ঢাকা ০২:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

প্রকাশ্যে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন, দিনমজুরের মৃত্যু

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে এক প্রভাবশালী পরিবারের নির্যাতনে মারাত্মকভাবে আহত হওয়া মো. শিখন মিয়া (২৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৪ দিন পর সোমবার রাতে দিনমজুর শিখনের মৃত্যু হয়। তিনি উপজেলার মুমুরদিয়া ইউনিয়নের বাগহাটা গ্রামের নূর হোসেনের ছেলে।

সূত্র জানায়, গত ২২ ডিসেম্বর সকালে উপজেলার মুমুরদিয়া ইউনিয়নের চাতল বাগহাটা গ্রামের নেশাগ্রস্ত রোকন মিয়া দিনমজুর শিখন মিয়ার ঘরের সামনে আবোলতাবোল বকতে থাকেন। এ সময় রোকনকে চলে যেতে বললে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে শিখন নেশাগ্রস্ত রোকনকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দেন।

এ ঘটনায় রোকন, তার বাবা, চাচা, ভাই ও চাচাতো ভাইরা মিলে শিখনকে হাত-পা বেঁধে লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা নির্যাতন করে। নির্যাতনে শিখনের নিচের পাটির একটি দাঁত ভেঙে যায়। এ ছাড়া তার জিহ্বা, মাথাসহ সারা শরীরে মারাত্মকভাবে জখম হয়।

এ সময় তার টিনশেড বসতঘরটি ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে ভাংচুর করা হয়। শত শত মানুষ এ তাণ্ডব দেখলেও প্রভাবশালীদের সামনে কেউ উদ্ধার করতে সাহস পায়নি। খবর পেয়ে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সাথী বেগম স্থানীয় ইউপি সদস্য ইসমাইল, শাস্তু ও আল আমিনকে নিয়ে শিখনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান।

সেখানে শিখনের অবস্থার অবনতি হলে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে তাকে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসে তার পরিবার। গত শনিবার তার অবস্থার চরম অবনতি দেখে গ্রামের মানুষ অর্থ সাহায্য দিয়ে তাকে আবার প্রথমে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে ও পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।

সাবেক ইউপি সদস্য হাজী মো. তাহের উদ্দিন বলেন, অমানবিক নির্যাতনে দিনমজুর শিখন মিয়ার মৃত্যু হয়েছে। আমরা দোষীদের বিচার চাই। কটিয়াদী থানার ওসি জাকির রব্বানী বলেন, এ ব্যাপারে কেউ অভিযোগ করেনি। খবর পেয়ে গত শনিবার একজন অফিসারকে পাঠানো হয়।

নির্যাতনে শিখনের মৃত্যু হওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে ওসি বলেন, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে আর রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ্যে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন, দিনমজুরের মৃত্যু

আপডেট সময় ০৮:১৬:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জানুয়ারী ২০১৮

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে এক প্রভাবশালী পরিবারের নির্যাতনে মারাত্মকভাবে আহত হওয়া মো. শিখন মিয়া (২৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৪ দিন পর সোমবার রাতে দিনমজুর শিখনের মৃত্যু হয়। তিনি উপজেলার মুমুরদিয়া ইউনিয়নের বাগহাটা গ্রামের নূর হোসেনের ছেলে।

সূত্র জানায়, গত ২২ ডিসেম্বর সকালে উপজেলার মুমুরদিয়া ইউনিয়নের চাতল বাগহাটা গ্রামের নেশাগ্রস্ত রোকন মিয়া দিনমজুর শিখন মিয়ার ঘরের সামনে আবোলতাবোল বকতে থাকেন। এ সময় রোকনকে চলে যেতে বললে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে শিখন নেশাগ্রস্ত রোকনকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দেন।

এ ঘটনায় রোকন, তার বাবা, চাচা, ভাই ও চাচাতো ভাইরা মিলে শিখনকে হাত-পা বেঁধে লোহার রড ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা নির্যাতন করে। নির্যাতনে শিখনের নিচের পাটির একটি দাঁত ভেঙে যায়। এ ছাড়া তার জিহ্বা, মাথাসহ সারা শরীরে মারাত্মকভাবে জখম হয়।

এ সময় তার টিনশেড বসতঘরটি ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে ভাংচুর করা হয়। শত শত মানুষ এ তাণ্ডব দেখলেও প্রভাবশালীদের সামনে কেউ উদ্ধার করতে সাহস পায়নি। খবর পেয়ে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সাথী বেগম স্থানীয় ইউপি সদস্য ইসমাইল, শাস্তু ও আল আমিনকে নিয়ে শিখনকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান।

সেখানে শিখনের অবস্থার অবনতি হলে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে তাকে স্থানান্তর করা হয়। কিন্তু অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসে তার পরিবার। গত শনিবার তার অবস্থার চরম অবনতি দেখে গ্রামের মানুষ অর্থ সাহায্য দিয়ে তাকে আবার প্রথমে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে ও পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।

সাবেক ইউপি সদস্য হাজী মো. তাহের উদ্দিন বলেন, অমানবিক নির্যাতনে দিনমজুর শিখন মিয়ার মৃত্যু হয়েছে। আমরা দোষীদের বিচার চাই। কটিয়াদী থানার ওসি জাকির রব্বানী বলেন, এ ব্যাপারে কেউ অভিযোগ করেনি। খবর পেয়ে গত শনিবার একজন অফিসারকে পাঠানো হয়।

নির্যাতনে শিখনের মৃত্যু হওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে ওসি বলেন, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।