ঢাকা ১২:৪২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তন চায়,দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি আর চলবেনা: মামুনুল হক মব নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হলে নির্বাচনে প্রভাব পড়বে: টিআইবি ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে দাঁড়িপাল্লার পাশাপাশি হ্যাঁ-তে ভোট দিতে হবে: সাদিক কায়েম চট্টগ্রাম বন্দরে এবার ২৪ ঘণ্টা কর্মবিরতির ডাক এবার কোথাও কোনো কেন্দ্র দখল হলে কেউ ছাড় পাবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা দুর্নীতি-চাঁদাবাজ ও টেন্ডারবাজদের বিরুদ্ধে বলায় তাদের চান্দি গরম হয়ে গেছে: জামায়াত আমির প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধের রাজনীতি দেখতে চান না তারেক রহমান: দুলু প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয় ও চুক্তি চলমান প্রক্রিয়ার অংশ: নিরাপত্তা উপদেষ্টা মঙ্গলবার পবিত্র শবে বরাত তরুণদের সঙ্গে জাইমা রহমানের ‘চায়ের আড্ডা’

একটি বড় প্রশ্ন

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকান্ডের ঘটনায় ‘নতুন তথ্য’ দিয়েছেন দেশটির এক শীর্ষ কর্মকর্তা। খাশোগিকে হত্যা না করে তাকে সৌদি আরবে ফিরিয়ে নেয়াই উদ্দেশ্যে ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। ওই কর্মকর্তার নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ খবর প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

সৌদি কর্মকর্তা বলেন, রাজপরিবারের সাবেক এই উপদেষ্টাকে রিয়াদে ফিরিয়ে নিতে চেয়েছিল সরকার। এজন্য ১৫ সদস্যের একটি দলকে ইস্তাম্বুলে পাঠানো হয়। সৌদির জেনারেল ইন্টেলিজেন্স প্রেসিডেন্সির উপ-প্রধান আহমেদ আসিরি এই ১৫ জনের দল গঠন করেন। তারা খাশোগির সঙ্গে সাক্ষাত করে তাকে বুঝিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিলেন।

তাকে ফিরিয়ে আনতে শান্তিপূর্ণ উপায় অবলম্বনের স্থায়ী আদেশ জারি ছিল ওই ১৫ সদস্যের দলের প্রতি। তবে এই আদেশে অনুমতি ছাড়া যেকোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা ছিল। দলটির পরিকল্পনা ছিল, ইস্তাম্বুলের বাইরে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত খাশোগিকে আটকে রাখার হবে। শেষ পর্যন্ত যদি ফিরতে না চান তাহলে তাকে ছেড়ে দেয়া হবে।

তিনি বলেন, এরকমই নির্দেশনা ছিল কিন্তু শুরুতেই সবকিছু ভুল পথে পরিচালিত হতে থাকে। এক পর্যায়ে এই কর্মকর্তারা আদেশ লঙ্ঘন করে দ্রুত সহিংস হয়ে উঠেন। তারা খাশোগিকে কনসাল জেনারেলের কার্যালয়ে নেয়। যেখানে মাহের মুতরেব নামের এক কর্মকর্তার সঙ্গে তিনি তর্কবিতর্কে জড়িয়ে পড়েন।

মুতরেব কূটনৈতিক নীতি-নৈতিকতা লঙ্ঘন করছেন উল্লেখ করে খাশোগি তাকে বলেন, আপনি আমার সঙ্গে কী করতে যাচ্ছেন। আপনি কী আমাকে অপহরণ করতে চান?

মুতরেব বলেন, হ্যাঁ। আমরা তোমাকে ড্রাগ প্রয়োগ করবো এবং তুলে নিয়ে যাবো। এরপর খাশোগি চিৎকার শুরু করলে তাকে শান্ত করতে মুখে কাপড় ঢুকিয়ে দেন। চিৎকার থামানোর চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং শ্বাসরোধে মারা যান খাশোগি।

পরে খাশোগির পোশাক পরে এক কর্মকর্তা কনস্যুলেট থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। জামাল খাসোগি কনস্যুলেট থেকে বেরিয়ে গেছেন এটা প্রমাণ করতেই এ কৌশল নেয়া হয়।

জামাল খাসোগজিকে সৌদি আরবে ফিরে যেতে রাজী করানোই যদি এই পুরো মিশনটির উদ্দেশ্য হয়ে থাকবে, তাহলে সেই দলে কেন এত এত সামরিক কর্মকর্তা আর ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ, সেই প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

ঘটনার ব্যাপারে সৌদি ভাষ্য কেন বার বার বদলে যাচ্ছেও, সেটাও একটা বড় প্রশ্ন। এসব প্রশ্নের কোন বিশ্বাসযোগ্য উত্তর অবশ্য এই সৌদি কর্মকর্তার ভাষ্যে নেই।

