ঢাকা ০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

পরীক্ষায় নকল নিয়ে অপপ্রচার চালালে গ্রেফতার করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

পরীক্ষা ও শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ বা অন্য কোনো মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ালে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, কোনো অবস্থাতেই প্রশ্ন ফাঁস বরদাশত করা হবে না। কেউ করলে এমন শাস্তি দেওয়া হবে, যা দেশের মানুষ সারাজীবন মনে রাখবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, পরীক্ষায় নকল হয়নি, অথচ সোশ্যাল মিডিয়া বা কোনো মিডিয়ায় যদি এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করা হয় তবে অবশ্যই পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে এবং কাস্টডিতে নেবে। তদন্তে সত্যতা মিললে তাকে অবশ্যই গ্রেফতার করা হবে। সেই সংক্রান্ত আইন করা হয়েছে।

রবিবার সিলেট জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম মিলনায়তনে মতবিনিময় সভায় এই ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী। এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু, সুশৃঙ্খল ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সিলেট শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের কেন্দ্র প্রধানদের নিয়ে এই মতবিনিময়ের আয়োজন করা হয়।

সাইবার সিকিউরিটি ও আইনি সংস্কারের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেছেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস না হওয়া সত্ত্বে ও যারা ফাঁসের মিথ্যা প্রচার চালাবে, তাদের সাইবার সিকিউরিটির আওতায় ট্র্যাক করা হবে। বর্তমান আইনে বিভ্রান্তি ধরার বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। সেজন্য পাবলিক পরীক্ষা অ্যাক্ট ১৯৮০ সংশোধন করা হয়েছে। জাতীয় সংসদে এটি বিল আকারে উত্থাপন করা হবে। নকল প্রতিরোধ

আইনটি নতুনভাবে সংস্কার ও যুগোপযোগী করার উদ্দেশ্যে উত্থাপন করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আপনি প্রোপাগান্ডা করবেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করবেন, আর আমরা সবাই কি চুপ করে বসে থাকব? এটা কোনো জোকস নয়, এটা এডুকেশন। বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করলেই তাকে অপরাধী হিসেবে আইনের আওতায় আনা হবে।’

শিক্ষাঙ্গন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনাও জানালেন এহছানুল হক মিলন। বললেন, ‘শিক্ষাঙ্গনে একটি স্বচ্ছ ও গতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে সরকার বদ্ধপরিকর। প্রতিষ্ঠান প্রধানরা মামলা দিয়ে যে জটিলতা তৈরি করেন, তা আর চলবে না। প্রয়োজনে আমরা আলাদা জুডিশিয়াল বেঞ্চ দিতে বলব। এখন থেকে এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষকদের অফিশিয়ালি বদলি করা হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক তদবির বন্ধ এবং ৫৫ বছরের পুরোনো এমপিও নীতিমালা সংশোধন করে পুরো সিস্টেমকে ডেভেলপ করা হবে।’

পরীক্ষায় স্বচ্ছতা আনতে এবার প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হবে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত করার চেষ্টা বা যেকোনো বিশৃঙ্খলা রুখতে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা এবার ‘বডি-ওর্ন ক্যামেরা’ ব্যবহার করবেন। প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক। কেন্দ্রগুলোতে মনিটরসহ কন্ট্রোল রুম থাকতে হবে এবং ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণ করতে হবে।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট শিক্ষা বোর্ডের সচিব চৌধুরী মামুন আকবরসহ স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কেন্দ্র প্রধানগণ।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

পরীক্ষায় নকল নিয়ে অপপ্রচার চালালে গ্রেফতার করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী

আপডেট সময় ০৭:১০:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬

আকাশ জাতীয় ডেস্ক: 

পরীক্ষা ও শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ বা অন্য কোনো মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ালে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, কোনো অবস্থাতেই প্রশ্ন ফাঁস বরদাশত করা হবে না। কেউ করলে এমন শাস্তি দেওয়া হবে, যা দেশের মানুষ সারাজীবন মনে রাখবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, পরীক্ষায় নকল হয়নি, অথচ সোশ্যাল মিডিয়া বা কোনো মিডিয়ায় যদি এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করা হয় তবে অবশ্যই পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে এবং কাস্টডিতে নেবে। তদন্তে সত্যতা মিললে তাকে অবশ্যই গ্রেফতার করা হবে। সেই সংক্রান্ত আইন করা হয়েছে।

রবিবার সিলেট জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম মিলনায়তনে মতবিনিময় সভায় এই ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী। এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু, সুশৃঙ্খল ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সিলেট শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের কেন্দ্র প্রধানদের নিয়ে এই মতবিনিময়ের আয়োজন করা হয়।

সাইবার সিকিউরিটি ও আইনি সংস্কারের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেছেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁস না হওয়া সত্ত্বে ও যারা ফাঁসের মিথ্যা প্রচার চালাবে, তাদের সাইবার সিকিউরিটির আওতায় ট্র্যাক করা হবে। বর্তমান আইনে বিভ্রান্তি ধরার বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। সেজন্য পাবলিক পরীক্ষা অ্যাক্ট ১৯৮০ সংশোধন করা হয়েছে। জাতীয় সংসদে এটি বিল আকারে উত্থাপন করা হবে। নকল প্রতিরোধ

আইনটি নতুনভাবে সংস্কার ও যুগোপযোগী করার উদ্দেশ্যে উত্থাপন করা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আপনি প্রোপাগান্ডা করবেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করবেন, আর আমরা সবাই কি চুপ করে বসে থাকব? এটা কোনো জোকস নয়, এটা এডুকেশন। বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করলেই তাকে অপরাধী হিসেবে আইনের আওতায় আনা হবে।’

শিক্ষাঙ্গন নিয়ে সরকারের পরিকল্পনাও জানালেন এহছানুল হক মিলন। বললেন, ‘শিক্ষাঙ্গনে একটি স্বচ্ছ ও গতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে সরকার বদ্ধপরিকর। প্রতিষ্ঠান প্রধানরা মামলা দিয়ে যে জটিলতা তৈরি করেন, তা আর চলবে না। প্রয়োজনে আমরা আলাদা জুডিশিয়াল বেঞ্চ দিতে বলব। এখন থেকে এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষকদের অফিশিয়ালি বদলি করা হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক তদবির বন্ধ এবং ৫৫ বছরের পুরোনো এমপিও নীতিমালা সংশোধন করে পুরো সিস্টেমকে ডেভেলপ করা হবে।’

পরীক্ষায় স্বচ্ছতা আনতে এবার প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করা হবে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত করার চেষ্টা বা যেকোনো বিশৃঙ্খলা রুখতে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা এবার ‘বডি-ওর্ন ক্যামেরা’ ব্যবহার করবেন। প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন বাধ্যতামূলক। কেন্দ্রগুলোতে মনিটরসহ কন্ট্রোল রুম থাকতে হবে এবং ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণ করতে হবে।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট শিক্ষা বোর্ডের সচিব চৌধুরী মামুন আকবরসহ স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কেন্দ্র প্রধানগণ।