ঢাকা ০৯:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রকাশ হলো এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল উদ্ধার হলো সাবেক বিমান বাহিনী কর্মকর্তার মৃত অবস্থায় পাওয়া ব্যক্তি জাপানি বিনিয়োগের জন্য পাঁচ খাত চিহ্নিত করলেন প্রধানমন্ত্রী ড্যাবের বিরুদ্ধে: কার্যালয়ে ঢুকে আইইডিসিআরের পরিচালককে মারধরের দেশে হাম ও উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়াকে প্রস্তাব খাদ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে ষড়যন্ত্র করছে গুপ্তরা: ডিএনসিসি প্রশাসক ডেঙ্গুতে একদিনে ১১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত দুই হাজার ছাড়াল ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির মন্তব্যে টিআইবি ও অধিকারের উদ্বেগ রূপপুরের জ্বালানি নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাল রাশিয়ার কার্গো বিমান

ইয়াবাতেও ভেজাল, কারখানা চট্টগ্রামে

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নেশার ট্যাবলেট ইয়াবা কেবল মিয়ানমার থেকেই আসে না, চট্টগ্রামেও অন্তত একটি কারখানায় তৈরি হতো উপাদানটি। সেখানে চক পাউডার, ট্যালকম পাওডারের সঙ্গে জন্ম বিরতিকরণ পিল ও প্যারাসিটামল ট্যাবলেট, গ্লুকোজ, মোম, স্টিয়ারিক এসিড ব্যবহার করে এই বড়ি তৈরি হতো।

বুধবার বিকালে সংবাদ সম্মেলনে নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার হাসান মো. শওকত এই তথ্য জানান।

এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, বেপারী পাড়ার কমিশনার গলির আবুল হোসেন সওদাগর ভবনের তৃতীয় তলার বাসাটিতে অভিযান চালিয়ে ইয়াবা কারখানাটি খুঁজে পেয়েছেন তারা। সেখান থেকে গ্রেপ্তার করা হয় চার জনকে। সেখানে তিন বছর ধরে তারা ভেজাল ইয়াবা তৈরি হচ্ছিল।

এই বাড়িটি থেকে আড়াই লাখ ইয়াবা ট্যাবলেটের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল আটকের কথা জানিয়েছে পুলিশ। এই কাঁচামাল দিয়ে অন্তত ১০ লাখ ট্যাবলেট তৈরি করা যেত বলেও জানিয়েছে বাহিনীটি। পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম নগরীর বেপারী পাড়ার বাড়িটিতে অভিযান শুরু করে পুলিশ। তার আটক করা হয় শ্যামল মজুমদার, আব্দুল্লাহ আল আমান, মামুন গোসেন ও আয়শা সিদ্দিকা নামে চার জনকে ।

দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা নজরদারি চালিয়ে আস্তানাটি খুঁজে পাওয়া গেছে জানিয় পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, কারখানাটি চালাতেন শ্যামল। আর আয়েশা তার দুই সন্তানকে সেখানে থাকতেন। শ্যামল, মামুন নামে যে দুইজন গ্রেপ্তার হয়েছেন তিনি শ্যামলের শ্যালক। তারাই এসব ইয়াবা ঢাকায় নিয়ে আসতেন নানা কৌশলে।

আটক শ্যামল এবং অন্যরা জানিয়েছেন, প্রতিটি ট্যাবলেট তারা মাদক বিক্রেতাদের কাছে ১২ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি করতেন। বছর ছয়েক আগেও শ্যামল মাদক বিক্রির অভিযোগে একবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। জন্ম বিরতিকরণ পিল ও প্যারাসিটামলগুলো তারা ঢাকা থেকে সংগ্রহ করতেন, অন্যান্য কাঁচামাল স্থানীয় বাজার থেকে কেনার কথা জানান তিনি।

