ঢাকা ০৭:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

রোহিঙ্গাদের সঙ্গে মিয়ানমারের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়: প্রধানমন্ত্রী

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,‘আমাদের একটি বড় সমস্যা হচ্ছে রোহিঙ্গা। আমরা তাদের মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়েছি। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যে আচরণ মিয়ানমার করেছে— এটা কখনও গ্রহণযোগ্য নয়।’

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর সংসদে রাষ্ট্রপতির ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আরও বলেন,মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। চুক্তিও আমরা করেছি। তাদের থাকার জন্য ভাসানচরে বাসস্থান নির্মাণ শুরু করে দিয়েছি। ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়ে যাচ্ছে। তাদের যাতে মানবেতর জীবন-যাপন করতে না হয়—যতদিন তারা নিজ মাটিতে ফিরতে না পারে,ততদিন যেন ভালোমতো থাকতে পারে; সেই ব্যবস্থাটা আমরা করে দিচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘মিয়ানমারের প্রায় ১০ লাখ ৭৮ হাজার ৯৬৬ জন রোহিঙ্গা নাগরিক আমাদের দেশে প্রবেশ করেছে। তাদের আমরা ইতোমধ্যে আইডি কার্ডও করে দিয়েছি। মিয়ানমার আর কোনোদিন অস্বীকার করতে পারবে না— এরা তোদের লোক নয়। যখনই আমাদের দেশে প্রবেশ করেছে তখনই তাদের পরিচয়পত্র করে দিয়েছি। আমরা মানবিক কারণে তাদেরকে সহযোগিতা দিয়েছি। তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। বিশ্ববাসী সাহায্য সহযোগিতা করে যাচ্ছে।’

এ বক্তব্যে সশস্ত্র বাহিনী প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, কেউ আক্রমণ করলে পাল্টা জবাবে দিতে সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করা হয়েছে। তিনি বলেন,‘আমরা শান্তি চাই, কারও সঙ্গে যুদ্ধ চাই না। কিন্তু কেউ যদি আমাদের আক্রমণ করে— আমরা যাতে তা মোকাবিলা করতে পারি, উপযুক্ত জবাব দিতে পারি; তার জন্য সমস্ত বাহিনীকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করেছি।’

সশস্ত্র বাহিনীর জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘সশস্ত্র বাহিনীর জন্য আমরা নতুন নতুন সরঞ্জামাদি কিনে দিচ্ছি। তাদের আবাসন সমস্যার সমাধান করছি। ফোর্সেস গোল ২০৩০ করে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী যাতে আধুনিক হয়, ‍যুগোপযোগী হয়, তার ব্যবস্থাও আমরা করেছি।’

জঙ্গি দমন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কঠোর হস্তে জঙ্গিবাদ বন্ধ করেছি। সবার কাছে আহ্বান জানাই—তারা যেন তাদের ছেলে-মেয়ে ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেন তাদের শিক্ষার্থীরা কী করে, কোথায় যায়; খোঁজ রাখে। সবাই যেন সজাগ থাকে।’

পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইতোমধ্যে সেতুর দুইটি স্প্যান বসে গেছে। এই সেতু নিয়ে অনেক ঝড়ঝাপটা গেছে। তবে যে অভিযোগটা আমাদের দেওয়া হয়— সেটা যে গালগপ্পো ছিল, তা কানাডার আদালতে প্রমাণিত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু রাজনৈতিক স্বাধীনতা দিয়ে গিয়েছিলেন। এত অল্প সময়ে একটি প্রদেশকে রাষ্ট্রে পরিণত করে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে স্বাধীনতার ৫ বছরে উন্নত দেশে পরিণত হতো। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য যে— সেই সুযোগটা আমরা হারিয়েছি।’

সরকারের বিভিন্ন সেক্টরে উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরে সরকার প্রধান বলেন,‘অর্থনৈতিক অগ্রগতি সূচকে বিশ্বের পাঁচটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ এখন একটি। ক্রয় ক্ষমতায় আমরা এখন ৩২তম অবস্থানে আছি। দেড় কোটির ওপরে মানুষের কর্মসংস্থান আমরা করে দিয়েছি।’

