ঢাকা ০১:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আমাদের পরবর্তী গণঅভ্যুত্থান জামায়াতের বিরুদ্ধে হবে: গোলাম মাওলা রনি একাত্তরে দেশ চায়নি জামায়াত, ইশতেহারেও ইসলাম নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণতন্ত্রের পক্ষে অবদান রাখা বুদ্ধিজীবীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি:সংসদে হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান জুলাই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড একক কেউ নন: বিরোধীদলীয় নেতা হাসিনাকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝোলাতে পুরো বাংলাদেশ ঐক্যবদ্ধ: নাসীরুদ্দীন ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘোষণা রিজার্ভ বেড়ে কত বিলিয়ন ডলার, জানাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ ও রপ্তানি বৃদ্ধির রোডম্যাপ তুলে ধরেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী জামায়াতকে নিষিদ্ধ করে কি একদলীয় শাসন কায়েম করবে বিএনপি, প্রশ্ন এটিএম আজহারের বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্কের অভিযোগে মাগুরায় কৃষকদল নেতা গ্রেপ্তার

স্ত্রীকে সভাপতি বানাতে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার কাণ্ড

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বগুড়ার ধুনটে স্ত্রী আমেনা বেগমকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি করতে কামরুল হাসান আনসারী নামে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা তাদের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি করেছেন।

বিষয়টি জানাজানি হলে জনগণের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিকার পেতে দাতা সদস্য সরোয়ার হোসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে জানা গেছে, ধুনটের চৌকিবাড়ী ইউনিয়নের পাঁচথুপি নিয়ামতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্যপদে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। ২৫ মার্চ মনোনয়ন ক্রয় এবং জমা দেয়ার দিন ধার্য ছিল। ওই দিন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান আনসারী তার স্ত্রী আমেনা বেগমের মনোনয়নপত্র উত্তোলন করে জমা দেন। ২৮ মার্চ নির্বাচনে আমেনা বেগম, নাসরিন নাহার, এসএম বারিকুল ইসলাম ও হোসেন আলী অভিভাবক সদস্য নির্বাচিত হন।

স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা কামরুল হাসান আনসারীর স্ত্রী আমেনা বেগম অভিভাবক সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়।

ওই বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য সরোয়ার হোসেন জানান, আমেনা বেগম তার ছেলে আসিফ হাসান আনসারীকে ধুনট ভরনশাহী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণি পাশের সনদ ও ছাড়পত্র দেখিয়ে গত ৩০ জানুয়ারি পাঁচথুপি নিয়ামতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করান।

আসিফ প্রকৃতপক্ষে ধুনট এনইউ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির নিয়মিত ছাত্র। তার রোল নং-১৮২, শাখা-গ। সে ২০১৬ সালে ধুনট সদর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। উত্তীর্ণ হয়ে ধুনট এনইউ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়।

তারপরও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা কামরুল তার স্ত্রীকে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত করতে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি করে অবৈধভাবে বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য নির্বাচিত করেছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নাজমুন নাহার জানান, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত এবং লিখিতভাবে অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ধুনট ভরনশাহী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল মান্নান বলেন, কামরুল তার সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে আসিফের তথ্য গোপন করে ২০১৭ সালের মার্চে চতুর্থ শ্রেণিতে ভর্তি করায়। কিন্তু সে কোনোদিন বিদ্যালয়ে আসেনি।

পরবর্তীতে সে চতুর্থ শ্রেণির ছাড়পত্র নিয়েছে। তবে তার জালিয়াতির বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিকার পেতে বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য সরোয়ার হোসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা কামরুল হাসান আনসারী বলেন, তার ছেলে ছাত্র হিসেবে ভালো না। তাই উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি করার পর আরও ভালো ফলাফলের আশায় তাকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়েছে। এ কারণে তার অভিভাবক হিসেবে স্ত্রী ওই বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল হাসান জানান, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা বলেন, ওই বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য সারোয়ার হোসেনের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আমাদের পরবর্তী গণঅভ্যুত্থান জামায়াতের বিরুদ্ধে হবে: গোলাম মাওলা রনি

স্ত্রীকে সভাপতি বানাতে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার কাণ্ড

আপডেট সময় ০৯:৩৯:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বগুড়ার ধুনটে স্ত্রী আমেনা বেগমকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি করতে কামরুল হাসান আনসারী নামে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা তাদের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি করেছেন।

বিষয়টি জানাজানি হলে জনগণের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিকার পেতে দাতা সদস্য সরোয়ার হোসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে জানা গেছে, ধুনটের চৌকিবাড়ী ইউনিয়নের পাঁচথুপি নিয়ামতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্যপদে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। ২৫ মার্চ মনোনয়ন ক্রয় এবং জমা দেয়ার দিন ধার্য ছিল। ওই দিন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান আনসারী তার স্ত্রী আমেনা বেগমের মনোনয়নপত্র উত্তোলন করে জমা দেন। ২৮ মার্চ নির্বাচনে আমেনা বেগম, নাসরিন নাহার, এসএম বারিকুল ইসলাম ও হোসেন আলী অভিভাবক সদস্য নির্বাচিত হন।

স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা কামরুল হাসান আনসারীর স্ত্রী আমেনা বেগম অভিভাবক সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়।

ওই বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য সরোয়ার হোসেন জানান, আমেনা বেগম তার ছেলে আসিফ হাসান আনসারীকে ধুনট ভরনশাহী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণি পাশের সনদ ও ছাড়পত্র দেখিয়ে গত ৩০ জানুয়ারি পাঁচথুপি নিয়ামতিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করান।

আসিফ প্রকৃতপক্ষে ধুনট এনইউ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির নিয়মিত ছাত্র। তার রোল নং-১৮২, শাখা-গ। সে ২০১৬ সালে ধুনট সদর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। উত্তীর্ণ হয়ে ধুনট এনইউ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়।

তারপরও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা কামরুল তার স্ত্রীকে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত করতে সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি করে অবৈধভাবে বিদ্যালয়ের অভিভাবক সদস্য নির্বাচিত করেছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নাজমুন নাহার জানান, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত এবং লিখিতভাবে অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ধুনট ভরনশাহী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল মান্নান বলেন, কামরুল তার সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে আসিফের তথ্য গোপন করে ২০১৭ সালের মার্চে চতুর্থ শ্রেণিতে ভর্তি করায়। কিন্তু সে কোনোদিন বিদ্যালয়ে আসেনি।

পরবর্তীতে সে চতুর্থ শ্রেণির ছাড়পত্র নিয়েছে। তবে তার জালিয়াতির বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিকার পেতে বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য সরোয়ার হোসেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা কামরুল হাসান আনসারী বলেন, তার ছেলে ছাত্র হিসেবে ভালো না। তাই উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি করার পর আরও ভালো ফলাফলের আশায় তাকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করা হয়েছে। এ কারণে তার অভিভাবক হিসেবে স্ত্রী ওই বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়েছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কামরুল হাসান জানান, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা বলেন, ওই বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য সারোয়ার হোসেনের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।