ঢাকা ০৪:২৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৭ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাগেরহাটে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেন মামুনুল হক ক্ষমতায় গেলে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন হবে: তারেক রহমান বাংলাদেশের পরিবর্তনে গনভোটে হ্যাঁ ভোট জরুরি: সাখাওয়াত হোসেন পোস্টাল ভোট সফল করতে পারলে বাংলাদেশের নাম ওয়ার্ল্ড হিস্ট্রিতে থাকবে: সিইসি ঢাকায় ফ্ল্যাট পাচ্ছে ওসমান হাদির পরিবার ইসির আচরণ ও কর্মকাণ্ড সন্দেহজনক : রিজভী নির্বাচনের আগেই লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা ‘না’ ভোট দেওয়া মানেই স্বৈরাচারের পক্ষে দাঁড়ানো: শারমীন মুরশিদ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা মোকাবিলায় প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে : পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বস্তিবাসীদের জন্য উন্নত শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে: তারেক রহমান

ডিজিটাল যুগে শিশুরা কি কলম ধরা ভুলেই যাচ্ছে?

আকাশ আইসিটি ডেস্ক:

ডিজিটাল যুগে শিশুদের স্বভাব বদলে যাচ্ছে। একসময় যে বয়সের শিশুরা সাধারণত মাঠেঘাটে খেলত, এখন তারা খেলছে ঘরে বসে আইপ্যাডে। আইপ্যাডের মতো ডিজিটালযন্ত্রের প্রতি শিশুদের আসক্তিতে ব্যস্ত বাবা-মাদের অনেক সুবিধা হচ্ছে।

ডিজিটাল যন্ত্রপাতি নাড়াচাড়া করে শিশুদের সাড়া দেয়ার অনুভূতিও ক্ষুরধার হচ্ছে হয়তো, কিন্তু লেখার জন্য আঙুলের পেশি নিয়ন্ত্রণের যে সূক্ষ্ম দক্ষতা দরকার তা কি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে?

ইংল্যান্ডে শিশুদের থেরাপি বিষয়ে একজন নেতৃস্থানীয় বিশেষজ্ঞ স্যালি পেইন তার পর্যবেক্ষণে দেখেছেন ডিজিটাল যুগের শিশুদের সেই দক্ষতা নষ্ট হচ্ছে।-খবর বিবিসি অনলাইনের।

ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানকে তিনি বলেন, স্কুলে ঢোকার পর শিশুদের হাতে যখন পেন্সিল দেওয়া হচ্ছে, তারা সেটিকে ঠিকমতো ধরতে পারছে না। কারণ সেটিকে ব্যবহারের জন্য মৌলিক যে দক্ষতা দরকার, সেটি তাদের নেই।

তিনি বলেন, পেন্সিল ধরে সেটিকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে কাজে লাগানোর জন্য হাতের আঙুলের সূক্ষ্ম পেশিগুলোর ওপর শক্ত নিয়ন্ত্রণ লাগে… সেই দক্ষতা অর্জনে অনেক অনুশীলন এবং সুযোগ দরকার।

পেইন বলেন, ডিজিটাল ট্যাব ও স্মার্টফোন ব্যবহারের অবাধ সুযোগ পেয়ে শিশুদের মধ্যে পেন বা পেন্সিল ধরার এবং তা ব্যবহারের ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ব্লক দিয়ে বিল্ডিং বানানোর মতো খেলা, দড়ি বা ইলাস্টিক টানতে হয় এমন ধরনের খেলনা ব্যবহারে শিশুদের সেই পেশি ব্যবহারের ক্ষমতা তৈরি হয়। আইপ্যাড ব্যবহার করে সেটি হয় না।

ব্রিটেনে যোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকমের হিসাবে দেশের অর্ধেকেরও বেশি পরিবারে ডিজিটাল ট্যাবলেট এবং অন্তত ৭৬ শতাংশ পরিবারে স্মার্টফোন রয়েছে।

হাতের লেখার পক্ষে প্রচারণা করছে এমন একটি সংস্থার সঙ্গে কাজ করেন ড জেন মেডওয়েল।

তিনি বলেন, ঘরে ঘরে ডিজিটাল যন্ত্রের উপস্থিতি যত বাড়ছে, শিশুদের মধ্যে পেন্সিলের ব্যবহার তত কমছে।

