ঢাকা ০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী খুন,পুলিশের সন্দেহের তালিকায় পলাতক রেস্তোরাঁ কর্মী স্বৈরাচারের লোকেরা নির্বাচন ভণ্ডুলের চেষ্টা করবে: ড. মুহাম্মদ ইউনূস গাজীপুরে নবজাতকের লাশ নিয়ে কুকুরের টানাহ্যাঁচড়া, উদ্ধার করল পুলিশ ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, ধোঁকা দেওয়া হচ্ছে : খায়রুল কবির খোকন দলে বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান ২৫ জন বাংলাদেশিকে ক্ষমা করল আমিরাত দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায়

জমি লিখে না দেয়ায় টাঙ্গাইলে শিক্ষক দম্পতিকে হত্যা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

৬০ শতাংশ জায়গা লিখে না দেয়ায় টাঙ্গাইলে শিক্ষক অনিল কুমার দাস ও তার স্ত্রীকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রায় নয় মাস পর এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে শুক্রবার দুপুরে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় জানান, হত্যাকাণ্ডে ছয়জন অংশ নেয়। তারা প্রথমে অনিল কুমার দাসকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। স্ত্রী কল্পনা রানী ঘটনাটি দেখে ফেলায় তাকেও একইভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে উভয় লাশের গলায় ইটের বস্তা বেঁধে বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের খোলা কূপে ফেলে দেয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় বলেন, স্কুল শিক্ষক অনিল কুমার দাসের পার্শ্ববর্তী বিক্রমহাটী এলাকায় ৬০ শতাংশ জায়গা রয়েছে। সেই জায়গা আত্মসাৎ করার জন্য তার বৈমাত্রেয় ভাই স্বপন কুমার দাস ওরফে স্বপন সৌমিত্র পরিকল্পনা করে। তার সঙ্গে যোগ দেয় রসুলপুর এলাকার কয়েকজন মাদকসেবী। তারা মিলে পরিকল্পনা করে কিভাবে জমি অনিল কুমার দাসের কাছ থেকে লিখে নেয়া যায়। এ কাজ করতে পারলে স্বপন সৌমিত্র তার সহযোগিদের পাঁচ লাখ টাকা দেবে এবং জমি বিক্রির অর্ধেক টাকাও তাদের দেয়া হবে বলে জানায়। ঘটনার দিন ছয়জন অনিল কুমার দাসের বাড়ি গিয়ে তিনটি দলিলে স্বাক্ষর দিতে বলে। কিন্তু তিনি তাতে রাজি না হওয়ায় তাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনা তার স্ত্রী কল্পনা রানী দাস দেখে ফেলায় তাকেও একইভাবে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়। পরে তাদের লাশ সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেয়া হয়।

এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন- টাঙ্গাইল সদর উপজেলার রসুলপুর গ্রামের অব্দুস সালামের ছেলে জাহিদুল ইসলাম (৩২), মৃত হাফিজ উদ্দিনের ছেলে মো. ফরহাদ (৪৮), রসুলপুরের মৃত আমির হোসেন ভূঁইয়ার ছেলে মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া (৩৩) এবং রসুলপুর শালিনাপাড়ার বাহাজ উদ্দিনের ছেলে মনজুরুল ইসলাম মিনজু (৩৩)।

পুলিশ সুপার জানান, এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে গত ১২ মে গ্রেপ্তার হওয়া রসুলপুর গ্রামের জাহিদুল ইসলাম ও ফরহাদ টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তাদের জবানবন্দিতে হত্যারহস্য বেরিয়ে আসে। পরে পুলিশ ১৪ মে রসুলপুর গ্রামের মনিরুজ্জামান ভুইয়া ওরফে খোকন ভুইয়া ও শালিনাপাড়া গ্রামের মনজুরুল ইসলাম ওরফে মিনজুকে গ্রেপ্তার করে। তাদের দশ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হলে আদালতের বিচারক রুপম কান্তি দাস তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় বলেন, এই হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন হয়েছে। হত্যা মিশনে ছয়জন সরাসরি অংশ নিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তদন্ত চলমান রয়েছে। আরো কেউ জড়িত আছে কিনা তা পরবর্তীতে জানা যাবে। দুজন আসামির রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। নিহত অনিল কুমার দাসের ˆবমাত্রেয় ভাই স্বপন সৌমিত্র জামিন নিয়ে পলাতক রয়েছেন।

