ঢাকা ১০:০৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রুবেলকে বিদায়ি সম্মাননা দেবে বিসিবি বাংলাদেশে নীতির অনিশ্চয়তা আমাদের ভয়ের কারণ: ব্রুনাইয়ের রাষ্ট্রদূত চবিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতার অবস্থান কর্মসূচি যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ প্রত্যাহার না করলে পাকিস্তানে প্রতিনিধি দল পাঠাবে না ইরান যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকধারীর হামলায় আট শিশু নিহত এপ্রিলের ১৮ দিনে রেমিট্যান্স এলো ১৮০ কোটি ডলার বিগত সরকারের দুর্নীতির কারণে হাতুড়ির টোকায় বর্তমান স্বাস্থ্যখাত পুনর্গঠন কঠিন স্কুলপড়ুয়া শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, অভিযুক্তকে পুলিশে সোপর্দ নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা, দ্বিতীয় দফার বৈঠকে পাকিস্তানে যাচ্ছেন না মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভারতে বাজি তৈরির কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ২০

ধানের মণ ৬৫০, শ্রমিক ৮০০

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চাঁদপুরের মাঠ জুড়ে এখন সোনালি ফসল ইরি বোরো ধান। সোনালি ধানের ছবি দেখে আনন্দে ভাসছিল কৃষক পরিবারগুলো। কিন্তু শ্রমিক সংকটে তাদের এ হাসি পরিণত হয়েছে বিষাদে। এক মণ ধানের দামেও মিলছে না একজন শ্রমিক। অনেক জায়গায় পানিতে তলিয়ে আছে ধান। শ্রমিক না পেলে কীভাবে ধান ঘরে তুলবেন তা নিয়ে চিন্তিত এ জেলার কৃষকরা।

কৃষকরা জানান, টানা বৃষ্টিতে ডুবে যাচ্ছে মাঠের পাকা ধান।কিন্তু ধান কাটার জন্য পাওয়া যাচ্ছে না শ্রমিক। উচ্চ দর দিয়েও যে পরিমাণ শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে তাও পর্যাপ্ত নয়। বাজারে বর্তমান ধান প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকায়। বিপরীতে ৮০০ টাকা মজুরি দিয়েও মিলছে না ধান কাটা শ্রমিক।

সরেজমিনে জানা যায়, এ অঞ্চলের কৃষকরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন ধান কাটা এবং মাড়াই, রোদে শুকানো ও গোলায় ভরার কাজে। তবে জেলার হাজীগঞ্জ ও ফরিদগঞ্জে বৃষ্টির কারণে অনেক ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। আবার কোথাও কোথাও শ্রমিক না পাওয়ায় ধান কাটতে পারছেনা চাষিরা।

হাজীগঞ্জ উপজেলার কালোচা উত্তর ইউনিয়নের কৃষক আ. জলিল (৬৫) বলেন, এবার চাষাবাদ করে বিপদে পড়েছি। ধানের মণ ৭০০ টাকা আর শ্রমিকের দাম রোজ ৮০০ টাকা। এভাবে শ্রমিকের পেছনে টাকা খরচ হলে আসলই উঠবে না।

একই উপজেলার ৯নং গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের কৃষক তৈয়ব আলী মোল্লা বলেন, আমি ২ কানি (২ একর ৪০ শতাংশ) জমি চাষ করেছি। বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে থাকলেও শ্রমিকের অভাবে ধান কাটতে পারছিনা। শ্রমিক পেলেও ৯টার সময় কাজে এসে দুপুর ১টায় চলে যায়। তাদেরকের রোজ দিতে হয় ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। তারপরও প্রয়োজনীয় শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।

