ঢাকা ০৯:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সচিবালয়, গ্যাস-বিদ্যুত অফিসে অবস্থান ৬ আগস্ট, আগামী মাসে লংমার্চ নতুন দলের আত্মপ্রকাশ, নেতৃত্বে যারা ইরানের সামনে এখন কেবল দুই পথ—চুক্তি অথবা আত্মসমর্পণ: ট্রাম্প পাঁচ দফা দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের অবস্থান কর্মসূচি সরকার দমনে ব্যস্ত, দ্রব্যমূল্য-গ্যাস নিয়ে মাথাব্যথা নেই: গোলাম পরওয়ার দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে আশা বাণিজ্যমন্ত্রীর সম্পত্তি দানের পরও আজীবন ভোগদখলের সুযোগ, মন্ত্রিসভায় খসড়া পাশ শেখ হাসিনা যেন রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে না পারেন, ভারতীয় হাইকমিশনারকে হুমায়ুন কবির রাষ্ট্র পরিচালনায় ‘নতুন মাত্রা’ যোগ করেছেন তারেক রহমান: চীনা রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশে কারিগরি ও ক্রীড়া শিক্ষায় সহযোগিতার আগ্রহ অস্ট্রেলিয়ার

পোশাকশিল্পে সবচেয়ে কম মজুরি বাংলাদেশে: অক্সফাম

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশে তৈরি পোশাকশিল্পে যারা কাজ করেন তাদের মজুরি সবচেয়ে কম। তৈরি পোশাক উৎপাদনকারী সাতটি দেশের মধ্যে মজুরির দিক থেকে সবচেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ। এখানকার শ্রমিকরা যে অর্থ পান তা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করাও কঠিন। পোশাকখাতের শ্রমিকদের মধ্যে নারীরা সবচেয়ে দুরবস্থায় রয়েছে।

আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা অক্সফামের একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই তথ্য। রবিবার রাতে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বিশ্বের সাতটি প্রধান পোশাক তৈরিকারক দেশের ন্যূনতম ও বসবাসের জন্য শোভন মজুরির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও আছে ভারত, চীন, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়া। দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের শ্রমিকেরা সবচেয়ে কম মজুরি পান।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে বসবাসের জন্য শোভন মজুরি প্রয়োজন ২৫২ মার্কিন ডলারের সমান অর্থ। এর বিপরীতে বাংলাদেশের একজন শ্রমিক পান ৫০ ডলার। ভারত ও শ্রীলঙ্কার শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৫০ ডলার। তবে ভারতে শোভন জীবনযাপনের জন্য ২০০ ডলার এবং শ্রীলঙ্কায় ২৫০ ডলারের বেশি অর্থ দরকার হয়।

অক্সফামের প্রতিবেদনে নারী শ্রমিকদের দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। কাজের চাপে শৌচাগারে যেতে না পারায় অনেক অল্পবয়সী নারী শ্রমিক মূত্রনালির সংক্রমণে ভোগেন বলেও উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের তৈরি পোশাকশিল্পের বড় কারখানার পাঁচ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) চার দিনে যে আয় করেন, তা বাংলাদেশের একজন নারী পোশাকশ্রমিকের সারা জীবনের আয়ের সমান। অক্সফাম এ প্রতিবেদন তৈরি করতে বিশ্বের ১০টি দেশের এক লাখ ২৩০ হাজার মানুষের ওপর জরিপ করেছে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশ অংশে দেশের পোশাক কারখানার শ্রমিকদের জীবনমানের বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে।

এছাড়া প্রতিবেদনে অক্সফাম বিশ্বজুড়ে আয়বৈষম্যের চিত্রও তুলে ধরেছে। যেমন গত বছর ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি কোটিপতি বেড়েছে। বিশ্বে প্রতি দুই দিনে একজন করে মানুষ কোটিপতি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রতি ১০ জনের ৯ জনই পুরুষ। যারা কোটিপতি আছেন, তাঁদেরও সম্পদ বেড়েছে ব্যাপক হারে। গত বছর বিশ্বে যে পরিমাণ সম্পদ উৎপাদিত হয়েছে, তার মালিক বিশ্বের মাত্র ১ শতাংশ ধনী মানুষ। দরিদ্র ৫০ শতাংশ মানুষ এ সম্পদের কোনো কিছুই পায়নি।

