ঢাকা ১০:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘পরিবারের সুখ শান্তিকে তছনছ করে দিয়েছি’: মনোনয়ন না পেয়ে বিএনপি নেত্রী যিশুর মূর্তি ভাঙচুর ইসরাইলি সেনার, বিশ্বজুড়ে তোলপাড় নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল বাংলাদেশ আমি এই মন্ত্রী, এই মন্ত্রণালয়ে যে দুর্নীতি করবে, ২৪ ঘণ্টা থাকতে পারবে না: শিক্ষামন্ত্রী নিজের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে সংসদে উদ্বেগের কথা জানালেন হান্নান মাসুদ কাগজপত্র থাকলে সৌদিতে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ ১৮টি দেশে কর্মী পাঠানোর চুক্তি হয়েছে: নুরুল হক পরীক্ষা ভীতি দূর করে আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিত করতে চায় সরকার: মাহদী আমিন বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে যাওয়ার আহ্বান জাপানি প্রধানমন্ত্রীর পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে এনে জনগণকে দেওয়া হবে: তারেক রহমান

উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার যোগ্যতা অর্জন ও একজন পিয়নের গল্প

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার যোগ্যতা অর্জনের তালিকাতে দেখি মিয়ানমারের নামও আছে। কিন্তু সেখানে তো উন্নয়নের শোভাযাত্রা বা লেজার শো হয়েছে বলে শুনিনি।

অং সান সু চি একটা কাজ করতে পারেন। রাখাইনের গ্রামগুলোতে যখন অন্ধকার নামবে তখন তিনি একটা লেজার শোর আয়োজন করতে পারেন।

দেখলাম ভারত পাকিস্তানের নামও আছে। আছে ইরাক, লিবিয়া, ইয়েমেন, সুদান, নাইজেরিয়া, ইথিওপিয়া, সোমালিয়ার মতো দেশও।আরও কিছু নাম আছে দেখলে চমকে যেতে হয়। সেসব দেশের কোথাও কি সাতদিন ধরে আনন্দ উৎসব চলছে?

জাতিসংঘ কি ইরাক, ইয়েমেন কিম্বা লিবিয়ার মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোতে লেজার শো আয়োজন করতে পারে না?সেখানে বোমার আঘাতে স্টেডিয়াম মাটিতে মিশে গেছে তো কি হয়েছে? রাতের খোলা আকাশ তো আছে!

সবকিছু দেখে বহুদিন আগের একটা ঘটনা মনে পড়লো।

আমার সাবেক এক অফিসের একজন বড় সাহেব আমেরিকা থেকে একটা সার্টিফিকেট পেলেন।তিনি সেটা বাঁধাই করে ঝুলিয়ে দিলেন দেওয়ালে। কি সেই সার্টিফিকেট? তিনি নাকি বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ জনের একজন।

তার মুখে সারাক্ষণ গর্বের হাসি লেগে থাকে। তো আমরা খোঁজ নিলাম- কেন তিনি এতো বড় সম্মান পেলেন জানার চেষ্টা করলাম। সবকিছু জেনে আমরা তখন অফিসের পিয়নের নামেও একটা আবেদন করে দিলাম।

তো কদিন পর সেই আমেরিকা থেকে আমাদের পিয়নের জন্যও একটা সার্টিফিকেট এলো ডাকে।তিনিও নাকি বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির একজন।

এখন প্রশ্ন হলো তিনি এই সার্টিফিকেট কোন ধরনের ফ্রেমে চান? সোনালী না রুপালী?প্রথমটা হলে লাগবে ১০০ ডলার আর দ্বিতীয়টার জন্যে ৫০ ডলার।

তো আমরা ভেবে দেখলাম নিজেদের পকেট থেকে এতো টাকা গচ্চা দেওয়ার তো কোন মানে হয় না।কিন্তু বড় সাহেবকে কীভাবে বোঝাবো যে আমরা জেনে গেছি উনি আসলে কতোটা প্রভাবশালী।আমরা একটা বুদ্ধি বের করলাম। পিয়নকে বললাম ওর কাছে যে চিঠিটা এসেছে সেটা বড় সাহেবের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য।

তাকে শিখিয়ে দিলাম, চিঠিটা ওনাকে দিয়ে বলবেন, স্যার আমেরিকা থাইকা আমার নামে এই চিঠিটা আইসে। কি লিখছে একটু বুঝাইয়া দিবেন?

