ঢাকা ১০:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
একটি রাজনৈতিক দল বিভিন্ন এলাকা থেকে ভোটারদের ঢাকায় স্থানান্তর করে আনছে: ফখরুলের অভিযোগ নরসিংদীতে দুই ব্যবসায়ীর ঝগড়ায় একজনের মৃত্যু, অভিযুক্তর বাড়িতে ভাঙচুর-আগুন ৭ কলেজ নিয়ে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ অধ্যাদেশ চূড়ান্ত আমি এসেছি শুধু শুনতে, শিখতে এবং একসঙ্গে কাজ করার মনোভাব নিয়ে এগিয়ে যেতে: জাইমা রহমান চাকরির ক্ষেত্রে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হয়েছে কিনা তা দেখা উচিত : আমীর খসরু ওসমানী হাসপাতাল ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার যুক্তরাষ্ট্রেকেও খেসারত দিতে হবে, ফরাসি কৃষিমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি ভুয়া জরিপ ও মিথ্যা প্রচারণা দিয়ে রাজনৈতিক ইতিহাস বদলানো যাবে না : দুদু গণ-অভ্যুত্থানের নিষ্ঠুরতম খুনিদের বিচার নিশ্চিত করা হবে : তাজুল ইসলাম এক্সপেকটেশন যদি ১০ থাকে, অন্তত চার তো অর্জন করতে পেরেছি : আসিফ নজরুল

কোমলমতি ছেলেমেয়েরা যেন জঙ্গিবাদের পথে না যায়: প্রধানমন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কোমলমতি ছেলেমেয়েরা যেন জঙ্গিবাদের পথে না যায়, সে জন্য সমগ্র জাতিকে সচেতন হওয়ার তাগিদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়া রোধে অভিভাবক ও তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নজর রাখার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি ভুল পথ। এ ভুল পথে যেন ছেলেমেয়েরা না যায়, সে জন্য সমগ্র জাতিকে সচেতন করতে হবে। জঙ্গিবাদবিরোধী প্রচার চালাতে হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর কুর্মিটোলায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান-র‌্যাবের সদর দফতরে বাহিনীটির ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

এ সময় জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় নানা পদক্ষেপ নিয়ে সারাবিশ্বে বাংলাদেশ প্রশংসিত হয়েছে উল্লেখ করে এর জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জনগণকে কৃতিত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, অনেকে মনে করে কিভাবে আমরা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সফল কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আমাদের বাহিনীগুলোর পাশাপাশি জনগণও সচেতন ভূমিকা রেখেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, জঙ্গিবাদ শুধু আমাদের দেশের সমস্যা নয়, এটি একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। আমাদের দেশে একটি অঘটন ঘটে গেছে, তা হল- হলি আর্টিজানে হামলা। অনেকে ভেবেছিল আমরা আমাদের এ সমস্যাটিকে মোকাবেলা করতে পারব না। কিন্তু র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে আমরা হলি আর্টিজানের বিষয়টি মোকাবেলা করেছি।

তিনি বলেন, শুধু হলি আর্টিজান নয়, আশুলিয়া, মিরপুর, দারুস সালামে জঙ্গিবাদবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছে র‌্যাব। এ জন্য আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই।

শেখ হাসিনা বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলামে সন্ত্রাসবাদের স্থান করে না। কিন্তু একটি গোষ্ঠী ইসলামকে কাজে লাগিয়ে সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গিবাদের মদদ দিচ্ছে। যারা সন্ত্রাসী-জঙ্গিবাদে বিশ্বাসী তাদের কোনো দেশ নেই, তাদের কোনো ধর্ম নেই। তারা সমাজের শত্রু, দেশের শত্রু, জাতির শত্রু।

মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন হওয়ার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে এরই মধ্যে যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। কেউ যদি মাদকে জড়িয়ে পড়ে, তবে সেটি যে তার পরিবারের জন্য কতটা কষ্টের, তা ওই পরিবারই বোঝে।

তিনি বলেন, আমরা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যেমন সফলতা অর্জন করেছি, মাদকের বিরুদ্ধেও র‌্যাবকে অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। এরই মধ্যে তারা অনেক সফল অভিযান চালিয়েছে। যারা উৎপাদন করে, পরিবহন করে, বিক্রি করে এবং সেবন করে সবাই সমান অপরাধী। এ বিষয়েও র‌্যাবকে বিশিষ্ট ভূমিকা রাখতে হবে।

সুন্দরবনে জলদস্যুদের উৎপাত দমনে র‌্যাবের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুন্দরবনে দেখি জলদস্যুদের উৎপাত। আমরা এর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করলাম। র‌্যাব জলদস্যুদের মোকাবেলায় সফলতা অর্জন করেছে। কঠোর অবস্থান থাকার পর অনেকে জলদস্যুতা ছেড়ে দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে।