শ্যামল সাংবাদিকদের বলেন, রাখাল চন্দ্র নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি ইয়াবা তৈরি শেখেন। ২০১১ সালে রাখাল ও তিনি ইয়াবা গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। দুই বছর পর রাখাল কারাগারে মারা যান।কারাগার থেকে বের হয়ে ২০১৪ সালে শ্যামল জামিনে ছাড়া পেয়ে সোয়েটার কারখান দিয়ে লোকসান দেয়ার পর তিনি ইয়াবা তৈরি শুরু করেন বলেও জানান শ্যামল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রী: শিশুদের হাত ধরেই গড়ে উঠবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ

ইয়াবাতেও ভেজাল, কারখানা চট্টগ্রামে

আপডেট সময় ১১:৫৯:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নেশার ট্যাবলেট ইয়াবা কেবল মিয়ানমার থেকেই আসে না, চট্টগ্রামেও অন্তত একটি কারখানায় তৈরি হতো উপাদানটি। সেখানে চক পাউডার, ট্যালকম পাওডারের সঙ্গে জন্ম বিরতিকরণ পিল ও প্যারাসিটামল ট্যাবলেট, গ্লুকোজ, মোম, স্টিয়ারিক এসিড ব্যবহার করে এই বড়ি তৈরি হতো।

বুধবার বিকালে সংবাদ সম্মেলনে নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার হাসান মো. শওকত এই তথ্য জানান।

এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, বেপারী পাড়ার কমিশনার গলির আবুল হোসেন সওদাগর ভবনের তৃতীয় তলার বাসাটিতে অভিযান চালিয়ে ইয়াবা কারখানাটি খুঁজে পেয়েছেন তারা। সেখান থেকে গ্রেপ্তার করা হয় চার জনকে। সেখানে তিন বছর ধরে তারা ভেজাল ইয়াবা তৈরি হচ্ছিল।

এই বাড়িটি থেকে আড়াই লাখ ইয়াবা ট্যাবলেটের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল আটকের কথা জানিয়েছে পুলিশ। এই কাঁচামাল দিয়ে অন্তত ১০ লাখ ট্যাবলেট তৈরি করা যেত বলেও জানিয়েছে বাহিনীটি। পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম নগরীর বেপারী পাড়ার বাড়িটিতে অভিযান শুরু করে পুলিশ। তার আটক করা হয় শ্যামল মজুমদার, আব্দুল্লাহ আল আমান, মামুন গোসেন ও আয়শা সিদ্দিকা নামে চার জনকে ।

দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা নজরদারি চালিয়ে আস্তানাটি খুঁজে পাওয়া গেছে জানিয় পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, কারখানাটি চালাতেন শ্যামল। আর আয়েশা তার দুই সন্তানকে সেখানে থাকতেন। শ্যামল, মামুন নামে যে দুইজন গ্রেপ্তার হয়েছেন তিনি শ্যামলের শ্যালক। তারাই এসব ইয়াবা ঢাকায় নিয়ে আসতেন নানা কৌশলে।

আটক শ্যামল এবং অন্যরা জানিয়েছেন, প্রতিটি ট্যাবলেট তারা মাদক বিক্রেতাদের কাছে ১২ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি করতেন। বছর ছয়েক আগেও শ্যামল মাদক বিক্রির অভিযোগে একবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। জন্ম বিরতিকরণ পিল ও প্যারাসিটামলগুলো তারা ঢাকা থেকে সংগ্রহ করতেন, অন্যান্য কাঁচামাল স্থানীয় বাজার থেকে কেনার কথা জানান তিনি।

শ্যামল সাংবাদিকদের বলেন, রাখাল চন্দ্র নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি ইয়াবা তৈরি শেখেন। ২০১১ সালে রাখাল ও তিনি ইয়াবা গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। দুই বছর পর রাখাল কারাগারে মারা যান।কারাগার থেকে বের হয়ে ২০১৪ সালে শ্যামল জামিনে ছাড়া পেয়ে সোয়েটার কারখান দিয়ে লোকসান দেয়ার পর তিনি ইয়াবা তৈরি শুরু করেন বলেও জানান শ্যামল।