ঢাকা ১০:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার যোগ্যতা অর্জন ও একজন পিয়নের গল্প

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার যোগ্যতা অর্জনের তালিকাতে দেখি মিয়ানমারের নামও আছে। কিন্তু সেখানে তো উন্নয়নের শোভাযাত্রা বা লেজার শো হয়েছে বলে শুনিনি।

অং সান সু চি একটা কাজ করতে পারেন। রাখাইনের গ্রামগুলোতে যখন অন্ধকার নামবে তখন তিনি একটা লেজার শোর আয়োজন করতে পারেন।

দেখলাম ভারত পাকিস্তানের নামও আছে। আছে ইরাক, লিবিয়া, ইয়েমেন, সুদান, নাইজেরিয়া, ইথিওপিয়া, সোমালিয়ার মতো দেশও।আরও কিছু নাম আছে দেখলে চমকে যেতে হয়। সেসব দেশের কোথাও কি সাতদিন ধরে আনন্দ উৎসব চলছে?

জাতিসংঘ কি ইরাক, ইয়েমেন কিম্বা লিবিয়ার মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোতে লেজার শো আয়োজন করতে পারে না?সেখানে বোমার আঘাতে স্টেডিয়াম মাটিতে মিশে গেছে তো কি হয়েছে? রাতের খোলা আকাশ তো আছে!

সবকিছু দেখে বহুদিন আগের একটা ঘটনা মনে পড়লো।

আমার সাবেক এক অফিসের একজন বড় সাহেব আমেরিকা থেকে একটা সার্টিফিকেট পেলেন।তিনি সেটা বাঁধাই করে ঝুলিয়ে দিলেন দেওয়ালে। কি সেই সার্টিফিকেট? তিনি নাকি বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ জনের একজন।

তার মুখে সারাক্ষণ গর্বের হাসি লেগে থাকে। তো আমরা খোঁজ নিলাম- কেন তিনি এতো বড় সম্মান পেলেন জানার চেষ্টা করলাম। সবকিছু জেনে আমরা তখন অফিসের পিয়নের নামেও একটা আবেদন করে দিলাম।

তো কদিন পর সেই আমেরিকা থেকে আমাদের পিয়নের জন্যও একটা সার্টিফিকেট এলো ডাকে।তিনিও নাকি বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির একজন।

এখন প্রশ্ন হলো তিনি এই সার্টিফিকেট কোন ধরনের ফ্রেমে চান? সোনালী না রুপালী?প্রথমটা হলে লাগবে ১০০ ডলার আর দ্বিতীয়টার জন্যে ৫০ ডলার।

তো আমরা ভেবে দেখলাম নিজেদের পকেট থেকে এতো টাকা গচ্চা দেওয়ার তো কোন মানে হয় না।কিন্তু বড় সাহেবকে কীভাবে বোঝাবো যে আমরা জেনে গেছি উনি আসলে কতোটা প্রভাবশালী।আমরা একটা বুদ্ধি বের করলাম। পিয়নকে বললাম ওর কাছে যে চিঠিটা এসেছে সেটা বড় সাহেবের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য।

তাকে শিখিয়ে দিলাম, চিঠিটা ওনাকে দিয়ে বলবেন, স্যার আমেরিকা থাইকা আমার নামে এই চিঠিটা আইসে। কি লিখছে একটু বুঝাইয়া দিবেন?

