ঢাকা ১০:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্প কারখানা ও প্রবাসীদের ত্রিপাক্ষিক ইকোসিস্টেম গড়ে তুলবে সরকার: মাহদী আমিন নির্লজ্জ দলীয়করণ করে দুর্নীতিকে জাতীয়করণ করছে সরকার: জামায়াত আমির ধানমন্ডিতে শেখ হাসিনার পরিত্যক্ত ‘সুধাসদন’ থেকে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার রাষ্ট্রপতির হাতে শপথ নিয়ে তাকে সাংবিধানিকভাবে দায়মুক্তি দিয়ে গেছে নাহিদ মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধের কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না: পানিসম্পদমন্ত্রী জুলাইয়ের দিনগুলোই জ্বলন্ত সাক্ষী, ইসলামী আন্দোলন মানবতার পক্ষের শক্তি: চরমোনাই পীর ভারতের আন্দোলনরত ছাত্র-তরুণদেরকে অভিনন্দন নাহিদ ইসলামের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসছে: আইনমন্ত্রী আন্দোলন প্রত্যাহার করল ককরোচ জনতা পার্টি জনগণের ভোগান্তি কমাতে সরকার নিরলস কাজ করছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

চীনে মিয়ানমারের আরও চার মাফিয়া সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

মিয়ানমারে স্ক্যাম সেন্টার বা প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে জড়িত আরও চারজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে চীন। সাজাপ্রাপ্তরা সবাই মাফিয়া গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত ‘বাই’ পরিবারের সদস্য।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। অভিযোগ আছে, মাফিয়া গোষ্ঠীটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কয়েক হাজার চীনা নাগরিককে ফাঁদে ফেলে প্রতারণা করেছে। এরপর প্রতারকদের ধরতে সোচ্চার হয় বেইজিং। কঠোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে গত সপ্তাহে বাই পরিবারের ১১ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

ওয়াংডং প্রদেশের একটি আদালত প্রতারণা, হত্যা, জখম ও অন্যান্য অপরাধের দায়ে এরইমধ্যে বাই পরিবারের ২১ সদস্য ও সহযোগীদের সাজা দিয়েছেন। সবশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া চারজনও এই দলে ছিলেন। গত বছরের নভেম্বরে আদালত মাফিয়া গোষ্ঠীর প্রধান বাই সুওচেংসহ পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এরপর অসুস্থতাজনিত কারণে সুওচেং মারা যান।

মিয়ানমারের সীমান্ত শহর লাউককাইং-এ গত কয়েক বছর ধরে বাই, মিং এবং আরও কয়েকটি পরিবার আধিপত্য বিস্তার করেছিল। সেখানে তারা ক্যাসিনো, যৌনপল্লি ও সাইবার প্রতারণা চক্র পরিচালনা করত। আটকের পর বাই সুওচেং-এর ছেলে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, এই গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বাই পরিবার ছিল এক নম্বর।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাই পরিবার নিজেরাই একটি সশস্ত্র বাহিনী পরিচালনা করত। তারা সাইবার প্রতারণা ও ক্যাসিনো কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৪১টি আস্তানা গড়ে তুলেছিল। সেগুলোতে সহিংসতা, মারধর ও নির্যাতন ছিল প্রতিদিনকার ঘটনা।

চীনের আদালত জানিয়েছেন, বাই পরিবারের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ফলে ছয়জন চীনা নাগরিক মারা গেছেন। একজন আত্মহত্যা করেছেন এবং আরও অনেকে গুরুতর আহত হয়েছেন।

২০০০ সালের শুরুর দিকে লাউককাইং এর তৎকালীন এক যুদ্ধবাজ নেতাকে ক্ষমতাচ্যুত করে সামরিক বাহিনী। ওই অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মিন অং হ্লাইং। তিনি বর্তমানে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের প্রধান। অভিযানটির পর লাউককাইং এর নিয়ন্ত্রণ যায় বাই পরিবারের হাতে।

