ঢাকা ১১:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬, ৩০ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টাকা খেয়ে ভোট দিলে নেতা এসে রাস্তা খেয়ে ফেলবে: আখতার হোসেন সুষ্ঠু নির্বাচনে জার্মানির সহায়তা চাইলেন জামায়াত আমির জাতীয় পতাকা হাতে প্যারাস্যুট জাম্প, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে বাংলাদেশ বরেণ্য লোকসংগীতশিল্পী ও মুক্তিযুদ্ধের কণ্ঠযোদ্ধা মলয় কুমার মারা গেছেন ভবিষ্যৎ অর্থনীতির শক্ত ভিত্তি গড়ার দায়িত্ব সরকারের : আশিক মাহমুদ গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে বিএনপি : নজরুল ইসলাম খান অবিলম্বে মার্কিন নাগরিকদের ইরান ত্যাগের নির্দেশ প্রতারণা করে অর্থ আদায়, ৫১ হাজার সিমসহ ৫ চীনা নাগরিক গ্রেপ্তার সংসদে আর নৃত্যগীত হবে না, মানুষের উন্নয়নের কথা বলা হবে: সালাহউদ্দিন আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খুঁজতে বাংলাদেশকে অনুরোধ আইসিসির, অনড় বিসিবি

টাঙ্গাইলে ধর্ষণে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা, ধাপাচাপায় প্রভাবশালীরা

হাসপাতালের সামনে ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা কিশোরী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নে ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে ১৩ বছরের এক কিশোরী। ঘটনাটি ধাপাচাপা দিতে ওই কিশোরীকে গর্ভপাত করারনোর জন্য শনিবার রাতে টাঙ্গাইল শহরের কুমুদিনী কলেজ গেট এলকায় মুন জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে ধর্ষক ও তার প্রভাবশালী পরিবার।

ঘটনাটি জানাজানি হলে তড়িঘড়ি করে রোববার দুপুরে ওই হাসপাতাল মালিকের ছেলে মামুন ওই কিশোরীকে ছাড়পত্র দিয়ে তার পরিবারকে দ্রুত হাসপাতাল ত্যাগ করতে বলেন। তবে ছাড়পত্রে ওই কিশোরীর ঠিকানা ভুল করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ওই কিশোরী জানায়, কয়েক মাস আগে বাড়ির পাশে আম কুড়াতে যায় সে। ওই সময় পাশের বাড়ির প্রভাবশালী পিডিপির সাবেক কর্মকর্তা আনছের তার মুখ চেপে ধরে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আনছের প্রায় তাকে ধর্ষণ করতো বলে ওই কিশোরী অভিযোগ করে।

কিছুদিন পর কিশোরীর শারিরীক অবস্থার পরিবর্তন দেখে পরিবারের লোকজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে জানতে পারে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা। পরে পরিবারের লোকজন আনছের আলীকে বিষয়টি জানালে উল্টো ভয়ভীতি দেখিয়ে তড়িঘড়ি করে গর্ভপাত করার জন্য বলে।

পরে আনছের আলীর চাপাচাপিতে বাধ্য হয়ে শনিবার রাতে ওই কিশোরীকে টাঙ্গাইল শহরের মুন জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন তার মা। সেখানে ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে গর্ভপাত করানোর জন্য ডা. মালেকা শফির (মঞ্জু) সঙ্গে চুক্তি করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

রোববার সকালে গর্ভপাত করানোর কথা ছিল তার। কিন্তু হঠাৎ করেই হাসপাতালে পুলিশ আসে এবং তড়িঘড়ি করে ছাড়পত্র দিয়ে রোববার দুপুরে তাদের তাড়িয়ে দেয়া হয়।

ধর্ষিতার মা জানান, আনছের প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায় না। মেয়ের বিষয় নিয়ে তার কাছে কয়েকবার জানতে চাইলে তিনি বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয় এবং দ্রুত গর্ভপাত ঘটানোর কথা বলে।

এদিকে খবর পেয়ে টাঙ্গাইল থানা পুলিশ মুন জেনারেল হাসপাতালে গিয়েও কোনো প্রকার পদক্ষেপ না নিয়েই সেখান থেকে চলে যান। পাশাপাশি মুন জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আড়াল করতে টাঙ্গাইল জেলা ক্লিনিক মালিক সমিতির প্রভাবশালী কয়েকজন কর্মকর্তা উঠেপড়ে লেগেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই হাসপাতালের একজন কর্মচারী জানান, এই হাসপাতালে প্রায়ই অবৈধ গর্ভপাত করানো হয়। এ নিয়ে কেউ কথা বলার সাহস পায় না। তারা সর্ব মহলে ম্যানেজ করে এ কাজ করে চলেছে।

