ঢাকা ০৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎ করলেন চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উদ্বোধনের আগেই কক্সবাজার বিমানবন্দরের নতুন টার্মিনালে যাত্রীসেবা শুরু সাইবার সুরক্ষা আইন যেন নিপীড়নমূলক না হয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অক্টোবর-নভেম্বরে তিন দেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘের সন্ত্রাস দমন তহবিলে কাতারের ১৪১ মিলিয়ন ডলার অনুদান নিউইয়র্কে চার দিনে ৩০টি কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ত সফর জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এড়াতে সম্পূর্ণ পায়ের ছোঁয়ায় তৈরি হচ্ছে লাচ্ছা-সেমাই

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে নওগাঁ শহরের আনাচকানাচ গড়ে উঠেছে লাচ্ছা-সেমাই তৈরির কারখানা। বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়াই বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা এসব অস্থায়ী কারখানায় অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে নিম্নমানের লাচ্ছা-সেমাই।

ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের ডালডা। এছাড়া মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর উপাদান রং ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রশাসন থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হলেও তা কোনো কাজে আসছে না। ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করা হলেও ব্যবসায়ীরা যেন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নওগাঁ সদর উপজেলার দোগাছী, রজাকপুর, চকপ্রাণ, পালপাড়া, দূর্গাপুর, চুনিয়াগাড়ী ও ভীমপুরসহ প্রায় ২০ টি স্থানে লাচ্ছা সেমাই তৈরির কারখানা আছে। আর কারখানাগুলোতে লাচ্ছা-সেমাই তৈরিতে এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে শ্রমিক ও মালিকরা।

জেলা সিভিল সার্জন অফিস নিরাপদ খাদ্য বিভাগ থেকে হাতে গোনা কয়েকটি নিবন্ধন দিলেও বাকিগুলোর কোনো নিবন্ধন নেই। যে যার মতো করে প্রকাশ্যে নিম্নমানের সেমাই তৈরি করছেন। শ্রমিকরা ময়দা মাখানো খামিরের কাজ করছেন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খালি পা দিয়ে মাড়িয়ে। এছাড়া শরীর থেকে অঝোরে ঝরছে ঘাম। আর সেই ঘাম মিশে যাচ্ছে সেমাই তৈরির উপাদানে।

তাছাড়া হাতে কোনো গ্লোব এবং গায়ে নির্ধারিত কোনো পোশাক নেই। তাই তাদের গায়ের ঘাম ও হাতের ময়লার মাধ্যমেই ক্ষতিকারক জীবাণু ছড়াচ্ছে। আর নিম্নমানের এসব সেমাই পৌঁছে যাচ্ছে ক্রেতাদের হাতে।

সদর উপজেলার লাচ্ছা ব্যবসায়ী চকপ্রাণ মহল্লার হাবিবুর রহমান রানা ও চুনিয়াগাড়ী গ্রামের এনামুল হক মোল্লা বলেন, আমরা পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে লাচ্ছা তৈরি করছি, যা স্বাস্থ্যসম্মত। পা দিয়ে মাড়ানোর বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। স্যানিটারি ইন্সপেক্টর এসে বিষয়টি দেখেও গেছেন।

জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক শামছুল হক বলেন, খাদ্য প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রথমে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইন্সেস নিতে হয়। শর্ত থাকে যে, পরিবেশ অবশ্যই দূষণমুক্ত থাকতে হবে এবং স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া থাকবে না। এছাড়া কর্মচারীদের মেডিকেল ফিটনেস থাকতে হবে। এরপর আমরা উপজেলার স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের মাধ্যমে তদন্ত করে দেখার পর সিভিল সার্জন অফিস থেকে লাইন্সেস প্রদান করি। এরপর তাদের বিএসটিআইয়ের অনুমতি নিতে হয়।

তিনি আরও বলেন, সাধারণত অধিকাংশ মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বিএসটিআইয়ের অনুমতি না নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। অনেকে পা দিয়ে মাড়িয়ে লাচ্ছা তৈরি করেন। আমরা বিষয়টি দেখার পর ভ্রাম্যমাণ দিয়ে জরিমানা করেছি। আর কোনো ব্যবসায়ী যেন এভাবে লাচ্ছা তৈরি করতে না পারে এ জন্য নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।

নওগাঁ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মুমিনুল হক বলেন, পা যতই পরিষ্কার হোক না কেন আঙুলের ফাঁকে ফাঁকে ও নখে জীবাণু থাকে। এছাড়া শরীর থেকে যে ঘাম ঝরে এটা ডায়রিয়া, আমাশয় ও পেট ফাঁপাসহ পেটের বিভিন্ন পীড়া দেখা দিতে পারে। আবার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে লাচ্ছা-সেমাই তৈরি করা হলেও রোগজীবাণু ছড়াবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রোনালদোকে দলে ফেরাতে মরিয়া পর্তুগিজ ফেডারেশন

