছে মনে হয় যেহেতু বিশ্বকাপের আগে তেমন বেশি ম্যাচ নেই, তাই যাদেরকেই চিন্তা করা হয় তাঁরা যদি ফর্মে নাও থাকে এরপরেও তাঁদেরকে খেলিয়ে, আরও ভালভাবে প্রস্তুত করাটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিকল্প কখনও আট মাসে তৈরি হয় না। সুতরাং যাদের বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ বেশি তাঁদেরকে খেলিয়ে তাঁদের পারফর্মেন্স দেখে দলে নিশ্চিত করা এবং ঠিক করা যে তাঁরা খেলবে বিশ্বকাপে এই ধরণের মানসিক সাপোর্ট তাঁদেরকে দেয়া যেতে পারে।’

চার জন ক্রিকেটার বাইরে বসে আছে, তাঁদেরকে সুযোগ দেয়া হবে কিনা এবং আরিফুল প্রসঙ্গ-

‘আরিফুলের বিষয়টি যেটি ছিল সেটি হল সে একজন খাঁটি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলবে। তবে এখানে কিছু বিষয় থাকে। এক্ষেত্রে এশিয়া কাপের কথা বলি। বোলিং অলরাউন্ডারের দিক থেকে খুব বেশি নিশ্চিত নই। কারণ নেটের বোলিং আর ম্যাচের বোলিং পুরো ভিন্ন বিষয়। এশিয়া কাপের মত জায়গায় শুধু বোলিং বিবেচনা করে আরিফকে খেলানো একটি ঝুঁকি ছিল। এই জায়গায় আমরা হয়ত একজন খাঁটি ব্যাটসম্যান অথবা বোলার খেলিয়েছি যখন বিশেষ করে সাকিব ছিল না। তবে ও বোলিং অনুশীলনে বেশ ভাল করছে। হয়ত এখানে আপনি যে পয়েন্টের ব্যাপারে বললেন যে আরিফ অনেক দিন থেকে দলের সাথে আছে। সুতরাং ওর ম্যাচ খেলাটা আসলে অনেক জরুরী হয়ে গিয়েছে এবং সেভাবে চিন্তা ভাবনা চলছে। তবে একই সময়ে আমি মনে করি যে অবশ্যই যারা আছে তাঁরা প্রত্যাশা করে। আর সৌম্য কোন স্পেশালিষ্ট হিসেবে খেলবে সেটাও কিন্তু ম্যাটার করে যে ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলবে নাকি অলরাউন্ডার হিসেবে খেলবে। তবে বোলার হিসেবে তো অবশ্যই সুযোগ কম, সে হয়ত টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলবে। আর আরিফ খেলবে অবশ্যই একজন ব্যাটিং অলরাউন্ডার হিসেবে। তো দুটি দুই জায়গা। আসলে আলোচনা করলে বোঝা যাবে কোন চিন্তা থেকে তাঁদেরকে নিয়েছেন নির্বাচকেরা বা পরবর্তীতে কি হবে।’

