ঢাকা ১২:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আমাদের পরবর্তী গণঅভ্যুত্থান জামায়াতের বিরুদ্ধে হবে: গোলাম মাওলা রনি একাত্তরে দেশ চায়নি জামায়াত, ইশতেহারেও ইসলাম নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড একক কেউ নন: বিরোধীদলীয় নেতা হাসিনাকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝোলাতে পুরো বাংলাদেশ ঐক্যবদ্ধ: নাসীরুদ্দীন ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘোষণা মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ ও রপ্তানি বৃদ্ধির রোডম্যাপ তুলে ধরেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী জামায়াতকে নিষিদ্ধ করে কি একদলীয় শাসন কায়েম করবে বিএনপি, প্রশ্ন এটিএম আজহারের বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্কের অভিযোগে মাগুরায় কৃষকদল নেতা গ্রেপ্তার পরীক্ষায় নকল নিয়ে অপপ্রচার চালালে গ্রেফতার করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী সৌদি আরবে আরামকো’র হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, সব আরোহীর মৃত্যু

বোনকে হত্যার জন্য বাবার বিচার দাবি

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

হবিগঞ্জের আলোচিত বিউটি হত্যা মামলার ঘটনায় নিজের দায় স্বীকারের পর বাবা জড়িত থাকলে তারও বিচার চান একমাত্র ছেলে সাদেক মিয়া। নাতনি হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকলে নিজের ছেলে সায়েদ আলীর ফাঁসি দাবি করেন তার বাবা বৃদ্ধ সঞ্জব আলী।

নাতনিকে নৃসংশভাবে হত্যা সহ্য করতে পারছেন না তার নানি ফাতেমা বেগমও। তাই তার দেয়া তথ্যেই চাঞ্চল্যকর এ মামলাটির জট খোলে। তিনি নিশ্চুপ থাকতে না পারায়ই খুব দ্রুত উক্ত মামলার লোমহর্ষক রহস্য বেরিয়ে এসেছে।

ফাতেমা বেগমের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আর মিথ্যা বলতে পারেননি বিউটির বাবা পাষণ্ড সায়েদ আলী এবং হত্যার মূল নায়ক ময়না মিয়া। তারা উভয়েই অকপটে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। বর্ণনা করেছেন হত্যার লোমহর্ষক কাহিনী।

এদিকে নিহত বিউটি আক্তারের বাড়ি এখন জনমানব শূন্য। খা খা করছে হত্যার নেপথ্যের নায়ক ময়না মিয়ার বাড়িও। বিউটির নানি ফাতেমা বেগম জানান, ঘটনার রাতে বিউটিকে তার কাছ থেকে নিয়েছে তার বাবা সায়েদ আলী ও ময়না মিয়া। এরপর বলেছে তাকে হত্যা করেছে বাবুল মিয়া।

তিনি বলেন, কে হত্যা করেছে তা আমি দেখিনি। সেটি বলতেও পারব না। কিন্তু তার বাবা ও ময়না আমার কাছ থেকে এসে তাকে নিয়ে গেছে। তারা কি করেছে, কোথায় নিয়েছে, কে মেরেছে তা আমি দেখিওনি, বলতেও পারব না। যদি তারা এমন নৃসংশ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকে তবে তাদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন তিনি।

নিহত বিউটির ভাই সাদেক মিয়া জানান, এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না বাবাই তার বোনকে হত্যার সঙ্গে জড়িত। তিনি সেটি মানতে পারছেন না। তবে যদি সত্যিই বাবা এটির সঙ্গে জড়িত থাকেন তার কঠোর শাস্তির দাবি জানান তিনি।

ব্রাহ্মণডোরা ইউপি মেম্বার সাহাব উদ্দিন ফরিদ জানান, এ ঘটনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। বাবা তার মেয়েকে মেরে ফেলবে- এ কথা বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। বাবা-মায়ের কাছেও যদি সন্তান নিরাপদ না হয়, তবে আর কোথায় তারা নিরাপদ থাকবে।

বিউটির দাদা সঞ্জব আলী (৭৫) জানান, ঘাতক ময়নার প্ররোচনায় তার ছেলে সায়েদ আলী হত্যাকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে। ময়না মিয়ার ফাঁসি দাবি করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, তার ছেলে যদি এ ঘটনায় জড়িত থাকে তবে তারও ফাঁসি হোক।

উল্লেখ্য, গত ১৬ মার্চ রাতে লাখাই উপজেলা গুনিপুর গ্রামে নানার বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার ব্রাহ্মণডোরা গ্রামের সায়েদ আলীর মেয়ে বিউটি আক্তার। ১৭ মার্চ হাওর থেকে তার ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই সময় হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠে বিউটির কথিত প্রেমিক বাবুল মিয়ার দিকে।

হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ায় দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিষয়টি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ১৮ মার্চ বিউটির বাবা সায়েদ আলী বাদী হয়ে বাবুল মিয়া ও তার মা কলম চান বিবির বিরুদ্ধে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করলে দুই আসামিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।

