ঢাকা ০৪:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: বাণিজ্যমন্ত্রী ভাতার আওতায় এলেন আরও ১৭১ খেলোয়াড় তেলের দাম বিশ্ববাজারে দ্বিগুণ বাড়লেও আমরা সামান্য বাড়িয়েছি: জ্বালানি মন্ত্রী আইএমএফের চাপে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়নি: অর্থমন্ত্রী জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের কাছে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’: গোলাম পরওয়ার ইসরাইল বিজয় ছিনিয়ে আনতে জানে: ট্রাম্প মেরিন ড্রাইভে প্রাইভেটকারে আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন যাত্রীরা নেতানিয়াহুর প্ররোচনায় ইরানযুদ্ধে জড়িয়েছেন ট্রাম্প: কমলা হ্যারিস ১০৭ বছরের পুরোনো মাঠ দখলমুক্ত করার ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর চাকরি পুনর্বহাল চেয়ে মতিঝিলে ৬ ইসলামী ব্যাংকের সাবেক কর্মীদের অবস্থান

চাঁদপুরে তরুণী হত্যায় চাচিসহ দুজনের ফাঁসি

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার পূর্ব উপলতা গ্রামে ২২ বছর বয়সী ভাতিজি রুমা আক্তারকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অপরাধে চাচিসহ দুজনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- নিহতের চাচি জান্নাতুল ফেরদৌস মায়া ও জহিরুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার বিকালে চাঁদপুরের জেলা ও দায়রা জজ সালেহ উদ্দিন আহমদ আসামিদের উপস্থিতিতে এ আদেশ দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মায়া উপজেলার পূর্ব উপলতা গ্রামের মৃত পুলিশ সদস্য হুমায়ুন কবিরের স্ত্রী এবং জহিরুল ইসলাম একই গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে। জহিরুল পেশায় ইলেকট্রিশিয়ান।

আর হত্যার শিকার রুমা আক্তার ওই বাড়ির আনা মিয়ার কন্যা ছিলেন।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, রুমা আক্তার ঘটনার প্রায় দশ বছর আগে চাচি মায়ার সাথে চাচার চাকরিস্থল সিলেটে একত্রে থাকতেন। রুমাকে তারাই লালন-পালন করতেন। ২০১৫ সালে চাচা হুমায়ুন কবির মারা যান। এরপর মায়া বাড়িতে এসে ঘর তৈরি করে বসবাস করেন। এখানেও রুমা তার চাচির সাথেই থাকতেন। এরই মধ্যে বাড়ি নির্মাণ করতে গিয়ে আসামি জাহিরুল ইসলামের সঙ্গে মায়ার অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা পরিবার ও বাড়ির লোকজন ভালোভাবে নেয়নি।

২০১৬ সালের ২৪ মার্চ রাত ২টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে চাচিকে জহিরুল ইসলামের সাথে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলার কারণে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় রুমাকে। ভোরে মায়া নিজেই রুমার পিতা-মাতাকে ডেকে এনে তার মেয়ে স্ট্রোক করে মারা গেছে বলে জানায়। পরে তাকে দাফন করার জন্য গোসল দিতে গেলে শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। এতে রুমার পিতার সন্দেহ হলে বিষয়টি শাহরাস্তি থানায় জানানো হয়।

এই ঘটনায় ওই দিন রাতে রুমার পিতা আনা মিয়া জান্নাতুল ফেরদৌস মায়া ও জহিরুল ইসলামকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করার জন্য চাঁদপুর মর্গে পাঠায়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহরাস্তি থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক মো. আব্দুল মান্নান ২০১৬ সালের ২৫ আগস্ট আদালতে চাজশির্ট জমা দেন।

সরকার পক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. আমান উল্লাহ জানান, মামলাটি দীর্ঘ দুই বছর চলমান অবস্থায় আদালত ১৬জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন এবং আসামিরা তাদের অপরাধ স্বীকার করায় মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

সরকার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: বাণিজ্যমন্ত্রী

চাঁদপুরে তরুণী হত্যায় চাচিসহ দুজনের ফাঁসি

আপডেট সময় ০৯:১৭:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার পূর্ব উপলতা গ্রামে ২২ বছর বয়সী ভাতিজি রুমা আক্তারকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অপরাধে চাচিসহ দুজনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- নিহতের চাচি জান্নাতুল ফেরদৌস মায়া ও জহিরুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার বিকালে চাঁদপুরের জেলা ও দায়রা জজ সালেহ উদ্দিন আহমদ আসামিদের উপস্থিতিতে এ আদেশ দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মায়া উপজেলার পূর্ব উপলতা গ্রামের মৃত পুলিশ সদস্য হুমায়ুন কবিরের স্ত্রী এবং জহিরুল ইসলাম একই গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে। জহিরুল পেশায় ইলেকট্রিশিয়ান।

আর হত্যার শিকার রুমা আক্তার ওই বাড়ির আনা মিয়ার কন্যা ছিলেন।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, রুমা আক্তার ঘটনার প্রায় দশ বছর আগে চাচি মায়ার সাথে চাচার চাকরিস্থল সিলেটে একত্রে থাকতেন। রুমাকে তারাই লালন-পালন করতেন। ২০১৫ সালে চাচা হুমায়ুন কবির মারা যান। এরপর মায়া বাড়িতে এসে ঘর তৈরি করে বসবাস করেন। এখানেও রুমা তার চাচির সাথেই থাকতেন। এরই মধ্যে বাড়ি নির্মাণ করতে গিয়ে আসামি জাহিরুল ইসলামের সঙ্গে মায়ার অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা পরিবার ও বাড়ির লোকজন ভালোভাবে নেয়নি।

২০১৬ সালের ২৪ মার্চ রাত ২টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে চাচিকে জহিরুল ইসলামের সাথে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলার কারণে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় রুমাকে। ভোরে মায়া নিজেই রুমার পিতা-মাতাকে ডেকে এনে তার মেয়ে স্ট্রোক করে মারা গেছে বলে জানায়। পরে তাকে দাফন করার জন্য গোসল দিতে গেলে শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। এতে রুমার পিতার সন্দেহ হলে বিষয়টি শাহরাস্তি থানায় জানানো হয়।

এই ঘটনায় ওই দিন রাতে রুমার পিতা আনা মিয়া জান্নাতুল ফেরদৌস মায়া ও জহিরুল ইসলামকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করার জন্য চাঁদপুর মর্গে পাঠায়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহরাস্তি থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক মো. আব্দুল মান্নান ২০১৬ সালের ২৫ আগস্ট আদালতে চাজশির্ট জমা দেন।

সরকার পক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. আমান উল্লাহ জানান, মামলাটি দীর্ঘ দুই বছর চলমান অবস্থায় আদালত ১৬জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন এবং আসামিরা তাদের অপরাধ স্বীকার করায় মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।