ঢাকা ০৬:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মবোক্রেসি সব জায়গায় চলে না, আমি ঢাকায় ভেসে আসি নাই : মির্জা আব্বাস রাজনৈতিক পরিবর্তনে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে : ড্যান মজিনা জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে বিএনপি : সালাহউদ্দিন ‘অনিবার্য কারণে’ জামায়াতসহ ১১ দলের আসন সমঝোতার সংবাদ সম্মেলন স্থগিত যে দল ইসরাইলের টাকায় চলে সেই দলে আমি থাকতে পারি না: রেজা কিবরিয়া নির্বাচনে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারবে না, সবাই সহযোগিতা করলে শান্তিপূর্ণভাবে হয়ে যাবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ‘সবাইকেই তো দেখলাম, এবার জামায়াতকে দেখব’,বক্তব্যের অন্তর্নিহিত গোমর ফাঁস করলেন হামিম গোপালগঞ্জে মা-বাবাকে জীবন্ত কবর দেওয়ার চেষ্টা, দুই ছেলে গ্রেফতার আইসিসির রিপোর্টই ভাবতে বাধ্য করেছে, যে ভারতে ঝুঁকি আছে: আসিফ নজরুল বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মৃত্যু

ইয়াবাতেও ভেজাল, কারখানা চট্টগ্রামে

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নেশার ট্যাবলেট ইয়াবা কেবল মিয়ানমার থেকেই আসে না, চট্টগ্রামেও অন্তত একটি কারখানায় তৈরি হতো উপাদানটি। সেখানে চক পাউডার, ট্যালকম পাওডারের সঙ্গে জন্ম বিরতিকরণ পিল ও প্যারাসিটামল ট্যাবলেট, গ্লুকোজ, মোম, স্টিয়ারিক এসিড ব্যবহার করে এই বড়ি তৈরি হতো।

বুধবার বিকালে সংবাদ সম্মেলনে নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার হাসান মো. শওকত এই তথ্য জানান।

এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, বেপারী পাড়ার কমিশনার গলির আবুল হোসেন সওদাগর ভবনের তৃতীয় তলার বাসাটিতে অভিযান চালিয়ে ইয়াবা কারখানাটি খুঁজে পেয়েছেন তারা। সেখান থেকে গ্রেপ্তার করা হয় চার জনকে। সেখানে তিন বছর ধরে তারা ভেজাল ইয়াবা তৈরি হচ্ছিল।

এই বাড়িটি থেকে আড়াই লাখ ইয়াবা ট্যাবলেটের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল আটকের কথা জানিয়েছে পুলিশ। এই কাঁচামাল দিয়ে অন্তত ১০ লাখ ট্যাবলেট তৈরি করা যেত বলেও জানিয়েছে বাহিনীটি। পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম নগরীর বেপারী পাড়ার বাড়িটিতে অভিযান শুরু করে পুলিশ। তার আটক করা হয় শ্যামল মজুমদার, আব্দুল্লাহ আল আমান, মামুন গোসেন ও আয়শা সিদ্দিকা নামে চার জনকে ।

দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা নজরদারি চালিয়ে আস্তানাটি খুঁজে পাওয়া গেছে জানিয় পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, কারখানাটি চালাতেন শ্যামল। আর আয়েশা তার দুই সন্তানকে সেখানে থাকতেন। শ্যামল, মামুন নামে যে দুইজন গ্রেপ্তার হয়েছেন তিনি শ্যামলের শ্যালক। তারাই এসব ইয়াবা ঢাকায় নিয়ে আসতেন নানা কৌশলে।

আটক শ্যামল এবং অন্যরা জানিয়েছেন, প্রতিটি ট্যাবলেট তারা মাদক বিক্রেতাদের কাছে ১২ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি করতেন। বছর ছয়েক আগেও শ্যামল মাদক বিক্রির অভিযোগে একবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। জন্ম বিরতিকরণ পিল ও প্যারাসিটামলগুলো তারা ঢাকা থেকে সংগ্রহ করতেন, অন্যান্য কাঁচামাল স্থানীয় বাজার থেকে কেনার কথা জানান তিনি।

