ঢাকা ০২:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশের ভিসা পাননি আইসিসি প্রতিনিধি দলের ভারতীয় কর্মকর্তা সায়েন্সল্যাবে ‘অধ্যাদেশ মঞ্চ’ স্থাপন করে গণজমায়েতের ঘোষণা দেশে হিসাব কারচুপির মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ ও পাচার হয়েছে :পররাষ্ট্র উপদেষ্টা গুমের শিকার পরিবারের সঙ্গে তারেক রহমানের মতবিনিময় বাংলাদেশে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট প্রক্রিয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই: ইইউ পর্যবেক্ষণ মিশন আ.লীগ নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে গণঅধিকারকে বেছে নেবে: নুর হাদি হত্যার কেবল চার আসামি নয়, সম্পূর্ণ নেটওয়ার্কের বিচার চাই: ইনকিলাব মঞ্চ অচেতন অবস্থায় রংপুরে উদ্ধার গাইবান্ধা-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী কোনো বিশেষ ক্ষেত্রে ভোট দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া সরকারের উচিত নয়: আমির খসরু আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে আনতে আন্তর্জাতিক মহলের কোনো চাপ নেই: শফিকুল আলম

হুমকির মুখে উত্তর মেরুর জীববৈচিত্র্য

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে উত্তর মেরুর আর্কটিক সাগরের বরফ গলে যাওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে উত্তর মেরুর জীববৈচিত্র্য। এছাড়া নৌযান চলাচলের জন্য উত্তর মেরুর আর্কটিক সাগরকে উন্মুক্ত করে দেয়ার কারণে এ হুমকি আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।

একসময় শুধু গবেষক আর অনুসন্ধানকারীদের জন্য উন্মুক্ত ছিল এলাকাটি৷ কিন্তু এ অঞ্চলটির বরফ গলে যাওয়ায় ২৯ আগস্ট ২০০৮ সাল থেকে প্রতি বছর গ্রীষ্মকালে এ অঞ্চল দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল শুরু হয়৷ দ্রুত বরফ গলতে থাকায় জাহাজ চলাচলের সময়সীমাও প্রতি বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে৷

আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগর পরস্পর থেকে ছয় হাজার পাঁচশ’ কিলোমিটার দুরে আবস্থান করছে৷ তবে আর্কটিক সাগর ধরে যাত্রা করলে এ দূরত্ব অনেকটা কমে আসে৷ এ কারণে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য এ পথটির ব্যবহার অনেক লাভজনক৷

রটারডাম থেকে টোকিও আসতে নাবিকরা সাধারণত ভারত মহাসাগর পার হয়ে মিশরের সুয়েজ খাল ধরে যাত্রা করেন৷ আর্কটিক সাগরের নতুন রাস্তাটি ব্যবহার করলে যাত্রাপথের দূরত্ব প্রায় ছয় হাজার কিলোমিটার কমে আসে৷ এদিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এশিয়ার দেশগুলোতে আসতে হলে জাহাজিদের প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি দিতে হয়৷ নাবিকেরা আর্কটিক সাগর হয়ে গেলে এ যাত্রাপথ প্রায় চার হাজার কিলোমিটার কমে আসে৷

বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পৃথিবীর উত্তর মেরুতে ঠিক কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটি গবেষকরা নিশ্চিত করে বলতে না পারলেও একটি বিষয়ে তারা একমত যে, আগামী ৩০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে আর্কটিক সাগরে আর কোনো বরফ থাকবে না৷ গবেষকরা সাধারণত আর্কটিক সাগরকে বরফহীন বলেন তখনই যখন এ অঞ্চলটির বরফ এক মিলিয়ন বর্গ কিলোমিটারের নিচে নেমে আসে৷

জীব বিজ্ঞানীরা বলছেন আর্কটিক সাগরে জাহাজ চলাচল অঞ্চলটির প্রাণী বৈচিত্র্যকে হুমকির মুখে ফেলবে৷ উদাহরণ হিসেবে তারা বিভিন্ন প্রজাতির তিমির কথা বলছেন, যাদের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে৷ যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা ৮০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণীর ওপর করা এক গবেষণায় বলেছেন যে, এ ৮০ প্রজাতির প্রাণীর অর্ধেকেরও বেশি আর্কটিক অঞ্চলে বসবাস করে৷

বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন যে, আর্কটিক সাগরে জাহাজ চলাচল করলে এ অঞ্চলের প্রাণীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে নারহোয়েলস নামের বিশেষ প্রজাতির এক ধরনের তিমি৷ এ প্রজাতির তিমিরা সাধারণত সমুদ্রের তীরবর্তী অঞ্চলের বরফঘেরা এলাকায় বাস করে৷

