ঢাকা ০৯:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬, ২৮ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশের ভবিষ্যত গড়ার জন্য গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয় নিশ্চিত করতে হবে : চরমোনাই পীর ব্যালটবাক্স ভরে কোনো নির্দিষ্ট প্রতীকের জয়ের সুযোগ নেই: রুমিন ফারহানা এইচএসসি পাসে নিউরো মেডিসিন বিশেষজ্ঞ , রোগী দেখেন দুই জেলায় পটুয়াখালীতে দুই বান্ধবীকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার ধর্ষকের মা সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে জরুরি নির্দেশনা শিশু পানিতে পড়লেই বাজবে সাইরেন, কল যাবে ফোনে,দাবি ভোলার তরুণ উদ্ভাবকএর আমেরিকার উস্কানিতে ইরানে বিক্ষোভ : মাসুদ পেজেশকিয়ান আমার মনোনয়ন বাতিল করার কোনো কারণ ছিল না: মাহমুদুর রহমান মান্না ব্রিটিশ সরকারকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিলেন ইলন মাস্ক ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনে বাণিজ্যে প্রভাব পড়বে না : শেখ বশিরউদ্দীন

নির্ধারিত সময়ে স্বেচ্ছায় মরলেন বিজ্ঞানী গুডঅল

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

স্বেচ্ছায় মৃত্যুকে বরণ করে নিলেন অস্ট্রেলিয়ান বিজ্ঞানী ডেভিড গুডঅল। পূর্বনিধারিত সময়ে সুইজারল্যান্ডের বাসেলের একটি ক্লিনিকে বৃহস্পতিবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। এর আগে অস্ট্রেলিয়া থেকে রিটার্ন টিকিট ছাড়ায় সুইজারল্যান্ডে পৌঁছান জীবনকে আর টেনে নিয়ে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া এই উদ্ভিদ বিজ্ঞানী।

সুইজারল্যান্ডে যাওয়ার পথে বিরতি নেন ফ্রান্সে। সেখানে সময় কাটান কন্যা ও নাতিদের সাথে। ইনজেকশনের মাধ্যমে গুডঅলের যন্ত্রণাহীন মৃত্যু নিশ্চিত করেছে সুইজারল্যান্ডের ক্লিনিকটি। এজন্য, খরচ পড়েছে ৮ হাজার ডলার। অবশ্য, অস্ট্রেলিয়ায় স্বেচ্ছা ও নিষ্কৃতি মৃত্যু বৈধকরণের পক্ষে কাজ করা একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গুডঅলের জন্য তহবিল করেছেন। যার অগ্রভাগে ছিল এক্সিট ইন্টারন্যাশনাল নামক একটি সংস্থা।

জীবনের শেষ খাবার কী খেয়েছিলেন গুডঅল? জানা গেছে সেটিও। মাছ, চিপস এবং চিজকেক দিয়ে সেরেছেন জীবনের শেষ মিল। এটিই নাকি পছন্দের তার ‘ফুড মেন্যু’। গণমাধ্যমে জানিয়েছিলেন বেথোফেনের ‘ওডে টু জয়’ শুনতে শুনতে মারা যেতে ভালো লাগবে তার। করা হয়েছিল সেই ব্যবস্থাও। স্বেচ্ছামৃত্যু বরণে গুডঅলকে সহযোগিতা করেন এক্সিট ইন্টারন্যাশনালের ড. ফিলিপ নিটস্কে।

এর আগে বৃহস্পতিবার সারাদিন সুইজারল্যান্ডের বেসেলের একটি বোটানিক্যাল গার্ডেনে তার ৩ নাতি ও নাতিদের বান্ধবীদেরসহ ঘুরে বেড়ান গুডঅল। জীবনের শেষ মুহূর্তগুলো বেশ আনন্দমুখর কাটিয়েছেন তিনি।

১০৪ বছর বয়সে এসেও শারীরিকভাবে সুস্থ ছিলেন গুডঅল। কিন্তু তার উপলব্ধি হয়, বার্ধক্যে কোনো স্বাধীনতা নেই। বাঁচতে হয় অন্যের উপর নির্ভর করে। অথচ, তিনি বরাবরই যুবকের মতো বাঁচতে চেয়েছিলেন। জীবনের শেষ প্রান্তে বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যা আর ভালো লাগছিল না তার।

বলেছিলেন, এই জীবন আর উপভোগ করছি না। আর বাঁচতে চাই না। এখন শুধু দুঃখগুলো সঞ্চয় করে রাখছি। তার মতে, বয়স্ক মানুষের মৃত্যুর সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার থাকা উচিত। নিষ্কৃতি মৃত্যুর পক্ষে রাষ্ট্রের অনুমোদন থাকা উচিত বলে মনে করেন গুডঅল।

দাদার মৃত্যুশয্যার পাশে থাকতে যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট থেকে ছুটে আসা নাতি ডানকান গণমাধ্যমকে জানান, তিনি খুবই সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমি জানি না সে সময় আমার কেমন অনভূতি হবে। তবে, যুক্তিসঙ্গত কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমি এটিকে সম্মান জানাই।

