আকাশ স্পোর্টস ডেস্ক:
বার্সেলোনা ও আর্জেন্টিনার অপরিহার্য সদস্য লিওনেল মেসি। গত এক দশক ধরে উভয়কে সমান সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি ভালো করলেই দুই দলে জয়ের সুবাতাস বয়েছে। একটু পা হড়কালেই ব্যর্থতার ভরাডুবি ঘটেছে। আর না খেললে তো কথায় নেই, প্রায় নিশ্চিত সাফল্যবঞ্চিত থাকে দুই পরাশক্তি।
মেসির বয়স এখন ৩০ বছর। দিন দিন বয়স বাড়ছে। একদিন তিনিও অবসর নেবেন, বুটজোড়া তুলে রাখবেন এবং চিরতরে ফুটবলকে বিদায় জানাবেন। তো ওই সময়ে কী হবে বার্সা-আর্জেন্টিনার? এখন এটিই হয়ে দাঁড়িয়েছে কোটি ডলারের প্রশ্ন।
সঙ্গত কারণেই প্রশ্নটা এসে যাচ্ছে। গত এক দশকে মেসি ছাড়া বার্সা-আর্জেন্টিনার সাফল্যের হার প্রায় শূন্যের কোটায়! এ সময় বেশ কিছু দৃষ্টিকটু দৃশ্য দেখতে হয়েছে দুদলের ভক্ত-সমর্থকদের, যা চরম অবর্ণণীয় ও অভাবনীয়।
এই যেমন ধরুন- লা লিগায় সবশেষ সেভিয়ার বিপক্ষে বার্সেলোনার ম্যাচের কথা। এ ম্যাচে প্রথম এক ঘণ্টায় দারুণ ধুঁকতে হয়েছে মেসিবিহীন বার্সাকে। প্রথমার্ধে ২ গোলে পিছিয়ে পড়ে পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে থাকা দলটি। এতে হারের শঙ্কা জেঁকে বসে তাদের কাঁধে। পরে ছোট ম্যাজিসিয়ান নামলেই ম্যাচের ছবি পাল্টে যায়।
ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন তিনি। ম্যাচের প্রায় শেষ দিকে লুইস সুয়ারেজকে দিয়ে গোল করিয়ে ব্যবধান কমান। আর অন্তিমলগ্নে সমতাসূচক গোল করে সবাইকে হাফ ছেড়ে বাঁচান। শেষ পর্যন্ত তার অনবদ্য নৈপুণ্যেই ২-২ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়ে কাতালানরা।এতে এবারের লা লিগায় তাদের অপরাজেয় যাত্রাও অব্যাহত থাকে।
কেবল এ ম্যাচেই নয়, চলতি মৌসুমে আরও কয়েকটি ম্যাচে বার্সার এ চিত্র দেখা গেছে। লা লিগায় এস্প্যানিওলের বিপক্ষে সংগ্রাম করতে দেখা গেছে স্প্যানিশ জায়ান্টদের। একই পরিস্থিতি দেখা গেছে কোপা ডেল রেতে সেল্টা ভিগোর বিপক্ষে।
গত কয়েক বছরে মেসির অভাব হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে আর্জেন্টিনা। এ তো কয়েক দিন আগে পেন্ডুলামের মতো হয়ে দুলছিল দুবারের বিশ্বকাপজয়ীদের বিশ্বকাপ ভাগ্য। দেবদূত হয়ে উদ্ধার করেন তাদের। একা কাঁধে বয়ে দলকে তোলেন বিশ্বকাপে। তার স্বর্গীয় বাঁ পায়ের হ্যাটট্রিকে ইকুয়েডর জয় করে আর্জেন্টাইদের রাশিয়া বিশ্বকাপের টিকিট পাইয়ে দেন ফুটবলের রাজপুত্র।
সবশেষ জ্বলন্ত সাক্ষী হয়ে আছে স্পেনের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতিম্যাচ। যে ম্যাচে চোটের কারণে খেলতে পারেননি দলের প্রাণভোমরা। সেই ম্যাচে অবর্ণনীয় লজ্জার হার বরণ করতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। রামোস-ইসকোদের কাছে স্রেফ উড়ে গেছে আলবিসেলেস্তেরা। হারটা ৬-১’র। যাকে বলে বিধ্বস্ত হয়ে চূর্ণ-বিচূর্ণ হওয়া।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