২০১৭ সালের ২৬ জুলাই রাতের ওই হত্যাকাণ্ডের শিকার হন অনিল কুমার ও তার স্ত্রী। পরদিন দুপুরে পুলিশ তাদের লাশ উদ্ধার করে। পরে ২৭ জুলাই নিহতের ছেলে বাদী হয়ে টাঙ্গাইল মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পাল্টা জবাব দিলেন কিউবার প্রেসিডেন্ট

জমি লিখে না দেয়ায় টাঙ্গাইলে শিক্ষক দম্পতিকে হত্যা

আপডেট সময় ১১:২২:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

৬০ শতাংশ জায়গা লিখে না দেয়ায় টাঙ্গাইলে শিক্ষক অনিল কুমার দাস ও তার স্ত্রীকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রায় নয় মাস পর এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করে শুক্রবার দুপুরে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় জানান, হত্যাকাণ্ডে ছয়জন অংশ নেয়। তারা প্রথমে অনিল কুমার দাসকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। স্ত্রী কল্পনা রানী ঘটনাটি দেখে ফেলায় তাকেও একইভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে উভয় লাশের গলায় ইটের বস্তা বেঁধে বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের খোলা কূপে ফেলে দেয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় বলেন, স্কুল শিক্ষক অনিল কুমার দাসের পার্শ্ববর্তী বিক্রমহাটী এলাকায় ৬০ শতাংশ জায়গা রয়েছে। সেই জায়গা আত্মসাৎ করার জন্য তার বৈমাত্রেয় ভাই স্বপন কুমার দাস ওরফে স্বপন সৌমিত্র পরিকল্পনা করে। তার সঙ্গে যোগ দেয় রসুলপুর এলাকার কয়েকজন মাদকসেবী। তারা মিলে পরিকল্পনা করে কিভাবে জমি অনিল কুমার দাসের কাছ থেকে লিখে নেয়া যায়। এ কাজ করতে পারলে স্বপন সৌমিত্র তার সহযোগিদের পাঁচ লাখ টাকা দেবে এবং জমি বিক্রির অর্ধেক টাকাও তাদের দেয়া হবে বলে জানায়। ঘটনার দিন ছয়জন অনিল কুমার দাসের বাড়ি গিয়ে তিনটি দলিলে স্বাক্ষর দিতে বলে। কিন্তু তিনি তাতে রাজি না হওয়ায় তাকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনা তার স্ত্রী কল্পনা রানী দাস দেখে ফেলায় তাকেও একইভাবে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়। পরে তাদের লাশ সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেয়া হয়।

এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন- টাঙ্গাইল সদর উপজেলার রসুলপুর গ্রামের অব্দুস সালামের ছেলে জাহিদুল ইসলাম (৩২), মৃত হাফিজ উদ্দিনের ছেলে মো. ফরহাদ (৪৮), রসুলপুরের মৃত আমির হোসেন ভূঁইয়ার ছেলে মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া (৩৩) এবং রসুলপুর শালিনাপাড়ার বাহাজ উদ্দিনের ছেলে মনজুরুল ইসলাম মিনজু (৩৩)।

পুলিশ সুপার জানান, এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে গত ১২ মে গ্রেপ্তার হওয়া রসুলপুর গ্রামের জাহিদুল ইসলাম ও ফরহাদ টাঙ্গাইলের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তাদের জবানবন্দিতে হত্যারহস্য বেরিয়ে আসে। পরে পুলিশ ১৪ মে রসুলপুর গ্রামের মনিরুজ্জামান ভুইয়া ওরফে খোকন ভুইয়া ও শালিনাপাড়া গ্রামের মনজুরুল ইসলাম ওরফে মিনজুকে গ্রেপ্তার করে। তাদের দশ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হলে আদালতের বিচারক রুপম কান্তি দাস তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় বলেন, এই হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন হয়েছে। হত্যা মিশনে ছয়জন সরাসরি অংশ নিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তদন্ত চলমান রয়েছে। আরো কেউ জড়িত আছে কিনা তা পরবর্তীতে জানা যাবে। দুজন আসামির রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। নিহত অনিল কুমার দাসের ˆবমাত্রেয় ভাই স্বপন সৌমিত্র জামিন নিয়ে পলাতক রয়েছেন।

২০১৭ সালের ২৬ জুলাই রাতের ওই হত্যাকাণ্ডের শিকার হন অনিল কুমার ও তার স্ত্রী। পরদিন দুপুরে পুলিশ তাদের লাশ উদ্ধার করে। পরে ২৭ জুলাই নিহতের ছেলে বাদী হয়ে টাঙ্গাইল মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।