ঢাকা ০৩:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

জমি লিখে না দেয়ায় টাঙ্গাইলে শিক্ষক দম্পতিকে হত্যা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

৬০ শতাংশ জায়গা লিখে না দেয়ায় টাঙ্গাইলে শিক্ষক অনিল কুমার দাস ও তার স্ত্রীকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রায় নয় মাস পর এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে শুক্রবার দুপুরে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় জানান, হত্যাকাণ্ডে ছয়জন অংশ নেয়। তারা প্রথমে অনিল কুমার দাসকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। স্ত্রী কল্পনা রানী ঘটনাটি দেখে ফেলায় তাকেও একইভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে উভয় লাশের গলায় ইটের বস্তা বেঁধে বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের খোলা কূপে ফেলে দেয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় বলেন, স্কুল শিক্ষক অনিল কুমার দাসের পার্শ্ববর্তী বিক্রমহাটী এলাকায় ৬০ শতাংশ জায়গা রয়েছে। সেই জায়গা আত্মসাৎ করার জন্য তার বৈমাত্রেয় ভাই স্বপন কুমার দাস ওরফে স্বপন সৌমিত্র পরিকল্পনা করে। তার সঙ্গে যোগ দেয় রসুলপুর এলাকার কয়েকজন মাদকসেবী। তারা মিলে পরিকল্পনা করে কিভাবে জমি অনিল কুমার দাসের কাছ থেকে লিখে নেয়া যায়। এ কাজ করতে পারলে স্বপন সৌমিত্র তার সহযোগিদের পাঁচ লাখ টাকা দেবে এবং জমি বিক্রির অর্ধেক টাকাও তাদের দেয়া হবে বলে জানায়। ঘটনার দিন ছয়জন অনিল কুমার দাসের বাড়ি গিয়ে তিনটি দলিলে স্বাক্ষর দিতে বলে। কিন্তু তিনি তাতে রাজি না হওয়ায় তাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনা তার স্ত্রী কল্পনা রানী দাস দেখে ফেলায় তাকেও একইভাবে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়। পরে তাদের লাশ সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেয়া হয়।

এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন- টাঙ্গাইল সদর উপজেলার রসুলপুর গ্রামের অব্দুস সালামের ছেলে জাহিদুল ইসলাম (৩২), মৃত হাফিজ উদ্দিনের ছেলে মো. ফরহাদ (৪৮), রসুলপুরের মৃত আমির হোসেন ভূঁইয়ার ছেলে মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া (৩৩) এবং রসুলপুর শালিনাপাড়ার বাহাজ উদ্দিনের ছেলে মনজুরুল ইসলাম মিনজু (৩৩)।

পুলিশ সুপার জানান, এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে গত ১২ মে গ্রেপ্তার হওয়া রসুলপুর গ্রামের জাহিদুল ইসলাম ও ফরহাদ টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তাদের জবানবন্দিতে হত্যারহস্য বেরিয়ে আসে। পরে পুলিশ ১৪ মে রসুলপুর গ্রামের মনিরুজ্জামান ভুইয়া ওরফে খোকন ভুইয়া ও শালিনাপাড়া গ্রামের মনজুরুল ইসলাম ওরফে মিনজুকে গ্রেপ্তার করে। তাদের দশ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হলে আদালতের বিচারক রুপম কান্তি দাস তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় বলেন, এই হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন হয়েছে। হত্যা মিশনে ছয়জন সরাসরি অংশ নিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তদন্ত চলমান রয়েছে। আরো কেউ জড়িত আছে কিনা তা পরবর্তীতে জানা যাবে। দুজন আসামির রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। নিহত অনিল কুমার দাসের ˆবমাত্রেয় ভাই স্বপন সৌমিত্র জামিন নিয়ে পলাতক রয়েছেন।

২০১৭ সালের ২৬ জুলাই রাতের ওই হত্যাকাণ্ডের শিকার হন অনিল কুমার ও তার স্ত্রী। পরদিন দুপুরে পুলিশ তাদের লাশ উদ্ধার করে। পরে ২৭ জুলাই নিহতের ছেলে বাদী হয়ে টাঙ্গাইল মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

