ঢাকা ১০:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘বাংলাদেশে একটা বড় খুন হয়েছিল, কাকে দিয়ে করিয়েছিলেন সবটাই জানি’:মমতা ব্যানার্জি রামিসা হত্যা মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন হবে আশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছাত্রশিবিরকে তরুণ সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে হবে: ডা. শফিকুর রহমান সন্তানেরা যুগ্মসচিব-বুয়েট শিক্ষক, তবুও একা ঘরে মরতে হলো বৃদ্ধ মাকে ‘ইরান সরকারের ভিত্তি নড়ে গেছে, এটি ভেঙে পড়তে বাধ্য’ খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত ঈদের দিন স্ত্রীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক হামের উপসর্গে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৮৭৭ বর্তমান সরকার সব মানুষের ধর্মের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী: মঈন খান জাতীয় ঐক্য ও দেশ গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চাঁদপুরে তরুণী হত্যায় চাচিসহ দুজনের ফাঁসি

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার পূর্ব উপলতা গ্রামে ২২ বছর বয়সী ভাতিজি রুমা আক্তারকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অপরাধে চাচিসহ দুজনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- নিহতের চাচি জান্নাতুল ফেরদৌস মায়া ও জহিরুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার বিকালে চাঁদপুরের জেলা ও দায়রা জজ সালেহ উদ্দিন আহমদ আসামিদের উপস্থিতিতে এ আদেশ দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মায়া উপজেলার পূর্ব উপলতা গ্রামের মৃত পুলিশ সদস্য হুমায়ুন কবিরের স্ত্রী এবং জহিরুল ইসলাম একই গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে। জহিরুল পেশায় ইলেকট্রিশিয়ান।

আর হত্যার শিকার রুমা আক্তার ওই বাড়ির আনা মিয়ার কন্যা ছিলেন।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, রুমা আক্তার ঘটনার প্রায় দশ বছর আগে চাচি মায়ার সাথে চাচার চাকরিস্থল সিলেটে একত্রে থাকতেন। রুমাকে তারাই লালন-পালন করতেন। ২০১৫ সালে চাচা হুমায়ুন কবির মারা যান। এরপর মায়া বাড়িতে এসে ঘর তৈরি করে বসবাস করেন। এখানেও রুমা তার চাচির সাথেই থাকতেন। এরই মধ্যে বাড়ি নির্মাণ করতে গিয়ে আসামি জাহিরুল ইসলামের সঙ্গে মায়ার অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা পরিবার ও বাড়ির লোকজন ভালোভাবে নেয়নি।

২০১৬ সালের ২৪ মার্চ রাত ২টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে চাচিকে জহিরুল ইসলামের সাথে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলার কারণে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় রুমাকে। ভোরে মায়া নিজেই রুমার পিতা-মাতাকে ডেকে এনে তার মেয়ে স্ট্রোক করে মারা গেছে বলে জানায়। পরে তাকে দাফন করার জন্য গোসল দিতে গেলে শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। এতে রুমার পিতার সন্দেহ হলে বিষয়টি শাহরাস্তি থানায় জানানো হয়।

এই ঘটনায় ওই দিন রাতে রুমার পিতা আনা মিয়া জান্নাতুল ফেরদৌস মায়া ও জহিরুল ইসলামকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করার জন্য চাঁদপুর মর্গে পাঠায়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহরাস্তি থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক মো. আব্দুল মান্নান ২০১৬ সালের ২৫ আগস্ট আদালতে চাজশির্ট জমা দেন।

সরকার পক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. আমান উল্লাহ জানান, মামলাটি দীর্ঘ দুই বছর চলমান অবস্থায় আদালত ১৬জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন এবং আসামিরা তাদের অপরাধ স্বীকার করায় মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

‘বাংলাদেশে একটা বড় খুন হয়েছিল, কাকে দিয়ে করিয়েছিলেন সবটাই জানি’:মমতা ব্যানার্জি

চাঁদপুরে তরুণী হত্যায় চাচিসহ দুজনের ফাঁসি

আপডেট সময় ০৯:১৭:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার পূর্ব উপলতা গ্রামে ২২ বছর বয়সী ভাতিজি রুমা আক্তারকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অপরাধে চাচিসহ দুজনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- নিহতের চাচি জান্নাতুল ফেরদৌস মায়া ও জহিরুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার বিকালে চাঁদপুরের জেলা ও দায়রা জজ সালেহ উদ্দিন আহমদ আসামিদের উপস্থিতিতে এ আদেশ দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মায়া উপজেলার পূর্ব উপলতা গ্রামের মৃত পুলিশ সদস্য হুমায়ুন কবিরের স্ত্রী এবং জহিরুল ইসলাম একই গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে। জহিরুল পেশায় ইলেকট্রিশিয়ান।

আর হত্যার শিকার রুমা আক্তার ওই বাড়ির আনা মিয়ার কন্যা ছিলেন।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, রুমা আক্তার ঘটনার প্রায় দশ বছর আগে চাচি মায়ার সাথে চাচার চাকরিস্থল সিলেটে একত্রে থাকতেন। রুমাকে তারাই লালন-পালন করতেন। ২০১৫ সালে চাচা হুমায়ুন কবির মারা যান। এরপর মায়া বাড়িতে এসে ঘর তৈরি করে বসবাস করেন। এখানেও রুমা তার চাচির সাথেই থাকতেন। এরই মধ্যে বাড়ি নির্মাণ করতে গিয়ে আসামি জাহিরুল ইসলামের সঙ্গে মায়ার অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে, যা পরিবার ও বাড়ির লোকজন ভালোভাবে নেয়নি।

২০১৬ সালের ২৪ মার্চ রাত ২টা থেকে ভোর ৫টার মধ্যে চাচিকে জহিরুল ইসলামের সাথে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলার কারণে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় রুমাকে। ভোরে মায়া নিজেই রুমার পিতা-মাতাকে ডেকে এনে তার মেয়ে স্ট্রোক করে মারা গেছে বলে জানায়। পরে তাকে দাফন করার জন্য গোসল দিতে গেলে শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। এতে রুমার পিতার সন্দেহ হলে বিষয়টি শাহরাস্তি থানায় জানানো হয়।

এই ঘটনায় ওই দিন রাতে রুমার পিতা আনা মিয়া জান্নাতুল ফেরদৌস মায়া ও জহিরুল ইসলামকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করার জন্য চাঁদপুর মর্গে পাঠায়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহরাস্তি থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক মো. আব্দুল মান্নান ২০১৬ সালের ২৫ আগস্ট আদালতে চাজশির্ট জমা দেন।

সরকার পক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. আমান উল্লাহ জানান, মামলাটি দীর্ঘ দুই বছর চলমান অবস্থায় আদালত ১৬জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন এবং আসামিরা তাদের অপরাধ স্বীকার করায় মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।