ঢাকা ১২:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতীয় পতাকা আমাকে প্রতি মুহূর্তে সততা-দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেয় আর্জেন্টিনাকে নিয়ে ব্যঙ্গ করে গান গাওয়ায় ১৭ শিক্ষার্থীকে পেটালেন শিক্ষক গাজী নজরুলের আরেকটি ভিডিও ভাইরাল, ‘নতুন তরুণীকে’ ঘিরে আলোচনা তুঙ্গে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে শেখ হাসিনার ফোনালাপ, যা বললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তিন দাবিতে শনিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সুফিবাদী সুন্নি মহাসমাবেশ ১১২ টাকায় সরকারি চাকরি সরকারের স্বচ্ছতার নিদর্শন: ত্রাণমন্ত্রী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম লাইফ সাপোর্টে সরকারের আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ককরোচ জনতা পার্টির চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে ৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করলো বিজিবি প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের সভা চলছে

লাইভে নারী সাংবাদিকের সঙ্গে কাণ্ড, ভিডিও

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

খেলা উপলক্ষে স্টেডিয়ামে ছিল বিপুল দর্শকের সমাগম। নিউজে লাইভ দিচ্ছিলেন নারী সাংবাদিক। হঠাৎই খালি গায়ের এক ব্যক্তি এসে তার ঠোঁটে চুমু খান। ঘটনার আকস্মিকতায় ওই নারী সাংবাদিক চিৎকার করে উঠেন।

পরে আবার সামলে নিয়ে সুষ্ঠুভাবে তার দায়িত্বও সম্পন্ন করলেন তিনি। স্বভাবতই, এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনায় প্রতিবাদী হয়ে উঠেছেন পেশাজীবী নারীরা। শুরু করেছেন #LetHerDoHerJob নামের ক্যাম্পেইন।

ঘটনাস্থল ব্রাজিলের রাজধানী রিও ডি জেনেরিও। স্বাগতিক ক্লাব ভাস্কোর অভিষেক ম্যাচ ফুটবল টুর্নামেন্ট উপলক্ষে সাও জানুরিও স্টেডিয়াম ছিল দর্শকে ঠাসা। মঙ্গলবারের রাতে সেই ভিড়ের মধ্যে ব্রুনা ডিয়ালট্রি নামের একজন নারী সাংবাদিক লাইভের জন্য অবস্থান নিয়েছিলেন।

স্টেডিয়ামের পরিবেশ টিভির দর্শকদের জন্য বর্ণনা করছিলেন তিনি। এমন সময় খালি গায়ের এক ব্যক্তি হঠাৎ তার ঠোঁটে চুমু খেয়ে পেছনে চলে যান।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ব্রুনা চিৎকার করে ওঠলেও দারুণভাবে সম্পন্ন করে তার পেশাগত দায়িত্ব। যদিও বিষয়টি ছিল অপ্রত্যাশিত এবং অবমাননাকর।

পরে এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার বক্তব্য জানান ব্রুনা ডিয়ালট্রি। বলেন, এটা অস্বস্তিকর ছিল। আমার এটার প্রয়োজন ছিল না কিন্তু তবুও হলো। স্বাভাবিকভাবেই আমি অপমানিত বোধ করেছি।

এরপর তুলেছেন যৌক্তিক একটি প্রশ্ন। ক্যামেরা চলাকালে যদি এটা আমার সঙ্গে হতে পারে তাহলে অন্য মেয়েদের অবস্থা কেমন সেটা সহজেই বুঝা যাচ্ছে। আমি চুপ থাকতে পারিনি।

শুধু প্রতিক্রিয়া জানিয়েই থেমে যাননি এই প্রতিবাদী সংবাদকর্মী। প্রকাশ করেছেন ঘটনার ভিডিওটিও। এরপর সেটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। ক্রীড়া সাংবাদিকতায় জড়িত নারীরাও তাদের ভোগান্তি নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেন।

ক্রীড়া প্রযোজক পাউলো পেরেইরা লেখেছেন, কাউকে না কাউকে মুখ খুলতেই হতো। যৌন হয়রানির ঘটনা সবখানেই চলছে। এর বিরুদ্ধে সবার কথা বলতে হবে।

ব্রুনার এই ঘটনার পর আটজন নারীর উদ্যোগে হোয়াটসঅ্যাপে #LetHerDoHerJob ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। #মি টু ক্যাম্পেইনের আদলে তারা নারী সাংবাদিকদের কর্মক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনার প্রতিবাদ করছেন। যোগ দিয়েছেন দেশবিদেশের আরও নারী সাংবাদিকরা।