মিথুনের প্রসঙ্গে—

‘গত বছর যখন রংপুরে খেলি তখন ওর ব্যাটিং দেখে আমার কাছে মনে হয়েছিল সে অনেক বেশি ইতিবাচক। তখন থেকেই ওর সাথে আলোচনা করি যে কিভাবে ব্যাটিং আরও উন্নত করা যায়। যদিও আমি টেকনিক্যাল কোনও কোচ না, তাই বলেছিলাম ভাল কোনও কোচের সাথে আলোচনা করে মানসিক দিক থেকে প্রস্তুত হতে। সৌভাগ্য এবং দুর্ভাগ্যবশত ও দলে সুযোগ পেয়েছে, কিন্তু আমরা তাঁকে সঠিক পজিশনে খেলাতে পারিনি। এবার যেটি হয়েছে সে ফিরে আসার পরে আমরা তাঁকে সঠিক পজিশনে খেলাতে পেরেছি এবং এর কারণে নিজের পজিশন পেয়ে সে অনেকটাই আত্মবিশ্বাসী এখন এবং খুব ভাল খেলছে এই মুহূর্তে। দলের ভারসাম্যটি বেশ সুন্দর করে দিয়েছে সে। ও যদি এভাবে খেলতে থাকে এবং ইতিবাচক ব্যাটিং করতে থাকে তাহলে দলের ভারসাম্য ঠিক থাকবে। এখন এটি ওকেও বুঝতে হবে এবং ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। কারণ কালকে ফর্মের কি হবে সেটি কেউ জানে না। তো যতক্ষণ ফর্ম আছে এক্ষেত্রে প্রতিটি দিন তাঁর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ফর্মের থেকে চলে গেলে আসলে ফর্মে ফেরা অনেক কঠিন। সুতরাং সে যখন ফর্মে আছে তখন তাঁকে নিশ্চিত করতে হবে সেটি ধরে রাখা। যেমন প্রথম ম্যাচে আমি ওকে বলেছিলাম যে ও যদি পঞ্চাশ করার পর আরও বড় রান করতে পারতো তাহলে দলের জন্য ভাল হতো ওর নিজের জন্যও ভাল হতো। তবে এখন পর্যন্ত সে খুব ভাল খেলছে। এটি দলের জন্য অনেক ইতিবাচক।’

ইমরুল লিটনের সেঞ্চুরি বিসর্জন–

‘এটি নিয়ে ড্রেসিংরুমেও আলোচনা হয়েছে। তবে সবকিছু ভালোর ভেতরে খারাপ থাকে আবার খারাপের ভেতরেও ভাল থাকে। আসলে এ ধরণের সুযোগ তো সব দিন আসে না। তাই সুযোগগুলো অবশ্যই কাজে লাগানো উচিৎ। ইমরুল ৮০ থেকে ৯০ পর্যন্ত যে ব্যাটিংটা করলো সেটি ৯০ থেকে না করে আবার শট খেলতে গিয়েছে। তো এই সমন্বয়গুলো আসলে জরুরী। লিটন এবং ইমরুল দুইজনই বুঝতে পেরেছে। ওদেরও খারাপ লেগেছে। তবে আল্টিমেটলি হয় কি একবার কিছু চলে গেলে সেটি তো আর ফিরে আসে না। খুব ভাল বলে যদি তাঁরা আউট হতো তাহলে সেটি কিছু করার ছিল না। যেভাবে দুইজনই আউট হয়েছে তাঁরা হয়তো নিজেরাও বুঝতে পেরেছে যে ভুল হয়ে গিয়েছে। আশা করবো যে পরবর্তীতে এমন সুযোগ আসলে যেন না ছাড়ে।

যদিও আমরা এটি সবসময় আলোচনা করি। বেশিরভাগ সময়ে আমরা ভুলগুলো করছি, তো এগুলো আমাদের কমাতে হবে। অবশ্যই বড় মঞ্চে এগুলো ক্রাইমের পর্যায়ে চলে যাবে।’

দুটি ইনজুরি আছে আপনার। কালকে খেলার সম্ভাবনা আছে কিনা?

‘দেখুন আমি তো একটি ফরম্যাটে খেলি। সুতরাং যেভাবেই হোক সবসময় খেলতে চাই। অন্যদের মত না যারা টেস্ট খেলে, কিংবা টি টুয়েন্টি খেলে। অথবা ঘরোয়া লিগে চার দিনের ম্যাচ খেলে। আমার জন্য তো সেটা না। আমি তো একটি ফরম্যাট খেলি। তো এখানেও যদি বিশ্রাম নেই তাহলে বেশ কঠিন হয়ে যায় নিজেকে সেট করা। তবে কিছু ইনজুরির কারণে সমস্যা হচ্ছে, হচ্ছে না যে এমন না। তবে এই সিরিজের পর চার-পাঁচ সপ্তাহ সময় আছে। হয়তো বা একটু ভাল ট্রিটমেন্ট দরকার আমার। সেটি সম্ভব এরপরে। এখন দেখি এরপরেও কোচ এবং নির্বাচকেরা আলোচনা করার পরে দেখা যাবে।’

চার নম্বর পজিশনে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হবে কিনা?

