ঢাকা ০৩:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি রোধে চার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর অক্টোবরেই চালু হচ্ছে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশে ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৮ মৃত্যু, হাসপাতালে ১৭৮২ সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ

কে পাহাড়ি, কে বাঙালি তা বড় কথা নয়: প্রধানমন্ত্রী

বুধবার বিকালে গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পার্বত্য এলাকায় পাহাড়ি, বাঙালি নির্বিশেষে মানুষ হিসেবে সবার অধিকার আছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এই মৌলিক অধিকার পূরণেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

রবিবার গণভবনে চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল গ্রহণ করে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বান্দরবান থেকে ভিডিও কনফারেন্সে সরকার প্রধানের সঙ্গে কথা বলেন দুইজন শিক্ষার্থী এবং একজন শিক্ষক। এরপর কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন বলেন, ‘এক সময় একটু অশান্ত বান্দরবন ছিল। এখন সেটা শান্তির বান্দরবানে রূপান্তরিত হয়েছে। উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে এগিয়ে চলছে।’

এরপর শেখ হাসিনা বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ পরিবেশ যেন থাকে সেটা আমরা চাই। সকলের সঙ্গে সৌহার্দপূর্ণ একটা সম্পর্ক থাকবে, এখানে কে পাহাড়ি, কে বাঙালি সে বড় কথা নয়, মানুষ মানুষই, মানুষ হিসেবেই দেখতে হবে।’

‘সকলেরই মৌলিক অধিকার রয়েছে, এই অধিকারটা পূরণ করতে হবে। আর্থিকভাবে প্রতিটা পরিবার যেন স্বচ্ছল হয়, সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে এবং আমরা সেভাবেই বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।’

‘সমগ্র বাংলাদেশেই শান্তি, নিরাপত্তা এবং স্বস্তিমূলক পরিবেশ আমাদের দরকার। জাতির পিতা আমাদেরকে দেশ দিয়ে গেছেন। এই দেশকে আমাদের গড়ে তুলতে হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ হিসেবে।’

‘আমাদের কোনো অঞ্চল যেন অবহেলিত না থাকে সেটাই আমরা চাই’।

পাহাড়ি এলাকার স্কুলগুলোকে আবাসিক সুবিধা সংযোজনের পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘যদিও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করেছি, ছেলে মেয়েরা যাচ্ছে। কিন্তু আমি মনে করি আবাসিক স্কুল করে দিলে এত এত দূর দূরান্তে সব সময় যোগাযোগ করা প্রয়োজন হবে না। সেখানে থেকে তারা পড়াশোনা করতে পারবে।’

‘কয়েকটা আবাসিক স্কুল রয়েছে, কিন্তু আমরা চাইছি আরও কিছু আবাসিক স্কুল হোক।’

এর আগে বান্দরবান পলিটেকনিক স্কুল ও কলেজের শিক্ষক প্রকাশ চন্দ্র দে, বান্দরবান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী কিকিওয়ে মামরা এবং বান্দরবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু তালহা জুবায়ের বক্তব্য দেন।

জুবায়ের বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি বান্দরবান জেলা সফর করবেন, আমরা আপনাকে দেখতে চাই। আমাদের মাঝে পেতে চাই। আমরা অপেক্ষায় থাকলাম।’

জেলা প্রশাসকও বলেন, ‘আপনি ২০১২ সালের ১৭ নভেম্বর সফর করেছেন। এরপর দীর্ঘ সময় কেটে গেছে। আপনাকে দেখার জন্য এই অঞ্চলের মানুষ উন্মুখ হয়ে আছে। আপনি কবে এই অঞ্চলে সফর করবেন?’

