অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:
নোয়াখালীর সেনবাগের ছাতারপাইয়া ইউনিয়নে ছেলের সামনে বিধবা মাকে গণধর্ষণের ঘটনায় সেনবাগ থানা পুলিশ সালিশদারসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার দুপুরে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হলো- ধর্ষণকারী রুবেল (২৪) ও নুর নবী (৪৩) প্রধান সালিশদার মাছ কাশেম।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ধর্ষণের শিকার ওই নারী চট্টগ্রামে একটি গার্মেন্টসে চাকরি করেন। তার দুইটি সন্তান রয়েছে। বৃহস্পতিবার দুই সন্তানকে স্বামীর বাড়ি যাওয়ার পথে গলায় ছুরি ধরে গাড়ি থেকে নামিয়ে নেয়। পরে দুই সন্তানের সামনে ওই বিধবাকে তিন মাদকসেবী পালাক্রমে রাতভর ধর্ষণ করে।
ওই নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার ছাতারপাইয়া বাজারে এক সালিশ বৈঠক হয়। এতে ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত রুবেল ও নুরনবীকে হাজির করা হলেও মূলহোতা সেলিমকে রাখা হয় ধরাছোঁয়ার বাইরে। তার অনুপস্থিতিতে সালিশদার হানিফ ও আবুল কাশেম ওরফে মাছ কাশেম রুবেল ও নুরনবীকে ১০ বার করে কান ধরে ওঠবস করায় এবং দুজনের ২০ হাজার টাকা জরিমানা ঘোষণা করেন। আর সেলিমের অনুপস্থিতিতে তার ৩০ হাজার টাকা জরিমানা ঘোষণা করা হয়।
সালিশে ওই নারীর মোবাইল জামাকাপড় বাবদ তাৎক্ষণিক তিন হাজার টাকা জরিমানা করে সালিশদাররা তার হাতে তুলে দেয়। একই সঙ্গে একটি সাদা স্টাম্পে স্বাক্ষর নেয় যাতে এ বিষয়টি নিয়ে বিচার চাইতে না পারে। ওই সালিশের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় তোলপাড়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ ও বিষয়টির সূত্র ধরে সোমবার গণমাধ্যমের কর্মীরা এলাকায় উপস্থিত হলে ঘটনার সত্যতা প্রকাশ পায়। বিষয়টি সেনবাগ থানার ওসি হারুন অর রশিদ চৌধুরীকে জানানো তিনি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন। তার নির্দেশে দুপুরে এসআই রফিকুল ইসলাম ও এএসআই সাহিদুল ইসলাম ছাতারপাইয়ায় অভিযান চালিয়ে ওই তিনজনকে গ্রেফতার করে।
ওসি হারুন অর রশিদ চৌধুরী জানান, সোমবার দুপুর দেড়টায় দুই ধর্ষণকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার মূলহোতা সেলিমকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আকাশ নিউজ ডেস্ক 
























