ঢাকা ১১:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টাকা খেয়ে ভোট দিলে নেতা এসে রাস্তা খেয়ে ফেলবে: আখতার হোসেন সুষ্ঠু নির্বাচনে জার্মানির সহায়তা চাইলেন জামায়াত আমির জাতীয় পতাকা হাতে প্যারাস্যুট জাম্প, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বাংলাদেশ বরেণ্য লোকসংগীতশিল্পী ও মুক্তিযুদ্ধের কণ্ঠযোদ্ধা মলয় কুমার মারা গেছেন ভবিষ্যৎ অর্থনীতির শক্ত ভিত্তি গড়ার দায়িত্ব সরকারের : আশিক মাহমুদ গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে বিএনপি : নজরুল ইসলাম খান অবিলম্বে মার্কিন নাগরিকদের ইরান ত্যাগের নির্দেশ প্রতারণা করে অর্থ আদায়, ৫১ হাজার সিমসহ ৫ চীনা নাগরিক গ্রেপ্তার সংসদে আর নৃত্যগীত হবে না, মানুষের উন্নয়নের কথা বলা হবে: সালাহউদ্দিন আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে বাংলাদেশকে অনুরোধ আইসিসির, অনড় বিসিবি

ফরিদপুর মেডিকেলের এক টুকরো স্মৃতি

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যখন ইন্টার্নশিপ করতাম,তখন পুরো আড়াইশ বেডটার রানী মনে হত নিজেকে! এই অনুভূতি শুধু আমার না, আমি জানি সব ইন্টার্নিদেরই হয়। এরপর যেদিন ৫০০ বেড হল-আর ওর অলিগলি, সিঁড়িগুলো আমার অনেক চেনা হয়ে গেল। সেদিন থেকে তো সর্বেসর্বা।

আমি যেন গোটা হাসপাতালটারই মহারানীতে পরিণত হলাম!

এমন কোন কাজ নাই যার অভিজ্ঞতা নিই নাই। এমন কোন স্যার-ম্যাডাম ছিল না, যারা ইন্টার্নিদের সাথে বাবা-মা সুলভ আচরণ করেন নাই। এমনকি ফাইনাল প্রফ পর্যন্ত যে স্যার কিংবা ম্যাডামের ভয়ে ভাইভা বোর্ডে থর থর করে কাঁপতাম।

কীভাবে দুই মাসের ব্যবধানে সবাই এত কাছের মানুষ হয়ে গেলেন জানি না।

সবাই এত আদর করে কথা বলতেন যে অবাক হয়ে ভাবতাম- কেন আগে উনাদের এত্ত ভয় পেতাম?

ফরিদপুরের আবহাওয়ায় আমি অনেক খিটখিটে ছিলাম। প্রায় সময়েই এর তার সাথে লেগে যেত দারুণ ঝগড়া! অথচ ইন্টার্নশিপ শেষ করে যখন দিলিপ স্যারের ক্লাসগুলাতে অত অত ডাক্তারদের ভিড়ে F-17 এর কাউকে পেতাম। আহা, মনে হত যেন এক টুকরো স্বর্গ হাতে পেলাম! ভাল করে যার সাথে দুটা কথাও বলি নাই ফরিদপুর থাকতে, তাকেই কোচিং ক্লাসে খুব সমাদরে নিজের পাশে বসানোর জন্য মনটা আনচান করে উঠত তখন। আহা!

এখনো FMC এর সিনিয়র আপু-ভাইয়া কিংবা জুনিয়র পিচ্চিগুলাকে ঢাকায় পেলে মনে হয় নিজের আপন ভাই-বোন কে কাছে পেলাম এমনভাবে নির্দ্বিধায় কথা বলি। , সবাই এত্ত helpful,,,মুখ দিয়ে বলাও লাগে না। অথচ ফরিদপুরে থাকতে তাদের কারো কারো সাথে কোনদিন কথা কী দেখাই হয় নাই হয়ত !

এত কথা বললাম। শেষে একটা ঘটনা বলি-

ভিকারুননিসা নূন স্কুলে থাকতে। কেন জানি, আমরা সব ভিকিরাই সব জায়গায় নিজেদের পরিচয় দিতাম এভাবে। আম্মু,অমুক আমার ফ্রেন্ড অথবা তমুক আমার ফ্রেন্ড। হয়ত এমন কাউকে ফ্রেন্ড হিসেবে পরিচয় দিচ্ছি, যার সাথে সেদিনই প্রথম কথা হইসে আমার!

মানে, আমরা এক ভিকি আর এক ভিকিকে ফ্রেন্ড হিসেবেই মেনে আসছি-কথা হোক আর না হোক। এবং এই এতদিন পর। এখনও।

তো ফরিদপুরে থাকতে ক্লাসের কয়েকজন মিলে এক সিনিয়র আপুর বোন। যিনি ছিলেন একজন ডায়েটিশিয়ান। উনার কাছে গেলাম ডায়েট চার্ট নিতে।

আপু ওদের তিনজনকে আগে থেকে চিনতেন, আমাকে না। তাই আমাকে দেখিয়ে বললেন,‘এই মেয়েটা কে, তোমাদের ফ্রেন্ড?”