যেটি স্পষ্ট, তা হলো এই ঘটনা সৌদি আরবকে পুরো বিশ্বের সামনে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। জামাল খাসোগজির ঘটনা সৌদি রাজপরিবারের জন্য এক বিরাট সংকটে পরিণত হয়েছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তন চায়,দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি আর চলবেনা: মামুনুল হক

একটি বড় প্রশ্ন

আপডেট সময় ০৮:০২:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ অক্টোবর ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকান্ডের ঘটনায় ‘নতুন তথ্য’ দিয়েছেন দেশটির এক শীর্ষ কর্মকর্তা। খাশোগিকে হত্যা না করে তাকে সৌদি আরবে ফিরিয়ে নেয়াই উদ্দেশ্যে ছিল বলে জানিয়েছেন তিনি। ওই কর্মকর্তার নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ খবর প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

সৌদি কর্মকর্তা বলেন, রাজপরিবারের সাবেক এই উপদেষ্টাকে রিয়াদে ফিরিয়ে নিতে চেয়েছিল সরকার। এজন্য ১৫ সদস্যের একটি দলকে ইস্তাম্বুলে পাঠানো হয়। সৌদির জেনারেল ইন্টেলিজেন্স প্রেসিডেন্সির উপ-প্রধান আহমেদ আসিরি এই ১৫ জনের দল গঠন করেন। তারা খাশোগির সঙ্গে সাক্ষাত করে তাকে বুঝিয়ে দেশে ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিলেন।

তাকে ফিরিয়ে আনতে শান্তিপূর্ণ উপায় অবলম্বনের স্থায়ী আদেশ জারি ছিল ওই ১৫ সদস্যের দলের প্রতি। তবে এই আদেশে অনুমতি ছাড়া যেকোনো সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা ছিল। দলটির পরিকল্পনা ছিল, ইস্তাম্বুলের বাইরে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত খাশোগিকে আটকে রাখার হবে। শেষ পর্যন্ত যদি ফিরতে না চান তাহলে তাকে ছেড়ে দেয়া হবে।

তিনি বলেন, এরকমই নির্দেশনা ছিল কিন্তু শুরুতেই সবকিছু ভুল পথে পরিচালিত হতে থাকে। এক পর্যায়ে এই কর্মকর্তারা আদেশ লঙ্ঘন করে দ্রুত সহিংস হয়ে উঠেন। তারা খাশোগিকে কনসাল জেনারেলের কার্যালয়ে নেয়। যেখানে মাহের মুতরেব নামের এক কর্মকর্তার সঙ্গে তিনি তর্কবিতর্কে জড়িয়ে পড়েন।

মুতরেব কূটনৈতিক নীতি-নৈতিকতা লঙ্ঘন করছেন উল্লেখ করে খাশোগি তাকে বলেন, আপনি আমার সঙ্গে কী করতে যাচ্ছেন। আপনি কী আমাকে অপহরণ করতে চান?

মুতরেব বলেন, হ্যাঁ। আমরা তোমাকে ড্রাগ প্রয়োগ করবো এবং তুলে নিয়ে যাবো। এরপর খাশোগি চিৎকার শুরু করলে তাকে শান্ত করতে মুখে কাপড় ঢুকিয়ে দেন। চিৎকার থামানোর চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং শ্বাসরোধে মারা যান খাশোগি।

পরে খাশোগির পোশাক পরে এক কর্মকর্তা কনস্যুলেট থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল। জামাল খাসোগি কনস্যুলেট থেকে বেরিয়ে গেছেন এটা প্রমাণ করতেই এ কৌশল নেয়া হয়।

জামাল খাসোগজিকে সৌদি আরবে ফিরে যেতে রাজী করানোই যদি এই পুরো মিশনটির উদ্দেশ্য হয়ে থাকবে, তাহলে সেই দলে কেন এত এত সামরিক কর্মকর্তা আর ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ, সেই প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

ঘটনার ব্যাপারে সৌদি ভাষ্য কেন বার বার বদলে যাচ্ছেও, সেটাও একটা বড় প্রশ্ন। এসব প্রশ্নের কোন বিশ্বাসযোগ্য উত্তর অবশ্য এই সৌদি কর্মকর্তার ভাষ্যে নেই।

যেটি স্পষ্ট, তা হলো এই ঘটনা সৌদি আরবকে পুরো বিশ্বের সামনে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। জামাল খাসোগজির ঘটনা সৌদি রাজপরিবারের জন্য এক বিরাট সংকটে পরিণত হয়েছে।