‘দেখুন চার নম্বরের বিকল্প তো আমাদের এখানে নেই। পাঁচেও মিথুনের ব্যাকআপ মিথুনই আছে। ছয়ে রিয়াদ খেলছে আর সে ওখানেই খেলবে। এখন যদি আপনি রিয়াদের ব্যাকআপ খুঁজতে চান তাহলে আমার কাছে মনে হয় নতুন একটি দল নিয়ে সেটি করতে হবে। আর যারা আছে তাঁদের পজিশন অনুযায়ী বসানো যায়। যেমন আরিফকে একটি সুযোগ অবশ্যই দেয়া যায়। আবু হায়দার রনি আছে। এছাড়াও রুবেলকে নিজেকে প্রমাণ করেছে । তেমন সমস্যা নেই তাঁর। শান্ত যদিও পর পর তিনটি সুযোগ বড় মঞ্চে পেয়েছে, হয়তো সামনেও পাবে। তো আমার কাছে মনে হয় বসানোর ক্ষেত্রে একজন নির্দিষ্ট খেলোয়াড়ের ওপরেও অনেক কিছু নির্ভর করে যে সে কি চায় তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। যেমন মুশফিক দেখেন গতকাল ৪০ রানে অপরাজিত ছিল এটি ও অনুভব করে যে এতে তাঁর আগামীতে ফর্মে থাকতে সুবিধা হবে। এটি ম্যান টু ম্যান আসলে নির্ভর করে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রস্তুতি বা সামনে এগিয়ে যেতে বা ফর্ম কিভাবে ধরে রাখতে হবে এগুলো কিন্তু নির্ভর করে। যেমন রিয়াদের কথা যদি বলেন যে সে প্রথম ইনিংসে রান করেনি সুতরাং সে অবশ্যই চাইবে খেলতে। এই জিনিসগুলো কিন্তু অনেক সময় ম্যাটার করে। আমার কাছে মনে হয় সবাইকে তো সরানো যাবে না। একটি দুইটি জায়গা আছে যেগুলো নিয়ে চিন্তা করা যেতে পারে।’

সৌম্যকে কোন জায়গায় চান? তিনে নাকি সাতে?

‘দেখুন ও দুই জায়গাতেই খেলেছে এবং আমারও সমস্যা নেই তাঁর এই দুই জায়গা নিয়ে। সৌম্য যদি ফর্মে থাকে এবং সবকিছু ঠিক থাকে সে ওপেনারেরও ব্যাকআপ হতে পারে আবার সাত নাম্বারেরও ব্যাকআপ হতে পারে। এর একটাই কারণ যে তাঁর বোলিং আছে এবং সে বোলিং ভাল করছে। এটি তাঁর জন্য অনেক বড় একটি সুবিধা। সুতরাং আমার কাছে মনে হয় সে দুইটি জায়গারই ব্যাকআপ হতে পারে। তাঁকে দিয়ে দুইটি জায়গার সমাধান পাওয়া যেতে পারে বলে আমি মনে করি।’

এরই মধ্যে চার জন ক্রিকেটার আছে যাদের একাদশে কিভাবে আনবেন সেটি জানেন না, এক্ষেত্রে কি ভাবছেন?