এর আগে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন,‘দুর্নীতির মামলা ধামাচাপা দিয়ে রাজনৈতিক কালার দিতে খালেদা জিয়া বারবার মামলার তারিখ পরিবর্তন করেছেন। তারিখ পরিবর্তন করে মামলাটিকে এমন সময়ে নিয়ে এসেছেন, যাতে রাজনৈতিক কালার দেওয়া সহজ হয়। তবে, দেশের মানুষ তাদের এই অপচেষ্টা বুঝতে পেরেছে।’

তিনি বলেন, ‘অনেকে আজ প্রশ্নফাঁসের কথা বলছেন, কিন্তু পরীক্ষা না দিয়ে যে পাসের কথা হচ্ছে— তা নিয়ে কেউ কথা বলেন না। খালেদা জিয়ার সহায়ক সরকারের দাবি তো সেই পরীক্ষা না দিয়ে পাসের চেষ্টা।’

শিল্পমন্ত্রী বলেন,‘বুদ্ধিজীবীরা দেশের ‍উন্নয়ন ও অগ্রগতি নিয়ে কথা বলেন না। দেশের বিরুদ্ধে তারা নেতিবাচক প্রচারণা চালান। এটা স্পষ্টতই দেশদ্রোহিতা।’

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘খালেদা জিয়া একটি মামলায় জেলে গেছেন। বিচারক বলেছেন— তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি সুস্পষ্ট প্রমাণিত হয়েছে। এখন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলছেন— খালেদা জিয়ার জেলে যাওয়ায় বিএনপির জনপ্রিয়তা বাড়ছে, প্রতিদিন আওয়ামী লীগের ভোট ১০ লাখ করে কমছে। এটা যদি হয় তাহলে বেল মুভ কেন করছেন, কেন কোর্টে যাচ্ছেন। এটা না করে খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে দিন। মুক্তি পেলে তো আপনাদের ভোট বাড়বে না।’

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রোহিঙ্গাদের সঙ্গে মিয়ানমারের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ১২:২৫:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন,‘আমাদের একটি বড় সমস্যা হচ্ছে রোহিঙ্গা। আমরা তাদের মানবিক কারণে আশ্রয় দিয়েছি। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যে আচরণ মিয়ানমার করেছে— এটা কখনও গ্রহণযোগ্য নয়।’

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর সংসদে রাষ্ট্রপতির ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আরও বলেন,মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। চুক্তিও আমরা করেছি। তাদের থাকার জন্য ভাসানচরে বাসস্থান নির্মাণ শুরু করে দিয়েছি। ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়ে যাচ্ছে। তাদের যাতে মানবেতর জীবন-যাপন করতে না হয়—যতদিন তারা নিজ মাটিতে ফিরতে না পারে,ততদিন যেন ভালোমতো থাকতে পারে; সেই ব্যবস্থাটা আমরা করে দিচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘মিয়ানমারের প্রায় ১০ লাখ ৭৮ হাজার ৯৬৬ জন রোহিঙ্গা নাগরিক আমাদের দেশে প্রবেশ করেছে। তাদের আমরা ইতোমধ্যে আইডি কার্ডও করে দিয়েছি। মিয়ানমার আর কোনোদিন অস্বীকার করতে পারবে না— এরা তোদের লোক নয়। যখনই আমাদের দেশে প্রবেশ করেছে তখনই তাদের পরিচয়পত্র করে দিয়েছি। আমরা মানবিক কারণে তাদেরকে সহযোগিতা দিয়েছি। তাদের পাশে দাঁড়িয়েছি। বিশ্ববাসী সাহায্য সহযোগিতা করে যাচ্ছে।’

এ বক্তব্যে সশস্ত্র বাহিনী প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, কেউ আক্রমণ করলে পাল্টা জবাবে দিতে সশস্ত্র বাহিনীকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করা হয়েছে। তিনি বলেন,‘আমরা শান্তি চাই, কারও সঙ্গে যুদ্ধ চাই না। কিন্তু কেউ যদি আমাদের আক্রমণ করে— আমরা যাতে তা মোকাবিলা করতে পারি, উপযুক্ত জবাব দিতে পারি; তার জন্য সমস্ত বাহিনীকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করেছি।’

