আকাশ আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
ভেনেজুয়েলার সরকার দেশটির কারাগার থেকে অন্তত ৩০ রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির মানবাধিকার সংস্থাগুলো।
মুক্তি পাওয়াদের মধ্যে অন্যতম শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার কর্মী জাভিয়ের তারাজোনা রয়েছেন। তিনি ২০২১ সালের জুলাই মাস থেকে কারাবন্দি ছিলেন। তারাজোনা ভেনেজুয়েলার সীমান্ত এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা নিয়ে কাজ করা সংস্থা ‘ফান্ডারেডেস’-এর পরিচালক।
দীর্ঘ প্রায় পাঁচ বছর বন্দি থাকার পর তার মুক্তিকে দেশটির মানবাধিকার আন্দোলনের জন্য একটি বড় বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মানবাধিকার সংস্থা ‘ফোরাম পেনাল’-এর প্রধান আলফ্রেডো রোমেরো জানিয়েছেন, রোববার (১ জানুয়ারি) বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন কারাগার থেকে অন্তত ৩০ জন বন্দির মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর আগে ভেনেজুয়েলার বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বিশেষ বাহিনী কর্তৃক আটকের পর দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরণের পরিবর্তন আসে।
বর্তমানে দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডেলসি রদ্রিগেজ দায়িত্ব পালন করছেন। এই বন্দি মুক্তির প্রক্রিয়াকে নতুন প্রশাসনের অধীনে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
মুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই কারাফটকের সামনে বন্দিদের স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা ভিড় করেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রিয়জনকে ফিরে পেয়ে আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে মানবাধিকার কর্মীরা সতর্ক করে জানিয়েছেন যে এখনো ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন কারাগারে শত শত মানুষ রাজনৈতিক কারণে বন্দি রয়েছেন। তারা দাবি করেছেন, প্রকৃত গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য কোনো শর্ত ছাড়াই বাকি সকল রাজনৈতিক বন্দিকে দ্রুত মুক্তি দিতে হবে।
আন্তর্জাতিক মহল থেকেও এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও প্রতিবেশী দেশগুলো ভেনেজুয়েলার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে রেহাই পেতে রাজনৈতিক পরিবেশ স্বাভাবিক করা অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য অত্যন্ত জরুরি। এই বন্দি মুক্তি প্রক্রিয়া সেই লক্ষ্যেই একটি কৌশলগত পদক্ষেপ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 



