গবেষকরা দীর্ঘদিন ধরেই আর্কটিক অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়ে আসছেন৷ তাদের পরামর্শ, এ অঞ্চল দিয়ে চলার সময় জাহাজগুলো যেন তিমিদের আবাসস্থলগুলো এড়িয়ে চলা, ধীর গতিতে জাহাজ চালানো এবং উচ্চ শব্দ না করা ইত্যাদি বিষয়গুলো মেনে চলে৷ সূত্র: ডয়চে ভেলে

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশের ভিসা পাননি আইসিসি প্রতিনিধি দলের ভারতীয় কর্মকর্তা

হুমকির মুখে উত্তর মেরুর জীববৈচিত্র্য

আপডেট সময় ০৯:০৬:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে উত্তর মেরুর আর্কটিক সাগরের বরফ গলে যাওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে উত্তর মেরুর জীববৈচিত্র্য। এছাড়া নৌযান চলাচলের জন্য উত্তর মেরুর আর্কটিক সাগরকে উন্মুক্ত করে দেয়ার কারণে এ হুমকি আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।

একসময় শুধু গবেষক আর অনুসন্ধানকারীদের জন্য উন্মুক্ত ছিল এলাকাটি৷ কিন্তু এ অঞ্চলটির বরফ গলে যাওয়ায় ২৯ আগস্ট ২০০৮ সাল থেকে প্রতি বছর গ্রীষ্মকালে এ অঞ্চল দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল শুরু হয়৷ দ্রুত বরফ গলতে থাকায় জাহাজ চলাচলের সময়সীমাও প্রতি বছর বৃদ্ধি পাচ্ছে৷

আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগর পরস্পর থেকে ছয় হাজার পাঁচশ’ কিলোমিটার দুরে আবস্থান করছে৷ তবে আর্কটিক সাগর ধরে যাত্রা করলে এ দূরত্ব অনেকটা কমে আসে৷ এ কারণে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য এ পথটির ব্যবহার অনেক লাভজনক৷

রটারডাম থেকে টোকিও আসতে নাবিকরা সাধারণত ভারত মহাসাগর পার হয়ে মিশরের সুয়েজ খাল ধরে যাত্রা করেন৷ আর্কটিক সাগরের নতুন রাস্তাটি ব্যবহার করলে যাত্রাপথের দূরত্ব প্রায় ছয় হাজার কিলোমিটার কমে আসে৷ এদিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এশিয়ার দেশগুলোতে আসতে হলে জাহাজিদের প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি দিতে হয়৷ নাবিকেরা আর্কটিক সাগর হয়ে গেলে এ যাত্রাপথ প্রায় চার হাজার কিলোমিটার কমে আসে৷

বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পৃথিবীর উত্তর মেরুতে ঠিক কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটি গবেষকরা নিশ্চিত করে বলতে না পারলেও একটি বিষয়ে তারা একমত যে, আগামী ৩০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে আর্কটিক সাগরে আর কোনো বরফ থাকবে না৷ গবেষকরা সাধারণত আর্কটিক সাগরকে বরফহীন বলেন তখনই যখন এ অঞ্চলটির বরফ এক মিলিয়ন বর্গ কিলোমিটারের নিচে নেমে আসে৷

জীব বিজ্ঞানীরা বলছেন আর্কটিক সাগরে জাহাজ চলাচল অঞ্চলটির প্রাণী বৈচিত্র্যকে হুমকির মুখে ফেলবে৷ উদাহরণ হিসেবে তারা বিভিন্ন প্রজাতির তিমির কথা বলছেন, যাদের অস্তিত্ব বিপন্ন হবে৷ যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা ৮০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণীর ওপর করা এক গবেষণায় বলেছেন যে, এ ৮০ প্রজাতির প্রাণীর অর্ধেকেরও বেশি আর্কটিক অঞ্চলে বসবাস করে৷

বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন যে, আর্কটিক সাগরে জাহাজ চলাচল করলে এ অঞ্চলের প্রাণীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে নারহোয়েলস নামের বিশেষ প্রজাতির এক ধরনের তিমি৷ এ প্রজাতির তিমিরা সাধারণত সমুদ্রের তীরবর্তী অঞ্চলের বরফঘেরা এলাকায় বাস করে৷

গবেষকরা দীর্ঘদিন ধরেই আর্কটিক অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানিয়ে আসছেন৷ তাদের পরামর্শ, এ অঞ্চল দিয়ে চলার সময় জাহাজগুলো যেন তিমিদের আবাসস্থলগুলো এড়িয়ে চলা, ধীর গতিতে জাহাজ চালানো এবং উচ্চ শব্দ না করা ইত্যাদি বিষয়গুলো মেনে চলে৷ সূত্র: ডয়চে ভেলে