ঢাকা ০৫:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

বিচারপতি খায়রুল হকের বক্তব্যকে ধিক্কার জানাই: ফখরুল

ফাইল ছবি

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আইন কমিশনের আসনে বসে সুপ্রিম কোর্টের রায় সম্পর্কে প্রধান বিচারপতি সম্পর্কে বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক যেসব উক্তি করেছেন, তা শুধু অশালীনই নয়, রীতিমতো আদালত অবমাননার শামিল।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা বলেন। তিনি ভোটারবিহীন সংসদকে বিচারকদের অভিশংসন ও অপসারণের দায়িত্ব দেওয়ার পক্ষে কথা বলার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘বিচারপতি খায়রুল হকের বক্তব্যকে আমরা ধিক্কার জানাই। তিনি কৃতকর্মের জন্য কোনো অনুশোচনা তো করেননি, বরং একটি অন্যায়ের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বাতিল করেছেন। ৭৯৯ পৃষ্ঠার ঐতিহাসিক এ রায়টির মাধ্যমে বর্তমান রাজনৈতিক, সামাজিক প্রেক্ষাপট এবং রাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে একটি ম্যাগনাকার্টা বলেই আমাদের কাছে মনে হয়েছে। সত্য উদ্ভাসিত হয়েছে নির্ভিকভাবে। হতাশাগ্রস্ত জাতি এই রায়ের মাধ্যমে আশার আলো দেখতে পেয়েছে। আমরা সে জন্যই এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছি এবং আপিল বিভাগকে অভিনন্দন জানিয়েছি।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘অত্যন্ত পরিতাপের সঙ্গে লক্ষ্য করলাম, সরকার বা সরকারি দল আওয়ামী লীগ কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়ার আগেই সাবেক প্রধান বিচারপতি ও বর্তমানে আইন কমিশন চেয়ারম্যান বিচারপতি খায়রুল হক রায়ের বিরুদ্ধে বিষোদ্‌গার করলেন। মনে হলো, এই রায়ের ফলে তাঁর গাত্রদাহ শুরু হয়েছে।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, বিচারপতি খায়রুল হক তাঁর সময় যেসব রায় দিয়েছেন, তা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কতখানি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে তা দেশের মানুষ এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। সংবিধানের পঞ্চম, সপ্তম ও ১৩তম সংশোধনী বাতিলের ফলে আজ দেশে যে সাংবিধানিক, রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে তা দেশের গণতন্ত্রকে পুরোপুরি ভঙ্গুর করে ফেলেছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বিচারপতি খায়রুল হকের বক্তব্যের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতা ও মন্ত্রীদের বক্তব্যের কোনো অমিল নেই। বিচারপতি হকের রায়ের পরেই বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অস্থিতিশীলতা এবং হতাশা বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকার লাগামহীন হয়ে উঠেছে। এ রায়ের ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের ফলস্বরূপ আওয়ামী লীগ বহুদলীয় গণতন্ত্রের দর্শনের মূল উৎপাটন করে প্রায় একদলীয় একনায়কতান্ত্রিক সরকার চাপিয়ে দিয়েছে। একদলীয় দুঃশাসনে রাষ্ট্র পরিচালিত হচ্ছে। দুর্নীতি আজ সকল নজির ছড়িয়ে গেছে। জনগণ ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কোনো কার্যকরী সংসদ নেই। বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসেনি। ১৫৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা, বাকি ১৪৭ আসনে প্রকৃতপক্ষে কোনো ভোটার ভোট দিতে যাননি। সেই পার্লামেন্টে বিচারকদের অভিশংসন, অপসারণের দায়িত্ব পেলে শেষ ভরসার জায়গাটুকু হারিয়ে যাবে। বিচারপতি খায়রুল হক একটি অন্যায়ের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন।’

রায় নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রতিক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, তারা (আওয়ামী লীগ) হতাশ হয়েছেন, সংক্ষুব্ধ হয়েছেন। তা তো হবেনই। তাদের সৃষ্ট দানব যে, তাদেরই গ্রাস করতে চলছে তা এখনো তারা বুঝতে পারছেন না। তিনি বলেন, ‘আমরা সংগ্রাম করছি সুশাসন, ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রের জন্য। লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এই সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