হয়তবা সাম্প্রতিককালে এত ম্যাচ জয়ের কারণে এগুলো হচ্ছে। আমরা হারলে দেখতেন পরিস্থিতি অন্যরকম হয়ে যেত। চার জন আছে, যেটি বললাম যে এদের মধ্যে রুবেল এরই মধ্যে । প্রমাণিত, ওকে দেখার কিছু নেই। সুতরাং রুবেলকে ম্যাচ দেয়া যেতে পারে। আরিফ আছে যেটি বললাম, শান্ত আছে। আর রাব্বি তো খেলছেই। আসলে যেটি বললাম যে পজিশনের ওপরেও নির্ভর করে অনেককিছু যে কে কোথায় খেলে। কার ব্যাটিং অর্ডার কোন জায়গায়। সুতরাং সেটির ওপর ভিত্তি করেই দলটি করা উচিৎ বলে আমি মনে করি। কারণ নতুন কাউকে নিয়ে এসে এক ম্যাচ দেখলে আবারও উইন্ডিজ সিরিজ থেকে শুরু করতে হবে। এমন হওয়াটাও তো কঠিন। তো সর্বোচ্চ যাকে দেখা যায় তাঁকে দেখার চেষ্টা করতে হবে। আমার কাছে মনে হয় আমাদের চিন্তাটা এক জায়গায় থাকা উচিৎ যে এই কয়েকজনের বাইরে আমরা যাব না। এদেরকে নিয়েই দেখবো এবং এদের ভেতরেই পরিবর্তন করতে হবে। সেটি হলে আমার কাছে মনে হয় অন্তত নিউজিল্যান্ড সিরিজ পর্যন্ত আমরা দেখতে পারব’

সিরিজ থেকে সাইফুদ্দিন বড় প্রাপ্তি কিনা?—-

‘সাইফুদ্দিন ভাল করেছে, ব্যাটিংও ভাল করেছে, বোলিংও ভাল করেছে তো অবশ্যই। ইমরুলের কথাও বলতে হবে। সে অনেক ভাল খেলছে এশিয়া কাপের থেকেই। পাকিস্তানের বিপক্ষে সে রান করতে পারেনি, তবে এরপরেও খুব ভাল খেলছে। একটি হেলদি প্রতিযোগিতা যে ওপেনিংয়ে হচ্ছে এটি খুব ইতিবাচক একটি দিক আমার কাছে। ওপেনিংয়ে তামিম না থাকার পরেও এমন প্রতিযোগিতা হচ্ছে। আমি নিশ্চিত যে ওরা তিনজন যখন থাকবে এবং তামিম আসবে তখন প্রতিযোগিতা আরও বাড়বে। কারণ তামিম হল আসল পারফর্মার। আর এই প্রতিযোগিতাটি যেন আরও বাড়ে সেটাই আসলে প্রত্যাশা করছি। সাইফুদ্দিন সাত-আটে যদি এভাবে ব্যাটিং করে, ইংল্যান্ডে কখনও কখনও ম্যাচ খেলতে হতে পারে চার পেস বোলার নিয়ে। সেক্ষেত্রে সাইফুদ্দিন যদি সাতে এভাবে ব্যাটিং করতে পারে তাহলে সেটা আমাদের জন্য অনেক ইতিবাচক ব্যাপার। আর অপুও খারাপ বোলিং করছে না। তাঁর অভিষেক হয়েছে অল্প কয়েকদিন হল। সেও খারাপ করছে না। সুতরাং ইতিবাচক দিক বেশ কিছু আছে। তবে আরও সময় যখন যাবে তখন বোঝা যাবে। এখনও তো আর্লি স্টেজ, বাংলাদেশে খেলছে, সকলেই তাই আত্মবিশ্বাসী। কিন্তু আরও সামনে যখন যাবে, বড় ম্যাচের ক্ষেত্রে তখন আরও পরিষ্কার বোঝা যাবে। যেসব ইতিবাচক দিকের কথা বলছি, এগুলো নেতিবাচকভাবেও বলা যায় যেমন এশিয়া কাপ ফাইনাল। সুতরাং বড় মঞ্চে আমরা কেমন করি সেটাও কিন্তু ম্যাটার। এখান থেকেই আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে হবে।’

ফজলে রাব্বির সুযোগ পাওয়া প্রসঙ্গে। জিম্বাবুয়ে দল কি সবথেকে দুর্বল দল কিনা?