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কেবল ২০১২ সাল না, আমি বহুবার বান্দরবান এমনকি পার্বত্য চট্টগ্রামের এমন কোনো উপজেলা নাই যেখানে আমি না ঘুরেছি। প্রায় প্রত্যেকটা জায়গায় আমি গিয়েছি।’

‘এত কাজ থাকে, তারপরও আমি চেষ্টা করব যেতে। যাব আশা করব।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মধ্যরাতে হামলা, গুঁড়িয়ে দেয়া হলো ভবন

কে পাহাড়ি, কে বাঙালি তা বড় কথা নয়: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০২:১৯:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

পার্বত্য এলাকায় পাহাড়ি, বাঙালি নির্বিশেষে মানুষ হিসেবে সবার অধিকার আছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এই মৌলিক অধিকার পূরণেই সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

রবিবার গণভবনে চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল গ্রহণ করে শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বান্দরবান থেকে ভিডিও কনফারেন্সে সরকার প্রধানের সঙ্গে কথা বলেন দুইজন শিক্ষার্থী এবং একজন শিক্ষক। এরপর কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

বান্দরবানের জেলা প্রশাসক আসলাম হোসেন বলেন, ‘এক সময় একটু অশান্ত বান্দরবন ছিল। এখন সেটা শান্তির বান্দরবানে রূপান্তরিত হয়েছে। উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে এগিয়ে চলছে।’

এরপর শেখ হাসিনা বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ পরিবেশ যেন থাকে সেটা আমরা চাই। সকলের সঙ্গে সৌহার্দপূর্ণ একটা সম্পর্ক থাকবে, এখানে কে পাহাড়ি, কে বাঙালি সে বড় কথা নয়, মানুষ মানুষই, মানুষ হিসেবেই দেখতে হবে।’

‘সকলেরই মৌলিক অধিকার রয়েছে, এই অধিকারটা পূরণ করতে হবে। আর্থিকভাবে প্রতিটা পরিবার যেন স্বচ্ছল হয়, সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে এবং আমরা সেভাবেই বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।’

‘সমগ্র বাংলাদেশেই শান্তি, নিরাপত্তা এবং স্বস্তিমূলক পরিবেশ আমাদের দরকার। জাতির পিতা আমাদেরকে দেশ দিয়ে গেছেন। এই দেশকে আমাদের গড়ে তুলতে হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ হিসেবে।’

‘আমাদের কোনো অঞ্চল যেন অবহেলিত না থাকে সেটাই আমরা চাই’।

পাহাড়ি এলাকার স্কুলগুলোকে আবাসিক সুবিধা সংযোজনের পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘যদিও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করেছি, ছেলে মেয়েরা যাচ্ছে। কিন্তু আমি মনে করি আবাসিক স্কুল করে দিলে এত এত দূর দূরান্তে সব সময় যোগাযোগ করা প্রয়োজন হবে না। সেখানে থেকে তারা পড়াশোনা করতে পারবে।’

‘কয়েকটা আবাসিক স্কুল রয়েছে, কিন্তু আমরা চাইছি আরও কিছু আবাসিক স্কুল হোক।’

এর আগে বান্দরবান পলিটেকনিক স্কুল ও কলেজের শিক্ষক প্রকাশ চন্দ্র দে, বান্দরবান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী কিকিওয়ে মামরা এবং বান্দরবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু তালহা জুবায়ের বক্তব্য দেন।

জুবায়ের বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি বান্দরবান জেলা সফর করবেন, আমরা আপনাকে দেখতে চাই। আমাদের মাঝে পেতে চাই। আমরা অপেক্ষায় থাকলাম।’

জেলা প্রশাসকও বলেন, ‘আপনি ২০১২ সালের ১৭ নভেম্বর সফর করেছেন। এরপর দীর্ঘ সময় কেটে গেছে। আপনাকে দেখার জন্য এই অঞ্চলের মানুষ উন্মুখ হয়ে আছে। আপনি কবে এই অঞ্চলে সফর করবেন?’

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কেবল ২০১২ সাল না, আমি বহুবার বান্দরবান এমনকি পার্বত্য চট্টগ্রামের এমন কোনো উপজেলা নাই যেখানে আমি না ঘুরেছি। প্রায় প্রত্যেকটা জায়গায় আমি গিয়েছি।’

‘এত কাজ থাকে, তারপরও আমি চেষ্টা করব যেতে। যাব আশা করব।’