যথারীতি তাই হলো। তার কদিন পর দেখি দেওয়াল থেকে বাঁধাই করা ওই সার্টিফিকেটটা গায়েব হয়ে গেছে।

বি:দ্র: এখানে দলীয় রাজনীতির গন্ধ খুঁজে পেলে আপনার জন্য দু:খ হওয়া ছাড়া আমার আর কিছুই হবে না। এই কথাটা পরে যোগ করলাম কারণ অনেকেই দেখি এরকম মন্তব্য করছেন।

 

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

‘পরিবারের সুখ শান্তিকে তছনছ করে দিয়েছি’: মনোনয়ন না পেয়ে বিএনপি নেত্রী

উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার যোগ্যতা অর্জন ও একজন পিয়নের গল্প

আপডেট সময় ০২:০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ মার্চ ২০১৮

আকাশ নিউজ ডেস্ক:

উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার যোগ্যতা অর্জনের তালিকাতে দেখি মিয়ানমারের নামও আছে। কিন্তু সেখানে তো উন্নয়নের শোভাযাত্রা বা লেজার শো হয়েছে বলে শুনিনি।

অং সান সু চি একটা কাজ করতে পারেন। রাখাইনের গ্রামগুলোতে যখন অন্ধকার নামবে তখন তিনি একটা লেজার শোর আয়োজন করতে পারেন।

দেখলাম ভারত পাকিস্তানের নামও আছে। আছে ইরাক, লিবিয়া, ইয়েমেন, সুদান, নাইজেরিয়া, ইথিওপিয়া, সোমালিয়ার মতো দেশও।আরও কিছু নাম আছে দেখলে চমকে যেতে হয়। সেসব দেশের কোথাও কি সাতদিন ধরে আনন্দ উৎসব চলছে?

জাতিসংঘ কি ইরাক, ইয়েমেন কিম্বা লিবিয়ার মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোতে লেজার শো আয়োজন করতে পারে না?সেখানে বোমার আঘাতে স্টেডিয়াম মাটিতে মিশে গেছে তো কি হয়েছে? রাতের খোলা আকাশ তো আছে!

সবকিছু দেখে বহুদিন আগের একটা ঘটনা মনে পড়লো।

আমার সাবেক এক অফিসের একজন বড় সাহেব আমেরিকা থেকে একটা সার্টিফিকেট পেলেন।তিনি সেটা বাঁধাই করে ঝুলিয়ে দিলেন দেওয়ালে। কি সেই সার্টিফিকেট? তিনি নাকি বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ জনের একজন।

তার মুখে সারাক্ষণ গর্বের হাসি লেগে থাকে। তো আমরা খোঁজ নিলাম- কেন তিনি এতো বড় সম্মান পেলেন জানার চেষ্টা করলাম। সবকিছু জেনে আমরা তখন অফিসের পিয়নের নামেও একটা আবেদন করে দিলাম।

তো কদিন পর সেই আমেরিকা থেকে আমাদের পিয়নের জন্যও একটা সার্টিফিকেট এলো ডাকে।তিনিও নাকি বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির একজন।

এখন প্রশ্ন হলো তিনি এই সার্টিফিকেট কোন ধরনের ফ্রেমে চান? সোনালী না রুপালী?প্রথমটা হলে লাগবে ১০০ ডলার আর দ্বিতীয়টার জন্যে ৫০ ডলার।

তো আমরা ভেবে দেখলাম নিজেদের পকেট থেকে এতো টাকা গচ্চা দেওয়ার তো কোন মানে হয় না।কিন্তু বড় সাহেবকে কীভাবে বোঝাবো যে আমরা জেনে গেছি উনি আসলে কতোটা প্রভাবশালী।আমরা একটা বুদ্ধি বের করলাম। পিয়নকে বললাম ওর কাছে যে চিঠিটা এসেছে সেটা বড় সাহেবের কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য।

তাকে শিখিয়ে দিলাম, চিঠিটা ওনাকে দিয়ে বলবেন, স্যার আমেরিকা থাইকা আমার নামে এই চিঠিটা আইসে। কি লিখছে একটু বুঝাইয়া দিবেন?

যথারীতি তাই হলো। তার কদিন পর দেখি দেওয়াল থেকে বাঁধাই করা ওই সার্টিফিকেটটা গায়েব হয়ে গেছে।

বি:দ্র: এখানে দলীয় রাজনীতির গন্ধ খুঁজে পেলে আপনার জন্য দু:খ হওয়া ছাড়া আমার আর কিছুই হবে না। এই কথাটা পরে যোগ করলাম কারণ অনেকেই দেখি এরকম মন্তব্য করছেন।