‘আপনি যদি আমাকে দল নির্বাচন করতে বলেন তাহলে ওকে আরেকটি সুযোগ দিতে আমি দ্বিধা করবো না সত্যি কথা বলতে। আমার কাছে মনে হয় সে অনেক বেশি দুর্ভাগ্যবান। আর দ্বিতীয় কথা হল একই সময়ে ধরেন শান্তও বসে আছে। সেক্ষেত্রে আমাদের সকলেরই চাওয়া থাকবে যে শান্তই খেলুক। এখানেও একটি পয়েন্ট আছে। এখানে আসলে একা বলে কিছু হবে না। সবার সাথে আলোচনার ব্যাপার আছে। আমি যেটি বলবো সেটিই যে হবে তাও না। তবে রাব্বি আরেকটি সুযোগ পেলে আমি কিছু মনে করবো না, আমার সমস্যা নেই। আর আমি বিশ্বাস করি ব্যাকআপ করলে এভাবেই করা উচিৎ। একজন খেলোয়াড়কে নিলে তাঁকে সেভাবেই ব্যাকআপ করা উচিৎ। আর আমি এটাই মনে করি। আমার ক্ষেত্রেও এটি হতে পারত। খেলোয়াড়ের সব দিক নিয়ে যদি আমি চিন্তা করি তাহলে আমার কাছে মনে হয় ভালভাবে ব্যাকআপ করা সম্ভব। সে কিন্তু নিজেকে প্রমাণ করেই এই পর্যন্ত এসেছে। হুট করে দুটি ম্যাচে আউট হয়ে গিয়েছে। আর জিম্বাবুয়ের কথা যেটি বললেন- আসলে তারা যখন এসেছে তখন আমার কাছে মনে হয়েছিল যে এই দলটি কঠিন হবে হারানোর জন্য। কারণ তাঁদের দলে অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররাই এসেছে। সাত নম্বরে যখন মুর ব্যাটিং করছে এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সে খুব ভাল খেলেছে সুতরাং ব্যাটিং অর্ডার দেখে আমার কাছে মনে হয়েছে খুব বেশি সহজ হবে না। তবে ধন্যবাদ ছেলেদের যে তারা খুব স্বাভাবিকভাবেই ব্যাপারটি দেখেছে এবং এখানে সাধারণত স্পিন হ্যান্ডেল করা একটু কঠিন। ধারাবাহিকভাবে স্পিন চলতে থাকলে ভুল হয়ে যায়। ওরা গত কয়েক বছরের মধ্যে সবথেকে অভিজ্ঞ দল নিয়েই এখানে এসেছে। এখনও একটি ম্যাচ আছে। খুব বেশি কিছু তো বলা যায় না। তবে সিরিজ জিতে যাওয়ার ক্ষেত্রে বলতে পারেন একটি শান্তির জায়গা আছে। এখন একটু রিল্যাক্স লাগছে।

এর আগে খেলেছিলাম যখন সাকিব, তামিমরাও ছিল। ওদের যে অভিজ্ঞ ব্যাটিং লাইন আপ এসেছিল তাতে করে সাকিব তামিমরা ছাড়া অবশ্যই একটি ফাইট হওয়ার কথা ছিল। কারণ আমাদেরও তো দুইজন সেরা খেলোয়াড় নেই। হয়ত এশিয়া কাপে আমরা দারুণ খেলার কারণে এবং খুব দ্রুতই মাঠে নেমেছি সেই কারণে ঐ রেশটি রয়ে গিয়েছে। সবাই নামছে এবং খেলছে স্বাভাবিকভাবে। বাংলাদেশ দলের ড্রেসিং রুমের আত্মবিশ্বাসও এখন অনেক বেশি। এটাই কিন্তু একটি ক্রিকেট দলের সবকিছু ম্যাটার করে। আত্মবিশ্বাসই কিন্তু বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কে খেলছে কে খেলছে না তার থেকেও। এখন ড্রেসিং রুমের আত্মবিশ্বাসও কিন্তু অনেক ওপরে। আর এটাই হয়তো জিম্বাবুয়ের জন্য কঠিন হয়ে গিয়েছে।’