অক্সফাম বলেছে, বিশ্বের ১০০টির বেশি দেশে নাগরিক অধিকার ব্যাপকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে। এসব দেশে দিন দিন মানুষের কথা বলার অধিকার কমে যাচ্ছে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

প্রেক্ষাপট: দুই দিনের সফরে আগামীকাল ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

পোশাকশিল্পে সবচেয়ে কম মজুরি বাংলাদেশে: অক্সফাম

আপডেট সময় ১১:১২:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

বাংলাদেশে তৈরি পোশাকশিল্পে যারা কাজ করেন তাদের মজুরি সবচেয়ে কম। তৈরি পোশাক উৎপাদনকারী সাতটি দেশের মধ্যে মজুরির দিক থেকে সবচেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ। এখানকার শ্রমিকরা যে অর্থ পান তা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করাও কঠিন। পোশাকখাতের শ্রমিকদের মধ্যে নারীরা সবচেয়ে দুরবস্থায় রয়েছে।

আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা অক্সফামের একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই তথ্য। রবিবার রাতে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বিশ্বের সাতটি প্রধান পোশাক তৈরিকারক দেশের ন্যূনতম ও বসবাসের জন্য শোভন মজুরির চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও আছে ভারত, চীন, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়া। দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের শ্রমিকেরা সবচেয়ে কম মজুরি পান।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে বসবাসের জন্য শোভন মজুরি প্রয়োজন ২৫২ মার্কিন ডলারের সমান অর্থ। এর বিপরীতে বাংলাদেশের একজন শ্রমিক পান ৫০ ডলার। ভারত ও শ্রীলঙ্কার শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৫০ ডলার। তবে ভারতে শোভন জীবনযাপনের জন্য ২০০ ডলার এবং শ্রীলঙ্কায় ২৫০ ডলারের বেশি অর্থ দরকার হয়।

অক্সফামের প্রতিবেদনে নারী শ্রমিকদের দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। কাজের চাপে শৌচাগারে যেতে না পারায় অনেক অল্পবয়সী নারী শ্রমিক মূত্রনালির সংক্রমণে ভোগেন বলেও উল্লেখ করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের তৈরি পোশাকশিল্পের বড় কারখানার পাঁচ প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) চার দিনে যে আয় করেন, তা বাংলাদেশের একজন নারী পোশাকশ্রমিকের সারা জীবনের আয়ের সমান। অক্সফাম এ প্রতিবেদন তৈরি করতে বিশ্বের ১০টি দেশের এক লাখ ২৩০ হাজার মানুষের ওপর জরিপ করেছে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশ অংশে দেশের পোশাক কারখানার শ্রমিকদের জীবনমানের বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে।

এছাড়া প্রতিবেদনে অক্সফাম বিশ্বজুড়ে আয়বৈষম্যের চিত্রও তুলে ধরেছে। যেমন গত বছর ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি কোটিপতি বেড়েছে। বিশ্বে প্রতি দুই দিনে একজন করে মানুষ কোটিপতি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে প্রতি ১০ জনের ৯ জনই পুরুষ। যারা কোটিপতি আছেন, তাঁদেরও সম্পদ বেড়েছে ব্যাপক হারে। গত বছর বিশ্বে যে পরিমাণ সম্পদ উৎপাদিত হয়েছে, তার মালিক বিশ্বের মাত্র ১ শতাংশ ধনী মানুষ। দরিদ্র ৫০ শতাংশ মানুষ এ সম্পদের কোনো কিছুই পায়নি।

অক্সফাম বলেছে, বিশ্বের ১০০টির বেশি দেশে নাগরিক অধিকার ব্যাপকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে। এসব দেশে দিন দিন মানুষের কথা বলার অধিকার কমে যাচ্ছে।