ঢাকা ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

রোহিঙ্গাদের ফেরাতে ইন্দোনেশিয়ার সহযোগিতা চাইলেন রাষ্ট্রপতি

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গণহত্যা ও নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গা নাগরিক যেন মর্যাদাসহ নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে এ ব্যাপারে ইন্দোনেশিয়ার সহযোগিতা চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। এছাড়া রোহিঙ্গা নাগরিকদের প্রতি দেশটির সহযোগিতা অব্যাহত রাখারও আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।

শনিবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে নৈশভোজের আগে ইন্দোনেশিয়ার সফররত প্রেসিডেন্ট জোকো ভিদোদোর সৌজন্য সাক্ষাৎকালে আবদুল হামিদ এই সহযোগিতা চেয়েছেন। বঙ্গভবন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, বেশ কযেকজন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য এবং পদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ প্রায় ১০ লাখ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে উল্লেখ করে আবদুল হামিদ বলেন, বহু চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও শুধু মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের আশ্রয় দেয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘে ভূমিকা পালনসহ ইন্দোনেশিয়ার মানবিক সহায়তার প্রশংসা করেন। আবদুল হামিদ ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ইন্দোনেশীয় জনগণের সমর্থন এবং ১৯৭২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়ার কথা স্মরণ করেন।

তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রতিষ্ঠাতা জনক ড. সুকর্নের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথাও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

দুই দেশের মধ্যে খুবই চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি হামিদ বলেন, বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ইস্যুতে অভিন্ন ধর্ম, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মূল্যবোধের অংশীদার। আগামী দিনগুলোতে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি আরও জোরদার হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দীর্ঘ বিরতির পর প্রেসিডেন্ট ভিদোদোর ঢাকা আগমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ সফরের ফলে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন দিগন্তের সূচনা এবং বিদ্যমান সম্পর্ক জোরদার হবে।

রাষ্ট্রপতি ট্যারিফ ও নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার দূর করে ইন্দোনেশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের বাছাই করা পণ্যের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার জন্য প্রেসিডেন্ট ভিদোদোর প্রতি অনুরোধ জানান।

বাংলাদেশকে ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, ফুটওয়্যার, সিরামিক, পাটজাত পণ্য, হিমায়িত মৎস্য ও হ্যান্ডিক্রাফটস-এর গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদনকারী হিসেবে উল্লেখ করে এসব পণ্য ইন্দোনেশিয়ার বাজারে রপ্তানি হবে বলে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এসব পণ্য ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ এবং অন্যান্য দেশে রপ্তানি হচ্ছে।

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মর্যাদাসহ তাদের স্বদেশ ভূমি মিয়ানমারের রাখাইনে নিরাপদ ও স্থায়ী প্রত্যাবাসনে ইন্দোনেশিয়া সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস প্রদান করেন। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি সফল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পরে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট পরিদর্শক বইতে সই করেন।

এদিকে ইন্দোনেশিয়ার ফার্স্ট লেডি ইরিনা জোকো ভিদিদো রাষ্ট্রপতি হামিদের পত্নী রাশিদা খানমের সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় আবদুল হামিদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে প্রেসিডেন্ট জোকো ভিদিদো ও ফার্স্ট লেডি ইরিনা ভিদিদো বঙ্গভবনে পৌঁছলে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও তার পত্নী রাশিদা খানম তাদের স্বাগত জানান।

সাক্ষাৎ শেষে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও তাঁর সফরসঙ্গীরা রাষ্ট্রপতি হামিদ আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রোহিঙ্গাদের ফেরাতে ইন্দোনেশিয়ার সহযোগিতা চাইলেন রাষ্ট্রপতি

আপডেট সময় ১২:৩৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

গণহত্যা ও নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গা নাগরিক যেন মর্যাদাসহ নিজ দেশে ফিরে যেতে পারে এ ব্যাপারে ইন্দোনেশিয়ার সহযোগিতা চেয়েছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। এছাড়া রোহিঙ্গা নাগরিকদের প্রতি দেশটির সহযোগিতা অব্যাহত রাখারও আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।

শনিবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে নৈশভোজের আগে ইন্দোনেশিয়ার সফররত প্রেসিডেন্ট জোকো ভিদোদোর সৌজন্য সাক্ষাৎকালে আবদুল হামিদ এই সহযোগিতা চেয়েছেন। বঙ্গভবন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী, ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, বেশ কযেকজন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য এবং পদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ প্রায় ১০ লাখ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে উল্লেখ করে আবদুল হামিদ বলেন, বহু চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও শুধু মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের আশ্রয় দেয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জাতিসংঘে ভূমিকা পালনসহ ইন্দোনেশিয়ার মানবিক সহায়তার প্রশংসা করেন। আবদুল হামিদ ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ইন্দোনেশীয় জনগণের সমর্থন এবং ১৯৭২ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়ার কথা স্মরণ করেন।

তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রতিষ্ঠাতা জনক ড. সুকর্নের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথাও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

দুই দেশের মধ্যে খুবই চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি হামিদ বলেন, বাংলাদেশ ও ইন্দোনেশিয়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ইস্যুতে অভিন্ন ধর্ম, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মূল্যবোধের অংশীদার। আগামী দিনগুলোতে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি আরও জোরদার হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

দীর্ঘ বিরতির পর প্রেসিডেন্ট ভিদোদোর ঢাকা আগমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ সফরের ফলে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন দিগন্তের সূচনা এবং বিদ্যমান সম্পর্ক জোরদার হবে।

রাষ্ট্রপতি ট্যারিফ ও নন-ট্যারিফ ব্যারিয়ার দূর করে ইন্দোনেশিয়ার বাজারে বাংলাদেশের বাছাই করা পণ্যের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার জন্য প্রেসিডেন্ট ভিদোদোর প্রতি অনুরোধ জানান।

বাংলাদেশকে ওষুধ, চামড়াজাত পণ্য, ফুটওয়্যার, সিরামিক, পাটজাত পণ্য, হিমায়িত মৎস্য ও হ্যান্ডিক্রাফটস-এর গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদনকারী হিসেবে উল্লেখ করে এসব পণ্য ইন্দোনেশিয়ার বাজারে রপ্তানি হবে বলে রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এসব পণ্য ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইইউ এবং অন্যান্য দেশে রপ্তানি হচ্ছে।

ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মর্যাদাসহ তাদের স্বদেশ ভূমি মিয়ানমারের রাখাইনে নিরাপদ ও স্থায়ী প্রত্যাবাসনে ইন্দোনেশিয়া সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস প্রদান করেন। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি সফল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। পরে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট পরিদর্শক বইতে সই করেন।

এদিকে ইন্দোনেশিয়ার ফার্স্ট লেডি ইরিনা জোকো ভিদিদো রাষ্ট্রপতি হামিদের পত্নী রাশিদা খানমের সঙ্গে পৃথক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় আবদুল হামিদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে প্রেসিডেন্ট জোকো ভিদিদো ও ফার্স্ট লেডি ইরিনা ভিদিদো বঙ্গভবনে পৌঁছলে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও তার পত্নী রাশিদা খানম তাদের স্বাগত জানান।

সাক্ষাৎ শেষে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও তাঁর সফরসঙ্গীরা রাষ্ট্রপতি হামিদ আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।