‘জলদস্যুরা শুধু আত্মসমর্পণ করলে হবে না, তাদের জীবন-জীবিকার ব্যবস্থাও করে দিতে হবে। তাদের আমরা আর্থিক সহায়তা দিচ্ছি। তারা জামিন পাওয়ার পর যেন স্বাধীন জীবিকায় যেতে পারে আমরা সেই ব্যবস্থা করে দিচ্ছি’, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। এটি এমনি এমনি হয়নি, এটি আমাদের অর্জন করতে হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে আমাদের একান্তভাবে কাজ করে যেতে হবে। বাংলাদেশের অগ্রগতি আর থেমে থাকবে না। ২০৪১ সালে আমাদের দেশ কেমন হবে আমরা তার পরিকল্পনা করেছি। আশা করি, বাংলাদেশ সত্যিকার সোনার বাংলা হিসেবে বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠা হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

উত্তরায় নিরাপত্তাকর্মীকে পিটিয়ে অস্ত্র ছিনতাই-অপহরণ

কোমলমতি ছেলেমেয়েরা যেন জঙ্গিবাদের পথে না যায়: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০২:১৪:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ মে ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কোমলমতি ছেলেমেয়েরা যেন জঙ্গিবাদের পথে না যায়, সে জন্য সমগ্র জাতিকে সচেতন হওয়ার তাগিদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়া রোধে অভিভাবক ও তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নজর রাখার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি ভুল পথ। এ ভুল পথে যেন ছেলেমেয়েরা না যায়, সে জন্য সমগ্র জাতিকে সচেতন করতে হবে। জঙ্গিবাদবিরোধী প্রচার চালাতে হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর কুর্মিটোলায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান-র‌্যাবের সদর দফতরে বাহিনীটির ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

এ সময় জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় নানা পদক্ষেপ নিয়ে সারাবিশ্বে বাংলাদেশ প্রশংসিত হয়েছে উল্লেখ করে এর জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জনগণকে কৃতিত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, অনেকে মনে করে কিভাবে আমরা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সফল কার্যক্রম পরিচালনা করছি। আমাদের বাহিনীগুলোর পাশাপাশি জনগণও সচেতন ভূমিকা রেখেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, জঙ্গিবাদ শুধু আমাদের দেশের সমস্যা নয়, এটি একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা। আমাদের দেশে একটি অঘটন ঘটে গেছে, তা হল- হলি আর্টিজানে হামলা। অনেকে ভেবেছিল আমরা আমাদের এ সমস্যাটিকে মোকাবেলা করতে পারব না। কিন্তু র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে আমরা হলি আর্টিজানের বিষয়টি মোকাবেলা করেছি।

তিনি বলেন, শুধু হলি আর্টিজান নয়, আশুলিয়া, মিরপুর, দারুস সালামে জঙ্গিবাদবিরোধী অভিযান পরিচালনা করেছে র‌্যাব। এ জন্য আমি তাদের ধন্যবাদ জানাই।

শেখ হাসিনা বলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলামে সন্ত্রাসবাদের স্থান করে না। কিন্তু একটি গোষ্ঠী ইসলামকে কাজে লাগিয়ে সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গিবাদের মদদ দিচ্ছে। যারা সন্ত্রাসী-জঙ্গিবাদে বিশ্বাসী তাদের কোনো দেশ নেই, তাদের কোনো ধর্ম নেই। তারা সমাজের শত্রু, দেশের শত্রু, জাতির শত্রু।

মাদকের বিরুদ্ধে সবাইকে সচেতন হওয়ার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে এরই মধ্যে যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। কেউ যদি মাদকে জড়িয়ে পড়ে, তবে সেটি যে তার পরিবারের জন্য কতটা কষ্টের, তা ওই পরিবারই বোঝে।

তিনি বলেন, আমরা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে যেমন সফলতা অর্জন করেছি, মাদকের বিরুদ্ধেও র‌্যাবকে অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে। এরই মধ্যে তারা অনেক সফল অভিযান চালিয়েছে। যারা উৎপাদন করে, পরিবহন করে, বিক্রি করে এবং সেবন করে সবাই সমান অপরাধী। এ বিষয়েও র‌্যাবকে বিশিষ্ট ভূমিকা রাখতে হবে।

সুন্দরবনে জলদস্যুদের উৎপাত দমনে র‌্যাবের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুন্দরবনে দেখি জলদস্যুদের উৎপাত। আমরা এর বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করলাম। র‌্যাব জলদস্যুদের মোকাবেলায় সফলতা অর্জন করেছে। কঠোর অবস্থান থাকার পর অনেকে জলদস্যুতা ছেড়ে দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে।

‘জলদস্যুরা শুধু আত্মসমর্পণ করলে হবে না, তাদের জীবন-জীবিকার ব্যবস্থাও করে দিতে হবে। তাদের আমরা আর্থিক সহায়তা দিচ্ছি। তারা জামিন পাওয়ার পর যেন স্বাধীন জীবিকায় যেতে পারে আমরা সেই ব্যবস্থা করে দিচ্ছি’, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। এটি এমনি এমনি হয়নি, এটি আমাদের অর্জন করতে হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তুলতে আমাদের একান্তভাবে কাজ করে যেতে হবে। বাংলাদেশের অগ্রগতি আর থেমে থাকবে না। ২০৪১ সালে আমাদের দেশ কেমন হবে আমরা তার পরিকল্পনা করেছি। আশা করি, বাংলাদেশ সত্যিকার সোনার বাংলা হিসেবে বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠা হবে।