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এড়াতে সম্পূর্ণ পায়ের ছোঁয়ায় তৈরি হচ্ছে লাচ্ছা-সেমাই

আপডেট সময় ০৮:০০:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ জুন ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে নওগাঁ শহরের আনাচকানাচ গড়ে উঠেছে লাচ্ছা-সেমাই তৈরির কারখানা। বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়াই বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা এসব অস্থায়ী কারখানায় অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশে তৈরি হচ্ছে নিম্নমানের লাচ্ছা-সেমাই।

ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের ডালডা। এছাড়া মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর উপাদান রং ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রশাসন থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হলেও তা কোনো কাজে আসছে না। ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করা হলেও ব্যবসায়ীরা যেন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নওগাঁ সদর উপজেলার দোগাছী, রজাকপুর, চকপ্রাণ, পালপাড়া, দূর্গাপুর, চুনিয়াগাড়ী ও ভীমপুরসহ প্রায় ২০ টি স্থানে লাচ্ছা সেমাই তৈরির কারখানা আছে। আর কারখানাগুলোতে লাচ্ছা-সেমাই তৈরিতে এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে শ্রমিক ও মালিকরা।

জেলা সিভিল সার্জন অফিস নিরাপদ খাদ্য বিভাগ থেকে হাতে গোনা কয়েকটি নিবন্ধন দিলেও বাকিগুলোর কোনো নিবন্ধন নেই। যে যার মতো করে প্রকাশ্যে নিম্নমানের সেমাই তৈরি করছেন। শ্রমিকরা ময়দা মাখানো খামিরের কাজ করছেন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খালি পা দিয়ে মাড়িয়ে। এছাড়া শরীর থেকে অঝোরে ঝরছে ঘাম। আর সেই ঘাম মিশে যাচ্ছে সেমাই তৈরির উপাদানে।

তাছাড়া হাতে কোনো গ্লোব এবং গায়ে নির্ধারিত কোনো পোশাক নেই। তাই তাদের গায়ের ঘাম ও হাতের ময়লার মাধ্যমেই ক্ষতিকারক জীবাণু ছড়াচ্ছে। আর নিম্নমানের এসব সেমাই পৌঁছে যাচ্ছে ক্রেতাদের হাতে।

সদর উপজেলার লাচ্ছা ব্যবসায়ী চকপ্রাণ মহল্লার হাবিবুর রহমান রানা ও চুনিয়াগাড়ী গ্রামের এনামুল হক মোল্লা বলেন, আমরা পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে লাচ্ছা তৈরি করছি, যা স্বাস্থ্যসম্মত। পা দিয়ে মাড়ানোর বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। স্যানিটারি ইন্সপেক্টর এসে বিষয়টি দেখেও গেছেন।

জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর ও নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক শামছুল হক বলেন, খাদ্য প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রথমে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভা থেকে ট্রেড লাইন্সেস নিতে হয়। শর্ত থাকে যে, পরিবেশ অবশ্যই দূষণমুক্ত থাকতে হবে এবং স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া থাকবে না। এছাড়া কর্মচারীদের মেডিকেল ফিটনেস থাকতে হবে। এরপর আমরা উপজেলার স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের মাধ্যমে তদন্ত করে দেখার পর সিভিল সার্জন অফিস থেকে লাইন্সেস প্রদান করি। এরপর তাদের বিএসটিআইয়ের অনুমতি নিতে হয়।

তিনি আরও বলেন, সাধারণত অধিকাংশ মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বিএসটিআইয়ের অনুমতি না নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। অনেকে পা দিয়ে মাড়িয়ে লাচ্ছা তৈরি করেন। আমরা বিষয়টি দেখার পর ভ্রাম্যমাণ দিয়ে জরিমানা করেছি। আর কোনো ব্যবসায়ী যেন এভাবে লাচ্ছা তৈরি করতে না পারে এ জন্য নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।

নওগাঁ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মুমিনুল হক বলেন, পা যতই পরিষ্কার হোক না কেন আঙুলের ফাঁকে ফাঁকে ও নখে জীবাণু থাকে। এছাড়া শরীর থেকে যে ঘাম ঝরে এটা ডায়রিয়া, আমাশয় ও পেট ফাঁপাসহ পেটের বিভিন্ন পীড়া দেখা দিতে পারে। আবার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে লাচ্ছা-সেমাই তৈরি করা হলেও রোগজীবাণু ছড়াবে।