জমি লিখে না দেয়ায় টাঙ্গাইলে শিক্ষক দম্পতিকে হত্যা

আপডেট সময় ১১:২২:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

৬০ শতাংশ জায়গা লিখে না দেয়ায় টাঙ্গাইলে শিক্ষক অনিল কুমার দাস ও তার স্ত্রীকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রায় নয় মাস পর এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে শুক্রবার দুপুরে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় জানান, হত্যাকাণ্ডে ছয়জন অংশ নেয়। তারা প্রথমে অনিল কুমার দাসকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। স্ত্রী কল্পনা রানী ঘটনাটি দেখে ফেলায় তাকেও একইভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে উভয় লাশের গলায় ইটের বস্তা বেঁধে বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের খোলা কূপে ফেলে দেয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় বলেন, স্কুল শিক্ষক অনিল কুমার দাসের পার্শ্ববর্তী বিক্রমহাটী এলাকায় ৬০ শতাংশ জায়গা রয়েছে। সেই জায়গা আত্মসাৎ করার জন্য তার বৈমাত্রেয় ভাই স্বপন কুমার দাস ওরফে স্বপন সৌমিত্র পরিকল্পনা করে। তার সঙ্গে যোগ দেয় রসুলপুর এলাকার কয়েকজন মাদকসেবী। তারা মিলে পরিকল্পনা করে কিভাবে জমি অনিল কুমার দাসের কাছ থেকে লিখে নেয়া যায়। এ কাজ করতে পারলে স্বপন সৌমিত্র তার সহযোগিদের পাঁচ লাখ টাকা দেবে এবং জমি বিক্রির অর্ধেক টাকাও তাদের দেয়া হবে বলে জানায়। ঘটনার দিন ছয়জন অনিল কুমার দাসের বাড়ি গিয়ে তিনটি দলিলে স্বাক্ষর দিতে বলে। কিন্তু তিনি তাতে রাজি না হওয়ায় তাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনা তার স্ত্রী কল্পনা রানী দাস দেখে ফেলায় তাকেও একইভাবে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়। পরে তাদের লাশ সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেয়া হয়।

এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন- টাঙ্গাইল সদর উপজেলার রসুলপুর গ্রামের অব্দুস সালামের ছেলে জাহিদুল ইসলাম (৩২), মৃত হাফিজ উদ্দিনের ছেলে মো. ফরহাদ (৪৮), রসুলপুরের মৃত আমির হোসেন ভূঁইয়ার ছেলে মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া (৩৩) এবং রসুলপুর শালিনাপাড়ার বাহাজ উদ্দিনের ছেলে মনজুরুল ইসলাম মিনজু (৩৩)।

পুলিশ সুপার জানান, এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে গত ১২ মে গ্রেপ্তার হওয়া রসুলপুর গ্রামের জাহিদুল ইসলাম ও ফরহাদ টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তাদের জবানবন্দিতে হত্যারহস্য বেরিয়ে আসে। পরে পুলিশ ১৪ মে রসুলপুর গ্রামের মনিরুজ্জামান ভুইয়া ওরফে খোকন ভুইয়া ও শালিনাপাড়া গ্রামের মনজুরুল ইসলাম ওরফে মিনজুকে গ্রেপ্তার করে। তাদের দশ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হলে আদালতের বিচারক রুপম কান্তি দাস তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় বলেন, এই হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন হয়েছে। হত্যা মিশনে ছয়জন সরাসরি অংশ নিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তদন্ত চলমান রয়েছে। আরো কেউ জড়িত আছে কিনা তা পরবর্তীতে জানা যাবে। দুজন আসামির রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। নিহত অনিল কুমার দাসের ˆবমাত্রেয় ভাই স্বপন সৌমিত্র জামিন নিয়ে পলাতক রয়েছেন।

২০১৭ সালের ২৬ জুলাই রাতের ওই হত্যাকাণ্ডের শিকার হন অনিল কুমার ও তার স্ত্রী। পরদিন দুপুরে পুলিশ তাদের লাশ উদ্ধার করে। পরে ২৭ জুলাই নিহতের ছেলে বাদী হয়ে টাঙ্গাইল মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।