একই অভিযোগ জানালেন সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের মধ্য বালিয়া দিঘিরপাড় এলাকার কৃষক বাদল গাজী (৪০) এবং কৃষক বিল্লাল গাজী (৬০)। তারা জানান, তিন একর জমিতে এবার ইরি বিআর ২৯ আবাদ করে প্রায় ১৮০ মণ ধান পাওয়ার আশা করছেন তারা। বাম্পার ফলন হলেওে ধান বিক্রি নিয়ে তারা চিন্তিত। দালালদের কারণে ধান বিক্রি হচ্ছে না। মিল মালিকরা এবং বেপারীরা এখন ধান কিনে না।

তারা আরও জানান, পনেরো শতাংশে ১ গন্ডা জমিতে ধানের আবাদ করলে কৃষকের খরচ হয় প্রায় ৮ হাজার টাকা। বর্তমান দরে ধান বিক্রি হলে কোন লাভ হবে না।

চাঁদপুর কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আলী আহম্মদ জানান, চলতি বছরে চাঁদপুর জেলায় ৬১ হাজার ২৬৬ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রায় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৪৫৩ মেট্রিক টন চাল। যা গত বছরের চেয়ে ১ হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে কম চাষাবাদ হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, চাঁদপুর সদরে ৫ হাজার ৫ ১৪ হেক্টর, মতলব উত্তরে ৯ হাজার ১৪০ হেক্টর, মতলব দক্ষিণে ৪ হাজার ৭২৫ হেক্টর, হাজীগঞ্জে ৯ হাজার ৭২০ হেক্টর, শাহারাস্তিতে ৯ হাজার ৪১৭ হেক্টর, কচুয়ায় ১২ হাজার ১৫০ হেক্টর, ফরিদগঞ্জে ৯ হাজার ৯৭০ হেক্টর, হাইমচরে ৬৩০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে।

কচুয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আহসান হাবিব জানান, এ অঞ্চলে আলু চাষ হওয়ার প্রায় ৩০/৪০ দিন পর ব্যাপক বৃষ্টি শুরু হয়। এতে প্রায় সব জমির আলু নষ্ট হয়ে যায়। পরে আবার মাঠ তৈরি করে আলু চাষ করা হয়েছে। আলু তোলার পর সেই জমিতে ধান চাষ হয়েছে। দেরিতে ধান চাষ করায় এখনো কৃষক ধান ঘরে তুলতে পারেনি। তাই ফসল মাঠেই নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আবহাওয়া ভালো থাকলে এ উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পরিমানে ধান পাওয়া যাবে বলে মনে করেন তিনি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

রুবেলকে বিদায়ি সম্মাননা দেবে বিসিবি

ধানের মণ ৬৫০, শ্রমিক ৮০০

আপডেট সময় ১১:৪৮:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চাঁদপুরের মাঠ জুড়ে এখন সোনালি ফসল ইরি বোরো ধান। সোনালি ধানের ছবি দেখে আনন্দে ভাসছিল কৃষক পরিবারগুলো। কিন্তু শ্রমিক সংকটে তাদের এ হাসি পরিণত হয়েছে বিষাদে। এক মণ ধানের দামেও মিলছে না একজন শ্রমিক। অনেক জায়গায় পানিতে তলিয়ে আছে ধান। শ্রমিক না পেলে কীভাবে ধান ঘরে তুলবেন তা নিয়ে চিন্তিত এ জেলার কৃষকরা।

কৃষকরা জানান, টানা বৃষ্টিতে ডুবে যাচ্ছে মাঠের পাকা ধান।কিন্তু ধান কাটার জন্য পাওয়া যাচ্ছে না শ্রমিক। উচ্চ দর দিয়েও যে পরিমাণ শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে তাও পর্যাপ্ত নয়। বাজারে বর্তমান ধান প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকায়। বিপরীতে ৮০০ টাকা মজুরি দিয়েও মিলছে না ধান কাটা শ্রমিক।

