ঢাকা ০৫:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর আয়োজনে সংসদ ভবনে শিক্ষার্থীদের মধ্যাহ্নভোজ অন্তর্বর্তী সরকারের ভুলে হামের প্রাদুর্ভাব দেখতে হয়েছে: ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার ৮ মাসের শিশুকে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগ, মা আটক হরমুজ প্রণালি আগামী ৩০ দিন ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকবে: আরাঘচি রপ্তানির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী দেশে নতুন উদ্যোক্তা না আসাই আয় বৈষম্যের মূল কারণ : বাণিজ্যমন্ত্রী বিচার বাধাগ্রস্ত করতে ট্রাইব্যুনাল আইন নিয়ে রিট: চিফ প্রসিকিউটর বাজেট নিয়ে বিরোধীদলের সমালোচনা আমলে নিচ্ছি না : সড়কমন্ত্রী করমুক্ত আয়সীমা ৬ লাখ টাকা করার প্রস্তাব প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর আবার যুদ্ধ শুরু হলে ইরানের অস্তিত্ব থাকবে না: ট্রাম্প

রাজশাহীতে গাছে ঝুলছে লিচুর মুকুল, ভালো ফলনের আশা

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

লিচুর ভালো ফুল ধারণের জন্য দরকার মৃদু ঠাণ্ডার আবেশ। আর ফুল ফোটার পর যদি বৃষ্টি না হয় তবে লিচুর ফলন ভালো হওয়ার কথা। রাজশাহী অঞ্চলে এবার যখন লিচুর ফুল ফুটতে শুরু করে তখন আবহাওয়া ছিলো নাতিশীতষ্ণ। আবার ফুল ফোটার পরও বৃষ্টিপাত তেমন হয়নি।

তাই এ বছর লিচুর বাম্পার ফলনের আশা করছেন চাষি ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার লিচুর উৎপাদন হবে ভালো। তবে এ জন্য এখন চাষিদের পরিচর্যা করতে হবে গাছের। চাষিরাও অবশ্য পরিচর্যার কম করছেন না। গাছে গাছে ফুল দেখতে দেখতে তারা পরিচর্যার মাঝেই সারাদিন কাটিয়ে দিচ্ছেন বাগানে।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, গেল কয়েক বছরে শুধু লিচু চাষ করে জেলার শতাধিক চাষি স্বনির্ভরতা অর্জন করেছেন। তাই লিচু চাষ খুব জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এখন ছোট-বড় মিলিয়ে রাজশাহীতে ৯০টিরও বেশি লিচু বাগান হয়েছে। বাগান ছাড়াও বসতবাড়িতে দেশি লিচুর পাশাপাশি উচ্চ ফলনশীল চায়না-৩ এবং বোম্বে ও মাদ্রাজি জাতের লিচু চাষ হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী মহানগরীর রায়পাড়া, বুলনপুর, ছোটবনগ্রাম ও কাটাখালি এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে লিচুর চাষ শুরু হয়েছে। এছাড়া জেলার বাগমারা, দুর্গাপুর, পুঠিয়া, পবা ও গোদাগাড়ী উপজেলাতেও চাষ হচ্ছে লিচু। প্রতিটি বাগানের গাছগুলোতে এখন থোকায় থোকায় ঝুলে আছে লিচুর স্বর্ণালী ফুল। এই ফুলের গন্ধে সুবাসিত হয়ে উঠেছে চারপাশ।

চাষিরা জানিয়েছেন, কিছু কিছু গাছে এরই মধ্যে গুটিও আসতে শুরু করেছে। তাই গুটি ধরে রাখতে তারা বিভিন্ন রাসায়নিক ওষুধ স্প্রেসহ পরিচর্যার কোনো ত্রুটিই রাখছেন না। গত বছর ঝড়ের কারণে গাছের পশ্চিম পাশের সব লিচু ঝরে গিয়েছিল। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন চাষিরা। এবার গাছে গাছে লিচু ফুলের সমারোহ দেখে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তারা।

জেলার পবা উপজেলার বাগধানি গ্রামের লিচুচাষি আকবর আলী বলেন, ‘আবহাওয়া যদি শেষ পর্যন্ত ভালো থাকে তবে এবার লিচুর ফলনও ভালো হবে। গাছ থেকে লিচু যেন না পড়ে যায়, সে জন্য পানি দিচ্ছি। কাঠবিড়ালী আর বাদুড় যাতে নষ্ট করতে না পারে, সে জন্যে জালের ব্যবস্থা করা হবে। লিচুর পরাগায়ন বৃদ্ধি করতে বাগানে একজন মৌচাষিকে মৌ-বাক্সও বসাতে দিয়েছি।’

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলিম উদ্দিন জানান, কয়েক বছর আগেও লিচুর ‘অফ ইয়ার’ বা ‘অন ইয়ার’ ফলন হতো। এক বছর ভালো ফলন হলে পরের বছর আর হতো না। এখন আর সে রকম হয় না। পরিচর্যার কারণে মুছে গেছে অফ ইয়ার-অন ইয়ার, বাড়ছে ফলন। পরিচর্যার মাধ্যমে প্রতিবছরই ফলন বাড়াচ্ছেন চাষিরা। এবারও ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক দেব দুলাল ঢালি জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লিচু চাষ করে অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছেন। তাই রাজশাহীতে লিচু চাষ ইতোমধ্যেই একটি নিরব বিপ্লব ঘটিয়েছে। জেলায় এখন ৪৭৬ হেক্টর জমিতে লিচু বাগান রয়েছে। এবার প্রতি কেজিতে গড়ে ২০ পিস ধরে চার টনেরও বেশি লিচু উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর আয়োজনে সংসদ ভবনে শিক্ষার্থীদের মধ্যাহ্নভোজ

