ঢাকা ১২:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

শনাক্ত হয়নি স্বামীর মরদেহ, স্ত্রীর দাফন সম্পন্ন

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নেপালে ইউএস-বাংলা বিমান দুর্ঘটনায় নিহত আক্তারা বেগমের মরদেহ রাজশাহীতে দাফন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে রাজশাহী মহানগরীর গোরহাঙ্গা গোরস্তান মসজিদের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হন তিনি।নিহত আক্তারা নগরীর উপশহর এলাকার নজরুল ইসলামের স্ত্রী।এ দুর্ঘটনায় স্বামী নজরুল ইসলামও নিহত হয়েছেন। তবে তার মরদেহ শনাক্ত না হওয়ায় এখনও দেশে আসেনি।

জানা যায়, সোমবার আক্তারা বেগমের মরদেহ ঢাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় স্বজনদের দেখার জন্য। এর পর মঙ্গলবার সকালে মরদেহ রাজশাহী আনা হয়।

সকাল ৯টা ২০ মিনিটে তার মরদেহ উপশহর ক্রীড়া সংঘের মাঠে পৌঁছায়। এখানে তার শেষ জানাজায় মানুষের ঢল নামে। রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ এ জানাজায় অংশ নেন। স্বজনদের মধ্যে কান্নার রোল পড়ে। সবাই কফিন ছুঁয়ে শেষ বিদায় জানান তাকে।

জানাজায় রাজশাহী সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, রাজশাহী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার, মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি লিয়াকত আলী লিকুসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নেন।

আক্তারা বেগমের জামাতা অ্যাডভোকেট ইমরান আলী জানান, তার শাশুড়ির মরদেহ দেশে এলেও শ্বশুর নজরুল ইসলামের মরদেহ শনাক্ত হওয়া নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। তাই প্রথম দফায় মরদেহ পাঠায়নি নেপাল সরকার। কবে পাঠাবে তাও তারা নিশ্চিত নন।

মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য রাষ্ট্রের সহযোগিতা কামনা করেন ইমরান আলী।

নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় রাজশাহীর তিন দম্পতিসহ মোট সাতজন ছিলেন। তাদের মধ্যে ছয়জনই নিহত হয়েছেন। নিহত ছয়জনের মধ্যে সোমবার পাঁচজনের মরদেহ দেশে আসে। এর মধ্যে কেবল আক্তারা বেগমের মরদেহ দাফনের জন্য রাজশাহী নিয়ে যাওয়া হয়। বাকি চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ ঢাকার শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

রাজশাহীর নওদাপাড়া এলাকার গোলাম কিবরিয়ার নিউইয়র্ক প্রবাসী মেয়ে বিলকিস আরা মিতু, শিরোইল এলাকার বেগম হুরুন নাহার ওরফে বিলকিস বানু ও তার স্বামী হাসান ইমামকে ঢাকায় দাফন করা হয়েছে। আর রুয়েট শিক্ষক এমরানা কবির হাসির স্বামী রকিবুল হাসানের মরদেহ দাফন করা হয়েছে তার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার বাগুটিয়া গ্রামে। শিক্ষক হাসিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেপাল থেকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

গত ১২ মার্চ নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণকালে বিধ্বস্ত হয় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট। এতে নিহত হন ৫১ জন। তাদের মধ্যে ২৬ বাংলাদেশি। ময়নাতদন্ত সাপেক্ষে এদের মধ্যে ২৩ জনের মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। অবশিষ্ট তিন মরদেহ শনাক্ত করারও প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

শনাক্ত হয়নি স্বামীর মরদেহ, স্ত্রীর দাফন সম্পন্ন

আপডেট সময় ০৫:০৩:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নেপালে ইউএস-বাংলা বিমান দুর্ঘটনায় নিহত আক্তারা বেগমের মরদেহ রাজশাহীতে দাফন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে রাজশাহী মহানগরীর গোরহাঙ্গা গোরস্তান মসজিদের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হন তিনি।নিহত আক্তারা নগরীর উপশহর এলাকার নজরুল ইসলামের স্ত্রী।এ দুর্ঘটনায় স্বামী নজরুল ইসলামও নিহত হয়েছেন। তবে তার মরদেহ শনাক্ত না হওয়ায় এখনও দেশে আসেনি।

জানা যায়, সোমবার আক্তারা বেগমের মরদেহ ঢাকা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় স্বজনদের দেখার জন্য। এর পর মঙ্গলবার সকালে মরদেহ রাজশাহী আনা হয়।

সকাল ৯টা ২০ মিনিটে তার মরদেহ উপশহর ক্রীড়া সংঘের মাঠে পৌঁছায়। এখানে তার শেষ জানাজায় মানুষের ঢল নামে। রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ এ জানাজায় অংশ নেন। স্বজনদের মধ্যে কান্নার রোল পড়ে। সবাই কফিন ছুঁয়ে শেষ বিদায় জানান তাকে।

জানাজায় রাজশাহী সিটি মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, রাজশাহী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী সরকার, মহানগর ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি লিয়াকত আলী লিকুসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ নেন।

আক্তারা বেগমের জামাতা অ্যাডভোকেট ইমরান আলী জানান, তার শাশুড়ির মরদেহ দেশে এলেও শ্বশুর নজরুল ইসলামের মরদেহ শনাক্ত হওয়া নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। তাই প্রথম দফায় মরদেহ পাঠায়নি নেপাল সরকার। কবে পাঠাবে তাও তারা নিশ্চিত নন।

মরদেহ দ্রুত দেশে আনার জন্য রাষ্ট্রের সহযোগিতা কামনা করেন ইমরান আলী।

নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় রাজশাহীর তিন দম্পতিসহ মোট সাতজন ছিলেন। তাদের মধ্যে ছয়জনই নিহত হয়েছেন। নিহত ছয়জনের মধ্যে সোমবার পাঁচজনের মরদেহ দেশে আসে। এর মধ্যে কেবল আক্তারা বেগমের মরদেহ দাফনের জন্য রাজশাহী নিয়ে যাওয়া হয়। বাকি চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ ঢাকার শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

রাজশাহীর নওদাপাড়া এলাকার গোলাম কিবরিয়ার নিউইয়র্ক প্রবাসী মেয়ে বিলকিস আরা মিতু, শিরোইল এলাকার বেগম হুরুন নাহার ওরফে বিলকিস বানু ও তার স্বামী হাসান ইমামকে ঢাকায় দাফন করা হয়েছে। আর রুয়েট শিক্ষক এমরানা কবির হাসির স্বামী রকিবুল হাসানের মরদেহ দাফন করা হয়েছে তার গ্রামের বাড়ি সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার বাগুটিয়া গ্রামে। শিক্ষক হাসিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেপাল থেকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

গত ১২ মার্চ নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণকালে বিধ্বস্ত হয় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট। এতে নিহত হন ৫১ জন। তাদের মধ্যে ২৬ বাংলাদেশি। ময়নাতদন্ত সাপেক্ষে এদের মধ্যে ২৩ জনের মরদেহ শনাক্ত করা হয়েছে। অবশিষ্ট তিন মরদেহ শনাক্ত করারও প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।