তার মতে, একসময় শিশুরা দেখত তার বাবা-মা পেন দিয়ে বাজারের ফর্দ লিখছে, এখন তারা দেখে বাবা-মা মোবাইল ফোনে টেক্সট করছে। ফলে শিশুদের প্রথম শিক্ষার ধারাও বদলে গেছে।

তবে তিনি বলেন, ট্যাব ব্যবহারে আঙুলের পেশি ঘোরানোর দক্ষতা একবারে নষ্ট হয়ে যায়, এমন কথা বলার সময় এখনও হয়তো আসেনি।
এখনও এমন গবেষণা হয়নি যেটি বলছে- ট্যাব ব্যবহার করলে একজন শিশুর শুধু আঙুল ঘষার দক্ষতা তৈরি হয় এবং সে পেন্সিল ধরার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। তবে তিনি বলেন, হাতে লেখার গুরুত্ব অপরিসীম।

২০১৬ সালে এক গবেষণায় দেখা যায়, যেসব ছাত্র হাতে লেকচার নোটস লেখেন, তারা পরে সেগুলো অনেক ভালো মনে রাখতে পারেন এবং তাদের ধারণা- অনেক পরিচ্ছন্ন থাকে। কম্পিউটার বা ট্যাবে যারা নোটস নেন, তারা অনেক লিখতে পারলেও পরে মনে রাখতে পারেন না।

বিশেষ করে শিশুদের জন্য হাতের লেখার গুরুত্ব অনেক। হাতে একটি চিঠি লেখা, আঙুলের জটিল ব্যবহার, এগুলোর জন্য শিশুদের অনেক অনুশীলন করতে হয় এবং তার ভেতর দিয়েই শিশুদের জ্ঞান লাভ হয়।

হাতে লেখার গুরুত্ব নিয়ে গবেষকরা দ্বিধাবিভক্ত কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে- হাতের লেখার চল কমে যাচ্ছে।

২০১৪ সালে এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি তিনজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের একজন টানা ছয় মাস হাতে কিছু লেখেননি। তবে শিক্ষাজগতে এখনও হাতে লেখা অপরিহার্য। ব্রিটেনে প্রাইমারি স্কুল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদের অনেক কিছুই এখনও হাতে লিখতে হয়।

কিন্তু আগের দিনের মতো সুন্দর করে পেঁচিয়ে অক্ষরের সঙ্গে অক্ষর যুক্ত করে শব্দ লেখার সেই চল বলতে গেলে উঠেই যাচ্ছে। ড. মেডওয়েল বলেন, সুন্দর হস্তাক্ষর তেমন কোনো ইস্যু নয়, আসল কথা- হাতে লেখার দক্ষতা ধরে রাখা। সেটি নষ্ট হলে শিশুদের জ্ঞানার্জনও বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ডিজিটাল যুগে শিশুরা কি কলম ধরা ভুলেই যাচ্ছে?

আপডেট সময় ০৬:২২:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ মার্চ ২০১৮

আকাশ আইসিটি ডেস্ক:

ডিজিটাল যুগে শিশুদের স্বভাব বদলে যাচ্ছে। একসময় যে বয়সের শিশুরা সাধারণত মাঠেঘাটে খেলত, এখন তারা খেলছে ঘরে বসে আইপ্যাডে। আইপ্যাডের মতো ডিজিটালযন্ত্রের প্রতি শিশুদের আসক্তিতে ব্যস্ত বাবা-মাদের অনেক সুবিধা হচ্ছে।

ডিজিটাল যন্ত্রপাতি নাড়াচাড়া করে শিশুদের সাড়া দেয়ার অনুভূতিও ক্ষুরধার হচ্ছে হয়তো, কিন্তু লেখার জন্য আঙুলের পেশি নিয়ন্ত্রণের যে সূক্ষ্ম দক্ষতা দরকার তা কি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে?

ইংল্যান্ডে শিশুদের থেরাপি বিষয়ে একজন নেতৃস্থানীয় বিশেষজ্ঞ স্যালি পেইন তার পর্যবেক্ষণে দেখেছেন ডিজিটাল যুগের শিশুদের সেই দক্ষতা নষ্ট হচ্ছে।-খবর বিবিসি অনলাইনের।

ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ানকে তিনি বলেন, স্কুলে ঢোকার পর শিশুদের হাতে যখন পেন্সিল দেওয়া হচ্ছে, তারা সেটিকে ঠিকমতো ধরতে পারছে না। কারণ সেটিকে ব্যবহারের জন্য মৌলিক যে দক্ষতা দরকার, সেটি তাদের নেই।