রাজশাহীতে গাছে ঝুলছে লিচুর মুকুল, ভালো ফলনের আশা

আপডেট সময় ১২:৪৯:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

লিচুর ভালো ফুল ধারণের জন্য দরকার মৃদু ঠাণ্ডার আবেশ। আর ফুল ফোটার পর যদি বৃষ্টি না হয় তবে লিচুর ফলন ভালো হওয়ার কথা। রাজশাহী অঞ্চলে এবার যখন লিচুর ফুল ফুটতে শুরু করে তখন আবহাওয়া ছিলো নাতিশীতষ্ণ। আবার ফুল ফোটার পরও বৃষ্টিপাত তেমন হয়নি।

তাই এ বছর লিচুর বাম্পার ফলনের আশা করছেন চাষি ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার লিচুর উৎপাদন হবে ভালো। তবে এ জন্য এখন চাষিদের পরিচর্যা করতে হবে গাছের। চাষিরাও অবশ্য পরিচর্যার কম করছেন না। গাছে গাছে ফুল দেখতে দেখতে তারা পরিচর্যার মাঝেই সারাদিন কাটিয়ে দিচ্ছেন বাগানে।

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, গেল কয়েক বছরে শুধু লিচু চাষ করে জেলার শতাধিক চাষি স্বনির্ভরতা অর্জন করেছেন। তাই লিচু চাষ খুব জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এখন ছোট-বড় মিলিয়ে রাজশাহীতে ৯০টিরও বেশি লিচু বাগান হয়েছে। বাগান ছাড়াও বসতবাড়িতে দেশি লিচুর পাশাপাশি উচ্চ ফলনশীল চায়না-৩ এবং বোম্বে ও মাদ্রাজি জাতের লিচু চাষ হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী মহানগরীর রায়পাড়া, বুলনপুর, ছোটবনগ্রাম ও কাটাখালি এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে লিচুর চাষ শুরু হয়েছে। এছাড়া জেলার বাগমারা, দুর্গাপুর, পুঠিয়া, পবা ও গোদাগাড়ী উপজেলাতেও চাষ হচ্ছে লিচু। প্রতিটি বাগানের গাছগুলোতে এখন থোকায় থোকায় ঝুলে আছে লিচুর স্বর্ণালী ফুল। এই ফুলের গন্ধে সুবাসিত হয়ে উঠেছে চারপাশ।

চাষিরা জানিয়েছেন, কিছু কিছু গাছে এরই মধ্যে গুটিও আসতে শুরু করেছে। তাই গুটি ধরে রাখতে তারা বিভিন্ন রাসায়নিক ওষুধ স্প্রেসহ পরিচর্যার কোনো ত্রুটিই রাখছেন না। গত বছর ঝড়ের কারণে গাছের পশ্চিম পাশের সব লিচু ঝরে গিয়েছিল। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন চাষিরা। এবার গাছে গাছে লিচু ফুলের সমারোহ দেখে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তারা।

জেলার পবা উপজেলার বাগধানি গ্রামের লিচুচাষি আকবর আলী বলেন, ‘আবহাওয়া যদি শেষ পর্যন্ত ভালো থাকে তবে এবার লিচুর ফলনও ভালো হবে। গাছ থেকে লিচু যেন না পড়ে যায়, সে জন্য পানি দিচ্ছি। কাঠবিড়ালী আর বাদুড় যাতে নষ্ট করতে না পারে, সে জন্যে জালের ব্যবস্থা করা হবে। লিচুর পরাগায়ন বৃদ্ধি করতে বাগানে একজন মৌচাষিকে মৌ-বাক্সও বসাতে দিয়েছি।’

রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলিম উদ্দিন জানান, কয়েক বছর আগেও লিচুর ‘অফ ইয়ার’ বা ‘অন ইয়ার’ ফলন হতো। এক বছর ভালো ফলন হলে পরের বছর আর হতো না। এখন আর সে রকম হয় না। পরিচর্যার কারণে মুছে গেছে অফ ইয়ার-অন ইয়ার, বাড়ছে ফলন। পরিচর্যার মাধ্যমে প্রতিবছরই ফলন বাড়াচ্ছেন চাষিরা। এবারও ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক দেব দুলাল ঢালি জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লিচু চাষ করে অনেকেই স্বাবলম্বী হয়েছেন। তাই রাজশাহীতে লিচু চাষ ইতোমধ্যেই একটি নিরব বিপ্লব ঘটিয়েছে। জেলায় এখন ৪৭৬ হেক্টর জমিতে লিচু বাগান রয়েছে। এবার প্রতি কেজিতে গড়ে ২০ পিস ধরে চার টনেরও বেশি লিচু উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।