শ্যামল সাংবাদিকদের বলেন, রাখাল চন্দ্র নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি ইয়াবা তৈরি শেখেন। ২০১১ সালে রাখাল ও তিনি ইয়াবা গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। দুই বছর পর রাখাল কারাগারে মারা যান।কারাগার থেকে বের হয়ে ২০১৪ সালে শ্যামল জামিনে ছাড়া পেয়ে সোয়েটার কারখান দিয়ে লোকসান দেয়ার পর তিনি ইয়াবা তৈরি শুরু করেন বলেও জানান শ্যামল।

Tag :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভয়ংকর অবস্থায় ফ্রান্সের অর্থনীতি

ইয়াবাতেও ভেজাল, কারখানা চট্টগ্রামে

আপডেট সময় ১১:৫৯:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৭

অাকাশ জাতীয় ডেস্ক:

নেশার ট্যাবলেট ইয়াবা কেবল মিয়ানমার থেকেই আসে না, চট্টগ্রামেও অন্তত একটি কারখানায় তৈরি হতো উপাদানটি। সেখানে চক পাউডার, ট্যালকম পাওডারের সঙ্গে জন্ম বিরতিকরণ পিল ও প্যারাসিটামল ট্যাবলেট, গ্লুকোজ, মোম, স্টিয়ারিক এসিড ব্যবহার করে এই বড়ি তৈরি হতো।

বুধবার বিকালে সংবাদ সম্মেলনে নগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার হাসান মো. শওকত এই তথ্য জানান।

এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, বেপারী পাড়ার কমিশনার গলির আবুল হোসেন সওদাগর ভবনের তৃতীয় তলার বাসাটিতে অভিযান চালিয়ে ইয়াবা কারখানাটি খুঁজে পেয়েছেন তারা। সেখান থেকে গ্রেপ্তার করা হয় চার জনকে। সেখানে তিন বছর ধরে তারা ভেজাল ইয়াবা তৈরি হচ্ছিল।

এই বাড়িটি থেকে আড়াই লাখ ইয়াবা ট্যাবলেটের পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল আটকের কথা জানিয়েছে পুলিশ। এই কাঁচামাল দিয়ে অন্তত ১০ লাখ ট্যাবলেট তৈরি করা যেত বলেও জানিয়েছে বাহিনীটি। পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম নগরীর বেপারী পাড়ার বাড়িটিতে অভিযান শুরু করে পুলিশ। তার আটক করা হয় শ্যামল মজুমদার, আব্দুল্লাহ আল আমান, মামুন গোসেন ও আয়শা সিদ্দিকা নামে চার জনকে ।

দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা নজরদারি চালিয়ে আস্তানাটি খুঁজে পাওয়া গেছে জানিয় পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, কারখানাটি চালাতেন শ্যামল। আর আয়েশা তার দুই সন্তানকে সেখানে থাকতেন। শ্যামল, মামুন নামে যে দুইজন গ্রেপ্তার হয়েছেন তিনি শ্যামলের শ্যালক। তারাই এসব ইয়াবা ঢাকায় নিয়ে আসতেন নানা কৌশলে।

আটক শ্যামল এবং অন্যরা জানিয়েছেন, প্রতিটি ট্যাবলেট তারা মাদক বিক্রেতাদের কাছে ১২ থেকে ১৫ টাকায় বিক্রি করতেন। বছর ছয়েক আগেও শ্যামল মাদক বিক্রির অভিযোগে একবার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। জন্ম বিরতিকরণ পিল ও প্যারাসিটামলগুলো তারা ঢাকা থেকে সংগ্রহ করতেন, অন্যান্য কাঁচামাল স্থানীয় বাজার থেকে কেনার কথা জানান তিনি।

শ্যামল সাংবাদিকদের বলেন, রাখাল চন্দ্র নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি ইয়াবা তৈরি শেখেন। ২০১১ সালে রাখাল ও তিনি ইয়াবা গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। দুই বছর পর রাখাল কারাগারে মারা যান।কারাগার থেকে বের হয়ে ২০১৪ সালে শ্যামল জামিনে ছাড়া পেয়ে সোয়েটার কারখান দিয়ে লোকসান দেয়ার পর তিনি ইয়াবা তৈরি শুরু করেন বলেও জানান শ্যামল।