সশস্ত্র বাহিনীর জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘সশস্ত্র বাহিনীর জন্য আমরা নতুন নতুন সরঞ্জামাদি কিনে দিচ্ছি। তাদের আবাসন সমস্যার সমাধান করছি। ফোর্সেস গোল ২০৩০ করে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী যাতে আধুনিক হয়, ‍যুগোপযোগী হয়, তার ব্যবস্থাও আমরা করেছি।’

জঙ্গি দমন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কঠোর হস্তে জঙ্গিবাদ বন্ধ করেছি। সবার কাছে আহ্বান জানাই—তারা যেন তাদের ছেলে-মেয়ে ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেন তাদের শিক্ষার্থীরা কী করে, কোথায় যায়; খোঁজ রাখে। সবাই যেন সজাগ থাকে।’

পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ইতোমধ্যে সেতুর দুইটি স্প্যান বসে গেছে। এই সেতু নিয়ে অনেক ঝড়ঝাপটা গেছে। তবে যে অভিযোগটা আমাদের দেওয়া হয়— সেটা যে গালগপ্পো ছিল, তা কানাডার আদালতে প্রমাণিত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু রাজনৈতিক স্বাধীনতা দিয়ে গিয়েছিলেন। এত অল্প সময়ে একটি প্রদেশকে রাষ্ট্রে পরিণত করে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে স্বাধীনতার ৫ বছরে উন্নত দেশে পরিণত হতো। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য যে— সেই সুযোগটা আমরা হারিয়েছি।’

সরকারের বিভিন্ন সেক্টরে উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরে সরকার প্রধান বলেন,‘অর্থনৈতিক অগ্রগতি সূচকে বিশ্বের পাঁচটি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ এখন একটি। ক্রয় ক্ষমতায় আমরা এখন ৩২তম অবস্থানে আছি। দেড় কোটির ওপরে মানুষের কর্মসংস্থান আমরা করে দিয়েছি।’

এর আগে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন,‘দুর্নীতির মামলা ধামাচাপা দিয়ে রাজনৈতিক কালার দিতে খালেদা জিয়া বারবার মামলার তারিখ পরিবর্তন করেছেন। তারিখ পরিবর্তন করে মামলাটিকে এমন সময়ে নিয়ে এসেছেন, যাতে রাজনৈতিক কালার দেওয়া সহজ হয়। তবে, দেশের মানুষ তাদের এই অপচেষ্টা বুঝতে পেরেছে।’

তিনি বলেন, ‘অনেকে আজ প্রশ্নফাঁসের কথা বলছেন, কিন্তু পরীক্ষা না দিয়ে যে পাসের কথা হচ্ছে— তা নিয়ে কেউ কথা বলেন না। খালেদা জিয়ার সহায়ক সরকারের দাবি তো সেই পরীক্ষা না দিয়ে পাসের চেষ্টা।’

শিল্পমন্ত্রী বলেন,‘বুদ্ধিজীবীরা দেশের ‍উন্নয়ন ও অগ্রগতি নিয়ে কথা বলেন না। দেশের বিরুদ্ধে তারা নেতিবাচক প্রচারণা চালান। এটা স্পষ্টতই দেশদ্রোহিতা।’

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘খালেদা জিয়া একটি মামলায় জেলে গেছেন। বিচারক বলেছেন— তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি সুস্পষ্ট প্রমাণিত হয়েছে। এখন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলছেন— খালেদা জিয়ার জেলে যাওয়ায় বিএনপির জনপ্রিয়তা বাড়ছে, প্রতিদিন আওয়ামী লীগের ভোট ১০ লাখ করে কমছে। এটা যদি হয় তাহলে বেল মুভ কেন করছেন, কেন কোর্টে যাচ্ছেন। এটা না করে খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে দিন। মুক্তি পেলে তো আপনাদের ভোট বাড়বে না।’