এরপর মুখে কুলুপ এঁটে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামে। শেষ পর্যন্ত নিহত বিউটির নানি ফাতেমা বেগম এ ঘটনার জট খুলে দেন। হত্যাকাণ্ডের মূল নায়ক ময়না মিয়া ও বিউটির বাবা সায়েদ আলীকে গ্রেফতার করা হয়। তিনজনকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করলে সায়েদ আলী এবং ময়না মিয়াও অকপটে স্বীকার করে হত্যাকাণ্ডের কথা। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আমাদের পরবর্তী গণঅভ্যুত্থান জামায়াতের বিরুদ্ধে হবে: গোলাম মাওলা রনি

বোনকে হত্যার জন্য বাবার বিচার দাবি

আপডেট সময় ০৯:৩১:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

হবিগঞ্জের আলোচিত বিউটি হত্যা মামলার ঘটনায় নিজের দায় স্বীকারের পর বাবা জড়িত থাকলে তারও বিচার চান একমাত্র ছেলে সাদেক মিয়া। নাতনি হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকলে নিজের ছেলে সায়েদ আলীর ফাঁসি দাবি করেন তার বাবা বৃদ্ধ সঞ্জব আলী।

নাতনিকে নৃসংশভাবে হত্যা সহ্য করতে পারছেন না তার নানি ফাতেমা বেগমও। তাই তার দেয়া তথ্যেই চাঞ্চল্যকর এ মামলাটির জট খোলে। তিনি নিশ্চুপ থাকতে না পারায়ই খুব দ্রুত উক্ত মামলার লোমহর্ষক রহস্য বেরিয়ে এসেছে।

ফাতেমা বেগমের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আর মিথ্যা বলতে পারেননি বিউটির বাবা পাষণ্ড সায়েদ আলী এবং হত্যার মূল নায়ক ময়না মিয়া। তারা উভয়েই অকপটে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। বর্ণনা করেছেন হত্যার লোমহর্ষক কাহিনী।

এদিকে নিহত বিউটি আক্তারের বাড়ি এখন জনমানব শূন্য। খা খা করছে হত্যার নেপথ্যের নায়ক ময়না মিয়ার বাড়িও। বিউটির নানি ফাতেমা বেগম জানান, ঘটনার রাতে বিউটিকে তার কাছ থেকে নিয়েছে তার বাবা সায়েদ আলী ও ময়না মিয়া। এরপর বলেছে তাকে হত্যা করেছে বাবুল মিয়া।

তিনি বলেন, কে হত্যা করেছে তা আমি দেখিনি। সেটি বলতেও পারব না। কিন্তু তার বাবা ও ময়না আমার কাছ থেকে এসে তাকে নিয়ে গেছে। তারা কি করেছে, কোথায় নিয়েছে, কে মেরেছে তা আমি দেখিওনি, বলতেও পারব না। যদি তারা এমন নৃসংশ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে থাকে তবে তাদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন তিনি।

নিহত বিউটির ভাই সাদেক মিয়া জানান, এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না বাবাই তার বোনকে হত্যার সঙ্গে জড়িত। তিনি সেটি মানতে পারছেন না। তবে যদি সত্যিই বাবা এটির সঙ্গে জড়িত থাকেন তার কঠোর শাস্তির দাবি জানান তিনি।

ব্রাহ্মণডোরা ইউপি মেম্বার সাহাব উদ্দিন ফরিদ জানান, এ ঘটনা সত্যিই অবিশ্বাস্য। বাবা তার মেয়েকে মেরে ফেলবে- এ কথা বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। বাবা-মায়ের কাছেও যদি সন্তান নিরাপদ না হয়, তবে আর কোথায় তারা নিরাপদ থাকবে।

বিউটির দাদা সঞ্জব আলী (৭৫) জানান, ঘাতক ময়নার প্ররোচনায় তার ছেলে সায়েদ আলী হত্যাকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে। ময়না মিয়ার ফাঁসি দাবি করে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, তার ছেলে যদি এ ঘটনায় জড়িত থাকে তবে তারও ফাঁসি হোক।

উল্লেখ্য, গত ১৬ মার্চ রাতে লাখাই উপজেলা গুনিপুর গ্রামে নানার বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার ব্রাহ্মণডোরা গ্রামের সায়েদ আলীর মেয়ে বিউটি আক্তার। ১৭ মার্চ হাওর থেকে তার ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই সময় হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠে বিউটির কথিত প্রেমিক বাবুল মিয়ার দিকে।

হত্যাকাণ্ডের এ ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ায় দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বিষয়টি ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ১৮ মার্চ বিউটির বাবা সায়েদ আলী বাদী হয়ে বাবুল মিয়া ও তার মা কলম চান বিবির বিরুদ্ধে শায়েস্তাগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করলে দুই আসামিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।

এরপর মুখে কুলুপ এঁটে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটনে মাঠে নামে। শেষ পর্যন্ত নিহত বিউটির নানি ফাতেমা বেগম এ ঘটনার জট খুলে দেন। হত্যাকাণ্ডের মূল নায়ক ময়না মিয়া ও বিউটির বাবা সায়েদ আলীকে গ্রেফতার করা হয়। তিনজনকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করলে সায়েদ আলী এবং ময়না মিয়াও অকপটে স্বীকার করে হত্যাকাণ্ডের কথা। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন।