ঢাকা ০৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

বঙ্গবন্ধুকে অস্বীকারকারীরা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না: প্রধানমন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে ব্যাপক আলোচনার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের জন্মে বঙ্গবন্ধুর অবদান অস্বীকারকারীদের দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস রয়েছে কি না, তা নিয়ে তার সন্দেহ রয়েছে। বুধবার জন্মাষ্টমী উপলক্ষে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এই আলোচনা সভায় হিন্দু নেতাদের পক্ষে প্রধান বিচারপতির সমালোচনা করেন প্রতিমন্ত্রী বীরেণ শিকদার।

শেখ হাসিনা বলেন, “তিনি (বঙ্গবন্ধু) যখন স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন.. ইয়াহিয়া খান ২৬ মার্চ যখন ভাষণ দিয়েছিলেন, তখন অন্য কারও কথা বলেনি…প্রহসনমূলক বিচার করে ফাঁসির রায়ে পর্যন্ত সই করে দিয়েছিলেন।” “কই, ইয়াহিয়া তো জিয়াকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেনি। তার কথাও বলেনি। তিনি শুধু একজনের কথা বলেছিলেন, সেটা হল জাতির জাতির জনক। তাকে দোষারোপ করে পাকিস্তানের শত্রু হিসাবে ঘোষণা করেছিলেন,” বলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।

তিনি বলেন, “কাজেই এই সত্যটা যে উপলব্ধি করতে পারবে না, সে আদৌ বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে কি না, আমার সন্দেহ।” সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীকে বাতিল করে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ‘কোনো একক ব্যক্তির কারণে হয়নি’ বলায় প্রধান বিচারপতির সমালোচনা করে আসছেন মন্ত্রীরা।

গণভবনের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী কারও কথা উল্লেখ না করলেও শুভেচ্ছা বক্তব্য দিতে গিয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেণ শিকদার বলেন, “জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী না হলে এস কে সিনহাও প্রধান বিচারপতি হতেন না। উনি (শেখ হাসিনা) আমাদের প্রধান বিচারপতি উপহার দিয়েছেন, আমরা কী দিয়েছি? “বাংলাদেশের সনাতনী সমাজ তার (এস কে সিনহা) তার সঙ্গে নেই।” এই রায় নিয়ে প্রধান বিচারপতি রাজনীতি করেছেন বলেও মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “পৃথিবীর মানুষ জানে যে কার জন্য এই ভূখণ্ডের জন্ম। যে কথা ড.কামাল হোসেন আর ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সে কথা রায়ে কীভাবে আসে?” বীরেণ শিকদার প্রধান বিচারপতির দিকে ঈঙ্গিত করে বলেন, “স্নেহ-ভালোবাসা পাবেন আর শ্রদ্ধা করবেন না; এটা তো হবে না।” উপস্থিত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে করে তিনি বলেন, “আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না আসলে বাংলাদেশে কোনো হিন্দু থাকতে পারবে না।”

অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা এই দেশের মাটির সন্তান। আপনারা আপনাদের মর্যাদা নিয়ে এই দেশে থাকবেন। উৎসবমুখর পরিবেশে উৎসব পালন করবেন। “আমাদের দেশে যার যার ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবে; আওয়ামী লীগই তা নিশ্চিত করে।” “আমি সংখ্যালঘু বলতে রাজি না। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান আর মুসলমান সকলে সমান অধিকার নিয়ে থাকবে,” বলেন তিনি।

এই অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জয়ন্ত সেন দীপু, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সভাপতি দেবাশীষ পালিত, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি ডি এল চ্যাটার্জি, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি রমেশ ঘোষ এবং জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক চন্দন তালুকদার বক্তব্য রাখেন।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তাপস পাল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ

বঙ্গবন্ধুকে অস্বীকারকারীরা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ১২:২৭:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে ব্যাপক আলোচনার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশের জন্মে বঙ্গবন্ধুর অবদান অস্বীকারকারীদের দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস রয়েছে কি না, তা নিয়ে তার সন্দেহ রয়েছে। বুধবার জন্মাষ্টমী উপলক্ষে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে একথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এই আলোচনা সভায় হিন্দু নেতাদের পক্ষে প্রধান বিচারপতির সমালোচনা করেন প্রতিমন্ত্রী বীরেণ শিকদার।

শেখ হাসিনা বলেন, “তিনি (বঙ্গবন্ধু) যখন স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেন.. ইয়াহিয়া খান ২৬ মার্চ যখন ভাষণ দিয়েছিলেন, তখন অন্য কারও কথা বলেনি…প্রহসনমূলক বিচার করে ফাঁসির রায়ে পর্যন্ত সই করে দিয়েছিলেন।” “কই, ইয়াহিয়া তো জিয়াকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেনি। তার কথাও বলেনি। তিনি শুধু একজনের কথা বলেছিলেন, সেটা হল জাতির জাতির জনক। তাকে দোষারোপ করে পাকিস্তানের শত্রু হিসাবে ঘোষণা করেছিলেন,” বলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।

তিনি বলেন, “কাজেই এই সত্যটা যে উপলব্ধি করতে পারবে না, সে আদৌ বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে কি না, আমার সন্দেহ।” সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীকে বাতিল করে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের রায়ের পর্যবেক্ষণ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ‘কোনো একক ব্যক্তির কারণে হয়নি’ বলায় প্রধান বিচারপতির সমালোচনা করে আসছেন মন্ত্রীরা।

গণভবনের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী কারও কথা উল্লেখ না করলেও শুভেচ্ছা বক্তব্য দিতে গিয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেণ শিকদার বলেন, “জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী না হলে এস কে সিনহাও প্রধান বিচারপতি হতেন না। উনি (শেখ হাসিনা) আমাদের প্রধান বিচারপতি উপহার দিয়েছেন, আমরা কী দিয়েছি? “বাংলাদেশের সনাতনী সমাজ তার (এস কে সিনহা) তার সঙ্গে নেই।” এই রায় নিয়ে প্রধান বিচারপতি রাজনীতি করেছেন বলেও মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “পৃথিবীর মানুষ জানে যে কার জন্য এই ভূখণ্ডের জন্ম। যে কথা ড.কামাল হোসেন আর ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সে কথা রায়ে কীভাবে আসে?” বীরেণ শিকদার প্রধান বিচারপতির দিকে ঈঙ্গিত করে বলেন, “স্নেহ-ভালোবাসা পাবেন আর শ্রদ্ধা করবেন না; এটা তো হবে না।” উপস্থিত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে করে তিনি বলেন, “আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না আসলে বাংলাদেশে কোনো হিন্দু থাকতে পারবে না।”

অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা এই দেশের মাটির সন্তান। আপনারা আপনাদের মর্যাদা নিয়ে এই দেশে থাকবেন। উৎসবমুখর পরিবেশে উৎসব পালন করবেন। “আমাদের দেশে যার যার ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করবে; আওয়ামী লীগই তা নিশ্চিত করে।” “আমি সংখ্যালঘু বলতে রাজি না। হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান আর মুসলমান সকলে সমান অধিকার নিয়ে থাকবে,” বলেন তিনি।

এই অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জয়ন্ত সেন দীপু, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সভাপতি দেবাশীষ পালিত, মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি ডি এল চ্যাটার্জি, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি রমেশ ঘোষ এবং জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক চন্দন তালুকদার বক্তব্য রাখেন।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক তাপস পাল।