২০২৩ সালে এই পরিবারগুলোর সাম্রাজ্য ধসে পড়ে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী প্রতারণা চক্রগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় বেইজিং ক্ষুব্ধ হয়। পরোক্ষভাবে ওই অঞ্চলের জাতিগত বিদ্রোহীদের আক্রমণকে সমর্থন জানায়। এটি মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধে একটি মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতারক মাফিয়া গোষ্ঠীগুলো ধরা পড়ে এবং তাদের সদস্যদের বেইজিংয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ছেলের ছুরিকাঘাতে বাবা-মা খুন

চীনে মিয়ানমারের আরও চার মাফিয়া সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

আপডেট সময় ০৫:৫৯:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 

মিয়ানমারে স্ক্যাম সেন্টার বা প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে জড়িত আরও চারজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে চীন। সাজাপ্রাপ্তরা সবাই মাফিয়া গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত ‘বাই’ পরিবারের সদস্য।

চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। অভিযোগ আছে, মাফিয়া গোষ্ঠীটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কয়েক হাজার চীনা নাগরিককে ফাঁদে ফেলে প্রতারণা করেছে। এরপর প্রতারকদের ধরতে সোচ্চার হয় বেইজিং। কঠোর পদক্ষেপের অংশ হিসেবে গত সপ্তাহে বাই পরিবারের ১১ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

ওয়াংডং প্রদেশের একটি আদালত প্রতারণা, হত্যা, জখম ও অন্যান্য অপরাধের দায়ে এরইমধ্যে বাই পরিবারের ২১ সদস্য ও সহযোগীদের সাজা দিয়েছেন। সবশেষ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া চারজনও এই দলে ছিলেন। গত বছরের নভেম্বরে আদালত মাফিয়া গোষ্ঠীর প্রধান বাই সুওচেংসহ পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এরপর অসুস্থতাজনিত কারণে সুওচেং মারা যান।

মিয়ানমারের সীমান্ত শহর লাউককাইং-এ গত কয়েক বছর ধরে বাই, মিং এবং আরও কয়েকটি পরিবার আধিপত্য বিস্তার করেছিল। সেখানে তারা ক্যাসিনো, যৌনপল্লি ও সাইবার প্রতারণা চক্র পরিচালনা করত। আটকের পর বাই সুওচেং-এর ছেলে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, এই গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বাই পরিবার ছিল এক নম্বর।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাই পরিবার নিজেরাই একটি সশস্ত্র বাহিনী পরিচালনা করত। তারা সাইবার প্রতারণা ও ক্যাসিনো কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৪১টি আস্তানা গড়ে তুলেছিল। সেগুলোতে সহিংসতা, মারধর ও নির্যাতন ছিল প্রতিদিনকার ঘটনা।

চীনের আদালত জানিয়েছেন, বাই পরিবারের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ফলে ছয়জন চীনা নাগরিক মারা গেছেন। একজন আত্মহত্যা করেছেন এবং আরও অনেকে গুরুতর আহত হয়েছেন।

২০০০ সালের শুরুর দিকে লাউককাইং এর তৎকালীন এক যুদ্ধবাজ নেতাকে ক্ষমতাচ্যুত করে সামরিক বাহিনী। ওই অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মিন অং হ্লাইং। তিনি বর্তমানে মিয়ানমারের সামরিক সরকারের প্রধান। অভিযানটির পর লাউককাইং এর নিয়ন্ত্রণ যায় বাই পরিবারের হাতে।

২০২৩ সালে এই পরিবারগুলোর সাম্রাজ্য ধসে পড়ে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী প্রতারণা চক্রগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় বেইজিং ক্ষুব্ধ হয়। পরোক্ষভাবে ওই অঞ্চলের জাতিগত বিদ্রোহীদের আক্রমণকে সমর্থন জানায়। এটি মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধে একটি মোড় পরিবর্তনকারী ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতারক মাফিয়া গোষ্ঠীগুলো ধরা পড়ে এবং তাদের সদস্যদের বেইজিংয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়।