অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
ঘূর্ণিঝড় তিতলির প্রভাবে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টির কবলে পড়ে চরম দুর্ভোগে রয়েছে মিয়ানমার থেকে নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা। গত কয়েক দিনের অবিরাম বৃষ্টি যেন কোনো মতেই থামছে না। ফলে উখিয়া-টেকনাফে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ভারিবর্ষণ, ঝুপড়িঘর ও কাদা রাস্তার কারণে অনেকটা নড়াচড়া বন্ধ হয়ে গেছে তাদের। তবে বৃষ্টিতে দুর্ভোগ দেখা দিলেও দুই উপজেলার ৩০টি ক্যাম্পে অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের ঝুঁকি মোকাবেলায় সতর্ক রয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।
প্রশাসনের সূত্রমতে, ঘূর্ণিঝড় তিতলির প্রভাবে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টির সম্মুখীন হয়ে ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের স্বাভাবিক চলাচলে কিছুটা বিঘ্ন ঘটেছে। তবে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে। শনিবার কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ ড. মো. শহিদুল ইসলাম জানান, সংকেত কেটে গেলেও বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় তিতলির প্রভাব রয়ে গেছে। ফলে কক্সবাজারে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। গত কয়েক দিনে সর্বোচ্চ ৬০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আরও বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কুতুপালংয়ের ক্যাম্পের মাঝি আবদুল হামিদ জানান, কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টিতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রিত অনেক পরিবারের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বসতবাড়িতে পানি ঢুকে কাদামাটির সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির সংকটও দেখা দিয়েছে।
লেদা ক্যাম্পের মো. আনোয়ার জানান, বৃষ্টির কারণে পরিবারের ছোট ছোট শিশুদের নিয়ে খুবই কষ্টে দিন যাচ্ছে। তাছাড়া পাহাড়ের পাদদেশে ঝুপড়িঘর হওয়ার কারণে রাত হলে ঘুমও আসে না। কখন পাহাড়ি মাটি এসে বাড়িতে পড়ে এই চিন্তায় নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে। তাছাড়া ঝুপড়িঘরগুলো খুবই নড়বড়ে। রাস্তাগুলো কাঁচামাটির হওয়ায় কাদায় চলাচল করা খুবই কষ্টদায়ক।
উখিয়া উপজলো নির্বাহী র্কমর্কতা (ইউএনও) নিকারুজ্জামান চৌধুরী বলেন, বৃষ্টি হলে রোহিঙ্গা ক্যাম্প নিয়ে একটু চিন্তা থাকে। তবে সব রকম দুর্ঘটনা এড়াতে সর্বদা প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
একইভাবে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রবিউল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, বৃষ্টিতে দুর্ভোগ হলেও যাতে দুর্ঘটনা না ঘটে সেদিকে সতর্ক নজর রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি রাস্তার কাদামাটি সরিয়ে মোটামুটি চলাচল উপযোগী করতে সংশ্লিষ্ট ও দায়িত্বরতরা সর্বদা কাজ করছে।
কক্সবাজার জেলার সিভিল সার্জন ডা. আবদুস সালাম বলেন, বৃষ্টি ও রোদ মিলে আবহাওয়ার তারতম্যে ছোঁয়াছে কিছু রোগ দেখা দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমান সময়ে ছোঁয়াছে রোগ হওয়া স্বাভাবিক। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে ক্যাম্পে কাজ করা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও এনজিওগুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলের মতে, কক্সবাজার জেলার উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলার ৩০টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া প্রায় সাড়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গাদের মধ্যে উখিয়ার বালুখালী, কুতুপালং, হাকিমপাড়া, টেংখালী, মধুরছড়া, শূন্যরেখা এবং টেকনাফের পুটুবনিয়া, শালবাগান, জাদিমুড়াসহ পাহাড়ের পাদদেশে অনেক রোহিঙ্গা ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে। এসব এলাকায় ভারি বৃষ্টি হলে পাহাড়ধসের সম্ভাবনা থাকে। সুতরাং সেদিকে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো জরুরি।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 























