ঢাকা ০৪:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতীয় পতাকা আমাকে প্রতি মুহূর্তে সততা-দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেয় আর্জেন্টিনাকে নিয়ে ব্যঙ্গ করে গান গাওয়ায় ১৭ শিক্ষার্থীকে পেটালেন শিক্ষক গাজী নজরুলের আরেকটি ভিডিও ভাইরাল, ‘নতুন তরুণীকে’ ঘিরে আলোচনা তুঙ্গে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে শেখ হাসিনার ফোনালাপ, যা বললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তিন দাবিতে শনিবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সুফিবাদী সুন্নি মহাসমাবেশ ১১২ টাকায় সরকারি চাকরি সরকারের স্বচ্ছতার নিদর্শন: ত্রাণমন্ত্রী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম লাইফ সাপোর্টে সরকারের আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ককরোচ জনতা পার্টির চুয়াডাঙ্গা সীমান্তে ৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত করলো বিজিবি প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের সভা চলছে

চাঁদপুরে তরুণী হত্যায় চাচিসহ দুজনের ফাঁসি

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার পূর্ব উপলতা গ্রামে ২২ বছর বয়সী ভাতিজি রুমা আক্তারকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অপরাধে চাচিসহ দুজনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- নিহতের চাচি জান্নাতুল ফেরদৌস মায়া ও জহিরুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার বিকালে চাঁদপুরের জেলা ও দায়রা জজ সালেহ উদ্দিন আহমদ আসামিদের উপস্থিতিতে এ আদেশ দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মায়া উপজেলার পূর্ব উপলতা গ্রামের মৃত পুলিশ সদস্য হুমায়ুন কবিরের স্ত্রী এবং জহিরুল ইসলাম একই গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে। জহিরুল পেশায় ইলেকট্রিশিয়ান।

আর হত্যার শিকার রুমা আক্তার ওই বাড়ির আনা মিয়ার কন্যা ছিলেন।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, রুমা আক্তার ঘটনার প্রায় দশ বছর আগে চাচি মায়ার সাথে চাচার চাকরিস্থল সিলেটে একত্রে থাকতেন। রুমাকে তারাই লালন-পালন করতেন। ২০১৫ সালে চাচা হুমায়ুন কবির মারা যান। এরপর মায়া বাড়িতে এসে ঘর তৈরি করে বসবাস করেন। এখানেও রুমা তার চাচির সাথেই থাকতেন। এরই মধ্যে বাড়ি নির্মাণ করতে গিয়ে আসামি জাহিরুল ইসলামের সঙ্গে মায়ার অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা পরিবার ও বাড়ির লোকজন ভালোভাবে নেয়নি।

২০১৬ সালের ২৪ মার্চ রাত ২টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে চাচিকে জহিরুল ইসলামের সাথে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলার কারণে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় রুমাকে। ভোরে মায়া নিজেই রুমার পিতা-মাতাকে ডেকে এনে তার মেয়ে স্ট্রোক করে মারা গেছে বলে জানায়। পরে তাকে দাফন করার জন্য গোসল দিতে গেলে শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। এতে রুমার পিতার সন্দেহ হলে বিষয়টি শাহরাস্তি থানায় জানানো হয়।

এই ঘটনায় ওই দিন রাতে রুমার পিতা আনা মিয়া জান্নাতুল ফেরদৌস মায়া ও জহিরুল ইসলামকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করার জন্য চাঁদপুর মর্গে পাঠায়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহরাস্তি থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক মো. আব্দুল মান্নান ২০১৬ সালের ২৫ আগস্ট আদালতে চাজশির্ট জমা দেন।

সরকার পক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. আমান উল্লাহ জানান, মামলাটি দীর্ঘ দুই বছর চলমান অবস্থায় আদালত ১৬জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন এবং আসামিরা তাদের অপরাধ স্বীকার করায় মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জাতীয় পতাকা আমাকে প্রতি মুহূর্তে সততা-দায়িত্বের কথা মনে করিয়ে দেয়

চাঁদপুরে তরুণী হত্যায় চাচিসহ দুজনের ফাঁসি

আপডেট সময় ০৯:১৭:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার পূর্ব উপলতা গ্রামে ২২ বছর বয়সী ভাতিজি রুমা আক্তারকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অপরাধে চাচিসহ দুজনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- নিহতের চাচি জান্নাতুল ফেরদৌস মায়া ও জহিরুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার বিকালে চাঁদপুরের জেলা ও দায়রা জজ সালেহ উদ্দিন আহমদ আসামিদের উপস্থিতিতে এ আদেশ দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মায়া উপজেলার পূর্ব উপলতা গ্রামের মৃত পুলিশ সদস্য হুমায়ুন কবিরের স্ত্রী এবং জহিরুল ইসলাম একই গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে। জহিরুল পেশায় ইলেকট্রিশিয়ান।

আর হত্যার শিকার রুমা আক্তার ওই বাড়ির আনা মিয়ার কন্যা ছিলেন।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, রুমা আক্তার ঘটনার প্রায় দশ বছর আগে চাচি মায়ার সাথে চাচার চাকরিস্থল সিলেটে একত্রে থাকতেন। রুমাকে তারাই লালন-পালন করতেন। ২০১৫ সালে চাচা হুমায়ুন কবির মারা যান। এরপর মায়া বাড়িতে এসে ঘর তৈরি করে বসবাস করেন। এখানেও রুমা তার চাচির সাথেই থাকতেন। এরই মধ্যে বাড়ি নির্মাণ করতে গিয়ে আসামি জাহিরুল ইসলামের সঙ্গে মায়ার অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা পরিবার ও বাড়ির লোকজন ভালোভাবে নেয়নি।

২০১৬ সালের ২৪ মার্চ রাত ২টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে চাচিকে জহিরুল ইসলামের সাথে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলার কারণে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় রুমাকে। ভোরে মায়া নিজেই রুমার পিতা-মাতাকে ডেকে এনে তার মেয়ে স্ট্রোক করে মারা গেছে বলে জানায়। পরে তাকে দাফন করার জন্য গোসল দিতে গেলে শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। এতে রুমার পিতার সন্দেহ হলে বিষয়টি শাহরাস্তি থানায় জানানো হয়।

এই ঘটনায় ওই দিন রাতে রুমার পিতা আনা মিয়া জান্নাতুল ফেরদৌস মায়া ও জহিরুল ইসলামকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করার জন্য চাঁদপুর মর্গে পাঠায়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহরাস্তি থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক মো. আব্দুল মান্নান ২০১৬ সালের ২৫ আগস্ট আদালতে চাজশির্ট জমা দেন।

সরকার পক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. আমান উল্লাহ জানান, মামলাটি দীর্ঘ দুই বছর চলমান অবস্থায় আদালত ১৬জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন এবং আসামিরা তাদের অপরাধ স্বীকার করায় মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।