সরেজমিনে জানা যায়, এ অঞ্চলের কৃষকরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন ধান কাটা এবং মাড়াই, রোদে শুকানো ও গোলায় ভরার কাজে। তবে জেলার হাজীগঞ্জ ও ফরিদগঞ্জে বৃষ্টির কারণে অনেক ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। আবার কোথাও কোথাও শ্রমিক না পাওয়ায় ধান কাটতে পারছেনা চাষিরা।

হাজীগঞ্জ উপজেলার কালোচা উত্তর ইউনিয়নের কৃষক আ. জলিল (৬৫) বলেন, এবার চাষাবাদ করে বিপদে পড়েছি। ধানের মণ ৭০০ টাকা আর শ্রমিকের দাম রোজ ৮০০ টাকা। এভাবে শ্রমিকের পেছনে টাকা খরচ হলে আসলই উঠবে না।

একই উপজেলার ৯নং গন্ধর্ব্যপুর উত্তর ইউনিয়নের কৃষক তৈয়ব আলী মোল্লা বলেন, আমি ২ কানি (২ একর ৪০ শতাংশ) জমি চাষ করেছি। বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে থাকলেও শ্রমিকের অভাবে ধান কাটতে পারছিনা। শ্রমিক পেলেও ৯টার সময় কাজে এসে দুপুর ১টায় চলে যায়। তাদেরকের রোজ দিতে হয় ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। তারপরও প্রয়োজনীয় শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।

একই অভিযোগ জানালেন সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের মধ্য বালিয়া দিঘিরপাড় এলাকার কৃষক বাদল গাজী (৪০) এবং কৃষক বিল্লাল গাজী (৬০)। তারা জানান, তিন একর জমিতে এবার ইরি বিআর ২৯ আবাদ করে প্রায় ১৮০ মণ ধান পাওয়ার আশা করছেন তারা। বাম্পার ফলন হলেওে ধান বিক্রি নিয়ে তারা চিন্তিত। দালালদের কারণে ধান বিক্রি হচ্ছে না। মিল মালিকরা এবং বেপারীরা এখন ধান কিনে না।

তারা আরও জানান, পনেরো শতাংশে ১ গন্ডা জমিতে ধানের আবাদ করলে কৃষকের খরচ হয় প্রায় ৮ হাজার টাকা। বর্তমান দরে ধান বিক্রি হলে কোন লাভ হবে না।

চাঁদপুর কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আলী আহম্মদ জানান, চলতি বছরে চাঁদপুর জেলায় ৬১ হাজার ২৬৬ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রায় ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৪৫৩ মেট্রিক টন চাল। যা গত বছরের চেয়ে ১ হাজার ৩৩০ হেক্টর জমিতে কম চাষাবাদ হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, চাঁদপুর সদরে ৫ হাজার ৫ ১৪ হেক্টর, মতলব উত্তরে ৯ হাজার ১৪০ হেক্টর, মতলব দক্ষিণে ৪ হাজার ৭২৫ হেক্টর, হাজীগঞ্জে ৯ হাজার ৭২০ হেক্টর, শাহারাস্তিতে ৯ হাজার ৪১৭ হেক্টর, কচুয়ায় ১২ হাজার ১৫০ হেক্টর, ফরিদগঞ্জে ৯ হাজার ৯৭০ হেক্টর, হাইমচরে ৬৩০ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে।

কচুয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আহসান হাবিব জানান, এ অঞ্চলে আলু চাষ হওয়ার প্রায় ৩০/৪০ দিন পর ব্যাপক বৃষ্টি শুরু হয়। এতে প্রায় সব জমির আলু নষ্ট হয়ে যায়। পরে আবার মাঠ তৈরি করে আলু চাষ করা হয়েছে। আলু তোলার পর সেই জমিতে ধান চাষ হয়েছে। দেরিতে ধান চাষ করায় এখনো কৃষক ধান ঘরে তুলতে পারেনি। তাই ফসল মাঠেই নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আবহাওয়া ভালো থাকলে এ উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পরিমানে ধান পাওয়া যাবে বলে মনে করেন তিনি।