আমি মুচকি হেসে, হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ছিলাম। যেহেতু VNSC তে আমি ওটাই শিখে আসছি। কিন্তু আমাকে শুধু অবাক না, হতবাক করে দিয়ে, ওদের একজন আপুকে জবাব দিয়ে দিল, ‘না আপু, ও আমাদের ফ্রেন্ড না। ও তো আমাদের ক্লাসমেট’।

সেদিন বুঝলাম, সবাই তাহলে ফ্রেন্ড হতে পারে না। মনটা খুবই খারাপ হলো। কিন্তু এখন আর হয় না। এখন হঠাৎ দেখা হলে অথবা মনে পড়লে সেই ক্লাসমেটদেরও বন্ধুর চেয়ে বেশি আপন মনে হয়।

দিন চলে গেলে আমরা মনে হয় পুরানো মানুষের অভাবটা নতুন করে বুঝতে শুরু করি। নতুন করে অনুভব করতে শুরু করি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফরিদপুর মেডিকেলের এক টুকরো স্মৃতি

আপডেট সময় ০১:৩১:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যখন ইন্টার্নশিপ করতাম,তখন পুরো আড়াইশ বেডটার রানী মনে হত নিজেকে! এই অনুভূতি শুধু আমার না, আমি জানি সব ইন্টার্নিদেরই হয়। এরপর যেদিন ৫০০ বেড হল-আর ওর অলিগলি, সিঁড়িগুলো আমার অনেক চেনা হয়ে গেল। সেদিন থেকে তো সর্বেসর্বা।

আমি যেন গোটা হাসপাতালটারই মহারানীতে পরিণত হলাম!

এমন কোন কাজ নাই যার অভিজ্ঞতা নিই নাই। এমন কোন স্যার-ম্যাডাম ছিল না, যারা ইন্টার্নিদের সাথে বাবা-মা সুলভ আচরণ করেন নাই। এমনকি ফাইনাল প্রফ পর্যন্ত যে স্যার কিংবা ম্যাডামের ভয়ে ভাইভা বোর্ডে থর থর করে কাঁপতাম।

কীভাবে দুই মাসের ব্যবধানে সবাই এত কাছের মানুষ হয়ে গেলেন জানি না।

সবাই এত আদর করে কথা বলতেন যে অবাক হয়ে ভাবতাম- কেন আগে উনাদের এত্ত ভয় পেতাম?

ফরিদপুরের আবহাওয়ায় আমি অনেক খিটখিটে ছিলাম। প্রায় সময়েই এর তার সাথে লেগে যেত দারুণ ঝগড়া! অথচ ইন্টার্নশিপ শেষ করে যখন দিলিপ স্যারের ক্লাসগুলাতে অত অত ডাক্তারদের ভিড়ে F-17 এর কাউকে পেতাম। আহা, মনে হত যেন এক টুকরো স্বর্গ হাতে পেলাম! ভাল করে যার সাথে দুটা কথাও বলি নাই ফরিদপুর থাকতে, তাকেই কোচিং ক্লাসে খুব সমাদরে নিজের পাশে বসানোর জন্য মনটা আনচান করে উঠত তখন। আহা!

এখনো FMC এর সিনিয়র আপু-ভাইয়া কিংবা জুনিয়র পিচ্চিগুলাকে ঢাকায় পেলে মনে হয় নিজের আপন ভাই-বোন কে কাছে পেলাম এমনভাবে নির্দ্বিধায় কথা বলি। , সবাই এত্ত helpful,,,মুখ দিয়ে বলাও লাগে না। অথচ ফরিদপুরে থাকতে তাদের কারো কারো সাথে কোনদিন কথা কী দেখাই হয় নাই হয়ত !

এত কথা বললাম। শেষে একটা ঘটনা বলি-

ভিকারুননিসা নূন স্কুলে থাকতে। কেন জানি, আমরা সব ভিকিরাই সব জায়গায় নিজেদের পরিচয় দিতাম এভাবে। আম্মু,অমুক আমার ফ্রেন্ড অথবা তমুক আমার ফ্রেন্ড। হয়ত এমন কাউকে ফ্রেন্ড হিসেবে পরিচয় দিচ্ছি, যার সাথে সেদিনই প্রথম কথা হইসে আমার!

মানে, আমরা এক ভিকি আর এক ভিকিকে ফ্রেন্ড হিসেবেই মেনে আসছি-কথা হোক আর না হোক। এবং এই এতদিন পর। এখনও।

তো ফরিদপুরে থাকতে ক্লাসের কয়েকজন মিলে এক সিনিয়র আপুর বোন। যিনি ছিলেন একজন ডায়েটিশিয়ান। উনার কাছে গেলাম ডায়েট চার্ট নিতে।

আপু ওদের তিনজনকে আগে থেকে চিনতেন, আমাকে না। তাই আমাকে দেখিয়ে বললেন,‘এই মেয়েটা কে, তোমাদের ফ্রেন্ড?”

আমি মুচকি হেসে, হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়ছিলাম। যেহেতু VNSC তে আমি ওটাই শিখে আসছি। কিন্তু আমাকে শুধু অবাক না, হতবাক করে দিয়ে, ওদের একজন আপুকে জবাব দিয়ে দিল, ‘না আপু, ও আমাদের ফ্রেন্ড না। ও তো আমাদের ক্লাসমেট’।

সেদিন বুঝলাম, সবাই তাহলে ফ্রেন্ড হতে পারে না। মনটা খুবই খারাপ হলো। কিন্তু এখন আর হয় না। এখন হঠাৎ দেখা হলে অথবা মনে পড়লে সেই ক্লাসমেটদেরও বন্ধুর চেয়ে বেশি আপন মনে হয়।

দিন চলে গেলে আমরা মনে হয় পুরানো মানুষের অভাবটা নতুন করে বুঝতে শুরু করি। নতুন করে অনুভব করতে শুরু করি।