যথারীতি তাই হলো। তার কদিন পর দেখি দেওয়াল থেকে বাঁধাই করা ওই সার্টিফিকেটটা গায়েব হয়ে গেছে।

বি:দ্র: এখানে দলীয় রাজনীতির গন্ধ খুঁজে পেলে আপনার জন্য দু:খ হওয়া ছাড়া আমার আর কিছুই হবে না। এই কথাটা পরে যোগ করলাম কারণ অনেকেই দেখি এরকম মন্তব্য করছেন।

 

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার যোগ্যতা অর্জন ও একজন পিয়নের গল্প

আপডেট সময় ০২:০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ মার্চ ২০১৮

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার যোগ্যতা অর্জনের তালিকাতে দেখি মিয়ানমারের নামও আছে। কিন্তু সেখানে তো উন্নয়নের শোভাযাত্রা বা লেজার শো হয়েছে বলে শুনিনি।

অং সান সু চি একটা কাজ করতে পারেন। রাখাইনের গ্রামগুলোতে যখন অন্ধকার নামবে তখন তিনি একটা লেজার শোর আয়োজন করতে পারেন।

দেখলাম ভারত পাকিস্তানের নামও আছে। আছে ইরাক, লিবিয়া, ইয়েমেন, সুদান, নাইজেরিয়া, ইথিওপিয়া, সোমালিয়ার মতো দেশও।আরও কিছু নাম আছে দেখলে চমকে যেতে হয়। সেসব দেশের কোথাও কি সাতদিন ধরে আনন্দ উৎসব চলছে?

জাতিসংঘ কি ইরাক, ইয়েমেন কিম্বা লিবিয়ার মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোতে লেজার শো আয়োজন করতে পারে না?সেখানে বোমার আঘাতে স্টেডিয়াম মাটিতে মিশে গেছে তো কি হয়েছে? রাতের খোলা আকাশ তো আছে!

সবকিছু দেখে বহুদিন আগের একটা ঘটনা মনে পড়লো।

আমার সাবেক এক অফিসের একজন বড় সাহেব আমেরিকা থেকে একটা সার্টিফিকেট পেলেন।তিনি সেটা বাঁধাই করে ঝুলিয়ে দিলেন দেওয়ালে। কি সেই সার্টিফিকেট? তিনি নাকি বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ জনের একজন।

তার মুখে সারাক্ষণ গর্বের হাসি লেগে থাকে। তো আমরা খোঁজ নিলাম- কেন তিনি এতো বড় সম্মান পেলেন জানার চেষ্টা করলাম। সবকিছু জেনে আমরা তখন অফিসের পিয়নের নামেও একটা আবেদন করে দিলাম।

তো কদিন পর সেই আমেরিকা থেকে আমাদের পিয়নের জন্যও একটা সার্টিফিকেট এলো ডাকে।তিনিও নাকি বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির একজন।

এখন প্রশ্ন হলো তিনি এই সার্টিফিকেট কোন ধরনের ফ্রেমে চান? সোনালী না রুপালী?প্রথমটা হলে লাগবে ১০০ ডলার আর দ্বিতীয়টার জন্যে ৫০ ডলার।

তো আমরা ভেবে দেখলাম নিজেদের পকেট থেকে এতো টাকা গচ্চা দেওয়ার তো কোন মানে হয় না।কিন্তু বড় সাহেবকে কীভাবে বোঝাবো যে আমরা জেনে গেছি উনি আসলে কতোটা প্রভাবশালী।আমরা একটা বুদ্ধি বের করলাম। পিয়নকে বললাম ওর কাছে যে চিঠিটা এসেছে সেটা বড় সাহেবের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য।

তাকে শিখিয়ে দিলাম, চিঠিটা ওনাকে দিয়ে বলবেন, স্যার আমেরিকা থাইকা আমার নামে এই চিঠিটা আইসে। কি লিখছে একটু বুঝাইয়া দিবেন?

যথারীতি তাই হলো। তার কদিন পর দেখি দেওয়াল থেকে বাঁধাই করা ওই সার্টিফিকেটটা গায়েব হয়ে গেছে।

বি:দ্র: এখানে দলীয় রাজনীতির গন্ধ খুঁজে পেলে আপনার জন্য দু:খ হওয়া ছাড়া আমার আর কিছুই হবে না। এই কথাটা পরে যোগ করলাম কারণ অনেকেই দেখি এরকম মন্তব্য করছেন।