ঢাকা ১১:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম বাড়বে: অর্থমন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সস্তায় জ্বালানি আর বেশিদিন দেয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, জ্বালানি খাতে ভর্তুকি অব্যাহত থাকবে। তারপরও বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়বে।

মঙ্গলবার সন্ধায় রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের ১৬ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী প্রধান অতিথি ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে সব সময়ই ভর্তুকি ছিল। যে সরকারই আসুক এই ভর্তুকি বন্ধ করতে পারবে না। আগামী বাজেটেও আমাদের এই ভর্তুকি অব্যাহত থাকবে।

আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে কম মূল্যে জনগণকে জ্বালানি দেয়া হচ্ছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ কারণেই জ্বালানি খাতে প্রতি বছর ভর্তুকি দেয়া হয়।

বর্তমান সরকারের আমলে নয় বছরে বিদ্যুতের দাম বেড়েছে আট বার। সবশেষ গত ২৩ নভেম্বর ৫.৩ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়। সবশেষ দাম বাড়ানোর পরও বিদ্যুতে সরকারের ভর্তুকি চার হাজার কোটি টাকা।

২২ মার্চ বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা (এলডিসি) থেকে বের হয়ে আসার উৎসব করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা এখন মধ্য আয়ের দেশে যাবো। এই মুহূর্তে নিউইয়র্কে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত হচ্ছে। আশা করা যায় আগামী আঠারো তারিখের আগেই সে ঘোষণা আসবে। ২২ তারিখে আমরা তা উদযাপন করবো’।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী বলেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটারি প্রতিষ্ঠান (বিইআরসি) স্বাধীন প্রতিষ্ঠান নয়। এটা স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান, এটা সবার মনে রাখতে হবে। সরকার আইন করে এই প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করেছে। তবে স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে থাকলেও তাদের লক্ষ্য উদ্দেশ্য যেন যথাযথ বাস্তবায়ন করা যায় সেটা লক্ষ রাখতে হবে।

এদিকে কানজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর প্রেসিডেন্ট গোলাম রহমান বলেন, জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। যদিও বিইআরসি এখন পর্যন্ত ভোক্তাদের আস্থা অর্জন করতে পারেনি। সরকারের নির্দেশনা অনুসারে জ্বালানি তেলের দাম কমে কিংবা বাড়ে উল্লেখ করে স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারলে এ খাতে সুসাশন প্রতিষ্ঠিত হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এছাড়া আগামী বাজেটে জ্বালানি খাতের ওপর কোনো ট্যাক্স না বসানোর জন্য অর্থমন্ত্রীর প্রতি আহবান জানান তিনি।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম তামিম বলেন, বিইআরসির প্রতি কারও আস্থা নেই। তারা সরকারি এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে। আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যের সঙ্গে দেশের বাজারে জ্বালানির মূল্য সমন্বয় করতে হবে উল্লেখ করে এ বিষয়ে সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে আহ্বান জানান তিনি।

বিইআরসির চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম বলেন, ২০৪১ সালে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা হবে ৬০ হাজার মেগাওয়াট। আর গ্যাসের চাহিদা এমসিএফটি। আমাদের লক্ষ্য টেকসই ও আধুনিক জ্বালানি নিশ্চিত করা।

এ সময় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয় তাদের যে ৪৫ হাজার কোটি টাকা সরকার ঋণ হিসেবে দেয়, তা যেন অনুদান হিসেবে দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আবুল মনসুর মোহম্মদ ফয়েজউল্লাহ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

জ্বালানিখাতের উপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিইআরসির সদস্য মিজানুর রহমান।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম বাড়বে: অর্থমন্ত্রী

আপডেট সময় ১০:৩৩:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ মার্চ ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

সস্তায় জ্বালানি আর বেশিদিন দেয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেন, জ্বালানি খাতে ভর্তুকি অব্যাহত থাকবে। তারপরও বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বাড়বে।

মঙ্গলবার সন্ধায় রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের ১৬ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠিত এক সেমিনারে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী প্রধান অতিথি ছিলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিতে সব সময়ই ভর্তুকি ছিল। যে সরকারই আসুক এই ভর্তুকি বন্ধ করতে পারবে না। আগামী বাজেটেও আমাদের এই ভর্তুকি অব্যাহত থাকবে।

আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে কম মূল্যে জনগণকে জ্বালানি দেয়া হচ্ছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ কারণেই জ্বালানি খাতে প্রতি বছর ভর্তুকি দেয়া হয়।

বর্তমান সরকারের আমলে নয় বছরে বিদ্যুতের দাম বেড়েছে আট বার। সবশেষ গত ২৩ নভেম্বর ৫.৩ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়। সবশেষ দাম বাড়ানোর পরও বিদ্যুতে সরকারের ভর্তুকি চার হাজার কোটি টাকা।

২২ মার্চ বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা (এলডিসি) থেকে বের হয়ে আসার উৎসব করবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা এখন মধ্য আয়ের দেশে যাবো। এই মুহূর্তে নিউইয়র্কে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত হচ্ছে। আশা করা যায় আগামী আঠারো তারিখের আগেই সে ঘোষণা আসবে। ২২ তারিখে আমরা তা উদযাপন করবো’।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী বলেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটারি প্রতিষ্ঠান (বিইআরসি) স্বাধীন প্রতিষ্ঠান নয়। এটা স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান, এটা সবার মনে রাখতে হবে। সরকার আইন করে এই প্রতিষ্ঠান সৃষ্টি করেছে। তবে স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান হিসেবে থাকলেও তাদের লক্ষ্য উদ্দেশ্য যেন যথাযথ বাস্তবায়ন করা যায় সেটা লক্ষ রাখতে হবে।

এদিকে কানজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) এর প্রেসিডেন্ট গোলাম রহমান বলেন, জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। যদিও বিইআরসি এখন পর্যন্ত ভোক্তাদের আস্থা অর্জন করতে পারেনি। সরকারের নির্দেশনা অনুসারে জ্বালানি তেলের দাম কমে কিংবা বাড়ে উল্লেখ করে স্বচ্ছতা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারলে এ খাতে সুসাশন প্রতিষ্ঠিত হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এছাড়া আগামী বাজেটে জ্বালানি খাতের ওপর কোনো ট্যাক্স না বসানোর জন্য অর্থমন্ত্রীর প্রতি আহবান জানান তিনি।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম তামিম বলেন, বিইআরসির প্রতি কারও আস্থা নেই। তারা সরকারি এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে। আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যের সঙ্গে দেশের বাজারে জ্বালানির মূল্য সমন্বয় করতে হবে উল্লেখ করে এ বিষয়ে সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে আহ্বান জানান তিনি।

বিইআরসির চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম বলেন, ২০৪১ সালে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা হবে ৬০ হাজার মেগাওয়াট। আর গ্যাসের চাহিদা এমসিএফটি। আমাদের লক্ষ্য টেকসই ও আধুনিক জ্বালানি নিশ্চিত করা।

এ সময় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে বলা হয় তাদের যে ৪৫ হাজার কোটি টাকা সরকার ঋণ হিসেবে দেয়, তা যেন অনুদান হিসেবে দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আবুল মনসুর মোহম্মদ ফয়েজউল্লাহ প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

জ্বালানিখাতের উপর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিইআরসির সদস্য মিজানুর রহমান।