গুডঅলের পরিবার তার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও এর যৌক্তিকতা খুঁজে পাচ্ছেন না অনেকেই। অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য বিভাগের এক মুখপাত্র বলেছেন এমন সিদ্ধান্তকে উৎসাহ দেয়াটা কঠিন। যত আলোচনা-সমালোচনাই হোক না কেনো সবকিছুর উর্ধ্বে চলে গেছেন ড. ডেভিড গুডঅল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শার্টের বুকে ‘কাপুর’ লিখে আলোচনায় আলিয়া ভাট

নির্ধারিত সময়ে স্বেচ্ছায় মরলেন বিজ্ঞানী গুডঅল

আপডেট সময় ০৭:৫৯:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ মে ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

স্বেচ্ছায় মৃত্যুকে বরণ করে নিলেন অস্ট্রেলিয়ান বিজ্ঞানী ডেভিড গুডঅল। পূর্বনিধারিত সময়ে সুইজারল্যান্ডের বাসেলের একটি ক্লিনিকে বৃহস্পতিবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। এর আগে অস্ট্রেলিয়া থেকে রিটার্ন টিকিট ছাড়ায় সুইজারল্যান্ডে পৌঁছান জীবনকে আর টেনে নিয়ে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া এই উদ্ভিদ বিজ্ঞানী।

সুইজারল্যান্ডে যাওয়ার পথে বিরতি নেন ফ্রান্সে। সেখানে সময় কাটান কন্যা ও নাতিদের সাথে। ইনজেকশনের মাধ্যমে গুডঅলের যন্ত্রণাহীন মৃত্যু নিশ্চিত করেছে সুইজারল্যান্ডের ক্লিনিকটি। এজন্য, খরচ পড়েছে ৮ হাজার ডলার। অবশ্য, অস্ট্রেলিয়ায় স্বেচ্ছা ও নিষ্কৃতি মৃত্যু বৈধকরণের পক্ষে কাজ করা একাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গুডঅলের জন্য তহবিল করেছেন। যার অগ্রভাগে ছিল এক্সিট ইন্টারন্যাশনাল নামক একটি সংস্থা।

জীবনের শেষ খাবার কী খেয়েছিলেন গুডঅল? জানা গেছে সেটিও। মাছ, চিপস এবং চিজকেক দিয়ে সেরেছেন জীবনের শেষ মিল। এটিই নাকি পছন্দের তার ‘ফুড মেন্যু’। গণমাধ্যমে জানিয়েছিলেন বেথোফেনের ‘ওডে টু জয়’ শুনতে শুনতে মারা যেতে ভালো লাগবে তার। করা হয়েছিল সেই ব্যবস্থাও। স্বেচ্ছামৃত্যু বরণে গুডঅলকে সহযোগিতা করেন এক্সিট ইন্টারন্যাশনালের ড. ফিলিপ নিটস্কে।

এর আগে বৃহস্পতিবার সারাদিন সুইজারল্যান্ডের বেসেলের একটি বোটানিক্যাল গার্ডেনে তার ৩ নাতি ও নাতিদের বান্ধবীদেরসহ ঘুরে বেড়ান গুডঅল। জীবনের শেষ মুহূর্তগুলো বেশ আনন্দমুখর কাটিয়েছেন তিনি।

১০৪ বছর বয়সে এসেও শারীরিকভাবে সুস্থ ছিলেন গুডঅল। কিন্তু তার উপলব্ধি হয়, বার্ধক্যে কোনো স্বাধীনতা নেই। বাঁচতে হয় অন্যের উপর নির্ভর করে। অথচ, তিনি বরাবরই যুবকের মতো বাঁচতে চেয়েছিলেন। জীবনের শেষ প্রান্তে বার্ধক্যজনিত নানা সমস্যা আর ভালো লাগছিল না তার।

বলেছিলেন, এই জীবন আর উপভোগ করছি না। আর বাঁচতে চাই না। এখন শুধু দুঃখগুলো সঞ্চয় করে রাখছি। তার মতে, বয়স্ক মানুষের মৃত্যুর সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার থাকা উচিত। নিষ্কৃতি মৃত্যুর পক্ষে রাষ্ট্রের অনুমোদন থাকা উচিত বলে মনে করেন গুডঅল।

দাদার মৃত্যুশয্যার পাশে থাকতে যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট থেকে ছুটে আসা নাতি ডানকান গণমাধ্যমকে জানান, তিনি খুবই সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমি জানি না সে সময় আমার কেমন অনভূতি হবে। তবে, যুক্তিসঙ্গত কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমি এটিকে সম্মান জানাই।

গুডঅলের পরিবার তার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও এর যৌক্তিকতা খুঁজে পাচ্ছেন না অনেকেই। অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য বিভাগের এক মুখপাত্র বলেছেন এমন সিদ্ধান্তকে উৎসাহ দেয়াটা কঠিন। যত আলোচনা-সমালোচনাই হোক না কেনো সবকিছুর উর্ধ্বে চলে গেছেন ড. ডেভিড গুডঅল।