ঢাকা ১২:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তন চায়,দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি আর চলবেনা: মামুনুল হক মব নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হলে নির্বাচনে প্রভাব পড়বে: টিআইবি ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে দাঁড়িপাল্লার পাশাপাশি হ্যাঁ-তে ভোট দিতে হবে: সাদিক কায়েম চট্টগ্রাম বন্দরে এবার ২৪ ঘণ্টা কর্মবিরতির ডাক এবার কোথাও কোনো কেন্দ্র দখল হলে কেউ ছাড় পাবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা দুর্নীতি-চাঁদাবাজ ও টেন্ডারবাজদের বিরুদ্ধে বলায় তাদের চান্দি গরম হয়ে গেছে: জামায়াত আমির প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধের রাজনীতি দেখতে চান না তারেক রহমান: দুলু প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ক্রয় ও চুক্তি চলমান প্রক্রিয়ার অংশ: নিরাপত্তা উপদেষ্টা মঙ্গলবার পবিত্র শবে বরাত তরুণদের সঙ্গে জাইমা রহমানের ‘চায়ের আড্ডা’

দুর্নীতি-চাঁদাবাজ ও টেন্ডারবাজদের বিরুদ্ধে বলায় তাদের চান্দি গরম হয়ে গেছে: জামায়াত আমির

আকাশ জাতীয় ডেস্ক : 

চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ ও টেন্ডারবাজদের বিরুদ্ধে কথা বলায় তাদের চান্দি গরম হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমার পেছনে লাগছে কেন? আমি ওই যে বলেছি, চান্দা আর নিতে দেব না। দুর্নীতি করব না, করতেও দেব না। আবার বলেছি, দুর্নীতিবাজদের আশ্রয়প্রশ্রয়ও দিতে দেব না, এজন্যই তারা আমার বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে।’

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকালে সীতাকুণ্ড উচ্চ বিদ্যালয় ও মাদরাসা মাঠে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের আমির আলাউদ্দিন শিকদারের সভাপতিত্বে ১১ দলীয় নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, তরুণ-যুবকরা বাংলাদেশকে সঠিক পথে নিতে চায়। কিন্তু যতো চাঁদাবাজ, ধান্দাবাজ ও মামলাবাজ আছে তারা শুধু পেছনে টানে। এই বন্ধুদের বলবো- এগুলা ছেড়ে দেন। খারাপ কাজ বাদ দেন, এগুলো হারাম। আসেন সুপথে চলে আসেন আপনাদেরও শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে মর্যাদার কাজ দেব- ইনশাআল্লাহ। এইতো সবাই মিলেই তো বাংলাদেশ। এ জন্যেই আমাদের স্লোগান- ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, আজকের এ জনজোয়ার, জনস্রোত, জনপ্লাবন শুধু চট্টলায় নয়, টেকনাফ থেকে শুরু করে তেতুলিয়া, জাফলং থেকে সুন্দরবন ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের সারা বাংলাদেশ জেগে উঠেছে। বাংলাদেশ বলে দিয়েছে, আমরা আর ধান্দাবাজদের সঙ্গে নেই। যারা আধিপত্যবাদের গোলাম তাদের সঙ্গেও নেই। আমরা সবক্ষেত্রে ন্যায়বিচার চাই, আমার পাওনা আমি চাই।

জামায়াত আমির বলেন, স্বাধীনতার পরে এক এক করে চুয়ান্ন বছর অতিবাহিত হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে সরকার এসেছে সরকার গেছে। সরকারের লোকদের কপালের পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। যদি বলি কিছুই হয়নি এই কথাটা সত্য হবে না, তবে যা হওয়ার দরকার ছিল তা হয়নি।

জামায়াত আমির বলেন, যারা নির্বাচনের আগে বাজার থেকে নতুন নতুন দামি টুপি কিনে, তসবিহ এনে নির্বাচনের প্রচারে নেমেছেন তারা কারো বাড়িতে গেলে বলে যে আপনার সঙ্গে পরে বসব, আগে চাচার কবরটা জিয়ারত করে আসি। যখন জানতে চাওয়া হয় কোন চাচার? তিনি বলেন, আপনার আব্বাজানের। তখন ভোটাররা বলেন, আস্তাগফিরুল্লাহ- আমার বাবাতো এখনো জীবিত আছে। এই হলো মৌসুমী সেবকদের অবস্থা। তারা এখন জীবিত মানুষদেরও কবর জিয়ারত করছেন, কিন্তু ভোটের পরে আর সালামের জবাবও দেবেন না।

তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, এসব ধান্দাবাজ নির্বাচনের সময় টাকার বস্তা নিয়ে নামে। যারা অর্থের বিনিময়ে মানুষের ভোট কিনতে চায় তারা মানুষ নামে কলঙ্ক। এরা আসলে টাকার বিনিময়ে আপনাদের ইজ্জত ও বিবেক কিনতে চায়। তাদের ধরে পুলিশে দিয়ে দেবেন। তবে নিজেরা আইন হাতে তুলে নেবেন না।

যুবক ও তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জুলাইয়ে যুবসমাজ রাস্তায় নেমে কী স্লোগান দিয়েছিল? তারা কি বেকার ভাতা চেয়েছেন? তারা চেয়েছেন মর্যাদার কাজ, যা আমরা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। এটা তাদের অধিকার। আমরা তরুণ-তরুণীদের হাতকে দেশ গড়ার কারিগরের মজবুত হাতিয়ারে পরিণত করব- ইনশাআল্লাহ। তাদের হাতে কাজ তুলে দিয়ে বলব, এগিয়ে যাও তুমিই বাংলাদেশ।

নারীদের মা আখ্যা দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, মায়েদের প্রতি আমাদের স্পষ্ট বার্তা, তারা বড় ঋণী করে রেখেছেন আমাদের। আপনাদের গর্ভে ধারণ করেছেন, বুকের দুধ দিয়েছেন, বুকের বিছানায় লালন পালন করেছেন- এই ঋণ জীবনেও পরিশোধ করতে পারব না। আমরা চাই আপনাদের আমাদের মাথার তাজ হিসেবে সম্মানের আসনে বসাতে। যদি এইটুকু পারি তাহলে কিঞ্চিত ঋণ পরিশোধ হবে- সবটুকু নয়।

জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মোহাম্মদ শাহজাহান, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যক্ষ আমিরুজ্জামান, অধ্যাপক নুরুল আমিন চৌধুরী, উত্তর জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি ইউসুফ বিন আবু বকর, চট্টগ্রাম-১ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অ্যাডভোকেট ছাইফুর রহমান, চট্টগ্রাম-২ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৫ আসনের প্রার্থী নাসির উদ্দিন মনির, চট্টগ্রাম-৬ আসনের প্রার্থী শাহজাহান মঞ্জু, চট্টগ্রাম-৭ আসনের প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিম, সনাতন প্রতিনিধি দোলন দেব, কেন্দ্রীয় তত্ত্বাবধায়ক ইব্রাহিম, ডাকসুর জিএস এসএম ফরহাদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি ও চাকসু ভিপি ইব্রাহিম রনি প্রমুখ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের মানুষ পরিবর্তন চায়,দুর্নীতি ও সন্ত্রাসনির্ভর রাজনীতি আর চলবেনা: মামুনুল হক

দুর্নীতি-চাঁদাবাজ ও টেন্ডারবাজদের বিরুদ্ধে বলায় তাদের চান্দি গরম হয়ে গেছে: জামায়াত আমির

আপডেট সময় ১১:০০:০১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক : 

চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ ও টেন্ডারবাজদের বিরুদ্ধে কথা বলায় তাদের চান্দি গরম হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমার পেছনে লাগছে কেন? আমি ওই যে বলেছি, চান্দা আর নিতে দেব না। দুর্নীতি করব না, করতেও দেব না। আবার বলেছি, দুর্নীতিবাজদের আশ্রয়প্রশ্রয়ও দিতে দেব না, এজন্যই তারা আমার বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে।’

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকালে সীতাকুণ্ড উচ্চ বিদ্যালয় ও মাদরাসা মাঠে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের আমির আলাউদ্দিন শিকদারের সভাপতিত্বে ১১ দলীয় নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, তরুণ-যুবকরা বাংলাদেশকে সঠিক পথে নিতে চায়। কিন্তু যতো চাঁদাবাজ, ধান্দাবাজ ও মামলাবাজ আছে তারা শুধু পেছনে টানে। এই বন্ধুদের বলবো- এগুলা ছেড়ে দেন। খারাপ কাজ বাদ দেন, এগুলো হারাম। আসেন সুপথে চলে আসেন আপনাদেরও শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে মর্যাদার কাজ দেব- ইনশাআল্লাহ। এইতো সবাই মিলেই তো বাংলাদেশ। এ জন্যেই আমাদের স্লোগান- ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, আজকের এ জনজোয়ার, জনস্রোত, জনপ্লাবন শুধু চট্টলায় নয়, টেকনাফ থেকে শুরু করে তেতুলিয়া, জাফলং থেকে সুন্দরবন ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের সারা বাংলাদেশ জেগে উঠেছে। বাংলাদেশ বলে দিয়েছে, আমরা আর ধান্দাবাজদের সঙ্গে নেই। যারা আধিপত্যবাদের গোলাম তাদের সঙ্গেও নেই। আমরা সবক্ষেত্রে ন্যায়বিচার চাই, আমার পাওনা আমি চাই।