বিচারপতি খায়রুল হকের বক্তব্যকে ধিক্কার জানাই: ফখরুল

আপডেট সময় ১২:২৩:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ অগাস্ট ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আইন কমিশনের আসনে বসে সুপ্রিম কোর্টের রায় সম্পর্কে প্রধান বিচারপতি সম্পর্কে বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক যেসব উক্তি করেছেন, তা শুধু অশালীনই নয়, রীতিমতো আদালত অবমাননার শামিল।

আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা বলেন। তিনি ভোটারবিহীন সংসদকে বিচারকদের অভিশংসন ও অপসারণের দায়িত্ব দেওয়ার পক্ষে কথা বলার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘বিচারপতি খায়রুল হকের বক্তব্যকে আমরা ধিক্কার জানাই। তিনি কৃতকর্মের জন্য কোনো অনুশোচনা তো করেননি, বরং একটি অন্যায়ের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বাতিল করেছেন। ৭৯৯ পৃষ্ঠার ঐতিহাসিক এ রায়টির মাধ্যমে বর্তমান রাজনৈতিক, সামাজিক প্রেক্ষাপট এবং রাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে একটি ম্যাগনাকার্টা বলেই আমাদের কাছে মনে হয়েছে। সত্য উদ্ভাসিত হয়েছে নির্ভিকভাবে। হতাশাগ্রস্ত জাতি এই রায়ের মাধ্যমে আশার আলো দেখতে পেয়েছে। আমরা সে জন্যই এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছি এবং আপিল বিভাগকে অভিনন্দন জানিয়েছি।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘অত্যন্ত পরিতাপের সঙ্গে লক্ষ্য করলাম, সরকার বা সরকারি দল আওয়ামী লীগ কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়ার আগেই সাবেক প্রধান বিচারপতি ও বর্তমানে আইন কমিশন চেয়ারম্যান বিচারপতি খায়রুল হক রায়ের বিরুদ্ধে বিষোদ্‌গার করলেন। মনে হলো, এই রায়ের ফলে তাঁর গাত্রদাহ শুরু হয়েছে।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, বিচারপতি খায়রুল হক তাঁর সময় যেসব রায় দিয়েছেন, তা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে কতখানি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে তা দেশের মানুষ এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। সংবিধানের পঞ্চম, সপ্তম ও ১৩তম সংশোধনী বাতিলের ফলে আজ দেশে যে সাংবিধানিক, রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে তা দেশের গণতন্ত্রকে পুরোপুরি ভঙ্গুর করে ফেলেছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘বিচারপতি খায়রুল হকের বক্তব্যের সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতা ও মন্ত্রীদের বক্তব্যের কোনো অমিল নেই। বিচারপতি হকের রায়ের পরেই বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অস্থিতিশীলতা এবং হতাশা বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকার লাগামহীন হয়ে উঠেছে। এ রায়ের ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের ফলস্বরূপ আওয়ামী লীগ বহুদলীয় গণতন্ত্রের দর্শনের মূল উৎপাটন করে প্রায় একদলীয় একনায়কতান্ত্রিক সরকার চাপিয়ে দিয়েছে। একদলীয় দুঃশাসনে রাষ্ট্র পরিচালিত হচ্ছে। দুর্নীতি আজ সকল নজির ছড়িয়ে গেছে। জনগণ ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। কোনো কার্যকরী সংসদ নেই। বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসেনি। ১৫৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা, বাকি ১৪৭ আসনে প্রকৃতপক্ষে কোনো ভোটার ভোট দিতে যাননি। সেই পার্লামেন্টে বিচারকদের অভিশংসন, অপসারণের দায়িত্ব পেলে শেষ ভরসার জায়গাটুকু হারিয়ে যাবে। বিচারপতি খায়রুল হক একটি অন্যায়ের পক্ষে সাফাই গেয়েছেন।’

রায় নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রতিক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, তারা (আওয়ামী লীগ) হতাশ হয়েছেন, সংক্ষুব্ধ হয়েছেন। তা তো হবেনই। তাদের সৃষ্ট দানব যে, তাদেরই গ্রাস করতে চলছে তা এখনো তারা বুঝতে পারছেন না। তিনি বলেন, ‘আমরা সংগ্রাম করছি সুশাসন, ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রের জন্য। লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত এই সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।’