রোববার দুপুরে ওই কিশোরী ও তার পরিবারকে একটি রিকশাযোগে অন্যত্র পাঠানোর সময় মুন জেনারেল হাসপাতালের দায়িত্বরত মামুন দৈনিক আকাশকে জানান, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে সেখানে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তার কথামতো টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে গিয়েও তাদের পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে নারান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শুকুর আলী জানান, এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি সায়েদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ওই হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেখানে গিয়ে কোনো সমস্যা না থাকায় তারা ফিরে আসে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

টাঙ্গাইলে ধর্ষণে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা, ধাপাচাপায় প্রভাবশালীরা

আপডেট সময় ০৮:২০:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নে ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে ১৩ বছরের এক কিশোরী। ঘটনাটি ধাপাচাপা দিতে ওই কিশোরীকে গর্ভপাত করারনোর জন্য শনিবার রাতে টাঙ্গাইল শহরের কুমুদিনী কলেজ গেট এলকায় মুন জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে ধর্ষক ও তার প্রভাবশালী পরিবার।

ঘটনাটি জানাজানি হলে তড়িঘড়ি করে রোববার দুপুরে ওই হাসপাতাল মালিকের ছেলে মামুন ওই কিশোরীকে ছাড়পত্র দিয়ে তার পরিবারকে দ্রুত হাসপাতাল ত্যাগ করতে বলেন। তবে ছাড়পত্রে ওই কিশোরীর ঠিকানা ভুল করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

ওই কিশোরী জানায়, কয়েক মাস আগে বাড়ির পাশে আম কুড়াতে যায় সে। ওই সময় পাশের বাড়ির প্রভাবশালী পিডিপির সাবেক কর্মকর্তা আনছের তার মুখ চেপে ধরে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। ঘটনাটি কাউকে না বলার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আনছের প্রায় তাকে ধর্ষণ করতো বলে ওই কিশোরী অভিযোগ করে।

কিছুদিন পর কিশোরীর শারিরীক অবস্থার পরিবর্তন দেখে পরিবারের লোকজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে জানতে পারে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা। পরে পরিবারের লোকজন আনছের আলীকে বিষয়টি জানালে উল্টো ভয়ভীতি দেখিয়ে তড়িঘড়ি করে গর্ভপাত করার জন্য বলে।

পরে আনছের আলীর চাপাচাপিতে বাধ্য হয়ে শনিবার রাতে ওই কিশোরীকে টাঙ্গাইল শহরের মুন জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন তার মা। সেখানে ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে গর্ভপাত করানোর জন্য ডা. মালেকা শফির (মঞ্জু) সঙ্গে চুক্তি করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

রোববার সকালে গর্ভপাত করানোর কথা ছিল তার। কিন্তু হঠাৎ করেই হাসপাতালে পুলিশ আসে এবং তড়িঘড়ি করে ছাড়পত্র দিয়ে রোববার দুপুরে তাদের তাড়িয়ে দেয়া হয়।

ধর্ষিতার মা জানান, আনছের প্রভাবশালী হওয়ায় ভয়ে কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায় না। মেয়ের বিষয় নিয়ে তার কাছে কয়েকবার জানতে চাইলে তিনি বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাড়িয়ে দেয় এবং দ্রুত গর্ভপাত ঘটানোর কথা বলে।

এদিকে খবর পেয়ে টাঙ্গাইল থানা পুলিশ মুন জেনারেল হাসপাতালে গিয়েও কোনো প্রকার পদক্ষেপ না নিয়েই সেখান থেকে চলে যান। পাশাপাশি মুন জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে আড়াল করতে টাঙ্গাইল জেলা ক্লিনিক মালিক সমিতির প্রভাবশালী কয়েকজন কর্মকর্তা উঠেপড়ে লেগেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই হাসপাতালের একজন কর্মচারী জানান, এই হাসপাতালে প্রায়ই অবৈধ গর্ভপাত করানো হয়। এ নিয়ে কেউ কথা বলার সাহস পায় না। তারা সর্ব মহলে ম্যানেজ করে এ কাজ করে চলেছে।

রোববার দুপুরে ওই কিশোরী ও তার পরিবারকে একটি রিকশাযোগে অন্যত্র পাঠানোর সময় মুন জেনারেল হাসপাতালের দায়িত্বরত মামুন দৈনিক আকাশকে জানান, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে সেখানে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেন। তার কথামতো টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে গিয়েও তাদের পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে নারান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শুকুর আলী জানান, এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। টাঙ্গাইল সদর থানার ওসি সায়েদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ওই হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু সেখানে গিয়ে কোনো সমস্যা না থাকায় তারা ফিরে আসে।