কিন্তু নীচু মানসিকতার মানুষ এর বিরুদ্ধচারণ করলেও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকেও পাশে পাচ্ছেন তারা। সচেতন সকলেই বলছেন, নারীকে তার কাজ করতে দাও। রুখে দাঁড়াও যৌন হয়রানি।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় পতাকা আমাকে প্রতি মুহূর্তে সততা-দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেয়

লাইভে নারী সাংবাদিকের সঙ্গে কাণ্ড, ভিডিও

আপডেট সময় ১০:৩৬:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ এপ্রিল ২০১৮

অাকাশ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

খেলা উপলক্ষে স্টেডিয়ামে ছিল বিপুল দর্শকের সমাগম। নিউজে লাইভ দিচ্ছিলেন নারী সাংবাদিক। হঠাৎই খালি গায়ের এক ব্যক্তি এসে তার ঠোঁটে চুমু খান। ঘটনার আকস্মিকতায় ওই নারী সাংবাদিক চিৎকার করে উঠেন।

পরে আবার সামলে নিয়ে সুষ্ঠুভাবে তার দায়িত্বও সম্পন্ন করলেন তিনি। স্বভাবতই, এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনায় প্রতিবাদী হয়ে উঠেছেন পেশাজীবী নারীরা। শুরু করেছেন #LetHerDoHerJob নামের ক্যাম্পেইন।

ঘটনাস্থল ব্রাজিলের রাজধানী রিও ডি জেনেরিও। স্বাগতিক ক্লাব ভাস্কোর অভিষেক ম্যাচ ফুটবল টুর্নামেন্ট উপলক্ষে সাও জানুরিও স্টেডিয়াম ছিল দর্শকে ঠাসা। মঙ্গলবারের রাতে সেই ভিড়ের মধ্যে ব্রুনা ডিয়ালট্রি নামের একজন নারী সাংবাদিক লাইভের জন্য অবস্থান নিয়েছিলেন।

স্টেডিয়ামের পরিবেশ টিভির দর্শকদের জন্য বর্ণনা করছিলেন তিনি। এমন সময় খালি গায়ের এক ব্যক্তি হঠাৎ তার ঠোঁটে চুমু খেয়ে পেছনে চলে যান।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় ব্রুনা চিৎকার করে ওঠলেও দারুণভাবে সম্পন্ন করে তার পেশাগত দায়িত্ব। যদিও বিষয়টি ছিল অপ্রত্যাশিত এবং অবমাননাকর।

পরে এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার বক্তব্য জানান ব্রুনা ডিয়ালট্রি। বলেন, এটা অস্বস্তিকর ছিল। আমার এটার প্রয়োজন ছিল না কিন্তু তবুও হলো। স্বাভাবিকভাবেই আমি অপমানিত বোধ করেছি।

এরপর তুলেছেন যৌক্তিক একটি প্রশ্ন। ক্যামেরা চলাকালে যদি এটা আমার সঙ্গে হতে পারে তাহলে অন্য মেয়েদের অবস্থা কেমন সেটা সহজেই বুঝা যাচ্ছে। আমি চুপ থাকতে পারিনি।

শুধু প্রতিক্রিয়া জানিয়েই থেমে যাননি এই প্রতিবাদী সংবাদকর্মী। প্রকাশ করেছেন ঘটনার ভিডিওটিও। এরপর সেটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। ক্রীড়া সাংবাদিকতায় জড়িত নারীরাও তাদের ভোগান্তি নিয়ে মুখ খুলতে শুরু করেন।

ক্রীড়া প্রযোজক পাউলো পেরেইরা লেখেছেন, কাউকে না কাউকে মুখ খুলতেই হতো। যৌন হয়রানির ঘটনা সবখানেই চলছে। এর বিরুদ্ধে সবার কথা বলতে হবে।

ব্রুনার এই ঘটনার পর আটজন নারীর উদ্যোগে হোয়াটসঅ্যাপে #LetHerDoHerJob ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। #মি টু ক্যাম্পেইনের আদলে তারা নারী সাংবাদিকদের কর্মক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনার প্রতিবাদ করছেন। যোগ দিয়েছেন দেশবিদেশের আরও নারী সাংবাদিকরা।

কিন্তু নীচু মানসিকতার মানুষ এর বিরুদ্ধচারণ করলেও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকেও পাশে পাচ্ছেন তারা। সচেতন সকলেই বলছেন, নারীকে তার কাজ করতে দাও। রুখে দাঁড়াও যৌন হয়রানি।