জামায়াত আমির বলেন, স্বাধীনতার পরে এক এক করে চুয়ান্ন বছর অতিবাহিত হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে সরকার এসেছে সরকার গেছে। সরকারের লোকদের কপালের পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। যদি বলি কিছুই হয়নি এই কথাটা সত্য হবে না, তবে যা হওয়ার দরকার ছিল তা হয়নি।

জামায়াত আমির বলেন, যারা নির্বাচনের আগে বাজার থেকে নতুন নতুন দামি টুপি কিনে, তসবিহ এনে নির্বাচনের প্রচারে নেমেছেন তারা কারো বাড়িতে গেলে বলে যে আপনার সঙ্গে পরে বসব, আগে চাচার কবরটা জিয়ারত করে আসি। যখন জানতে চাওয়া হয় কোন চাচার? তিনি বলেন, আপনার আব্বাজানের। তখন ভোটাররা বলেন, আস্তাগফিরুল্লাহ- আমার বাবাতো এখনো জীবিত আছে। এই হলো মৌসুমী সেবকদের অবস্থা। তারা এখন জীবিত মানুষদেরও কবর জিয়ারত করছেন, কিন্তু ভোটের পরে আর সালামের জবাবও দেবেন না।

তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, এসব ধান্দাবাজ নির্বাচনের সময় টাকার বস্তা নিয়ে নামে। যারা অর্থের বিনিময়ে মানুষের ভোট কিনতে চায় তারা মানুষ নামে কলঙ্ক। এরা আসলে টাকার বিনিময়ে আপনাদের ইজ্জত ও বিবেক কিনতে চায়। তাদের ধরে পুলিশে দিয়ে দেবেন। তবে নিজেরা আইন হাতে তুলে নেবেন না।

যুবক ও তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জুলাইয়ে যুবসমাজ রাস্তায় নেমে কী স্লোগান দিয়েছিল? তারা কি বেকার ভাতা চেয়েছেন? তারা চেয়েছেন মর্যাদার কাজ, যা আমরা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। এটা তাদের অধিকার। আমরা তরুণ-তরুণীদের হাতকে দেশ গড়ার কারিগরের মজবুত হাতিয়ারে পরিণত করব- ইনশাআল্লাহ। তাদের হাতে কাজ তুলে দিয়ে বলব, এগিয়ে যাও তুমিই বাংলাদেশ।

নারীদের মা আখ্যা দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, মায়েদের প্রতি আমাদের স্পষ্ট বার্তা, তারা বড় ঋণী করে রেখেছেন আমাদের। আপনাদের গর্ভে ধারণ করেছেন, বুকের দুধ দিয়েছেন, বুকের বিছানায় লালন পালন করেছেন- এই ঋণ জীবনেও পরিশোধ করতে পারব না। আমরা চাই আপনাদের আমাদের মাথার তাজ হিসেবে সম্মানের আসনে বসাতে। যদি এইটুকু পারি তাহলে কিঞ্চিত ঋণ পরিশোধ হবে- সবটুকু নয়।

জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মোহাম্মদ শাহজাহান, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা জামায়াতের সাবেক আমির অধ্যক্ষ আমিরুজ্জামান, অধ্যাপক নুরুল আমিন চৌধুরী, উত্তর জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি ইউসুফ বিন আবু বকর, চট্টগ্রাম-১ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অ্যাডভোকেট ছাইফুর রহমান, চট্টগ্রাম-২ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম-৪ আসনের প্রার্থী আনোয়ার সিদ্দিক চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৫ আসনের প্রার্থী নাসির উদ্দিন মনির, চট্টগ্রাম-৬ আসনের প্রার্থী শাহজাহান মঞ্জু, চট্টগ্রাম-৭ আসনের প্রার্থী ডা. এটিএম রেজাউল করিম, সনাতন প্রতিনিধি দোলন দেব, কেন্দ্রীয় তত্ত্বাবধায়ক ইব্রাহিম, ডাকসুর জিএস এসএম ফরহাদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি ও চাকসু ভিপি ইব্রাহিম রনি প্রমুখ।