তিনি বলেন, পেন্সিল ধরে সেটিকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে কাজে লাগানোর জন্য হাতের আঙুলের সূক্ষ্ম পেশিগুলোর ওপর শক্ত নিয়ন্ত্রণ লাগে… সেই দক্ষতা অর্জনে অনেক অনুশীলন এবং সুযোগ দরকার।

পেইন বলেন, ডিজিটাল ট্যাব ও স্মার্টফোন ব্যবহারের অবাধ সুযোগ পেয়ে শিশুদের মধ্যে পেন বা পেন্সিল ধরার এবং তা ব্যবহারের ক্ষমতা মারাত্মকভাবে কমে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ব্লক দিয়ে বিল্ডিং বানানোর মতো খেলা, দড়ি বা ইলাস্টিক টানতে হয় এমন ধরনের খেলনা ব্যবহারে শিশুদের সেই পেশি ব্যবহারের ক্ষমতা তৈরি হয়। আইপ্যাড ব্যবহার করে সেটি হয় না।

ব্রিটেনে যোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফকমের হিসাবে দেশের অর্ধেকেরও বেশি পরিবারে ডিজিটাল ট্যাবলেট এবং অন্তত ৭৬ শতাংশ পরিবারে স্মার্টফোন রয়েছে।

হাতের লেখার পক্ষে প্রচারণা করছে এমন একটি সংস্থার সঙ্গে কাজ করেন ড জেন মেডওয়েল।

তিনি বলেন, ঘরে ঘরে ডিজিটাল যন্ত্রের উপস্থিতি যত বাড়ছে, শিশুদের মধ্যে পেন্সিলের ব্যবহার তত কমছে।

তার মতে, একসময় শিশুরা দেখত তার বাবা-মা পেন দিয়ে বাজারের ফর্দ লিখছে, এখন তারা দেখে বাবা-মা মোবাইল ফোনে টেক্সট করছে। ফলে শিশুদের প্রথম শিক্ষার ধারাও বদলে গেছে।

তবে তিনি বলেন, ট্যাব ব্যবহারে আঙুলের পেশি ঘোরানোর দক্ষতা একবারে নষ্ট হয়ে যায়, এমন কথা বলার সময় এখনও হয়তো আসেনি।
এখনও এমন গবেষণা হয়নি যেটি বলছে- ট্যাব ব্যবহার করলে একজন শিশুর শুধু আঙুল ঘষার দক্ষতা তৈরি হয় এবং সে পেন্সিল ধরার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। তবে তিনি বলেন, হাতে লেখার গুরুত্ব অপরিসীম।

২০১৬ সালে এক গবেষণায় দেখা যায়, যেসব ছাত্র হাতে লেকচার নোটস লেখেন, তারা পরে সেগুলো অনেক ভালো মনে রাখতে পারেন এবং তাদের ধারণা- অনেক পরিচ্ছন্ন থাকে। কম্পিউটার বা ট্যাবে যারা নোটস নেন, তারা অনেক লিখতে পারলেও পরে মনে রাখতে পারেন না।

বিশেষ করে শিশুদের জন্য হাতের লেখার গুরুত্ব অনেক। হাতে একটি চিঠি লেখা, আঙুলের জটিল ব্যবহার, এগুলোর জন্য শিশুদের অনেক অনুশীলন করতে হয় এবং তার ভেতর দিয়েই শিশুদের জ্ঞান লাভ হয়।

হাতে লেখার গুরুত্ব নিয়ে গবেষকরা দ্বিধাবিভক্ত কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে- হাতের লেখার চল কমে যাচ্ছে।

২০১৪ সালে এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি তিনজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের একজন টানা ছয় মাস হাতে কিছু লেখেননি। তবে শিক্ষাজগতে এখনও হাতে লেখা অপরিহার্য। ব্রিটেনে প্রাইমারি স্কুল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদের অনেক কিছুই এখনও হাতে লিখতে হয়।

কিন্তু আগের দিনের মতো সুন্দর করে পেঁচিয়ে অক্ষরের সঙ্গে অক্ষর যুক্ত করে শব্দ লেখার সেই চল বলতে গেলে উঠেই যাচ্ছে। ড. মেডওয়েল বলেন, সুন্দর হস্তাক্ষর তেমন কোনো ইস্যু নয়, আসল কথা- হাতে লেখার দক্ষতা ধরে রাখা। সেটি নষ্ট হলে শিশুদের জ্ঞানার্জনও বাধাগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।